📄 অপরাধ সম্পর্কে অবগত থাকা
অপরাধ সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। অতএব কোন অমুসলিম দেশের নাগরিক মুসলিম দেশে এসে যদি মুসলিম হয় এবং এর পর মদ সেবন করে, অতঃপর সে যদি বলে যে, মদের নিষেধাজ্ঞাটি আমার জানা ছিল না, তাহলে তাকে মদপানের শাস্তি দেয়া যাবে না। তবে সে যদি চুরি করে কিংবা যেনা করে এ রূপ বলে, তা হলে তার কথা আমলে নেয়া হবে না। কেননা কোন ধর্মেই তো এ কাজগুলো বিধিসম্মত নয়। তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে।৪৩
টিকাঃ
৪৩. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ.৩১
📄 সুস্থ হওয়া
সুস্থ হতে হবে। বেত্রাঘাতের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এমন কোন রোগে আক্রান্ত হয়, যে রোগ থেকে তার সুস্থ হবার আশা রয়েছে, তাহলে রোগাক্রান্ত অবস্থায় তার ওপর হদ্দ কায়িম করা উচিত নয়। তবে রোগ থেকে সুস্থ হবার আশা না থাকলে রোগাক্রান্ত অবস্থায় হদ্দ জারি করতে হবে। প্রস্তরনিক্ষেপে হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় সাজা দেয়া যাবে।
📄 স্বেচ্ছায় অপরাধে লিপ্ত হওয়া
স্বেচ্ছায় অপরাধে লিপ্ত হতে হবে। অতএব, কোন ব্যক্তি যদি কারো প্রবল চাপে ঠেকায় পড়ে কোন অপরাধে লিপ্ত হয়, তাহলেও তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, رفع عن أمتي الخطأ و النسيان و ما استكرهوا عليه - "আমার উম্মাত থেকে ভুল-ভ্রান্তি, বিস্মৃতি এবং যে কাজে তাদের জোরপূর্বক বাধ্য করা হবে, তা ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।"৪৫
টিকাঃ
৪৫. ইবনু হাজর 'আসকালানী, আদ-দিরায়াহ ফী তাখরীজি আহাদীছিল হিদায়াহ, বৈরূত: দারুল মা'আরিফা, খ.১, পৃ. ১৭৫
📄 আর্থ-সামাজিক পরিবেশ বিবেচনা করা
হদ্দের ফায়সালা দান কালে অপরাধীর আর্থ-সামাজিক পরিবেশকেও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অর্থাৎ অপরাধের শাস্তি বিধানের সময় অপরাধী ঠিক কি অবস্থা ও পরিবেশের মধ্যে পড়ে গিয়ে অপরাধটা করেছিল বা করতে বাধ্য হয়েছিল- তা অবশ্যই মূল্যায়ন করা দরকার। হতে পারে, আর্থ-সামাজিক কঠিন পরিস্থিতি অপরাধীকে অপরাধ করতে বাধ্য করেছে। বর্ণিত রয়েছে, হযরত উমার (রা) দুর্ভিক্ষের সময় চোরের হাত কাটার বিধান মওকুফ করে দিয়েছিলেন। তার কারণ এই ছিল যে, দুর্ভিক্ষ ও প্রচণ্ড অভাব-অনটন কালে কে অভাবগ্রস্ততার দরুন, আর কে কোনরূপ প্রয়োজন ছাড়াই চুরির কাজ করেছে, তা নিরূপণ করা কিছুতেই সম্ভবপর হয় না। এ রূপ সংশয়জনক অবস্থায় হাত কাটার নির্দেশ কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে না।৪৬
টিকাঃ
৪৬. ইবনু কুদামা আল-মাকদিসী, আল-কাফী ফী কিহহি ইবনি হাম্বল, বৈরূত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, খ.৪, পৃ. ১৮১