📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 দাফন

📄 দাফন


১. مسلمانوں একান্তভাবে ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ কবরস্থান সংরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অমুসলমানদের কবরস্থানে مسلمانوں দাফন না করা এবং মুসলিম কবরস্থানেও অনুরূপ বিধান করা অতীব জরুরি।
২. কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর বিশেষভাবে অনুরোধ করে হলেও তার লাশ পুড়িয়ে ফেলা যাবে না। এ ধরনের অনুরোধ কখনই পূরণ করা চলবে না।
৩. শহীদান (যারা যুদ্ধ ক্ষেত্রে বা অন্যান্য কারণে নিহত হয়ে শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্ত) ছাড়া অন্যান্যদেরকে কবরস্থানে দাফন করতে হবে। শহীদদেরকে তাদের শাহাদাতস্থলে দাফন করতে হবে।
৪. যে পাড়ায় বা মহল্লায় ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে সেখানেই তাকে দাফন করা উচিত। মৃত ব্যক্তির নিজ দেশে নিয়ে যাওয়া অথবা অন্য শহরে স্থানান্তরিত করা বাঞ্ছিত নয়।
৫. নিম্নোক্ত ব্যতিক্রম ছাড়া মৃত্যুর পরপরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন সম্পন্ন করতে হবে:
(ক) রাতে (খ) সূর্যোদয় থেকে সূর্য-দিগন্তে ৪.৫ ডিগ্রি না উঠা পর্যন্ত (পুরোপুরি সূর্য উঠা পর্যন্ত)। (গ) মধ্যাহ্নগগনে সূর্যের অবস্থান কালে (সূর্য যখন মধ্য রেখায় অবস্থান করে) তার মধ্যরেখা অতিক্রম করা পর্যন্ত (ঘ) সূর্যাস্তের আগে যে সময় সূর্যের রশ্মি নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে পুরোপুরি সূর্যাস্ত পর্যন্ত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এ সময়ের মধ্যে মৃত ব্যক্তির দাফন করা নিষিদ্ধ।
৬. রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দ অথবা ধনীদের জন্য বিশেষ কবরস্থান নির্বাচন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ইসলাম জীবনে ও মরণে শ্রেণীভেদ প্রত্যাখ্যান করেছে।
৭. যুদ্ধকালে বা মহামারীর সময় একই কবরে একাধিক ব্যক্তিকে দাফন করতে হলে জীবিতকালে যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করেছে, তাকেই আগে দাফন করতে হবে।
৮. শুধু পুরুষ লোকেরাই মৃত ব্যক্তিকে কবরে স্থাপন করবে। মৃতের পুরুষ আত্মীয়রাই সত্যিকার অর্থে তাকে (নারী হোক বা পুরুষ হোক) কবরে নামানোর হকদার।
৯. মৃতের গোসল, কাফন পরানো বা কবরে নামানোর কাজে ভাড়াটে লোক নিয়োগ করা অনুচিত। মৃত ব্যক্তির আত্মীয় ও পরিবারকে এসব কাজ সম্পাদন করতে হবে। জীবনে ও মরণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের উপর ইসলাম গুরুত্ব আরোপ করেছে।
১০. মৃতকে কিবলামুখী করে ডানদিকে কবরে শুইয়ে দিতে হবে।
১১. মৃত ব্যক্তিকে কবরে স্থাপনকারীরা বলবে : “বিসমিল্লাহি ওয়াআলা মিল্লাতে রাসূলিল্লাহি” (আল্লাহর নামে এবং তার রহমতে ও রাসূলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহর অনুসরণে); কবরের পিছন দিক হতে লাশ কবরে স্থাপন করতে হবে।
১২. কবরস্থানে লাশ স্থাপন করা পর্যন্ত কবরে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। যারা কবরে লাশ স্থাপন করবে তারা ছাড়া আত্মীয়-স্বজনরা বসে থাকতে পারবে।
১৩. কবরে লাশ নামানোর পর এবং তার উপর ঢাকনা দেওয়ার পর কবরের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন তিন মুঠি মাটি কবরে স্থাপন করবে।
১৪. মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির তওবা করানো একটি নব্য রেওয়াজ। ব্যক্তির মৃত্যুর আগে তওবা করাতে হবে।
১৫. মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সুন্নত।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 কবর দেওয়ার পর

📄 কবর দেওয়ার পর


১. মৃত ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে আত্মীয়-স্বজনের উচিত তার ঋণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিশোধ করা, অবশ্য যদি তা তাদের সামর্থ্যে কুলায়।
২. ইসলামি শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক না হলে মৃত ব্যক্তির সর্বশেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায়, ইসলাম যেহেতু নির্দিষ্ট লোকদের জন্য উত্তরাধিকার আইন কার্যকর করেছে, সেহেতু মৃত ব্যক্তি তার কোন উত্তরাধিকারীকে অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার ওছিয়ত করলে তা পূরণ করা ঠিক হবেনা।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 শোক প্রকাশ

