📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 খাবার জন্য আমন্ত্রিত হলে

📄 খাবার জন্য আমন্ত্রিত হলে


১. কোন মুসলমানকে খাবারের জন্য আমন্ত্রণ করা হলে তা গ্রহণ করা উচিত। বিবাহ উৎসবের আমন্ত্রণ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে (যদি এতে নিষিদ্ধ কিছু না থাকে)।
২. কেউ যদি আপ্যায়নের জন্য এমন আমন্ত্রণ জানায়, যা হচ্ছে শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থে, তবে তা গ্রহণ করা উচিত নয়।
৩. কেউ নফল রোজা রাখা অবস্থায় আমন্ত্রিত হলে রোজা ভঙ্গ করা অথবা এই আমন্ত্রণ রক্ষা করার স্বাধীনতা তার রয়েছে।
৪. কারো বাড়িতে খাবার জন্য আমন্ত্রিত হলে কোন মুসলমানের উচিত নয় এমন কাউকে সাথে নেয়া যে আমন্ত্রিত নয়।
৫. যদি কেউ কোন মুসলমানের অনুসরণ করে এবং তার মেজবানের বাড়িতে যাওয়ার সময় সম্মতি ছাড়াই সহযোগী হয় সেক্ষেত্রে মেজবানকে বিষয়টি জানিয়ে রাখা কর্তব্য। মেজবান তার ইচ্ছানুসারে অনাকাঙ্ক্ষিত মেহমানকে গ্রহণ বা বর্জন করতে পারেন।
৬. খাবার পরিবেশন করা হলে তাড়াহুড়া করে খাবার টেবিলে যাওয়া ভদ্রোচিত ব্যাপার নয়। উত্তম পদ্ধতি হচ্ছেঃ তার ডানের ব্যক্তিকে অনুসরণ করা।
৭. প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে ভোজ উৎসবের আয়োজন করা হলে এই আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া অনুচিত।
৮. নৈতিক দুর্নীতিবাজ কোন ব্যক্তির আমন্ত্রণ শুধু এজন্য গ্রহণ করা উচিত নয় যে, তাকে না বলা একটা সমস্যা। তাকে ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা থাকার শর্তে আমন্ত্রণ গ্রহণ করা যেতে পারে।
৯. খেতে বসে ৪নং অধ্যায়ে বর্ণিত রীতিনীতি মানতে হবে।
১০. পরিবেশিত খাবারের মধ্যে এমন খাদ্যবস্তু অথবা পানীয় থাকলে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ, যেমন মদ বা শূকরের মাংস, তাহলে মেজবানকে ওগুলো সরিয়ে নেয়া অথবা চলে যাওয়ার কথা বলতে হবে। এগুলো সরিয়ে নেয়া না হলে তৎক্ষণাৎ সে স্থান ত্যাগ করা উচিত।
১১. মেহমান দাওয়াতের জন্য মেজবানকে ধন্যবাদ দেবেন এবং তার জন্য খোদার রহমত কামনা করবেন। নিম্নোক্ত দোয়া করা যেতে পারেঃ “আকালো তা’মুকুম আল আবরার ওয়া সাল্লা আলায়কুম আল মালাইকা ওয়া আফতারা ইন্দাকুম আস-সায়েমুন” (সালেহ লোকেরা তোমার মাধ্যমে অংশ নিক, ফেরেস্তারা তোমার জন্য দোয়া করুক এবং রোজাদারগণ তোমার সাথে ইফতার করুক)।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 অসুস্থদের দেখতে যাওয়া

