📄 মেহমানদের স্বাগত জানানো
১. مسلمانوں উচিত তার মেহমানদের আন্তরিকতার সাথে এবং সহাস্যে স্বাগত জানানো। মেহমানের প্রতি সম্মান ও আপ্যায়ন করা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যতম কর্তব্য।
২. মেজবানের উচিত মেহমানের কাছ থেকে বিরক্তির সকল উৎস দূরে সরিয়ে রাখা।
৩. মেহমানকে কোন প্রকার কর্তব্য সম্পাদন করতে বলা অভদ্রতা।
৪. বেশ ক'দিনের জন্য আগমন ও অবস্থানের জন্য মেহমানের কোন দাওয়াতের প্রয়োজন নেই। তবে তার আসার ব্যাপারে মেজবানকে আগাম জানিয়ে দেয়া ভাল। মেহমান তিনদিন অবস্থান করার পর চলে যেতে পারে।
৫. কোন মুসলমানের কাছে মেহমান মোলাকাত করতে আসলে সামর্থ্য অনুযায়ী সমাদর করা এবং তাকে খাদ্য ও পানীয় দেয়া কর্তব্য। অবশ্য তার সাথে মোলাকাত করতে গেলে এই ব্যবহার পাওয়া যাবে কিনা সেটা বিবেচ্য নয়।
৬. মোলাকাত শেষ হলে মেহমানের বিদায়ের প্রাক্কালে মেজবানকে তার সাথে বহিদরজা পর্যন্ত সঙ্গ দিতে হবে এবং তাকে বিদায় জানাতে হবে।
📄 লোকদের আপ্যায়ন
১. কোন মুসলমান তার সাফল্যের ব্যাপারে গর্ব করার ইচ্ছা না থাকলে অন্যান্য লোকদের আমন্ত্রণ জানাতে পরে।
২. শুধু ধনী ও প্রভাবশালী লোকদের নিমন্ত্রণ করলে চলবেনা, গরিব ও অভাবগ্রস্তদেরও আমন্ত্রণ জানাতে হবে।
৩. অন্যান্যদের দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ভাল مسلمانوں আপ্যায়নের জন্য দাওয়াত দিতে হবে। مسلمانوں দাওয়াত দেয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে আপ্যায়নের ফলাফল যেহেতু বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা, সেজন্য এর লক্ষ্য مسلمانوں মধ্যে সীমিত রাখা উচিত।
৪. আপ্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবেশীদেরও আমন্ত্রণ জানানো উচিত।
৫. আমন্ত্রিত মেহমানদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; তবে এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও বাহুল্য পরিহার করতে হবে।
৬. মেহমানদের স্বাগত জানানোর কলাকৌশলের ক্ষেত্রে পঞ্চদশ অধ্যায়ে বর্ণিত বিধান অনুসরণ করতে হবে।
৭. খাবার দেয়ার সাথে সাথে মেহমানরা খেতে শুরু করতে পারলেও তাদের প্রতি বিসমিল্লাহ বলে খাবার শুরু করতে বলা উত্তম।
৮. মেহমানদের পানাহার করতে বলা এবং অতিরিক্ত না খাওয়ার কথা বলা অভদ্রতা বিশেষ; তবে বিশেষ ধরনের খাবার গ্রহণের জন্য পীড়াপীড়ি করা উচিত নয়।
৯. মুসলমানদের বক্তৃতা দেবার কালে নিজের উদারতা বা মহত্বের অথবা পরিবেশিত খানাপিনা সম্পর্কে প্রশংসা না করার ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।
১০. বিশেষ বিশেষ সময়ে আমন্ত্রণ জানানো সীমিত করা উচিত নয়। আমন্ত্রণ যেকোন সময় করা যেতে পারে।
১১. মেহমান যাতে এ ধারণা করতে না পারে যে, সে কি পরিমাণ খাচ্ছে তার প্রতি লক্ষ্য রাখা অথবা সে অনেক বেশি খাচ্ছে, এরকম চিন্তা ভাবনা মেজবানের রয়েছে।
১২. আকস্মিকভাবে কোন মেহমান এসে গেলে مسلمانوں কর্তব্য হচ্ছে তার সুষ্ঠু মেহমানদারি করা।
📄 খাবার জন্য আমন্ত্রিত হলে
১. কোন মুসলমানকে খাবারের জন্য আমন্ত্রণ করা হলে তা গ্রহণ করা উচিত। বিবাহ উৎসবের আমন্ত্রণ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে (যদি এতে নিষিদ্ধ কিছু না থাকে)।
২. কেউ যদি আপ্যায়নের জন্য এমন আমন্ত্রণ জানায়, যা হচ্ছে শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থে, তবে তা গ্রহণ করা উচিত নয়।
৩. কেউ নফল রোজা রাখা অবস্থায় আমন্ত্রিত হলে রোজা ভঙ্গ করা অথবা এই আমন্ত্রণ রক্ষা করার স্বাধীনতা তার রয়েছে।
৪. কারো বাড়িতে খাবার জন্য আমন্ত্রিত হলে কোন মুসলমানের উচিত নয় এমন কাউকে সাথে নেয়া যে আমন্ত্রিত নয়।
৫. যদি কেউ কোন মুসলমানের অনুসরণ করে এবং তার মেজবানের বাড়িতে যাওয়ার সময় সম্মতি ছাড়াই সহযোগী হয় সেক্ষেত্রে মেজবানকে বিষয়টি জানিয়ে রাখা কর্তব্য। মেজবান তার ইচ্ছানুসারে অনাকাঙ্ক্ষিত মেহমানকে গ্রহণ বা বর্জন করতে পারেন।
৬. খাবার পরিবেশন করা হলে তাড়াহুড়া করে খাবার টেবিলে যাওয়া ভদ্রোচিত ব্যাপার নয়। উত্তম পদ্ধতি হচ্ছেঃ তার ডানের ব্যক্তিকে অনুসরণ করা।
৭. প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে ভোজ উৎসবের আয়োজন করা হলে এই আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া অনুচিত।
