📄 কিভাবে বসতে হবে
১. বসার সময় অন্যদের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হলে চলবেনা। অন্যদের সামনে পা ছড়িয়ে দেয়া অথবা অন্যদের চাইতে উঁচু আসনে বসা উচিত নয়।
২. বসার যে কোন ভঙ্গিতে শরীরের গোপন অংশ ঢেকে রাখতে হবে।
৩. বসার সময় বাঁ হাত পিছনে ফেলে অন্যের হাতের উপর ঠেস দিয়ে বসা অনুচিত।
৪. কোন ব্যক্তি তার দেহের একাংশ সূর্যালোকে এবং অপরাংশ ছায়ায় রেখে বসবে না।
৫. মেঝেতে বসে আহার করা উত্তম।
📄 গৃহের বাইরে মহিলাদের আচরণ
১. যে নারী সুগন্ধী, মেক-আপ অথবা প্রসাধনী ব্যবহার করেছে, মেক-আপ অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রসাধনীর গন্ধ থাকা পর্যন্ত তার গৃহ ত্যাগ করা সমীচীন নয়।
২. কোন নারী তার স্বামী অথবা 'মহরম' পুরুষ না হলে তার বাড়িতে রাত কাটাবে না।
৩. কোন নারী ও পুরুষ 'মহরম' না হলে অথবা স্বামী স্ত্রী না হলে তাদের নিভৃতে থাকার অনুমতি নেই।
৪. কোন মহিলার প্রতি পুরুষের হঠাৎ দৃষ্টি পড়লে চোখ ফিরিয়ে নিতে হবে। আকস্মিক দৃষ্টিপাত অনুমোদনযোগ্য, তবে দ্বিতীয়বার তাকানো নিষিদ্ধ।
৫. নারী ও পুরুষের মেলামেশা অথবা সামাজিক আচরণ দু'ধরনের:
ক) এক ধরনের মেলামেশা হচ্ছে প্রকাশ্যে এবং তা বিশেষ কোন গোষ্ঠীর মধ্যে সীমিত নয় এবং সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে প্রচলিত, যেমন রাজপথ, বাজার এবং মসজিদ। এসব ক্ষেত্রে মেলামেশার অনুমতি রয়েছে; তবে উপর্যুক্ত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে।
খ) বিদ্যালয়, বিশ্ববিদালয় অথবা কর্মস্থলের মত বিশেষ সীমিত স্থানসমূহে নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা হারাম এবং এক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের পৃথকীকরণ প্রয়োজন।
৬. বাড়ির বাইরে কোন মহিলা পুরুষের সাথে কথা বললে তা আকর্ষণীয় স্বরে হবেনা বরং তা হবে যথাযথ এবং সংক্ষিপ্ত।
৭. পুরুষের জন্য অনুমোদিত সকল ব্যবসা মহিলারা করতে পারেন। বাড়ি এবং পরিবারের কোন মহিলার মূল দায়িত্ব পালনে অসুবিধা সৃষ্টি না হলে, স্বামী রাজি হলে এবং পুরুষদের সাথে মেলামেশা না করতে হলে মহিলা চাকুরিও করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন মহিলা কোন বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে বা ডাক্তার হতে পারেন।
৮. বাড়ির উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করার আগে ৫নং অধ্যায়ে বর্ণিত ইসলামি পোশাক এবং হিজাব পরার ব্যাপারে মহিলাদের স্মরণ রাখতে হবে।
৯. ইসলামে গৃহকে মহিলাদের জন্য কারাগার হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। যুক্তিসঙ্গত কারণে একজন মহিলার যতক্ষণ বাইরে থাকা প্রয়োজন, ততক্ষণ সে বাইরে থাকতে পারে।
📄 উৎসব পালন
১. উৎসব পালন সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধি হচ্ছেঃ
(ক) নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা চলবেনা।
(খ) কোন মুসলমান আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও 'জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান এবং অপব্যয় করা যাবে না।
২. খৃষ্টানদের বড়দিন, নববর্ষ, মাতৃ দিবস (Mother's Day), পিতৃ দিবস (Father's Day), শ্রম দিবস (Labour Day), বিবাহ বার্ষিকী, জন্ম দিবস- এ ধরনের উৎসবের স্থান ইসলামে নেই এবং এগুলো হচ্ছে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুকরণ।
৩. বাহির থেকে বেশ কিছু উৎসবকে ইসলামে চালু করা হয়েছে, যেমন নবীর জন্মদিন, মহানবী (সা.) এর ইসরা ও মিরাজ (মক্কা থেকে রসূল (সা.) এর একরাতে জেরুজালেমে গমন এবং সপ্ত আসমানে গমন), মহানবী (সা.) এর হিজরত ইত্যাদি।
৪. নিষিদ্ধ উৎসব পালনের চাইতে مسلمانوں নিজ নিজ গ্রাম, শহর বা জেলা শহরে গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ, বর্তমান ও ভবিষ্যত সংক্রান্ত বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা অথবা সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা অথবা কুরআন শরীফ অধ্যয়ন এবং আল্লাহর যিকির করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
📄 আত্মীয়-স্বজনের সাথে আচরণ
১. আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং তাদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
২. আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মোলাকাত করার কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, তবে তারা যাতে অবহেলিত মনে করতে না পারে, সেজন্যে এসব মোলাকাত যথাসম্ভব ঘন ঘন হওয়া প্রয়োজন।
৩. আত্মীয়-স্বজনের সাথে যখনই মোলাকাত হবে, তখনই তাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করতে হবে।
৪. مسلمانوں স্মরণ রাখতে হবে যে, তাদের দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থ আত্মীয়-স্বজনের প্রতি তার দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্যে মাঝে মধ্যে তাদের সহযোগিতা করতে হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্য উপহার দিতে হবে।
৫. যদি কোন মুসলমানের দুধ-মাতা থাকে, তাহলে তাকে স্মরণ রাখতে হবে যে, তার আরো একটি পরিবার রয়েছে।
৬. আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে তাদের মোলাকাতের অপেক্ষা না করে নিজেদেরই যাওয়া উচিত।
৭. আত্মীয়-স্বজনদের একটি অপরাধের জবাব আরেকটি অপরাধের মধ্যদিয়ে দেয়া উচিত নয়। এ ধরনের জবাব না দেয়া নৈতিক সাহসের পরিচয় বহন করে।
৮. মুসলমানদের উচিত খালাকে তাদের মায়ের মতই আচরণ করা।
৯. চাচাকে পিতার মত আচরণ করা উচিত।
১০. পুরুষ আত্মীয়-স্বজনদের সাথে (মহরম পুরুষ ছাড়া) মহিলারা বসতে পারে যদি- (ক) শিষ্টাচার বজায় রেখে তারা আচরণ করে। (খ) কোন আত্মীয়ের সাথে একা কথা বলা বা আলোচনা না করে।