📄 আর্থ-সামাজিক পরিবেশ বিবেচনা করা
হদ্দের ফায়সালা দান কালে অপরাধীর আর্থ-সামাজিক পরিবেশকেও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অর্থাৎ অপরাধের শাস্তি বিধানের সময় অপরাধী ঠিক কি অবস্থা ও পরিবেশের মধ্যে পড়ে গিয়ে অপরাধটা করেছিল বা করতে বাধ্য হয়েছিল- তা অবশ্যই মূল্যায়ন করা দরকার। হতে পারে, আর্থ-সামাজিক কঠিন পরিস্থিতি অপরাধীকে অপরাধ করতে বাধ্য করেছে। বর্ণিত রয়েছে, হযরত উমার (রা) দুর্ভিক্ষের সময় চোরের হাত কাটার বিধান মওকুফ করে দিয়েছিলেন। তার কারণ এই ছিল যে, দুর্ভিক্ষ ও প্রচণ্ড অভাব-অনটন কালে কে অভাবগ্রস্ততার দরুন, আর কে কোনরূপ প্রয়োজন ছাড়াই চুরির কাজ করেছে, তা নিরূপণ করা কিছুতেই সম্ভবপর হয় না। এ রূপ সংশয়জনক অবস্থায় হাত কাটার নির্দেশ কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে না।৪৬
টিকাঃ
৪৬. ইবনু কুদামা আল-মাকদিসী, আল-কাফী ফী কিহহি ইবনি হাম্বল, বৈরূত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, খ.৪, পৃ. ১৮১
📄 অপরাধ সম্পন্ন করা
অপরাধ সম্পন্ন করলেই হদ্দ কার্যকর করা হবে। অপরাধের কাজ শুরু করার মুহূর্তে কেউ ধরা পড়লে হদ্দ জারি করা যাবে না। যেমন কেউ যদি ঘরের দরজা ভেঙ্গে বা সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকবার পূর্ণ ব্যবস্থা করার পর ঘরের লোকেরা টের পেয়ে যায় অথবা পাহারাদারের চোখে পড়েছে মনে করে চুরি করা থেকে ফিরে যায়, তাহলে তার ওপর হদ্দ জারি করা যাবে না। তবে সাধারণ দণ্ড প্রয়োগ করা যাবে।৪৭
টিকাঃ
৪৭. আওদাহ, আবদুল কাদের, আত-তাশরী'উল জিনা'ঈ আল-ইসলামী, বৈরূত : মু'আসসাতুর রিসালাহ, ১৪০১হি., খ.১, পৃ.৩৫০-১
📄 অপরাধ ইসলামী রাষ্ট্রে সংঘটিত হওয়া
অপরাধ ইসলামী রাষ্ট্রে সংঘটিত হতে হবে। অমুসলিম রাষ্ট্রে কোন মুসলিম হদ্দযোগ্য কোন অপরাধ করলেও সে জন্য হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। কারণ, ইসলামী শরী'আ আইনে হদ্দ কার্যকর করার একমাত্র বৈধ অধিকারী হলেন ইসলামী সরকার বা তার প্রতিনিধি। অমুসলিম রাষ্ট্রে যেহেতু ইসলামী সরকারই নেই, তাই সেখানে হদ্দ কায়েম করা যাবে না।৪৮ তবে কোন অমুসলিম কিংবা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যদি মুসলিমদের জন্য পৃথক শরী'আ আইন ও আদালত কার্যকর থাকে, তা হলে মুসলিম কাযীগণই হদ্দযোগ্য অপরাধের জন্য হদ্দ কার্যকর করার যাবতীয় শর্ত বিবেচনায় এনে অপরাধীদের ওপর হদ্দ প্রয়োগ করতে পারবে।
টিকাঃ
৪৮. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৯২