📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ 📄 অপরের বাসগৃহে প্রবেশের সময় অনুমতি প্রার্থনা

📄 অপরের বাসগৃহে প্রবেশের সময় অনুমতি প্রার্থনা


১. অনুমতি না নিয়ে কোন মুসলমানের পক্ষে কারো গৃহে প্রবেশ করা উচিত নয়। পিতামাতার ন্যায় যারা ঘনিষ্ঠজন তাদের কাছ থেকেও অনুমতি নেয়া সৌজন্য বিশেষ। কারণ গৃহে লোকজন এমন কোন পোশাক বা অবস্থায় থাকতে পারে যা তারা অন্যকে দেখাতে রাজি নয়। বিশেষ করে এটা মহিলাদের বেলায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মহিলাদের কাপড় চোপড় ঠিক করতে, চুল ঢাকতে সময় দেয়া প্রয়োজন।
২. কাউকে স্বাগত জানানোর জন্য দরজা খোলা হলে সেই ফাঁকে গৃহে উঁকি দেয়া নিষিদ্ধ।
৩. কোন বাড়িতে প্রবেশের আগে অনুমতি চাওয়ার পূর্বে যেই জবাব দিকনা কেন, দর্শনার্থীর উচিত প্রথমে তাকে স্বাগত জানানো। ভিতরে প্রবেশের জন্য অনুমতি চাওয়ার ধরন হবে এমন, 'আসসালামু আলাইকুম; আমি কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারি'? অথবা 'আসসালামু আলাইকুম, আমি (আপনার নাম বলুন) কি ভিতরে আসতে পারি'? প্রথমে সম্ভাষণ না জানালে গৃহে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া যুক্তিসঙ্গত।
৪. দরজা খোলার আগে দর্শনার্থীকে যদি তার পরিচয় বলতে বলা হয়, তাহলে তা অবশ্যই দিতে হবে। শুধু এতটুকু বলা 'এই যে আমি'- ঠিক নয়।
৫. প্রবেশের অনুমতি দেওয়া না হলে, অনুমতির জন্য তিনবার পুনরাবৃত্তি করা যাবে। এরপরেও যদি অনুমতি দেয়া না হয়, তাহলে দর্শনপ্রার্থীকে চলে যেতে হবে। পূর্ব নির্ধারিত না হলে যে লোকের সাথে দর্শনার্থী সাক্ষাত করতে চান, তিনি তাকে স্বাগত নাও জানাতে পারেন। সুতরাং যদি বলা হয়, তিনি ব্যস্ত আছেন এবং মেহমানদের স্বাগত জানাবেন না, তাহলে তার অপমানবোধ করা উচিত নয়।
৬. দরজায় কারাঘাত করা বা বেল বাজানো, সম্ভাষণ জানানোও ভেতরে প্রবেশের অনুমতির বিকল্প নয়।
৭. দরজায় মৃদু টোকা দিতে হবে, কারণ গৃহে কেউ ঘুমিয়ে থাকতে পারে অথবা অসুস্থ হতেও পারে। তিনবার করাঘাত করার পরেও যদি কোন সাড়া না মেলে তাহলে দর্শনপ্রার্থীর স্থান ত্যাগ করা উচিত।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ 📄 বন্ধুদের বাড়িতে

