📄 অপরিহার্য ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য
সাধারণভাবে বলতে গেলে সচ্চরিত্রের মত কোন ভাল গুণ নেই। সর্বোত্তম লোকেরাই সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। আর খারাপ লোকেরা মন্দ চরিত্রের অধিকারী। সচ্চরিত্রের কয়েকটি দিক তুলে ধরছি, যা সকলের কাঙ্ক্ষিত। একজন মুসলমানের জিন্দেগি হবে নিম্নরূপঃ
১. বিনয়ী হতে হবে এবং কোনরূপ গর্ব করলে চলবে না।
২. কোন আস্থার আসনে বসানো হলে, সেই আস্থা অক্ষুন্ন রাখা দরকার।
৩. সর্বদা সত্য কথা বলবে এবং নির্দেশ মত কাজ করতে হবে।
৪. মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের প্রতি স্নেহদৃষ্টি, দয়া ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
৫. যার সহায়তা প্রয়োজন তাকে সাহায্য করা এবং সাহায্য না চাইলেও দুঃস্থকে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।
৬. ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের আসনে থেকে ক্ষমা করা উচিত।
৭. অপরের সৎ চিন্তাকে মূল্য দেয়া উচিত।
৮. অন্যের প্রতি বন্ধুসুলভ হওয়া এবং তাদের সাথে বন্ধুর মত ব্যবহার করা কর্তব্য।
৯. অপরে পরামর্শ চাইলে আন্তরিকভাবে পরামর্শ দেয়া প্রয়োজন।
১০. যে যার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তার সাথে সে ব্যাপারে কথা বলবে না।
১১. জরুরি বা প্রয়োজন নাহলে অন্যের কাছ থেকে কোন কিছু কখনও চাইবে না।
১২. ওয়াদা অক্ষুন্ন রাখা।
১৩. কর্তার রাগ প্রশমিত করা এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত হওয়া।
১৪. যারা ইসলামের চর্চা করে, তাদের প্রতি তার সম্পর্কের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া।
১৫. সর্বদা ধৈর্যশীল হওয়া।
১৬. আগে যার সাথে ঝগড়া হয়েছে, তাকে সম্ভাষণ জানিয়ে আন্তরিকতা প্রদর্শন করা।
১৭. দায়িত্বদানকারী অথবা নিয়োগকারীর পরিবার ও আত্মীয়ের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
১৮. মিতাচারী হওয়া।
১৯. খোদা যা দিয়েছেন, তা নিয়েই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত হওয়া।
২০. তুচ্ছ বিষয় ছেড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোনিবেশ করা।
২১. দুষ্ট লোকদের মোকাবেলায় দূরদর্শীতার পরিচয় দিতে হবে।
২২. অন্যের সাথে উপহার বিনিময় করা।
২৩. যে ভাল কাজ করতে চায় তাকে ভাল কাজের দিকে পরিচালিত করা।
২৪. বিবাদমান পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করা।
২৫. কাজ সম্পাদনের আগে সে সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে নেয়া।
২৬. অন্যের প্রতি সদয় হওয়া।
২৭. অন্যান্যরা তাকে যা গোপন করতে বলে সেটা এবং অন্যদের ব্যাপারে সে যা জানতে পেরেছে তা গোপন করা।
২৮. কোন মুসলমান মনক্ষুন্ন হয়েছে, এমন কাজ করলে সেজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।
২৯. যে দুর্ব্যবহার করেছে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া, যেন সে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে পড়ে।
৩০. প্রফুল্লচিত্তে আরেকজনের সাথে সাক্ষাৎ করা।
৩১. ভাল লোক হলে তাদের সাথে মেলামেশা করা। অন্যথা নির্জনতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
৩২. কারো অনুপস্থিতিতে সমালোচনা করা হলে তার পক্ষে কথা বলা।
৩৩. যে পথ হারিয়েছে তাকে পথ দেখানো বিশেষতঃ ক্ষীণ দৃষ্টিসম্পন্ন লোকদেরকে পথ দেখানো।
৩৪. সহজ হতে হবে; তবে বুদ্ধি বিবেচনাহীন হওয়া চলবে না।
৩৫. দানশীল হতে হবে, তবে অমিতব্যয়ী হওয়া যাবে না।
