📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মুসলিম বা ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী অমুসলিম নাগরিক হওয়া

📄 মুসলিম বা ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী অমুসলিম নাগরিক হওয়া


চুরির শাস্তি কার্যকর করার জন্য চোরকে মুসলিম বা ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী অমুসলিম নাগরিক হতে হবে। অমুসলিম রাষ্ট্রের কোন অমুসলিম নিরাপত্তা চুক্তির ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করে যদি কোন মুসলিম কিংবা অমুসলিম নাগরিকের কোন মাল চুরি করে, তা হলে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে কি না- তা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। মালিকী ও হাম্বলী স্কুলের ইমামগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) প্রমুখের মতে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করতে হবে। কেননা নিরাপত্তা চুক্তির ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করার অর্থ এ দাঁড়ায় যে, সে ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান স্বীকার করে নিয়েছে। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখের মতে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। কেননা সে ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধানের বাধ্যগত অনুবর্তী নয়। তাঁদের মতে, সে চুরিকৃত সম্পদের জন্য দায়ী থাকবে।

টিকাঃ
৬. আস-সারাঙ্গী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৭৮; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যা, খ.২৪, পৃ.২৯৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 চুরির উদ্দেশ্য মাল হস্তগত করা

📄 চুরির উদ্দেশ্য মাল হস্তগত করা


হস্তগতকৃত মাল অন্যায়ভাবে দখল বা মালিকানাভুক্ত করে নেওয়ার অভিপ্রায় থাকতে হবে। কোন মাল হস্তগত করা চুরি কি না তা হস্তগতকারীর নিয়াতের ওপর নির্ভর করে। যেখানে অন্যায়ভাবে গ্রহণের নিয়াত থাকে না, সেখানে তা চুরি বলে গণ্য হবে না। যেমন কেউ যদি কারো কোন মাল ব্যবহার করে পরে ফিরিয়ে দেবে-এ উদ্দেশ্যে হস্তগত করল কিংবা হাস্যচ্ছলে হস্তগত করল অথবা মালিককে কেবল অবহিত করার উদ্দেশ্যে বা এই মনে করে হস্তগত করল যে, মালিক নাখোশ হবে না, তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না, যদি তার কথার সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

টিকাঃ
৭. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যা, খ.২৪, পৃ.২৯৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অপরের মাল জেনে শুনে হস্তগত করা

📄 অপরের মাল জেনে শুনে হস্তগত করা


অপরের মাল জেনে-শুনে তার কোন রূপ অবগতি কিংবা সম্মতি ছাড়া হস্তগত করলেই তা চুরি হিসেবে ধর্তব্য হবে। তাই কেউ যদি কোন মালকে মুবাহ (বৈধ) বা পরিত্যক্ত মনে করে হস্তগত করে, তা হলে তার ওপর হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না।

টিকাঃ
৮. তদেব

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বেচ্ছায় ও প্রলোভনবশত চুরি করা

📄 স্বেচ্ছায় ও প্রলোভনবশত চুরি করা


কোন চোর যদি একেবারে অনন্যোপায় হয়ে চুরি করতে বাধ্য হয় যেমন দুর্ভিক্ষের সময় ক্ষুধার তাড়নায় চুরি করল, তার ওপর হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لا قطع في مجاعة - مُضطَرّ - “ক্ষুধায় বাধ্য হয়ে চুরি করলে হাত কাটা যাবে না।” ইমামগণের সর্বসম্মত হল, দুর্ভিক্ষের সময়ের চুরির অপরাধের কারণে হাত কাটা যাবে না। অনুরূপভাবে কারো একান্ত চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে চুরি করলেও হদ্দ কার্যকর করা হবে না, যদি কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ প্রমাণিত হয়।

টিকাঃ
৯. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ,৯, পৃ.১৪০; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৫৮
১০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ,৯, পৃ.১৪০-১
১১. হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯, পৃ.১৫০; 'উলায়স, মুহাম্মদ, মিনহুল জলীল, দারুল ফিকর, খ.৯, পৃ.৩২৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00