📄 বন্ধুদের বাড়িতে


মোলাকাত এবং বিনিময়ের (exchange of visits) ফলে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সম্পর্ক জোরদার হয় এবং তা সুস্থ সমাজ জীবনের প্রধান উপাদান হিসেবে গণ্য হয়। এর ফলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর হয়, যার স্থান ইসলামে নেই।
১. ইসলামের পদ্ধতি হচ্ছে: কোন মুসলমান তার মেজবানকে তার সফরের ইচ্ছা সম্পর্কে জানাবে। পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি ছাড়া কারো সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে এবং তিনি কোন কারণে তাকে স্বাগত জানাতে অনিচ্ছুক হলে, তার বিষণ্ণ হওয়া উচিত নয়।
২. পূর্ব-নির্ধারিত সাক্ষাৎ অবশ্যই ত্বরিৎ সম্পাদন করতে হবে। পূর্বে নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করার বা বাতিল করার ন্যায়সংগত কারণ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের উচিত তা অন্যপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া।
৩. রাতের বেলা (এশার নামাজের পর) বা দিবসের ঘুমের সময় ছাড়া অন্য সময় পরিদর্শন করতে যাওয়া উচিত।
৪. পূর্ব-নির্ধারিত হলে মেহমানকে স্বাগত জানানো মেজবানের কর্তব্য। তদুপরি মেহমানকে স্বাগত জানাতে না পারার দরুণ মেজবানের ক্ষমা চাওয়ার অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে মেহমানকে অপমানবোধ করলে চলবে না।
৫. ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অন্যান্য স্বার্থপরতা থেকে এই মোলাকাতকে মুক্ত রাখতে হবে। এই মোলাকাতের উদ্দেশ্য হবে مسلمانوں সাথে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক জোরদার করা।
৬. যে মহিলার স্বামী বাড়িতে নেই, সেক্ষেত্রে 'মহরম' মানুষ ছাড়া তার বাড়িতে যাওয়া পুরুষদের উচিত নয়।
৭. পূর্ব-নির্ধারিত হলেও কোন মুসলমান অনুমতি না পাওয়া এবং তাকে সম্ভাষণ না জানানো পর্যন্ত মেজবানের গৃহে প্রবেশ করবে না।
৮. মোলাকাতকারীকে স্মরণ রাখতে হবে যে, তিনি কারো বাড়িতে গেছেন। এজন্য নিজের জন্য কিছুটা বিব্রতকর হলেও তাকে মেজবানের পরিকল্পনার সাথে সমন্বয় করে চলতে হবে।
৯. যারা মোলাকাত করতে আসে শুধু তাদের বাড়িতেই মোলাকাত সীমিত রাখা مسلمانوں উচিত নয়।
১০. মেহমান কখনও মেজবানের সামনে ইমামতি করবেনা অথবা তার অনুমতি ছাড়া মেজবানের নির্দিষ্ট স্থানে বসবেনা।
১১. অন্য পরিবারের সঙ্গে মোলাকাতকালে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ। প্রয়োজন হলেই মেহমান মেজবানের স্ত্রী বা কন্যাদের সাথে কথা বলতে পারে। মেজবানের স্ত্রী সঠিক পোশাকে আবৃত হয়ে মেহমানদের আপ্যায়ন করতে পারে।
১২. স্বামী আপত্তি করলে স্ত্রীর উচিত নয় কারো সাথে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া।
১৩. মেজবানের বা তার পরিবারের সদস্য কর্তৃক ইসলামি শিক্ষার সুস্পষ্ট লংঘন হলে মেহমানের উচিত চলে যাওয়া। এ ধরনের আচরণ উত্তম মুসলমানের কাছে অগ্রহণযোগ্য ও অসহনীয়। এক্ষেত্রে মেজবানের আচরণের ব্যাপারে মেহমানকে সবর করতে হবে।
১৪. কোন মুসলমান কারো সাথে মেহমান হিসেবে থাকতে চাইলে, তিনদিনের বেশি আতিথ্য প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। এর বাইরে যা প্রাপ্য তা অনুদান হিসেবেই পাওয়া। কারো বোঝা হয়ে দাঁড়ায়- এরূপ অবস্থা সৃষ্টি পর্যন্ত মেহমানের অবস্থান করা উচিত নয়।
১৫. মেজবান কোন কিছু খেতে দিলে চিকিৎসাগত কারণ অথবা রোজা না থাকলে অসম্মতি জানানো অভদ্রতার শামিল। এক্ষেত্রে ক্ষমা চেয়ে প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
১৬. মোলাকাতকারী যদি পেশাব পায়খানা করতে চায়, তাহলে মেজবানকে জানিয়ে স্থান ত্যাগ করবে।
১৭. অন্যদের সাথে মোলাকাত করতে গেলে অনুরোধ ছাড়া দীর্ঘসময় অবস্থান করা উচিত নয়। দীর্ঘকাল অবস্থান এবং অতিরিক্ত কাল ক্ষেপণ করে নিজেকে নির্বোধ প্রমাণিত করা সুষ্ঠু ইসলামি আচরণের মধ্যে পড়েনা।
১৮. বিদায়ের প্রাক্কালে মেহমান অবশ্যই মেজবানকে আপ্যায়নের জন্য ধন্যবাদ দেবে। তিনি বিদায় নেয়ার জন্য অনুমতি চাইবেন এবং অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। অতঃপর মেজবানের কাছ থেকে বিদায় নেবেন।
১৯. কোন মুসলমান অন্যের সঙ্গে মেহমান হিসেবে অবস্থানকালে যদি রোজা রাখতে চায়, তাহলে মেজবানকে তার ইচ্ছার কথা জানানো সৌজন্য বিশেষ।
২০. যদি কোন বন্ধু বা আত্মীয় দেখা সাক্ষাৎ করতে না আসে, তাহলে কোন মুসলমানের উচিত নয় একই আচরণ করা। সে তার সাথে মোলাকাত করবে এবং তার মোলাকাতের জন্য অপেক্ষা করবে না।
২১. মুসলমানদের উচিত নয় শুধু বিশেষ উপলক্ষে মোলাকাত সীমিত রাখা। আগেই বলা হয়েছে, মোলাকাত বা বিনিময়ের ফল সব সময় ফলপ্রসূ হয়ে থাকে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ 📄 মেহমানদের স্বাগত জানানো

