📄 গ্রুপ বৈঠক
১. সামাজিকতার খাতিরে শুধু সময়ক্ষেপণ এড়াতে হবে। সময় অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ, যা বিনষ্ট করা চলবে না। বরং প্রয়োজনীয় কাজে তা ব্যয় করতে হবে। বন্ধু-বান্ধব নির্বাচনের ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
২. সমবেত হওয়ার স্থানও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া চাই; যেমন ব্যক্তি-মালিকানাধীন বাড়ি এবং মসজিদ, রাস্তা বা বাজার নয়।
৩. মেলামেশার সময় কারো শরীর, কাপড় চোপড় বা মুখ থেকে দুর্গন্ধ বেরুলে তাকে এড়িয়ে যেতে হবে।
৪. বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা এবং গৃহস্বামীকে স্বাগত জানানোর পর مسلمانوں উচিত বসে থাকা লোকদের সম্ভাষণ জানানো। ডান থেকে শুরু করে সকলের সাথে তার মোসাফাহ করতে হবে এবং তা শেষ করে সেখানেই বসে পড়তে হবে।
৫. কোন সমাবেশে যোগ দিলে কোন ব্যক্তিকে তার জন্য নির্ধারিত স্থানে আসন নিতে হবে, নতুবা তাকে যে কোন খালি জায়গায় বসতে হবে।
৬. সমাবেশস্থলে কোন ব্যক্তি তার আসন কারো পক্ষে ছেড়ে দিতে চাইলে এটা গ্রহণ না করার জন্য সে বিনীতভাবে ক্ষমা চাইবে এবং সেই স্থলেই বসবে অথবা কাউকে উঠিয়ে দেওয়া ছাড়াই জায়গা করে দিবে অথবা পর্যাপ্ত স্থান থাকলে সেখানে বসবে।
৭. নিজে বসার লক্ষ্যে কাউকে তার আসন ত্যাগের জন্য বাধ্য না করা, যদিও সে শিশু হয়- এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
৮. অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত দু'ব্যক্তির মাঝখানে বসা শোভনীয় নয়, কেননা তারা হয়তো একান্তভাবে আলাপ করছে অথবা কোন গোপন কথা বলছে।
৯. কারো প্রতি পিছন ফিরে বসা উচিত নয় এজন্যে যে, এই বসাকে কেউ কেউ অশ্রদ্ধা বা অসম্মান হিসেবে ধরে নিতে পারে।
১০. সমাবেশে আরো লোকজন আসলে যারা পূর্ব থেকে বসা ছিল, তারা নবাগতদের জন্য জায়গা করে দেবে।
১১. কোন সমাবেশে কেউ যোগ দিলে তাকে স্মরণ রাখতে হবে যে, যারা উপস্থিত তারা কেউ তার জন্যে দাঁড়াবে না।
১২. যদি কেউ ফিরে আসে এবং প্রয়োজনে তার আসন ছেড়ে বাইরে যায়, তাহলে এই আসনের অধিকার তার-ই এবং অন্যদের উচিত নয় এই আসন দখল করা।
১৩. কোন স্থানে তিন ব্যক্তি থাকলে, এর মধ্যে দু'জন তৃতীয়জনের সামনে একান্তে আলোচনা করবে না।
১৪. দু'ব্যক্তি একান্ত আলোচনায় মত্ত থাকাকালে নবাগত কেউ আসলে, আমন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আলোচনায় যোগ দেবে না।
১৫. তিনের অধিক মানুষ উপস্থিত থাকলে, এদের মধ্যে দু'জন একান্তে বা ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ করতে পারে।
১৬. অন্যদের কথা শোনা ভদ্রতা বিশেষ এবং বাধা না দেওয়া বা অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা উচিত নয়।
১৭. কোন ব্যক্তির বসা অবস্থায় বিনীতভাবে এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বসা উচিত।
১৮. সমবেত লোকদের আল্লাহর যিকির করা এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপর দরুদ শরীফ পড়া উত্তম কাজ।
১৯. কোন মুসলমান কারো অনুপস্থিতিতে পরচর্চা করতে দেখলে তার উচিত বিনীতভাবে তাদের নিবৃত্ত করা। তারা কথা না শুনলে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে স্থান ত্যাগ করতে হবে।
২০. সমবেতস্থলে যা বলা বা করা হয়, তা নোট করা এবং হালাল ও হারামের পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২১. মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যেসব গোপনীয় কথা বলে, তাতে আস্থার ব্যাপার নিহিত থাকে এবং এসব ব্যাপারে বিশ্বস্ত থাকা অতীব ন্যায়সঙ্গত।
২২. এশার নামাজের পর শিক্ষামূলক অথবা কোন অতিথির সৌজন্য ছাড়া বৈঠকাদি করা অনুচিত।
২৩. যেসব বৈঠকাদি সমাবেশ মজলিশে অনেক হৈ চৈ বা অর্থহীন কথাবার্তা হয়, সেগুলোর শেষ পর্যায়ে এবং স্থানত্যাগের আগে নিম্নোক্ত দোয়া পড়া উচিতঃ সুবাহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগ ফিরুকা ওয়া আতুবু আলায়কা (হে আল্লাহ, আমি তোমার সর্বাত্মক উপস্থিতি লক্ষ্য করছি এবং তোমার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই।)
টিকাঃ