৩৬. দুর্বলের প্রতি সদয় এবং পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
৩৭. কারো সম্পর্কে তথ্যাদি জানার জন্য সে গালিগালাজ বা গালমন্দ করলে প্রতিশোধ না নেয়া অথবা তার সম্পর্কে কিছু জানার জন্য গালিগালাজ না করা।
📄 ব্যক্তিগত খারাপ বৈশিষ্ট্য
সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে সাফল্য অর্জন করতে চাইলে ব্যক্তিগত চরিত্রের কতিপয় নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য পরিহার এবং একই সঙ্গে কতিপয় ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের চর্চা করতে হবে। নিম্নে নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের একটি তালিকা দেয়া হলো যা মুসলমানকে পরিহার করতে হবে:
১. অত্যন্ত ভয় পাওয়া, উত্তেজিত বা আকস্মিকভাবে ক্ষুব্ধ হওয়া।
২. অন্যদের সাথে খারাপ সম্পর্ক রাখা।
৩. সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়ে কথা বলা।
৪. ক্ষুব্ধতা বা ক্রোধ প্রকাশ করা (বিশেষত সেটা যদি কোন গরিব মানুষের পক্ষ হতে হয়; তবে ঐব্যক্তি হয়তো নিজেকে বড় ভাবতে পারে, অন্যদের চোখে সে কার্যতঃ তা নয়)।
৫. কাউকে অপবাদ দেয়া।
৬. অন্য লোকের আলোচনা শুনতে যাওয়া যারা চায়না যে সে এই আলোচনায় অংশ নিক অথবা তারা তাকে এড়াতে চায়।
৭. দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা।
৮. ভিন্ন লোকের বংশধরদের গালি দেওয়া।
৯. সহযোগী কোন মুসলমানের দুর্ভাগ্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা।
১০. বংশের মৃত পূর্বপুরুষ অথবা পদস্থ আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে গর্ব করা।
১১. অন্যদের দোষত্রুটি বের করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো।
১২. কোন মুসলমানের সাথে বিরোধ থাকলে, তিন দিনের বেশি কথা না বলা ও এড়িয়ে যাওয়া।
১৩. নিজে দুষ্টের শিরোমণি হয়ে অন্যের প্রতি অপবাদ দেওয়া।
১৪. কোন মুসলমানের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা তিনি (স্ত্রী বা পুরুষ) পছন্দ করেন না, যদিও তা সত্য হয়।
১৫. অন্যের প্রতি সন্দেহপ্রবণ হওয়া।
১৬. অন্যের ব্যাপারে অনুসন্ধিৎসু হওয়া।
১৭. গোয়েন্দাগিরি করা।
১৮. কোন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া।
১৯. অন্যদের হিংসা করা।
২০. অন্যান্য মুসলমানদের ঘৃণা করা।
২১. কারো অগোচরে নিন্দা করা।
২২. অন্যদেরকে হাস্যাস্পদ করা, তাদের প্রতি উপহাস করা।
২৩. অন্যদের প্রতি অসততার কাজ করা, প্রতারণা বা বিভ্রান্ত করা।
২৪. আত্মপ্রবঞ্চনা বা আত্মপ্রতারণা করা।
২৫. ধন-লোলুপ এবং কৃপণ হওয়া।
২৬. কাপুরুষ হয়ে নিজের ভয়ভীতি দূর করতে না পারা এবং বিপদ থেকে পালিয়ে যাওয়া।
২৭. সব সময় অসন্তুষ্ট থাকা ও অভিযোগ করা এবং কোন ব্যাপারে সন্তুষ্ট না হওয়া।
২৮. নিজের সাহায্য সহায়তা, দান-দক্ষিণা ও উদারতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
২৯. নিজে স্বার্থপর হয়ে অন্যের কথা না ভেবে নিজস্ব প্রয়োজন ও কল্যাণের প্রতি প্রধানতঃ চিন্তাভাবনা করা ও আগ্রহী হওয়া।
৩০. অন্যকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে হাত গুটিয়ে থাকা।
৩১. কোন ব্যক্তির উপস্থিতিতে তার প্রশংসা ও স্তুতিবাদ করা।
৩২. পাপিষ্ঠ প্রকৃতির অথবা বিত্তবান বা উচ্চ পদে আসীন ব্যক্তিদের প্রতি অনাহুত সম্মান প্রদর্শন।
৩৩. উচ্চস্বরে কথা বলা।
৩৪. অন্যের প্রতি কঠোর বা রূঢ় ব্যবহার করা।
৩৫. নিজের প্রশংসা করা অথবা নিজেকে অযাচিতভাবে বড় করে তুলে ধরা।
৩৬. মিথ্যা বলা।
📄 কথা বলা ও শোনা