📄 অসুস্থদের দেখতে যাওয়া


১. অসুস্থদের দেখতে গেলে, তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করলে, তারা অধিকতর স্বস্তিবোধ করেন। এজন্যে সামাজিক সম্পর্ক জোরদার ও বিকাশ লাভ করে। সুতরাং শুধু বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনই নয় বরং যারা দূর সম্পর্কের আত্মীয় ও স্বল্প পরিচিতি, সেসব অসুস্থ লোকদেরকেও দেখতে যাওয়া উচিত।
২. অসুস্থদের দেখতে যাওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করে নিলে ভাল হয়, তবে তা জরুরি নয়। অসুস্থরা হাসপাতালে থাকলে রোগী পরিদর্শনের সময়সূচি মেনে চলতে হবে এবং সেখানে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা থাকলে- তাও মেনে চলতে হবে।
৩. অসুস্থতার ধরনের উপর পরিদর্শনের প্রকৃতি ও সময়ের পরিমাণ নির্ভর করে। অসুস্থদের দেখার ব্যাপারে চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে অথবা তাদের সংক্ষিপ্ত সময়ে দেখা যেতে পারে। চিকিৎসকদের অনুমতি থাকলে অসুস্থদের পাশে দীর্ঘ সময় কাটানো আবশ্যক, যাতে করে তারা অনুধাবন করতে পারে যে, তার প্রতি অবহেলা করা হচ্ছে না।
৪. পরিদর্শনকারীকে রোগীর পাশেই বসতে হবে এবং তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে।
৫. রোগী পরিদর্শনকালে তার আরোগ্যের জন্য দোয়া করা উচিত। এই অসুস্থতা পাপ মোচনের জন্যেও হতে পারে। রাসূলে করিম (সা.) রোগী পরিদর্শনকালে বলতেনঃ “লা-বা'স ত্বাগুর ইনশাআল্লাহ” (কোন ক্ষতির কারণ নেই, যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয় সংশোধন করা)।
৬. রোগী পরিদর্শনকারীকে সতর্কতার সঙ্গে সান্ত্বনার বাক্য বেছে বেছে বলতে হবে; ভাগ্যের প্রতি আপত্তিকর কোন মন্তব্য, অসুস্থতাকে পাপ হিসেবে উল্লেখ করা অথবা এমন কোন কথা বলা, যা রোগীর উপর খারাপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে- ইত্যাদি বলা গুনাহ। তার চেয়ে এই অসুস্থতা খোদার দেওয়া নিয়তির অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা এবং খোদা সকলের মঙ্গল করুণ- এরূপ ধারণা রাখতে বলা আবশ্যক।
৭. পীড়িত ব্যক্তির অবস্থা নৈরাশ্যকর অবস্থায় উপনীত হলে বলতে হবে “ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন” (নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাব)।
৮. কোন মুসলমানের অসুস্থ ব্যক্তিকে তার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত রাখা উচিত নয়। অসুস্থ ব্যক্তি তার ব্যাপারে ঘনিষ্ঠতাবোধ করলে তার কাছে যখনি প্রয়োজন হয় যাওয়া দরকার।
৯. রোগীর প্রতি উদ্বেগ শুধু রোগী দেখার মধ্যেই সীমিত রাখলে হবে না। সময়ে সময়ে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে তার পরিবারের কাছে খোঁজ-খবর নিতে হবে।
১০. বন্ধু, প্রতিবেশী বা আত্মীয় অমুসলিম হলেও, অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যেতে হবে। ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যও এটা প্রয়োজন।
১১. কুষ্ঠ রোগী বা এ ধরনের রোগ বা পঙ্গু ব্যক্তির প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকানো উচিত নয়, যদি তারা এতে অপমানবোধ করে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 গ্রুপ বৈঠক

