📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 রাজপথে

📄 রাজপথে


সড়ক, রাজপথ ও গলি হচ্ছে জনগণের সম্পত্তি। এসব স্থানে আচরণ বিধি মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেসব বিধান মেনে চলা প্রগতি ও সভ্যতার ইংগিতবাহী; এগুলোর লংঘন অনগ্রসরতার শামিল:
১. সড়ক সংক্রান্ত ব্যক্তির আচরণের প্রধান নীতি হবে অন্যের ক্ষতি বা বিরক্তির কারণ এড়িয়ে যাওয়া।
২. সড়ক পরিষ্কার রাখা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
৩. সড়ক কোন বৈঠক বা বসার স্থান নয় এবং এজন্যে যাতায়াতের অসুবিধা করা উচিত নয়।
৪. ইসলামি রাষ্ট্রে সড়ক ও রাজপথে ইসলামের বিধান লংঘন করা খুবই মারাত্মক এবং সমাজে তার প্রভাব পড়ে। مسلمانوں কর্তব্য হচ্ছে: যদি সে এমন দেখতে পায়, যা আপত্তিকর তা বর্জন করা, তা করার পরামর্শ দিতে হবে; তবে শর্ত হচ্ছে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সদাচরণের সাথে তা করতে হবে এবং ইসলামি নীতির সঙ্গে তা সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।
৫. যারা ভুল পথে আছে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করা, বৃদ্ধ অথবা পঙ্গু লোকদের সাহায্য করা ইসলামের অন্যতম কাজ এবং এতে সদাচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
৬. সড়কে জনগণের জন্য ক্ষতিকর বা আক্রমণাত্মক অথবা বিরক্তিকর কিছু থাকলে তা অপসারণ করা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যতম কর্তব্য।
৭. সড়কে দেখা পাওয়া বা সাক্ষাৎকারী কারো সম্পর্কে খারাপ ধারণা করা অনুচিত। مسلمانوں অন্যদের ব্যাপারে সু-ধারণা থাকতে হবে।
৮. সড়কে স্বাগত সম্ভাষণের জবাব দেয়া সৌজন্যের শামিল।
৯. নারী পুরুষ সড়কে মিলেমিশে চলার অভ্যাস পরিহার করবে। মহিলারা সড়কের একপ্রান্ত দিয়ে চলাচল করবে।
১০. সড়কে মহিলাদের প্রতি প্রথম দৃষ্টি পড়ার পর পুনরায় তাকানো নিষিদ্ধ। সুতরাং পুরুষকে হয় দৃষ্টি অবনত করতে হবে নতুবা অন্যদিকে চোখ ফেরাতে হবে।
১১. যাদের নিজস্ব যানবাহন নেই, তাদের গাড়িতে লিফট দেয়াও একটি ভাল কাজ।
১২. যানবাহনে চলাচলকালে নারী ও বৃদ্ধ লোকদের প্রতি উপযুক্ত সম্মান দেখাতে হবে।
১৩. জন পরিবহনে (Public Transport) যাতায়াতকালে مسلمانوں প্রয়োজন হলেই কথা বলা উচিত এবং তা বলতে হবে নম্র সুরে। তাছাড়া ধুমপান বা সহযোগী যাত্রীদের কাছে বিরক্তির কারণ হয় এমন কিছু করা অনুচিত।
১৪. জনপরিবহনে গাদাগাদি করা অথবা হুড়াহুড়ি করা সভ্য আচরণ নয়। যানবাহনে উঠা এবং নামার সময় যথার্থ ব্যক্তিকে সুযোগ দিতে হবে।
১৫. রাস্তায় পিছন দিক থেকে কাউকে চিৎকার করে ডাকা বদঅভ্যাস। কথা বলার আগে তার কাছে যাওয়া উচিত।
১৬. রাস্তা বা সড়কে চলাফেরাকালে আহার করা, পান চিবানো ও ধুমপান ইত্যাদি বাজে অভ্যাস।
১৭. রাস্তায় কোন মুসলমানের চলাফেরার ধরন তার ইসলামি ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। এটা অন্যের প্রতি এবং নিজের প্রতি কতিপয় মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়। সুতরাং হাঁটা এবং চলাফেরার ক্ষেত্রে কতিপয় নীতির সমন্বয় থাকতে হবে:
ক) হাঁটার সময় হেলেদুলে বা নাচনতুলে হাঁটা উচিত নয়। একইভাবে মেয়েলী স্বভাবে বা গর্বভরে দু'পা তুলে চলা, অথবা জড়সড় লাজনম্র হয়ে চলা পরিহার করতে হবে।
খ) একত্রে চলার সময় অন্যের কথা বিবেচনা করে খুব দ্রুত হাঁটা উচিত নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00