📄 চুরিকৃত বস্তুর আর্থিক মূল্য থাকা
বস্তুর আর্থিক মূল্য থাকার অর্থ হল তা এমন হওয়া যা কেউ নষ্ট করলে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত করলে তার মূল্য পরিশোধ করা ওয়াজিব হয়। অতএব শরী'আতের দৃষ্টিকোণ থেকে যে সব বস্তুর কোন মূল্য নেই (যেমন- শূকর, মাদক দ্রব্য, মৃতপ্রাণী, বাদ্য যন্ত্র, অশ্লীল বই-পুস্তক, ক্রস চিহ্ন ও মূর্তি) তা কেউ চুরি করলে হাত কাটা যাবে না।
হানাফী ও হাম্বলী ইমামগণের মতে ক্রসের চুরিতে হাত কাটা হবে না, যদি তার মূল্য নিসাব পরিমাণও হয়। তবে মালিকীগণ এবং হানাফী ইমামগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, যদি ক্রসের মূল্য নিসাব পরিমাণ হয় এবং তা যদি কারো হিফাযতে থাকে, তা চুরি করা হলে হাত কাটা হবে। অনুরূপভাবে পাত্রসহ কেউ মদ চুরি করলে এবং পাত্রের মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে হাত কাটা হবে। শাফি'ঈ ইমামগণের মতে, ক্রস, মূর্তি, বাদ্যযন্ত্র ও মদের পাত্র প্রভৃতি বস্তু ভেঙ্গে ফেলার পর মূল্য যদি নিসাব পরিমাণে পৌঁছে, তা হলে হাত কাটা হবে।
টিকাঃ
২৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৫২-৫; আল-কাসানী, বদাই, খ. ৭, পৃ. ৬৮-৯; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ. ৬, পৃ, ১৫৯; হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ৯, পৃ.১২৮; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.১২৬; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ২৬০-১; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫৩০ ও আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ.১৫৭
📄 চুরিকৃত মাল তুচ্ছ বস্তু না হওয়া
তুচ্ছ বস্তু বলতে এমন মালকে বোঝানো হয় যা সচরাচর লোকেরা গুরুত্বের সাথে হিফাযত করে না (যেমন-মাটি, ঘাস, ভুষি, বাঁশ ও লাকড়ি প্রভৃতি)। এ ধরনের কোন মাল চুরি করা হলে তাতে হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবে শিল্পজাত করে যদি এ সব মালকে দামী সামগ্রীতে পরিণত করা হয়, তবেই হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে মালিকীগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে মাল তুচ্ছ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ যে ধরনেরই হোক না কেন, তা যদি সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে এবং নিসাব পরিমাণ হয়, তা চুরি করা হলে হাত কাটা হবে। কেননা যা বেচাকেনা করা বৈধ এবং যা নষ্ট করা হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তা চুরি করা হলে হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে।
টিকাঃ
২৯. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৪৩, ১৫৩, ১৮০; আল-কাসানী, বদা'ই, খ. ৭, পৃ. ৬৭-৮; দাসূকী, আলহাশিয়াতু 'আলাশ শারহিল কাবীর, খ.৪, পৃ. ২৩৪; সাভী, বুলগাতুল সালিক, খ.৪, পৃ. ৪৭২
📄 চুরিকৃত বস্তু সংরক্ষণযোগ্য হওয়া
চুরিকৃত মাল যদি অসংরক্ষণযোগ্য দ্রুত পচনশীল দ্রব্য হয়, তা হলেও হদ্দ কার্যকর হবে না; বরং তা'যীরের আওতায় শাস্তি দেয়া হবে। তবে মালিকীগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, দ্রুত পচনশীল দ্রব্যও যদি নিসাব পরিমাণে চুরি করা হয়, তাতেও হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে। অনুরূপভাবে গাছে ঝুলন্ত ফল চুরির জন্যও হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে না। এমন কি যদিও হিফাযত করার উদ্দেশ্যে তাকে মাচায় বেঁধে রাখা হোক কিংবা ঘেরা দেয়া হোক। কেননা ফল যে যাবত গাছে থাকে, ততক্ষণ নষ্ট হবার আশঙ্কা লেগেই থাকে। তবে আড়তে সংরক্ষিত ফল চুরি করা হলে তাতে হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে, যদি তা ভালভাবে শুকিয়ে যায়। কেননা এমতাবস্থায় তা সংরক্ষণের উপযোগিতা লাভ করেছে এবং তা সহজেই নষ্ট হবে না। যদি তা ভালভাবে না শুকায়, তাহলে যেহেতু এমতাবস্থায় তা সংরক্ষণ করে রাখার পূর্ণ উপযোগিতা অর্জন করে নি, তাই তা চুরি করা হলেও হাত কাটা যাবে না।
টিকাঃ
৩০. আল-হাদ্দাদী, আল-জাওহারাহ, খ.২, পৃ. ১৬৬; হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ৯, পৃ.১৩১; দাসুকী, আলহাশিয়াতু 'আলাশ শারহিল কাবীর, খ.৪, পৃ. ২৩৪
📄 চুরিকৃত বস্তু সাধারণভবে সকলের জন্য বৈধ না হওয়া
চুরিকৃত মাল যদি এমন কোন বস্তু হয় যা ব্যবহার করা সকলের জন্য সাধারণভাবে বৈধ (যেমন- পানি, আগুন বা ঘাস প্রভৃতি), তাহলেও হদ্দ কার্যকর করা হবে না। এমন কি তা যদি কারো অধীনে সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় চুরি করে, তাহলেও হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবে মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, এ ধরনের মাল যদি সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে এবং মূল্যবান হয়, তাহলে চুরির জন্য হাত কাটা হবে, যদি তার মূল্য নিসাব পরিমাণে পৌঁছে।
টিকাঃ
৩১. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৫৩, ১৮১; আল-কাসানী, বদাই, খ. ৭, পৃ. ৭০; সাভী, বুলগাতুল সালিক, খ.৪, পৃ. ৪৭২; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.১২৪; আল- মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ২৫৬