📄 শোক প্রকাশ


১. শোকসন্তপ্তদের সান্ত্বনা, সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ مسلمانوں অন্যতম কর্তব্য। এর ফলে মুসলিম সমাজে সম্প্রীতির সম্পর্ক জোরদার হয়। সুতরাং মৃত্যুর পর শোকাহত পরিবারের সঙ্গে সামাজিকভাবে মেলামেশা করা, তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করা ইসলামি আচরণের বৈশিষ্ট্য।
২. কারো প্রতি সমবেদনা প্রকাশের ভাষা খুব সতর্কভাবে চয়ন করতে হবে। খোদার ইচ্ছাকে মেনে নিতে উৎসাহিত করা এবং সহানুভূতি প্রকাশের জন্য যথার্থ শব্দ চয়ন করতে হবে।
৩. উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সমবেদনা প্রকাশের ইসলামি ভাষা হচ্ছে: গফরাল্লাহু লিমাইয়াতিকুম (হে খোদা মৃতের গোনাহ মাফ কর) এবং ইন্নালিল্লাহি মা আখাযা ওয়ালাহু মা'আতা ওয়াকুলু শাইয়িন ইন্দাহু ইলা আজালীন মুসাম্মা (খোদা যা নিয়েছেন বা দিয়েছেন তা প্রকৃত অর্থে তারই এবং প্রত্যেক কাজের জন্য তাঁর নির্দিষ্ট সময় রয়েছে)।
৪. শোকাহত লোকদের সান্ত্বনা ও উৎসাহদান যতদূর প্রয়োজন হয় দিতে হবে। শোকাহত সদস্যদের সাথে মাঝে মাঝে সাক্ষাৎ করতে হবে।
৫. শোকসন্তপ্ত পরিবার আগত লোকজনদের জন্য রান্নাবান্না করতে বা খাদ্য পরিবেশন করতে পারেনা। বরং বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তৈরির জন্য; কারণ পরিবারের সকলে প্রিয়জন হারানোর বেদনায় থাকে আচ্ছন্ন।
৬. শোকবিধুর লোকজনকে সমবেদনা জানানো সদাচরণ সন্দেহ নেই, তবে এতে বাড়াবাড়ি করা চলবে না। বক্তৃতা হবে সংক্ষিপ্ত। হালকা কথাবার্তা, রসিকতা এবং হাসাহাসির মত বিষয় পরিহার করতে হবে।
৭. কোন মুসলমানের মৃত্যুর পর সবরকম বিদয়াত কাজ (যেমন চতুর্দশ দিবসে কবরের পাশে বসে সারারাত ধরে বিলাপ করা ইত্যাদি) পরিহার করতে হবে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 শোক পালন

📄 শোক পালন


১. ইসলামে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করার অনুমতি থাকলেও এ ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্তমানকালে مسلمانوں কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান।
২. মৃত আত্মীয়ের জন্য মহিলাদের তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশ করতে নেই। বিধবারা চার মাস দশ দিন শোক প্রকাশ করতে পারে।
৩. ক্ষতির পরিমাণ যত বেশিই হোকনা কেন, কারো দৃষ্টিতে দিশেহারা হয়ে গেছে, এমন হওয়া চলবেনা। শোকাহত লোকদের সংযম প্রদর্শন করতে হবে এবং খোদার শোকর করে তাদেরকে বলতে হবে, "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলায়হি রাজেউন" (নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব)।
৪. আত্মীয় বা বন্ধুর মৃত্যুতে শোকাহত হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। মৃতদের জন্য বিলাপ করতে দেখা স্বাভাবিক ব্যাপার এবং ইসলামে তা অনুমোদিত। ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হচ্ছে বুক চাপড়ে, চুল বা কাপড় ছিঁড়ে বিলাপ করা বা তীক্ষ্ণ চীৎকার করা।
৫. মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশ কালে ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী কোন বাক্য যাতে উচ্চারিত না হয় তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে; যেমন- "আমার এখন কি উপায় হবে"? অথবা "আমাদের এখন ভরণ পোষণকারী চলে গেল"। এসবের অর্থ হচ্ছে আল্লাহ ব্যতীত মানুষের উপর নির্ভর করা।
৬. মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছেঃ শোক প্রকাশকারীদের এভাবে শোক প্রকাশ করতে মানা করা।
৭. ইসলামের মতে, বিধবাদের শোক প্রকাশকাল পর্যন্ত বিয়ে করা উচিত নয়। সুতরাং এ সময়ের মধ্যে বিধবার প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দেয়া অভদ্রতা।
৮. শোক প্রকাশরত মহিলার জাফরান রঙের কাপড়, অলঙ্কার না পরলে, চুলে মেহেদী বা চোখে আতর না লাগালে ভাল হয়।
এই অধ্যায়ে আমরা দাফন কাফনের ব্যাপারে খুবই সাধারণ ও প্রয়োজনীয় বিধান আলোচনায় সীমিত থেকেছি। যারা এ ব্যাপারে আরো তথ্য চান, তাদেরকে ইসলামি আইনের বিভিন্ন গ্রন্থাদি পড়াশুনা করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00