📄 চুরিকৃত মাল তুচ্ছ বস্তু না হওয়া
তুচ্ছ বস্তু বলতে এমন মালকে বোঝানো হয় যা সচরাচর লোকেরা গুরুত্বের সাথে হিফাযত করে না (যেমন-মাটি, ঘাস, ভুষি, বাঁশ ও লাকড়ি প্রভৃতি)। এ ধরনের কোন মাল চুরি করা হলে তাতে হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবে শিল্পজাত করে যদি এ সব মালকে দামী সামগ্রীতে পরিণত করা হয়, তবেই হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে মালিকীগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে মাল তুচ্ছ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ যে ধরনেরই হোক না কেন, তা যদি সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে এবং নিসাব পরিমাণ হয়, তা চুরি করা হলে হাত কাটা হবে। কেননা যা বেচাকেনা করা বৈধ এবং যা নষ্ট করা হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তা চুরি করা হলে হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে।
টিকাঃ
২৯. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৪৩, ১৫৩, ১৮০; আল-কাসানী, বদা'ই, খ. ৭, পৃ. ৬৭-৮; দাসূকী, আলহাশিয়াতু 'আলাশ শারহিল কাবীর, খ.৪, পৃ. ২৩৪; সাভী, বুলগাতুল সালিক, খ.৪, পৃ. ৪৭২
📄 চুরিকৃত বস্তু সংরক্ষণযোগ্য হওয়া
চুরিকৃত মাল যদি অসংরক্ষণযোগ্য দ্রুত পচনশীল দ্রব্য হয়, তা হলেও হদ্দ কার্যকর হবে না; বরং তা'যীরের আওতায় শাস্তি দেয়া হবে। তবে মালিকীগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, দ্রুত পচনশীল দ্রব্যও যদি নিসাব পরিমাণে চুরি করা হয়, তাতেও হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে। অনুরূপভাবে গাছে ঝুলন্ত ফল চুরির জন্যও হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে না। এমন কি যদিও হিফাযত করার উদ্দেশ্যে তাকে মাচায় বেঁধে রাখা হোক কিংবা ঘেরা দেয়া হোক। কেননা ফল যে যাবত গাছে থাকে, ততক্ষণ নষ্ট হবার আশঙ্কা লেগেই থাকে। তবে আড়তে সংরক্ষিত ফল চুরি করা হলে তাতে হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে, যদি তা ভালভাবে শুকিয়ে যায়। কেননা এমতাবস্থায় তা সংরক্ষণের উপযোগিতা লাভ করেছে এবং তা সহজেই নষ্ট হবে না। যদি তা ভালভাবে না শুকায়, তাহলে যেহেতু এমতাবস্থায় তা সংরক্ষণ করে রাখার পূর্ণ উপযোগিতা অর্জন করে নি, তাই তা চুরি করা হলেও হাত কাটা যাবে না।
টিকাঃ
৩০. আল-হাদ্দাদী, আল-জাওহারাহ, খ.২, পৃ. ১৬৬; হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ৯, পৃ.১৩১; দাসুকী, আলহাশিয়াতু 'আলাশ শারহিল কাবীর, খ.৪, পৃ. ২৩৪
📄 চুরিকৃত বস্তু সাধারণভবে সকলের জন্য বৈধ না হওয়া
চুরিকৃত মাল যদি এমন কোন বস্তু হয় যা ব্যবহার করা সকলের জন্য সাধারণভাবে বৈধ (যেমন- পানি, আগুন বা ঘাস প্রভৃতি), তাহলেও হদ্দ কার্যকর করা হবে না। এমন কি তা যদি কারো অধীনে সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় চুরি করে, তাহলেও হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবে মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, এ ধরনের মাল যদি সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে এবং মূল্যবান হয়, তাহলে চুরির জন্য হাত কাটা হবে, যদি তার মূল্য নিসাব পরিমাণে পৌঁছে।
টিকাঃ
৩১. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৫৩, ১৮১; আল-কাসানী, বদাই, খ. ৭, পৃ. ৭০; সাভী, বুলগাতুল সালিক, খ.৪, পৃ. ৪৭২; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.১২৪; আল- মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ২৫৬
📄 চুরিকৃত মাল অপরের দখলভুক্ত হওয়া
হস্তগতকৃত মাল অপরের দখলভুক্ত অর্থাৎ মালিকানাভুক্ত কিংবা আমানত বা দায়িত্বাধীন থাকতে হবে। দখলবিহীন বা মালিকানাহীন কোন মাল কেউ হস্তগত করলে তার এ কাজ চুরি বলে গণ্য হবে না। কারণ এতে কারো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা নেই।
টিকাঃ
৩২. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৫৪; হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ৯, পৃ.১২৮; রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ.৭, পৃ. ৪৪৩