* সমন্বয়ে যিকির করা কোন শর্ত নয়। বরং মনে মনে আল্লাহর যিকির করা ও দরুদ শরীফ পড়া প্রয়োজন। সভা সমাবেশেও এরূপ করা যেতে পারে- অনুবাদক।
📄 কিভাবে বসতে হবে
১. বসার সময় অন্যদের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হলে চলবেনা। অন্যদের সামনে পা ছড়িয়ে দেয়া অথবা অন্যদের চাইতে উঁচু আসনে বসা উচিত নয়।
২. বসার যে কোন ভঙ্গিতে শরীরের গোপন অংশ ঢেকে রাখতে হবে।
৩. বসার সময় বাঁ হাত পিছনে ফেলে অন্যের হাতের উপর ঠেস দিয়ে বসা অনুচিত।
৪. কোন ব্যক্তি তার দেহের একাংশ সূর্যালোকে এবং অপরাংশ ছায়ায় রেখে বসবে না।
৫. মেঝেতে বসে আহার করা উত্তম।
📄 গৃহের বাইরে মহিলাদের আচরণ
১. যে নারী সুগন্ধী, মেক-আপ অথবা প্রসাধনী ব্যবহার করেছে, মেক-আপ অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রসাধনীর গন্ধ থাকা পর্যন্ত তার গৃহ ত্যাগ করা সমীচীন নয়।
২. কোন নারী তার স্বামী অথবা 'মহরম' পুরুষ না হলে তার বাড়িতে রাত কাটাবে না।
৩. কোন নারী ও পুরুষ 'মহরম' না হলে অথবা স্বামী স্ত্রী না হলে তাদের নিভৃতে থাকার অনুমতি নেই।
৪. কোন মহিলার প্রতি পুরুষের হঠাৎ দৃষ্টি পড়লে চোখ ফিরিয়ে নিতে হবে। আকস্মিক দৃষ্টিপাত অনুমোদনযোগ্য, তবে দ্বিতীয়বার তাকানো নিষিদ্ধ।
৫. নারী ও পুরুষের মেলামেশা অথবা সামাজিক আচরণ দু'ধরনের:
ক) এক ধরনের মেলামেশা হচ্ছে প্রকাশ্যে এবং তা বিশেষ কোন গোষ্ঠীর মধ্যে সীমিত নয় এবং সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে প্রচলিত, যেমন রাজপথ, বাজার এবং মসজিদ। এসব ক্ষেত্রে মেলামেশার অনুমতি রয়েছে; তবে উপর্যুক্ত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে।
খ) বিদ্যালয়, বিশ্ববিদালয় অথবা কর্মস্থলের মত বিশেষ সীমিত স্থানসমূহে নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা হারাম এবং এক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের পৃথকীকরণ প্রয়োজন।
৬. বাড়ির বাইরে কোন মহিলা পুরুষের সাথে কথা বললে তা আকর্ষণীয় স্বরে হবেনা বরং তা হবে যথাযথ এবং সংক্ষিপ্ত।
৭. পুরুষের জন্য অনুমোদিত সকল ব্যবসা মহিলারা করতে পারেন। বাড়ি এবং পরিবারের কোন মহিলার মূল দায়িত্ব পালনে অসুবিধা সৃষ্টি না হলে, স্বামী রাজি হলে এবং পুরুষদের সাথে মেলামেশা না করতে হলে মহিলা চাকুরিও করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন মহিলা কোন বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে বা ডাক্তার হতে পারেন।
৮. বাড়ির উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করার আগে ৫নং অধ্যায়ে বর্ণিত ইসলামি পোশাক এবং হিজাব পরার ব্যাপারে মহিলাদের স্মরণ রাখতে হবে।
৯. ইসলামে গৃহকে মহিলাদের জন্য কারাগার হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। যুক্তিসঙ্গত কারণে একজন মহিলার যতক্ষণ বাইরে থাকা প্রয়োজন, ততক্ষণ সে বাইরে থাকতে পারে।
📄 উৎসব পালন
১. উৎসব পালন সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধি হচ্ছেঃ
(ক) নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা চলবেনা।
(খ) কোন মুসলমান আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও 'জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান এবং অপব্যয় করা যাবে না।
২. খৃষ্টানদের বড়দিন, নববর্ষ, মাতৃ দিবস (Mother's Day), পিতৃ দিবস (Father's Day), শ্রম দিবস (Labour Day), বিবাহ বার্ষিকী, জন্ম দিবস- এ ধরনের উৎসবের স্থান ইসলামে নেই এবং এগুলো হচ্ছে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুকরণ।
৩. বাহির থেকে বেশ কিছু উৎসবকে ইসলামে চালু করা হয়েছে, যেমন নবীর জন্মদিন, মহানবী (সা.) এর ইসরা ও মিরাজ (মক্কা থেকে রসূল (সা.) এর একরাতে জেরুজালেমে গমন এবং সপ্ত আসমানে গমন), মহানবী (সা.) এর হিজরত ইত্যাদি।
৪. নিষিদ্ধ উৎসব পালনের চাইতে مسلمانوں নিজ নিজ গ্রাম, শহর বা জেলা শহরে গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ, বর্তমান ও ভবিষ্যত সংক্রান্ত বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা অথবা সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা অথবা কুরআন শরীফ অধ্যয়ন এবং আল্লাহর যিকির করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।