📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 প্রতিবেশীর সাথে আচরণ

📄 প্রতিবেশীর সাথে আচরণ


১. প্রতিবেশীর সাথে আচরণের প্রথম কথা হলো: উচ্চ স্বরে কথা বলা অথবা উচ্চ নিনাদের উৎসব আয়োজন (বিশেষতঃ রাতে) করার মত উপদ্রব বা নৈতিক ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা।
২. প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় প্রতিবেশীর বাড়িতে গমন গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে জন্ম, মৃত্যু, অসুস্থতা ও বিবাহের ন্যায় বড় বড় ঘটনায় প্রতিবেশীর কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
৩. নবীর (সা.) শিক্ষা অনুসারে প্রতিবেশীর প্রতি উদার হওয়া দরকার। প্রতিবেশীকে মাঝে মধ্যে খাবার খেতে আমন্ত্রণ জানানো এবং খাবার পাঠানো উচিত।
৪. প্রতিবেশীর সন্তানের প্রতি কোন প্রকার অসদাচরণ করা অন্যায়। লক্ষ্য রাখতে হবে, সন্তানদের বিরোধ যেন তাদের পিতামাতার মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি না করে।
৫. প্রতিবেশী ও তার পরিবারের বিশেষ অধিকার রয়েছে مسلمانوں উপর। বিপদ আপদের সময় তাদের সাহায্য করা হচ্ছে ইসলামি আচরণের দাবি।
৬. কোন মুসলমান যদি জানতে পারে যে, তার প্রতিবেশী আর্থিক সংকটে রয়েছে, তাহলে সে সাহায্যের অনুরোধের জন্য অপেক্ষা না করে সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সাহায্যের প্রস্তাব দিবে।
৭. প্রতিবেশীর গোপন কথা, গোপন রাখতে হবে অথবা এমন তথ্য যা সে বাইরে শুনেছে, তা গোপন রাখতে হবে।
৮. প্রতিবেশী সম্পর্কে ভাল তথ্য দিতে হবে, তার সম্পর্কে খারাপ কথা বললে তা খণ্ডন করবে, কারণ তার সাথে তার সম্পর্ক বিশেষ দৃষ্টি দানের দাবি রাখে।
৯. মহিলা প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা গৃহবধূর দায়িত্ব।
১০. প্রতিবেশী যদি আত্মীয় হয়, তাহলে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১১. শুধু নিকটবর্তী প্রতিবেশীর সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখলে চলবেনা; বরং দূরের প্রতিবেশীর সঙ্গেও তা রাখতে হবে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 উপহার

📄 উপহার


ব্যক্তির মধ্যে উপহার বিনিময়কে ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে এজন্যে যে, এর ফলে সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। সুতরাং কোন মুসলমান আর্থিকভাবে সচ্ছল হলে, সে তার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে উপহার দেয়ার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি তাকে নিম্নোক্ত বিধান মেনে চলতে হবেঃ
১. অন্যদের উপহার দেয়ার চাইতে আত্মীয়-স্বজনদের উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে:
২. বাহুল্য উপহার দেয়ার চাইতে বিস্তর অর্থ খরচ এবং সেগুলো নির্বাচনে অনর্থক সময়ক্ষেপণ করার ফলে উপহার বিনিময় সীমিত করে দেয়; এমনকি এর ফলে উপহার বিনিময় বন্ধ হয়ে যায়।
৩. বৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ থেকেই শুধু উপহার ক্রয় করা উচিত।
৪. অন্যদের উপহার প্রদানের উদ্দেশ্য হতে হবে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সম্পর্ক জোরদার করা। পার্থিব সুবিধালাভ বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের আশায় উপহার প্রদান ঘুষের শামিল, যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
৫. উপহার প্রদানকালে এমন আলোচনা পরিহার করতে হবে, যার ফলে গ্রহীতার মনে উপহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
৬. উপহার পাওয়ার পর मुसलमानों উচিত তা খুলে দেখা এবং সন্তোষ প্রকাশ করা; সম্ভব হলে দাওয়াত জানিয়ে, পত্রলিখে অথবা মৌখিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা। উপহার দাতা উপস্থিত থাকলে তার জন্য দোয়া করা উচিত।
৭. কাউকে উপহার প্রদান এবং পরে তা ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলা ভদ্রতা নয়। অবশ্য পিতামাতার বা তাদের দাদা দাদীরা সন্তানকে উপহার দিয়ে ফেরত নিলে সেটা ভিন্ন কথা।
৮. উপহার পাওয়ার পর কোন এক উপলক্ষে বদলী উপহার দেওয়া সৌজন্য বিশেষ।
৯. কোন মুসলমান এমন কারো উপহার গ্রহণ করবে না, যে তার কাছ থেকে তার কর্তৃত্বের সুযোগ নিতে বা সুবিধা আদায় করতে চায় বা কোন উপায়ে প্রভাবিত করতে চায়। কার্যতঃ এ ধরনের উপহার বাস্তবিক পক্ষে ঘুষের শামিল।
১০. মদের বোতল বা শূকরের মাংসের ন্যায় নিষিদ্ধ জিনিস কোন মুসলমান উপহার হিসেবে নিতে পারে না।
১১. উপযুক্ত কোন কারণে উপহার নিতে না চাইলে তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। এক্ষেত্রে উপহার দাতার অপমানিত হওয়া যৌক্তিক নয়।
১২. সন্তানদের উপহার দানের ক্ষেত্রে একজনকে আরেকজনের উপর প্রাধান্য দেয়া চলবে না।
১৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা এই যে, উপহার দেয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে, এটা বাধ্যতামূলক নয়। উপহার প্রদান করা প্রয়োজন, এটা বিশ্বাস করা ভুল। এ ধরনের ভুল জনগণের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে যেসব লোক আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়, তারা উপহার দান এড়িয়ে যাবার জন্য দেখা সাক্ষাৎ করতে চাইবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00