📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 চুরির উদ্দেশ্য মাল হস্তগত করা

📄 চুরির উদ্দেশ্য মাল হস্তগত করা


হস্তগতকৃত মাল অন্যায়ভাবে দখল বা মালিকানাভুক্ত করে নেওয়ার অভিপ্রায় থাকতে হবে। কোন মাল হস্তগত করা চুরি কি না তা হস্তগতকারীর নিয়াতের ওপর নির্ভর করে। যেখানে অন্যায়ভাবে গ্রহণের নিয়াত থাকে না, সেখানে তা চুরি বলে গণ্য হবে না। যেমন কেউ যদি কারো কোন মাল ব্যবহার করে পরে ফিরিয়ে দেবে-এ উদ্দেশ্যে হস্তগত করল কিংবা হাস্যচ্ছলে হস্তগত করল অথবা মালিককে কেবল অবহিত করার উদ্দেশ্যে বা এই মনে করে হস্তগত করল যে, মালিক নাখোশ হবে না, তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না, যদি তার কথার সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

টিকাঃ
৭. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যা, খ.২৪, পৃ.২৯৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অপরের মাল জেনে শুনে হস্তগত করা

📄 অপরের মাল জেনে শুনে হস্তগত করা


অপরের মাল জেনে-শুনে তার কোন রূপ অবগতি কিংবা সম্মতি ছাড়া হস্তগত করলেই তা চুরি হিসেবে ধর্তব্য হবে। তাই কেউ যদি কোন মালকে মুবাহ (বৈধ) বা পরিত্যক্ত মনে করে হস্তগত করে, তা হলে তার ওপর হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না।

টিকাঃ
৮. তদেব

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বেচ্ছায় ও প্রলোভনবশত চুরি করা

📄 স্বেচ্ছায় ও প্রলোভনবশত চুরি করা


কোন চোর যদি একেবারে অনন্যোপায় হয়ে চুরি করতে বাধ্য হয় যেমন দুর্ভিক্ষের সময় ক্ষুধার তাড়নায় চুরি করল, তার ওপর হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لا قطع في مجاعة - مُضطَرّ - “ক্ষুধায় বাধ্য হয়ে চুরি করলে হাত কাটা যাবে না।” ইমামগণের সর্বসম্মত হল, দুর্ভিক্ষের সময়ের চুরির অপরাধের কারণে হাত কাটা যাবে না। অনুরূপভাবে কারো একান্ত চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে চুরি করলেও হদ্দ কার্যকর করা হবে না, যদি কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ প্রমাণিত হয়।

টিকাঃ
৯. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ,৯, পৃ.১৪০; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৫৮
১০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ,৯, পৃ.১৪০-১
১১. হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯, পৃ.১৫০; 'উলায়স, মুহাম্মদ, মিনহুল জলীল, দারুল ফিকর, খ.৯, পৃ.৩২৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 চোর ও মালিক পরস্পর রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় না হওয়া

📄 চোর ও মালিক পরস্পর রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় না হওয়া


চোর ও মালিক যদি পরস্পর রক্ত সম্পর্কীয় ঊর্ধ্ব বা অধঃস্তন জাতীয় আত্মীয় হয় (যেমন- পিতামাতা ও পুত্রকন্যা এবং তাদের ঊর্ধ্ব ও অধঃস্তন পুরুষগণ), তা হলেও চোরের ওপর হদ্দ কার্যকর হবে না। উপর্যুক্ত আত্মীয়-স্বজন ছাড়া অপরাপর আত্মীয়-স্বজন (যেমন ভাইবোন, চাচা-চাচী, ফুফা-ফুফী, মামা-মামী, খালা-খালু বা তাদের ছেলেমেয়ে, দুধ মা ও ভাইবোন, সৎ পিতামাতা, শ্বাশুড়-শ্বাশুড়ি ও স্ত্রীর অপর ঘরের ছেলেমেয়ে প্রভৃতি) একে অপরের মাল চুরি করলে অধিকাংশ ইমামের মতে হাত কাটা হবে। তবে হানাফীগণের মতে, রক্তসম্পর্কীয় মুহরাম আত্মীয়-স্বজনরা (যেমন ভাইবোন, চাচা, মামা, ফুফী, খালা প্রভৃতি) একে অপর থেকে চুরি করলে হাত কাটা যাবে না। তাদের বক্তব্য হল- তারা প্রায়শ একে অপরের কাছে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে। এর ফলে তাদের চুরির ক্ষেত্রে একটি সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অধিকন্তু চুরির কারণে তাদের হাত কাটা হলে তাতে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যাবে। তবে রক্তসম্পর্কীয় অমুহরাম আত্মীয়-স্বজনরা (যেমন- চাচাতো ভাইবোন, ফুফাতো ভাইবোন, মামাতো ভাইবোন প্রভৃতি) একে অপর থেকে চুরি করলে হাত কাটা যাবে। কেননা তাদের সচরাচর একে অপরের কাছে বিনা অনুমতি প্রবেশ করার রেওয়াজ ও বিধান নেই। রক্তসম্পর্কীয় নয় এমন মুহরাম আত্মীয়স্বজন (যেমন- দুধ মা ও বোন) একে অপরের মাল চুরি করলে হাত কাটা হবে কি না- তা নিয়ে হানাফীগণের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখের মতে, হাত কাটতে হবে। তবে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে দুধ মা থেকে চুরি করলে হাত কাটা যাবে না।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের মাল চুরি করলেও হদ্দ কার্যকর হবে না, যদি তারা এক সাথে থাকে। যদি তারা এক সাথে না থাকে কিংবা একসাথে থাকলেও তারা নিজেদের মাল যদি একে অপর থেকে দূরে সরিয়ে নিজেদের একান্ত হিফাযতে রাখে, তাহলেও অধিকাংশ ইমামের মতে হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। তবে কারো কারো মতে, এমতাবস্থায় হদ্দ কার্যকর করতে হবে। এটা মালিকী স্কুলের ইমামগণের অভিমত এবং শাফি'ঈগণের নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য অভিমত।

টিকাঃ
১২. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ৯৭; আল-হাদ্দাদী, আল-জাওহারাহ..., খ.২,পৃ. ১৬৭; শাফি'ঈ, ইমাম, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৬৩; হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯.পৃ.২১০
১৩. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫৩৫; শাফি'ঈ, ইমাম, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৬৩; আল- হাদ্দাদী, আল-জাওহারাহ..., খ.২,পৃ. ১৬৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00