📄 কিসাসের বেলায় সুপারিশ
কিসাসের মধ্যে যেহেতু মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের প্রাবল্য রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে সুপারিশ করা এবং তা আমলে নেয়া দুই-ই জায়িয। হত্যা প্রমাণিত হওয়ার পর হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের ইখতিয়ারে ছেড়ে দেয়া হয়। সে ইচ্ছে করলে কিসাস হিসেবে মৃত্যুদণ্ডও দাবী করতে পারে। ক্ষমাও করে দিতে পারে।
📄 তা‘যীরাতের বেলায় সুপারিশ
যে সব তা'যীরাতে মানুষের অধিকারের প্রাবল্য রয়েছে, আদালতে নালিশ পেশ হবার আগে ও পরে উভয় অবস্থায় তাতে সুপারিশ করা ও তা শ্রবণ করা- দুই-ই জায়িয।২০ আর আল্লাহর অধিকারের সাথে জড়িত তা'যীরাত কিংবা যে সব তা'যীরাতে আল্লাহর অধিকারের প্রাবল্য রয়েছে, তাতে কারো সুপারিশ করা দূষণীয় নয়; তবে শাসক বা বিচারকের দরবারে তার নালিশ পৌঁছার পর ক্ষমা করার ব্যাপারটি শাসক বা বিচারকের হাতে ন্যস্ত থাকবে। শাসক বা বিচারক সার্বিক অবস্থা বিবেচনা পূর্বক ভাল মনে করলে সুপারিশ গ্রহণ করে শাস্তি ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবার সুপারিশ অগ্রাহ্য করে জনস্বার্থে শাস্তি কার্যকরও করতে পারেন।২১
টিকাঃ
২০. অধিকাংশদের মতে, সাধারণত তা'যীরাতের ক্ষেত্রে সুপারিশ করা জায়িয। কারো কারো দৃষ্টিতে মুস্তাহাবও। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, اشفعوا تؤجروا - "তোমরা সুপারিশ করো, তোমাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।" (বুখারী, (কিতাবুয যাকাত), হা.নং: ১৩৬৫)
২১. আশ-শারবীনী আল-খতীব, মুগনিউল মুহতাজ, দারুল কুতুবিল 'ইলমিয়্যা, খ.৫, তা'যীর অধ্যায়; আল-মাওসু'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.৩০, পৃ.১৮৫। তবে মালিকীগণের মতে, আল্লাহর হকের সাথে জড়িত তা'যীরাত হলে এবং যার জন্য সুপারিশ করা হবে সে যদি অসৎ হয়, তাহলে শাস্তি কার্যকর করাই হল শাসকের একান্ত কর্তব্য। (আর-রু'আয়নী, মুহাম্মদ, মাওয়াহিবুল জলীল, দারুল ফিকর, খ.৬, পৃ.৩২১)