📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অপরাধের প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন

📄 অপরাধের প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন


অপরাধী কেন অপরাধ করল, কোন জিনিস তাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ বা বাধ্য করেছে, ইসলামী আইনে দণ্ডের ফায়সালা দেয়ার সময় তা অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হয়। বিস্তারিত ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে যদি জানা যায় যে, তার অপরাধকরণে কোন বৈষয়িক কারণ ছিল, তা হলে অপরাধীকে অবশ্যই 'সন্দেহ-সুবিধা' দিতে হবে। এ কারণে ইমামগণ বলেছেন, একজন কুমারী মেয়েকে অন্তঃসত্ত্বা দেখেই তাকে দণ্ড দেয়া যাবে না- যতক্ষণ না সে ব্যভিচার করার স্বীকারোক্তি দিচ্ছে। সে অপরিচিতা হোক কিংবা পরিচিতা এবং বলাৎকারের ফলে হয়েছে কিংবা তখন সে নির্বাক ও অপ্রতিবাদী ছিল, এই প্রশ্নও অবান্তর। অথবা সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা ব্যভিচার প্রমাণিত হবে। অন্যথায় সন্দেহের সুযোগ তাকে দিতে হবে ও হদ্দ অকার্যকর থাকবে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 কঠোরতা ও দয়ার সমন্বয়

📄 কঠোরতা ও দয়ার সমন্বয়


এ কথা সত্য যে, ইসলামের কোন কোন হদ্দ অত্যন্ত কঠোর ও নির্মম; কিন্তু এতে সমাজের প্রতি ইসলামের যে ব্যাপক দয়া বা দায়-দায়িত্ব বোধ প্রকাশ পেয়েছে, সে কথা কিছুতেই বিস্মৃত হওয়া চলে না। কতিপয়ের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করে সমষ্টির ক্ষতি সাধন করা কিছু মাত্র যৌক্তিক হতে পারে না। এ কথা বলাই বাহুল্য যে, শাস্তির কঠোরতা-নমনীয়তার সাথে অপরাধের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। ইতিহাস এটা প্রমাণ করে যে, যখন সমাজে অপরাধের কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, তখনই অপরাধের সংখ্যা দ্রুত শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে। পাশাপাশি যখন শাস্তির কঠোরতার মাত্রা কম করা হয়েছে, অপরাধের সংখ্যা তখনই হু হু করে বৃদ্ধি পেতে থাকে। অপরদিকে এ-ও লক্ষ্যণীয় যে, ইসলাম হদ্দ জাতীয় শাস্তি প্রমাণের ক্ষেত্রে কল্পনাতীত কঠোরতার নীতি অবলম্বন করেছে। অপরাধ প্রমাণে কোন রূপ সন্দেহ দেখা দিলে হদ্দ কার্যকর হবে না।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 সমষ্টি ও ব্যষ্টি- উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ

📄 সমষ্টি ও ব্যষ্টি- উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ


মানব রচিত আইনে অপরাধের শাস্তিদানের উদ্দেশ্য শুধু সমাজের কল্যাণ সাধন, সাধারণত অপরাধীর স্বার্থ সেখানে উপেক্ষিত। কিন্তু ইসলামে শাস্তির ফায়সালার ক্ষেত্রে যেমন অপরাধীর অপরাধে লিপ্ত হবার প্রেক্ষাপটের মূল্যায়ন করতে হয়, তেমনি অপরাধের সময় আর্থ-সামাজিক পরিবেশ, সাংস্কৃতিক অবস্থা ও অপরাধীর মানসিক ভারসাম্য কি রূপ ছিল- এ সব বিষয়ের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ১৪ তদুপরি অপরাধীর অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে শাস্তি বিলম্বিত করার ব্যবস্থাও ইসলামে রয়েছে এবং তা দয়াশীলতার এক উজ্জ্বল নির্দশন।

টিকাঃ
১৪. এ কারণেই ইসলামী চিন্তাবিদগণ বলেছেন, হদ্দসমূহ কার্যকর করতে হলে সমাজে এ সকল অপরাধ সংঘটিত হবার সম্ভাব্য সকল দ্বার পূর্বেই রুদ্ধ করে দিতে হবে। এর পর যদি অপরাধ সংঘটিত হয় এবং তা হয় কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, তাহলেই সে জন্য অপরাধীকে হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 শিক্ষামূলক ও দৃষ্টান্তমূলক

📄 শিক্ষামূলক ও দৃষ্টান্তমূলক


ইসলামে বড় বড় অপরাধের শাস্তি শুধু কঠোরই নয়; শিক্ষামূলক ও দৃষ্টান্ত মূলকও। আজ পর্যন্ত দুনিয়ায় এটাই দেখা গেছে যে, জনগণকে যে কাজ থেকে বিরত রাখা কাম্য, তা করার অপরাধের শাস্তি সাধারণত প্রকাশ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। শাস্তি যতই শিক্ষামূলক ও দৃষ্টান্তমূলক হবে, অপরাধের প্রবণতা সমাজে ততই বাধাগ্রস্ত হবে। এ কারণেই ইসলামে বড় বড় অপরাধের শাস্তিসমূহ গোপনে নয়; প্রকাশ্যভাবে ও জনগণের উপস্থিতিতে কার্যকর করার ব্যবস্থা করেছে।
তবে তা'যীরী অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে অপরাধীর অবস্থা ও পরিবেশ বিবেচনা করে নিবর্তনমূলক শাস্তি দান অর্থাৎ প্রয়োজনে অপরাধীকে জনসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কারাগারে কয়েদ করা রাখার ব্যবস্থাও ইসলামে রয়েছে। কিন্তু এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বর্তমান কালে কারাগারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নৈরাশ্যজনক। বলতে গেলে এ যুগের কারাগারসমূহ অপরাধ বিজ্ঞানের সুদৃঢ় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের কোন অপরাধী কিছুকাল কারাজীবন লাভ করতে পারলে সে একজন অতীব দক্ষ ও পাকাপোক্ত এবং দুঃসাহসী অপরাধী হয়ে বের হয়ে আসে। তাই বিষয়টি এখন গভীরভাবে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। অপরাধীকে অপরাধবিমুখ এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত বানাতে হলে বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে কোন কোন তা'যীরী অপরাধের জন্যও হুদূদের মতো নিবর্তনমূলক শাস্তির চাইতে দৃষ্টান্তমূলক দৈহিক শাস্তিদানের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00