📄 মালের মালিক জানা থাকা
চুরির হদ্দ কার্যকর করার জন্য চুরিকৃত মালের মালিক জানা থাকতে হবে। যদি চুরি প্রমাণিত হল; কিন্তু মালিক কে- তা জানা যাচ্ছে না বা তার কোন সন্ধান নেই, এরূপ অবস্থায় হদ্দ কার্যকর হবে না। কেননা হদ্দ কার্যকর করতে হলে মালিক বা হকদারের পক্ষ থেকে দাবী থাকা চাই। আর এ ক্ষেত্রে যেহেতু মালিকের কোন খবরই নেই, তাই চুরিকৃত মালের জন্য কোন দাবীই প্রতিষ্ঠিত হয় নি। তবে চোরকে কারাগারে বন্দী করে রাখা যাবে, যে যাবত না মালিক উপস্থিত হয়ে দাবী পেশ করবে। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে মালিকীগণের মতে, চুরি প্রমাণিত হলেই হদ্দ কার্যকর করতে হবে। চাই মালিক জানা থাক বা না থাক। তাঁদের দৃষ্টিতে হদ্দ কার্যকর করার জন্য মালিকের দাবী থাকা শর্ত নয়।
টিকাঃ
২১. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫৩১; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭,পৃ.২৯৭
📄 মালের যথাযথ মালিক বা অধিকারী হওয়া
যার থেকে মাল চুরি করা হয়েছে তাকে চুরিকৃত মালের যথাযথ মালিক অথবা যে কোন রীতিসিদ্ধ উপায়ে মালের বৈধ অধিকারী হতে হবে। যদি কেউ কোন অপহরণকারীর অপহৃত বস্তু কিংবা অন্য চোরের চুরিকৃত বস্তু চুরি করে, তাহলে তার ওপরও হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না।
টিকাঃ
২২. যেমন আমানত, মুদারবাহ, কিফালাহ, ওয়াকালাহ, জামানত, ইরতিহান, ইজারা ও এ'আরা প্রভৃতি।
২৩. তবে এ বিষয়ে ইমামগণের মতবিরোধ রয়েছে। হানাফী ইমামগণের মতে অপহরণকারী থেকে কেউ তার অপহৃত বস্তু চুরি করলে, তবেই হদ্দ কার্যকর হবে। কিন্তু অন্য চোরের চুরিকৃত বস্তু চুরিতে দ্বিতীয় চোরের ওপর হদ্দ বর্তাবে না। তাঁদের বক্তব্য হল, অপহরণকারীকে যেহেতু অপহৃত মাল কিংবা তার মূল্য মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে, তাই অপহরণের ক্ষেত্রে মালের ওপর তার হস্তগতকরণকে একজন জামিনের হস্তগতকরণ হিসেবে ধর্তব্য হবে। আর জামিন হিসেবে মালের হস্তগতকরণ একটি রীতিসিদ্ধ ব্যাপার। পক্ষান্তরে চোর যেহেতু চুরিকৃত মালের আমানতদারও নয়, জামিনও নয়, তাই চুরিকৃত মালের ওপর তার কোনরূপ হস্ত গতকরণের ন্যায্য অধিকার আছে বলে ধর্তব্য হবে না। মালিকীগণের মতে, অপহরণকারী থেকে চুরি করুক কিংবা অন্য চোর থেকে চুরি করুক- উভয় অবস্থায় চোরের ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে। কেননা সে সুরক্ষিত স্থান থেকে মাল হস্তগত করেছে। উপরন্তু, চুরি কিংবা অপহরণের পরও মালের ওপর মালিকের মালিকানা স্বত্ব বহাল থাকে। প্রথম চোর কিংবা অপহরণকারী কর্তৃক উক্ত মাল অবৈধ উপায়ে হস্তগতকরণের ফলে তার মালিকানা স্বত্বের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না। হাম্বলীগণের মতে এ দুঅবস্থার কোন অবস্থাতেই হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। তাঁদের মতে মালিক কিংবা প্রকৃত হকদারের নিকট থেকে কোন মাল চুরি হলেই তা-ই যথার্থ চুরি হিসেবে ধর্তব্য হবে। যদি অন্য কারো থেকে কোন মাল সে নেয়, তা হলে মনে হবে করা যে, সে যেন কারো কোন হারানো মাল পেয়ে কুড়িয়ে নিয়েছে। (আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৪৪-৫; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭,পৃ. ৮০; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.১৩৪; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ২৮২; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫২৯; সাভী, বুলগাতুস সালিক..., খ.৪, পৃ.৪৬৯)
📄 মুসলিম কিংবা ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী অমুসলিম নাগরিক হওয়া
মালের মালিক মুসলিম কিংবা ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিক হলে তবেই চোরের হাত কাটা হবে। অমুসলিম রাষ্ট্রের কোন অমুসলিম নাগরিক ইসলামী রাষ্ট্রে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করল- এমতাবস্থায় ইসলামী রাষ্ট্রের কোন মুসলিম বা অমুসলিম নাগরিক তার মাল চুরি করলে তাতে হদ্দ কার্যকর হবে না। তবে অমুসলিম রাষ্ট্রের কোন অমুসলিম নাগরিক ইসলামী রাষ্ট্রে বৈধ উপায়ে প্রবেশ করল- এমতাবস্থায় ইসলামী রাষ্ট্রের কোন মুসলিম বা অমুসলিম নাগরিক তার মাল চুরি করলে তাতে হদ্দ কার্যকর হবে কি না- তা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। হানাফী ও শাফি'ঈ স্কুলের ইমামগণের মতে, হদ্দ প্রযোজ্য হবে না। তবে তা'যীরের আওতায় সাধারণ শাস্তি দেয়া হবে। আর মালিকী ও হাম্বলী স্কুলের ইমামগণের মতে, হদ্দ প্রযোজ্য হবে।
টিকাঃ
২৪. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫৪৬; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৮১; আল-হাদ্দাদী, আল-জাওহারাহ..., খ.২,পৃ. ১৬৩; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ৮৩; রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ.৭,পৃ. ৪৬৩; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.৬৩৮