📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 হুদূদের বেলায় সুপারিশ

📄 হুদূদের বেলায় সুপারিশ


হুদূদের বেলায় সুপারিশ করা এবং তা আমলে নেয়া দুই-ই না জায়িয।১৫ হুদূদ জাতীয় কোন অপরাধের নালিশ যদি বিচারকের কাছে দায়ির হয় এবং তা প্রমাণিতও হয়, তাহলে কোনভাবেই এ অপরাধের শাস্তি ক্ষমা বা লঘু করার সুপারিশ করা কারো জন্য জায়িয নয়। কেননা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুদূদের মধ্যে আল্লাহর অধিকার বাস্তবায়নের দিকটি প্রবল থাকে। তাই এমতাবস্থায় সুপারিশ করার অর্থ হলো আল্লাহর অধিকার বাস্তবায়নে বাধা দান করা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। বর্ণিত রয়েছে, একবার হযরত উসামা ইবনু যায়দ (রা) মাখযুম গোত্রের জনৈকা মহিলা চোরের শাস্তি লঘু করার ব্যাপারে সুপারিশ করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, أتشفع في حد من حدود الله ؟ - “তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত একটি হদ্দের ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করছো? অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, يايها الناس إنما ضل من كان قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه و إذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليها الحد " و أيم الله لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطع محمد يدها - "হে মানবমণ্ডলী, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো এ জন্যে ধ্বংস হয়ে গেছে যে, তাদের মধ্যকার কোন অভিজাত লোক যদি চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখনই কোন দুর্বল লোক চুরি করতো, তখনি তার ওপর তারা হদ্দ কায়িম করতো। আল্লাহর শপথ! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করতো, তা হলেও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবশ্যই তাঁর হাত কেটে ফেলতো।”১৬ হযরত 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, من حالت شفاعته دون حد من حدود الله فقد ضاد الله في أمره. - "যার সুপারিশের কারণে আল্লাহর কোন হদ্দ কায়িম বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, সে অবশ্যই তাঁর নির্দেশ নিয়ে তাঁর সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে।১৭
তবে অপরাধের নালিশ বিচারক বা শাসকের কাছে দায়ির করার আগে বাদীর কাছে অপরাধীকে ছেড়ে দেয়ার বা মাফ করে দেয়ার জন্য সুপারিশ করা দূষণীয় নয়। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার জনৈক ব্যক্তি তাঁর একটি চাদর চুরি করেছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এর বিচার দায়ের করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যক্তিটির হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। এরপর সাফওয়ান নিজেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তাকে মাফ করে দেয়ার আবেদন জানালেন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, আবূ ওয়াহাব! তাহলে তুমি আমার কাছে তাকে নিয়ে আসার আগে কেন তাকে ক্ষমা করলে না? এ বলে তিনি তার হাত কেটে ফেললেন।১৮ এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, বিচারক বা শাসকের কাছে মামলা দায়ের করার আগে অপরাধীকে মাফ করে দিতে এবং বাদীর কাছে অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য সুপারিশ করতে কোন অসুবিধা নেই।
তবে অপরাধ যদি অমার্জনীয় হয় এবং অপরাধীও বিপজ্জনক হয়, তাহলে তাকে ছেড়ে দেয়ার বা মাফ করে দেয়ার সুপারিশ করা উচিত নয়; বরং তার ওপর যথাযথভাবে হদ্দ কার্যকর করার ব্যবস্থায় সহযোগিতাই করাই উত্তম।১৯