📄 মেহমানদের স্বাগত জানানো


১. مسلمانوں উচিত তার মেহমানদের আন্তরিকতার সাথে এবং সহাস্যে স্বাগত জানানো। মেহমানের প্রতি সম্মান ও আপ্যায়ন করা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যতম কর্তব্য।
২. মেজবানের উচিত মেহমানের কাছ থেকে বিরক্তির সকল উৎস দূরে সরিয়ে রাখা।
৩. মেহমানকে কোন প্রকার কর্তব্য সম্পাদন করতে বলা অভদ্রতা।
৪. বেশ ক'দিনের জন্য আগমন ও অবস্থানের জন্য মেহমানের কোন দাওয়াতের প্রয়োজন নেই। তবে তার আসার ব্যাপারে মেজবানকে আগাম জানিয়ে দেয়া ভাল। মেহমান তিনদিন অবস্থান করার পর চলে যেতে পারে।
৫. কোন মুসলমানের কাছে মেহমান মোলাকাত করতে আসলে সামর্থ্য অনুযায়ী সমাদর করা এবং তাকে খাদ্য ও পানীয় দেয়া কর্তব্য। অবশ্য তার সাথে মোলাকাত করতে গেলে এই ব্যবহার পাওয়া যাবে কিনা সেটা বিবেচ্য নয়।
৬. মোলাকাত শেষ হলে মেহমানের বিদায়ের প্রাক্কালে মেজবানকে তার সাথে বহিদরজা পর্যন্ত সঙ্গ দিতে হবে এবং তাকে বিদায় জানাতে হবে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ 📄 লোকদের আপ্যায়ন

📄 লোকদের আপ্যায়ন


১. কোন মুসলমান তার সাফল্যের ব্যাপারে গর্ব করার ইচ্ছা না থাকলে অন্যান্য লোকদের আমন্ত্রণ জানাতে পরে।
২. শুধু ধনী ও প্রভাবশালী লোকদের নিমন্ত্রণ করলে চলবেনা, গরিব ও অভাবগ্রস্তদেরও আমন্ত্রণ জানাতে হবে।
৩. অন্যান্যদের দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ভাল مسلمانوں আপ্যায়নের জন্য দাওয়াত দিতে হবে। مسلمانوں দাওয়াত দেয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে আপ্যায়নের ফলাফল যেহেতু বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা, সেজন্য এর লক্ষ্য مسلمانوں মধ্যে সীমিত রাখা উচিত।
৪. আপ্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবেশীদেরও আমন্ত্রণ জানানো উচিত।
৫. আমন্ত্রিত মেহমানদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; তবে এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও বাহুল্য পরিহার করতে হবে।
৬. মেহমানদের স্বাগত জানানোর কলাকৌশলের ক্ষেত্রে পঞ্চদশ অধ্যায়ে বর্ণিত বিধান অনুসরণ করতে হবে।
৭. খাবার দেয়ার সাথে সাথে মেহমানরা খেতে শুরু করতে পারলেও তাদের প্রতি বিসমিল্লাহ বলে খাবার শুরু করতে বলা উত্তম।
৮. মেহমানদের পানাহার করতে বলা এবং অতিরিক্ত না খাওয়ার কথা বলা অভদ্রতা বিশেষ; তবে বিশেষ ধরনের খাবার গ্রহণের জন্য পীড়াপীড়ি করা উচিত নয়।
৯. মুসলমানদের বক্তৃতা দেবার কালে নিজের উদারতা বা মহত্বের অথবা পরিবেশিত খানাপিনা সম্পর্কে প্রশংসা না করার ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।
১০. বিশেষ বিশেষ সময়ে আমন্ত্রণ জানানো সীমিত করা উচিত নয়। আমন্ত্রণ যেকোন সময় করা যেতে পারে।
১১. মেহমান যাতে এ ধারণা করতে না পারে যে, সে কি পরিমাণ খাচ্ছে তার প্রতি লক্ষ্য রাখা অথবা সে অনেক বেশি খাচ্ছে, এরকম চিন্তা ভাবনা মেজবানের রয়েছে।
১২. আকস্মিকভাবে কোন মেহমান এসে গেলে مسلمانوں কর্তব্য হচ্ছে তার সুষ্ঠু মেহমানদারি করা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px