📄 মুকাল্লাফ (প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন) হওয়া
চোরকে বালিগ অর্থাৎ প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-বালিকা চুরি করলে তাদের ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। অনুরূপভাবে চোরকে সুস্থ বিবেকসম্পন্নও হতে হবে। কোন পাগল চুরি করলে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না, যদি সে পুরো পাগল হয়। যদি সে মাঝে মাঝে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তা হলে এরূপ অবস্থায় চুরি করলে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে। অনুরূভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং মতিভ্রম ব্যক্তিদের ওপরও হদ্দ কার্যকর করা হবে না, যদি তারা ঐ অবস্থায় চুরি করে। তবে কোন মাতাল ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে যে কোন মাদক দ্রব্য গ্রহণ করে মাতাল অবস্থায় চুরি করলে এর জন্য সে হদ্দযোগ্য হবে। কারণ সে নিজেই তার মতি বা বোধশক্তি নষ্ট করেছে এবং তা এমন জিনিস দ্বারা করেছে যা গ্রহণ করা স্বয়ং একটি দণ্ডযোগ্য অপরাধ। এরূপ অবস্থায় শাস্তি থেকে রেহাই দেয়া হলে দুস্কৃতিকারীরা মদ্যপান করে অপরাধ করতে দুঃসাহসী হবে।
টিকাঃ
৩. মালিক, ইমাম, আল-মুদাওয়ানাহ, দারুল কুতুব আল-'ইলমিয়্যা, খ.৪, পৃ. ৫৩৪; আল- কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৬৭
৪. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, رفع القلم عن ... عن المعتوه حتى يصح / يعقل - "তিন শ্রেণীর মানুষকে (শাস্তি থেকে) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।... মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত..।" (আল হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৮১ ৭০, ৮১৭১)
৫. আওদাহ, আত-তাশরী'উল জিনা'ঈ..., খ.১, পৃ.৫৮৩
📄 মুসলিম বা ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী অমুসলিম নাগরিক হওয়া
চুরির শাস্তি কার্যকর করার জন্য চোরকে মুসলিম বা ইসলামী রাষ্ট্রের স্থায়ী অমুসলিম নাগরিক হতে হবে। অমুসলিম রাষ্ট্রের কোন অমুসলিম নিরাপত্তা চুক্তির ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করে যদি কোন মুসলিম কিংবা অমুসলিম নাগরিকের কোন মাল চুরি করে, তা হলে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে কি না- তা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। মালিকী ও হাম্বলী স্কুলের ইমামগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) প্রমুখের মতে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করতে হবে। কেননা নিরাপত্তা চুক্তির ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করার অর্থ এ দাঁড়ায় যে, সে ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান স্বীকার করে নিয়েছে। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখের মতে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। কেননা সে ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধানের বাধ্যগত অনুবর্তী নয়। তাঁদের মতে, সে চুরিকৃত সম্পদের জন্য দায়ী থাকবে।
টিকাঃ
৬. আস-সারাঙ্গী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৭৮; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.২৪, পৃ.২৯৬
📄 চুরির উদ্দেশ্য মাল হস্তগত করা
হস্তগতকৃত মাল অন্যায়ভাবে দখল বা মালিকানাভুক্ত করে নেওয়ার অভিপ্রায় থাকতে হবে। কোন মাল হস্তগত করা চুরি কি না তা হস্তগতকারীর নিয়াতের ওপর নির্ভর করে। যেখানে অন্যায়ভাবে গ্রহণের নিয়াত থাকে না, সেখানে তা চুরি বলে গণ্য হবে না। যেমন কেউ যদি কারো কোন মাল ব্যবহার করে পরে ফিরিয়ে দেবে-এ উদ্দেশ্যে হস্তগত করল কিংবা হাস্যচ্ছলে হস্তগত করল অথবা মালিককে কেবল অবহিত করার উদ্দেশ্যে বা এই মনে করে হস্তগত করল যে, মালিক নাখোশ হবে না, তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না, যদি তার কথার সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
টিকাঃ
৭. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.২৪, পৃ.২৯৮
📄 অপরের মাল জেনে শুনে হস্তগত করা
অপরের মাল জেনে-শুনে তার কোন রূপ অবগতি কিংবা সম্মতি ছাড়া হস্তগত করলেই তা চুরি হিসেবে ধর্তব্য হবে। তাই কেউ যদি কোন মালকে মুবাহ (বৈধ) বা পরিত্যক্ত মনে করে হস্তগত করে, তা হলে তার ওপর হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না।
টিকাঃ
৮. তদেব