টিকাঃ
১৫. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, বৈরূত: দারুল কুতুবিল 'ইলমিয়‍্যা, খ.৪, পৃ.৪; আল-ফাওযান, ড. সালিহ ইবন ফাওযান, আল-মুলাখস আল-ফিকহী, রিয়াদঃ ইদারাতুল বুহুছ আল-'ইলমিয়‍্যা ওয়াল ইফতা', ১৪২৩ হি. পৃ ৫২৪-৫২৫
১৬. সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুল আম্বিয়া), হা.নংঃ ৩২৮৮; সহীহ মুসলিম, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৪৩৮৬, ৪৩৮৭
১৭. আবূ দাউদ, (কিতাবুল আকদিয়াহ), হা.নং: ৩৫৪৭; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাবুল বুয়ু'): ২২২২; আহমদ, আল-মুসনাদ, হা.নং: ৫৩৬২
১৮. আবূ দাউদ, (কিতাবুল হুদুদ), হা.নং: ৪৩৯৪; নাসাঈ, (কিতাবুল হুদুদ), হা.নং: ৪৮৯৩; ইবনু মাজাহ, (কিতাবুল হুদুদ), হা.নং: ২৫৯৫
১৯. এটা ইমাম মালিকের অভিমত। (আল-বাজী, সুলায়মান, আল-মুনতকা' শারহুল মু'আত্তা, দারুল কিতাবিল ইসলামী, খ.৭,পৃ. ১৬৩)

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 কিসাসের বেলায় সুপারিশ

📄 কিসাসের বেলায় সুপারিশ


কিসাসের মধ্যে যেহেতু মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের প্রাবল্য রয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে সুপারিশ করা এবং তা আমলে নেয়া দুই-ই জায়িয। হত্যা প্রমাণিত হওয়ার পর হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের ইখতিয়ারে ছেড়ে দেয়া হয়। সে ইচ্ছে করলে কিসাস হিসেবে মৃত্যুদণ্ডও দাবী করতে পারে। ক্ষমাও করে দিতে পারে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 তা‘যীরাতের বেলায় সুপারিশ

📄 তা‘যীরাতের বেলায় সুপারিশ


যে সব তা'যীরাতে মানুষের অধিকারের প্রাবল্য রয়েছে, আদালতে নালিশ পেশ হবার আগে ও পরে উভয় অবস্থায় তাতে সুপারিশ করা ও তা শ্রবণ করা- দুই-ই জায়িয।২০ আর আল্লাহর অধিকারের সাথে জড়িত তা'যীরাত কিংবা যে সব তা'যীরাতে আল্লাহর অধিকারের প্রাবল্য রয়েছে, তাতে কারো সুপারিশ করা দূষণীয় নয়; তবে শাসক বা বিচারকের দরবারে তার নালিশ পৌঁছার পর ক্ষমা করার ব্যাপারটি শাসক বা বিচারকের হাতে ন্যস্ত থাকবে। শাসক বা বিচারক সার্বিক অবস্থা বিবেচনা পূর্বক ভাল মনে করলে সুপারিশ গ্রহণ করে শাস্তি ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবার সুপারিশ অগ্রাহ্য করে জনস্বার্থে শাস্তি কার্যকরও করতে পারেন।২১

টিকাঃ
২০. অধিকাংশদের মতে, সাধারণত তা'যীরাতের ক্ষেত্রে সুপারিশ করা জায়িয। কারো কারো দৃষ্টিতে মুস্তাহাবও। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, اشفعوا تؤجروا - "তোমরা সুপারিশ করো, তোমাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।" (বুখারী, (কিতাবুয যাকাত), হা.নং: ১৩৬৫)
২১. আশ-শারবীনী আল-খতীব, মুগনিউল মুহতাজ, দারুল কুতুবিল 'ইলমিয়্যা, খ.৫, তা'যীর অধ্যায়; আল-মাওসু'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.৩০, পৃ.১৮৫। তবে মালিকীগণের মতে, আল্লাহর হকের সাথে জড়িত তা'যীরাত হলে এবং যার জন্য সুপারিশ করা হবে সে যদি অসৎ হয়, তাহলে শাস্তি কার্যকর করাই হল শাসকের একান্ত কর্তব্য। (আর-রু'আয়নী, মুহাম্মদ, মাওয়াহিবুল জলীল, দারুল ফিকর, খ.৬, পৃ.৩২১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00