📄 সুস্থ বিবেকসম্পন্ন হওয়া
অপরাধীকে সুস্থ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে। অতএব কোন ব্যক্তি অপরাধ করার পর পাগল হয়ে গেলে তার ওপরও হদ্দ কায়িম করা যাবে না। তদ্রূপ পাগল অবস্থায় কেউ কোন রূপ অপরাধে লিপ্ত হলে তার জন্যও তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : رفع القلم عن ثلثة " عن الصبي حتى يبلغ " و عن النائم حتى يستيقظ ، و عن المجنون حتى يفيق - "তিন শ্রেণীর মানুষকে (শাস্তি থেকে) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ক. নাবালিগ বালিগ না হওয়া পর্যন্ত, খ. ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত ও গ. পাগল সুস্থবুদ্ধি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত।"৪২
টিকাঃ
৪২. সহীহ মুসলিম, (কিতাবুল আশরিবা), হা.নং: ২০০৯; আবূ দাউদ, (কিতাবুল আশরিবা), হা.নং: ৩৬৭৯ ও (কিতাবুল হুদূদ), হা, নং: ৪৪০২; সুনান আন্ নাসাঈ, (কিতাবুল আশরিবা), হা.নং: ৫৫৭৯; তিরমিযী, (কিতাবুল আশরিবা), হা.নং: ১৮৬২
📄 অপরাধ সম্পর্কে অবগত থাকা
অপরাধ সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। অতএব কোন অমুসলিম দেশের নাগরিক মুসলিম দেশে এসে যদি মুসলিম হয় এবং এর পর মদ সেবন করে, অতঃপর সে যদি বলে যে, মদের নিষেধাজ্ঞাটি আমার জানা ছিল না, তাহলে তাকে মদপানের শাস্তি দেয়া যাবে না। তবে সে যদি চুরি করে কিংবা যেনা করে এ রূপ বলে, তা হলে তার কথা আমলে নেয়া হবে না। কেননা কোন ধর্মেই তো এ কাজগুলো বিধিসম্মত নয়। তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে।৪৩
টিকাঃ
৪৩. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ.৩১
📄 সুস্থ হওয়া
সুস্থ হতে হবে। বেত্রাঘাতের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এমন কোন রোগে আক্রান্ত হয়, যে রোগ থেকে তার সুস্থ হবার আশা রয়েছে, তাহলে রোগাক্রান্ত অবস্থায় তার ওপর হদ্দ কায়িম করা উচিত নয়। তবে রোগ থেকে সুস্থ হবার আশা না থাকলে রোগাক্রান্ত অবস্থায় হদ্দ জারি করতে হবে। প্রস্তরনিক্ষেপে হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় সাজা দেয়া যাবে।
📄 স্বেচ্ছায় অপরাধে লিপ্ত হওয়া
স্বেচ্ছায় অপরাধে লিপ্ত হতে হবে। অতএব, কোন ব্যক্তি যদি কারো প্রবল চাপে ঠেকায় পড়ে কোন অপরাধে লিপ্ত হয়, তাহলেও তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, رفع عن أمتي الخطأ و النسيان و ما استكرهوا عليه - "আমার উম্মাত থেকে ভুল-ভ্রান্তি, বিস্মৃতি এবং যে কাজে তাদের জোরপূর্বক বাধ্য করা হবে, তা ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।"৪৫
টিকাঃ
৪৫. ইবনু হাজর 'আসকালানী, আদ-দিরায়াহ ফী তাখরীজি আহাদীছিল হিদায়াহ, বৈরূত: দারুল মা'আরিফা, খ.১, পৃ. ১৭৫