📄 গ্রুপ বৈঠক


১. সামাজিকতার খাতিরে শুধু সময়ক্ষেপণ এড়াতে হবে। সময় অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ, যা বিনষ্ট করা চলবে না। বরং প্রয়োজনীয় কাজে তা ব্যয় করতে হবে। বন্ধু-বান্ধব নির্বাচনের ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
২. সমবেত হওয়ার স্থানও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া চাই; যেমন ব্যক্তি-মালিকানাধীন বাড়ি এবং মসজিদ, রাস্তা বা বাজার নয়।
৩. মেলামেশার সময় কারো শরীর, কাপড় চোপড় বা মুখ থেকে দুর্গন্ধ বেরুলে তাকে এড়িয়ে যেতে হবে।
৪. বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা এবং গৃহস্বামীকে স্বাগত জানানোর পর مسلمانوں উচিত বসে থাকা লোকদের সম্ভাষণ জানানো। ডান থেকে শুরু করে সকলের সাথে তার মোসাফাহ করতে হবে এবং তা শেষ করে সেখানেই বসে পড়তে হবে।
৫. কোন সমাবেশে যোগ দিলে কোন ব্যক্তিকে তার জন্য নির্ধারিত স্থানে আসন নিতে হবে, নতুবা তাকে যে কোন খালি জায়গায় বসতে হবে।
৬. সমাবেশস্থলে কোন ব্যক্তি তার আসন কারো পক্ষে ছেড়ে দিতে চাইলে এটা গ্রহণ না করার জন্য সে বিনীতভাবে ক্ষমা চাইবে এবং সেই স্থলেই বসবে অথবা কাউকে উঠিয়ে দেওয়া ছাড়াই জায়গা করে দিবে অথবা পর্যাপ্ত স্থান থাকলে সেখানে বসবে।
৭. নিজে বসার লক্ষ্যে কাউকে তার আসন ত্যাগের জন্য বাধ্য না করা, যদিও সে শিশু হয়- এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
৮. অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত দু'ব্যক্তির মাঝখানে বসা শোভনীয় নয়, কেননা তারা হয়তো একান্তভাবে আলাপ করছে অথবা কোন গোপন কথা বলছে।
৯. কারো প্রতি পিছন ফিরে বসা উচিত নয় এজন্যে যে, এই বসাকে কেউ কেউ অশ্রদ্ধা বা অসম্মান হিসেবে ধরে নিতে পারে।
১০. সমাবেশে আরো লোকজন আসলে যারা পূর্ব থেকে বসা ছিল, তারা নবাগতদের জন্য জায়গা করে দেবে।
১১. কোন সমাবেশে কেউ যোগ দিলে তাকে স্মরণ রাখতে হবে যে, যারা উপস্থিত তারা কেউ তার জন্যে দাঁড়াবে না।
১২. যদি কেউ ফিরে আসে এবং প্রয়োজনে তার আসন ছেড়ে বাইরে যায়, তাহলে এই আসনের অধিকার তার-ই এবং অন্যদের উচিত নয় এই আসন দখল করা।
১৩. কোন স্থানে তিন ব্যক্তি থাকলে, এর মধ্যে দু'জন তৃতীয়জনের সামনে একান্তে আলোচনা করবে না।
১৪. দু'ব্যক্তি একান্ত আলোচনায় মত্ত থাকাকালে নবাগত কেউ আসলে, আমন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আলোচনায় যোগ দেবে না।
১৫. তিনের অধিক মানুষ উপস্থিত থাকলে, এদের মধ্যে দু'জন একান্তে বা ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ করতে পারে।
১৬. অন্যদের কথা শোনা ভদ্রতা বিশেষ এবং বাধা না দেওয়া বা অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা উচিত নয়।
১৭. কোন ব্যক্তির বসা অবস্থায় বিনীতভাবে এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বসা উচিত।
১৮. সমবেত লোকদের আল্লাহর যিকির করা এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপর দরুদ শরীফ পড়া উত্তম কাজ।
১৯. কোন মুসলমান কারো অনুপস্থিতিতে পরচর্চা করতে দেখলে তার উচিত বিনীতভাবে তাদের নিবৃত্ত করা। তারা কথা না শুনলে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে স্থান ত্যাগ করতে হবে।
২০. সমবেতস্থলে যা বলা বা করা হয়, তা নোট করা এবং হালাল ও হারামের পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২১. মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যেসব গোপনীয় কথা বলে, তাতে আস্থার ব্যাপার নিহিত থাকে এবং এসব ব্যাপারে বিশ্বস্ত থাকা অতীব ন্যায়সঙ্গত।
২২. এশার নামাজের পর শিক্ষামূলক অথবা কোন অতিথির সৌজন্য ছাড়া বৈঠকাদি করা অনুচিত।
২৩. যেসব বৈঠকাদি সমাবেশ মজলিশে অনেক হৈ চৈ বা অর্থহীন কথাবার্তা হয়, সেগুলোর শেষ পর্যায়ে এবং স্থানত্যাগের আগে নিম্নোক্ত দোয়া পড়া উচিতঃ সুবাহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগ ফিরুকা ওয়া আতুবু আলায়কা (হে আল্লাহ, আমি তোমার সর্বাত্মক উপস্থিতি লক্ষ্য করছি এবং তোমার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই।)

টিকাঃ
* সমন্বয়ে যিকির করা কোন শর্ত নয়। বরং মনে মনে আল্লাহর যিকির করা ও দরুদ শরীফ পড়া প্রয়োজন। সভা সমাবেশেও এরূপ করা যেতে পারে- অনুবাদক।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 কিভাবে বসতে হবে

📄 কিভাবে বসতে হবে


১. বসার সময় অন্যদের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হলে চলবেনা। অন্যদের সামনে পা ছড়িয়ে দেয়া অথবা অন্যদের চাইতে উঁচু আসনে বসা উচিত নয়।
২. বসার যে কোন ভঙ্গিতে শরীরের গোপন অংশ ঢেকে রাখতে হবে।
৩. বসার সময় বাঁ হাত পিছনে ফেলে অন্যের হাতের উপর ঠেস দিয়ে বসা অনুচিত।
৪. কোন ব্যক্তি তার দেহের একাংশ সূর্যালোকে এবং অপরাংশ ছায়ায় রেখে বসবে না।
৫. মেঝেতে বসে আহার করা উত্তম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00