৮. নৈতিক দুর্নীতিবাজ কোন ব্যক্তির আমন্ত্রণ শুধু এজন্য গ্রহণ করা উচিত নয় যে, তাকে না বলা একটা সমস্যা। তাকে ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা থাকার শর্তে আমন্ত্রণ গ্রহণ করা যেতে পারে।
৯. খেতে বসে ৪নং অধ্যায়ে বর্ণিত রীতিনীতি মানতে হবে।
১০. পরিবেশিত খাবারের মধ্যে এমন খাদ্যবস্তু অথবা পানীয় থাকলে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ, যেমন মদ বা শূকরের মাংস, তাহলে মেজবানকে ওগুলো সরিয়ে নেয়া অথবা চলে যাওয়ার কথা বলতে হবে। এগুলো সরিয়ে নেয়া না হলে তৎক্ষণাৎ সে স্থান ত্যাগ করা উচিত।
১১. মেহমান দাওয়াতের জন্য মেজবানকে ধন্যবাদ দেবেন এবং তার জন্য খোদার রহমত কামনা করবেন। নিম্নোক্ত দোয়া করা যেতে পারেঃ “আকালো তা’মুকুম আল আবরার ওয়া সাল্লা আলায়কুম আল মালাইকা ওয়া আফতারা ইন্দাকুম আস-সায়েমুন” (সালেহ লোকেরা তোমার মাধ্যমে অংশ নিক, ফেরেস্তারা তোমার জন্য দোয়া করুক এবং রোজাদারগণ তোমার সাথে ইফতার করুক)।
📄 অসুস্থদের দেখতে যাওয়া
১. অসুস্থদের দেখতে গেলে, তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করলে, তারা অধিকতর স্বস্তিবোধ করেন। এজন্যে সামাজিক সম্পর্ক জোরদার ও বিকাশ লাভ করে। সুতরাং শুধু বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনই নয় বরং যারা দূর সম্পর্কের আত্মীয় ও স্বল্প পরিচিতি, সেসব অসুস্থ লোকদেরকেও দেখতে যাওয়া উচিত।
২. অসুস্থদের দেখতে যাওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করে নিলে ভাল হয়, তবে তা জরুরি নয়। অসুস্থরা হাসপাতালে থাকলে রোগী পরিদর্শনের সময়সূচি মেনে চলতে হবে এবং সেখানে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা থাকলে- তাও মেনে চলতে হবে।
৩. অসুস্থতার ধরনের উপর পরিদর্শনের প্রকৃতি ও সময়ের পরিমাণ নির্ভর করে। অসুস্থদের দেখার ব্যাপারে চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে অথবা তাদের সংক্ষিপ্ত সময়ে দেখা যেতে পারে। চিকিৎসকদের অনুমতি থাকলে অসুস্থদের পাশে দীর্ঘ সময় কাটানো আবশ্যক, যাতে করে তারা অনুধাবন করতে পারে যে, তার প্রতি অবহেলা করা হচ্ছে না।
৪. পরিদর্শনকারীকে রোগীর পাশেই বসতে হবে এবং তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে।
৫. রোগী পরিদর্শনকালে তার আরোগ্যের জন্য দোয়া করা উচিত। এই অসুস্থতা পাপ মোচনের জন্যেও হতে পারে। রাসূলে করিম (সা.) রোগী পরিদর্শনকালে বলতেনঃ “লা-বা'স ত্বাগুর ইনশাআল্লাহ” (কোন ক্ষতির কারণ নেই, যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয় সংশোধন করা)।
৬. রোগী পরিদর্শনকারীকে সতর্কতার সঙ্গে সান্ত্বনার বাক্য বেছে বেছে বলতে হবে; ভাগ্যের প্রতি আপত্তিকর কোন মন্তব্য, অসুস্থতাকে পাপ হিসেবে উল্লেখ করা অথবা এমন কোন কথা বলা, যা রোগীর উপর খারাপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে- ইত্যাদি বলা গুনাহ। তার চেয়ে এই অসুস্থতা খোদার দেওয়া নিয়তির অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা এবং খোদা সকলের মঙ্গল করুণ- এরূপ ধারণা রাখতে বলা আবশ্যক।
৭. পীড়িত ব্যক্তির অবস্থা নৈরাশ্যকর অবস্থায় উপনীত হলে বলতে হবে “ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন” (নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং তার দিকেই আমরা ফিরে যাব)।
৮. কোন মুসলমানের অসুস্থ ব্যক্তিকে তার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত রাখা উচিত নয়। অসুস্থ ব্যক্তি তার ব্যাপারে ঘনিষ্ঠতাবোধ করলে তার কাছে যখনি প্রয়োজন হয় যাওয়া দরকার।
৯. রোগীর প্রতি উদ্বেগ শুধু রোগী দেখার মধ্যেই সীমিত রাখলে হবে না। সময়ে সময়ে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে তার পরিবারের কাছে খোঁজ-খবর নিতে হবে।
১০. বন্ধু, প্রতিবেশী বা আত্মীয় অমুসলিম হলেও, অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যেতে হবে। ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যও এটা প্রয়োজন।
১১. কুষ্ঠ রোগী বা এ ধরনের রোগ বা পঙ্গু ব্যক্তির প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকানো উচিত নয়, যদি তারা এতে অপমানবোধ করে।