📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 হাসি

📄 হাসি


কোন চমৎকার জিনিস দর্শন, কোন সুখবর শুনে বা কৌতুকচ্ছলে আমরা হেসে থাকি।
১. অন্যেরা হাসছে এজন্যে হাসতে হবে, তা ঠিক নয়। হাসির কারণ থাকতে হবে।
২. উচ্চশব্দে বা অরুচিকর শব্দে হাসি দেয়া উচিত নয়।
৩. অট্টহাসির চাইতে যে হাসিতে দাঁতের কিয়দাংশ মাঁড়ি পর্যন্ত দেখা যায়, সেরূপ স্মিতহাসি বা মুচকি হাসি উত্তম।
৪. হাসির উচ্চস্বর নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত; উচ্চ শব্দ করা বাঞ্ছনীয় নয়।
৫. হাসির জন্য হাসা- বিশেষতঃ তা যদি মিথ্যার জন্য হয়- তাহলে مسلمانوں হাসা অনুচিত।
৬. কোন জনসমষ্টির মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি এমন থাকে, যে কোন মূল্যে হাসানো যার কাজ, তাহলে مسلمانوں এরকম মজলিশে বসা উচিত নয়।
৭. অন্য ব্যক্তিকে উপহাসের জন্য হাসা নিষেধ।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 কাঁদা

📄 কাঁদা


১. সঙ্গতকারণ এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই কান্না আসা উচিত।
২. আবেগ দমন করা যাচ্ছেনা বলে কাঁদা কাপুরুষের কাজ। তথাপি সংযতভাবে কাঁদা যায়, তবে তা অতিরিক্ত বা উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে নয়।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 তামাশা

📄 তামাশা


১. সবসময় গুরুগম্ভীর থাকা, একঘেঁয়েমী পরিহারের জন্য বিভিন্ন মানুষের সাথে হাসি তামাশায় অংশ নেয়া ভাল।
২. হাসি তামাশার সময় পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে অভদ্র বা পীড়াদায়ক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।
৩. অতিরিক্ত গাম্ভীর্য এবং বেশি হাসি তামাশা পরিত্যাজ্য; কারণ, এর ফলে আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার এবং অন্যের অনুভূতিতে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।
৪. অন্যের অনুভূতিতে যাতে আঘাত না লাগে, সেজন্যে তামাশার মূল বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
৫. তামাশার সাথে অতিরিক্ত অঙ্গভঙ্গি বা শারীরিক কসরত প্রদর্শন চলবে না।
৬. তামাশাচ্ছলে অন্যের জিনিসপত্র নেয়া যাবেনা।
৭. তামাশাচ্ছলেও মিথ্যা বলা যাবেনা।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 অন্যদের সাথে সাক্ষাৎকালে আচরণ

📄 অন্যদের সাথে সাক্ষাৎকালে আচরণ


১. তাকে হাসতে হবে। কারণ যে কোন সফল সাক্ষাতের জন্য হাসি অপরিহার্য। তবে শুধু পার্থিব সম্পদের অধিকারী লোকদের দেখে হাসা উচিত নয়।
২. অন্য مسلمانوں সম্ভাষণ জানাতে তাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
৩. ব্যক্তি যেই হোকনা কেন এবং উপলক্ষ্য যাই হোক, সম্ভাষণ জানানোর সময় কারো প্রতি মাথা নত করা চলবেনা।
৪. অন্য লোকদের সাথে সাক্ষাতকালে এবং সম্ভাষণের পর ডান হাত প্রসারিত করে করমর্দন করতে হবে। এর ফলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ে।
৫. বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়, এমন ব্যক্তির সাথে করমর্দন করা চলবে না।
৬. কারো হাতে ময়লা থাকলে এবং কেউ এ অবস্থায় করমর্দন করতে চাইলে বিনীতভাবে করমর্দন না করার জন্য ক্ষমা চেয়ে কারণ ব্যাখ্যা করবে।
৭. প্রত্যেক সাক্ষাতে করমর্দন করার জন্য বিব্রত হলে চলবে না।
৮. পুরুষের সাথে পুরুষ এবং নারীর সাথে নারী করমর্দন করবে। যদি কোন নারী পুরুষের সাথে অথবা পুরুষ নারীর সাথে করমর্দন করতে চায়; তাহলে তাকে (নারী/পুরুষ) ক্ষমা চাইতে হবে।
৯. সাক্ষাৎকালে পরিবার সম্পর্কে বার বার প্রশ্ন উত্থাপন সময় ক্ষেপণের কাজ এবং তা একঘেঁয়েমী হতে পারে। এজন্য তাকে এ ধরনের কাজ এড়িয়ে যেতে হবে।
১০. কোন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের পর সম্ভাষণ না জানিয়ে কথাবার্তা শুরু করলে তার সাথে কথা না বলার অধিকার যে কারো রয়েছে।
১১. বসে থাকা অবস্থা কারো সাথে করমর্দনের জন্য দাঁড়ানো অপরিহার্য নয়। অবশ্য এমন কতিপয় উপলক্ষ আছে যেমন কেউ সফর থেকে ফিরে আসার পর সাক্ষাৎ হলে দাঁড়ানো যেতে পারে।
১২. দেখা সাক্ষাৎ শেষ হলে পুনরায় করমর্দন করে বলতে হবে 'আসসালামু আলাইকুম' (তোমার উপর খোদার রহম হোক)।
১৩. যে ব্যক্তি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত তার সাথে করমর্দন করা আবশ্যক নয়।
১৪. মোনাজাত করার পর করমর্দন করা সুন্নত নয় বরং বলবে 'তাকাব্বাল আল্লাহ' (আল্লাহ আমাদের মোনাজাত কবুল করুন)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00