কথা বলা যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবং তা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশও বটে।
১. প্রত্যেক মুসলমানের মিতভাষী হওয়া উচিত এবং এটি একটি উত্তম গুণ। হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ হয় ভাল কথা বলবে অথবা নীরব থাকবে।
২. নীরব থাকাকে দোষ হিসেবে বিবেচনা করে কোন মুসলমানের শুধু কথা বলার খাতিরেই কথা বলা উচিত নয়। দোষটা হচ্ছে: খারাপ কথা বলা এবং বেশি কথা বলা। যা ভাল তা বলা তার কর্তব্য, নতুবা চুপ থাকা দরকার। চুপচাপ থাকা নিঃসন্দেহে ভাল গুণ, কিন্তু এমনটি করা যাবেনা যাতে মানুষ বিরক্ত হয়।
৩. মুসলমানদের অবশ্যই সত্যনিষ্ঠ হতে হবে এবং কেউ খুশি হোক বা বেজার হোক সত্য কথা বলতে হবে। তিক্ত হলেও তাকে সত্য কথা বলতে হবে।
৪. মুসলমানদের কথা বলার আগে সতর্ক চিন্তা করতে হবে এবং এমন কথা বলা উচিত নয়, যাতে তাকে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাইতে হয়।
৫. বক্তৃতায় অনাড়ম্বর ও স্বচ্ছ ভাষা ব্যবহার করা উচিত। বক্তৃতায় অতিরিক্ত সতর্ক ভাব এবং কৃত্রিমতা পরিহার করতে হবে। ভাষাগত দক্ষতা প্রদর্শন অথবা বক্তা অন্যদের চাইতে বেশি জ্ঞানের অধিকারী এটা প্রদর্শনের জন্য অদ্ভূত অলংকারযুক্ত শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়।
৬. যাদের সাথে কথা বলা হচ্ছে, তাদের প্রতি হৃদ্যতাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকানো সৌজন্যের নিদর্শন।
৭. প্রতিটি ঘটনার সাথে একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পৃক্ত থাকে। এজন্যে আলোচিত বিষয় ও ঘটনার মধ্যে শিষ্টতা ও যথার্থতা থাকতে হবে।
৮. প্রত্যেক মুসলমান যা বলছে তার সত্যতা ও নির্ভুলতার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।
৯. বক্তৃতা শ্রবণরত লোকেরা যদি বক্তার বক্তব্য অনুধাবন করতে না পারে এবং বক্তৃতার পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হয়, তাহলে বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করা ভদ্রতার নির্দশন।
১০. দ্রুত কথা বলা উচিত নয়। অতি ধীরে বা অতি দ্রুত কথা বলা, অতি উচ্চ বা অত্যন্ত মৃদুস্বরে কথা বলা উচিত নয়। এর ফলে শ্রোতারা বিতৃষ্ণ হয়ে পড়ে।
📄 বক্তৃতার গ্রহণযোগ্য ভাষা
১. কথ্য ও অশালীন শব্দ যতদূর সম্ভব পরিহার করতে হবে।
২. বিদেশী শব্দ ও পরিভাষা পরিহার করা উচিত।
৩. প্রত্যেকের উচিত শ্রুতিমধুর, গ্রহণযোগ্য এবং নৈতিক প্রকাশভঙ্গি অর্জন করা।
৪. মুসলমানের পক্ষে কারো প্রতি অভিশাপ দেওয়া শোভন নয়।
৫. প্রত্যেক মুসলমানের অপশব্দ বা আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা অনুচিত। তাকে গালিগালাজপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কটুবাক্য বা অশালীন প্রকাশভঙ্গির জন্য যদি কেউ কারো থেকে দূরে থাকে, সেটা সেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের প্রতি কালিমাস্বরূপ।
৬. মৃত ব্যক্তিদের গালিগালাজ করা অন্যায় এবং জীবিতদের প্রতি গালিগালাজের ন্যায় তা একইভাবে নিষিদ্ধ।
৭. নিজের ভাগ্যের প্রতি দোষারোপ করা এবং খোদার প্রতি অবিচার করার অভিযোগ مسلمانوں জন্য দূষণীয় এবং তা পরিহার করতে হবে।
৮. বিশেষভাবে মুসলমানকে অথবা সাধারণভাবে সকলকে নীচু চোখে দেখা খারাপ বিষয়।
৯. নিজের প্রতি, নিজের সন্তানদের প্রতি, গৃহ ভৃত্যদের প্রতি অভিসম্পাত দেওয়া নিষিদ্ধ।
১০. এমন কতিপয় বক্তব্য যা ইসলামের মৌলিক নীতির পরিপন্থী, যেমন, এমন কিছু বলা যাতে খোদার শরিকানা প্রকাশ করে- সেগুলো পরিহার করতে হবে। কোন মুসলমান কখনও বলবেনাঃ "খোদার ইচ্ছা এবং অমুক অমুকের ইচ্ছা হলে।" বরং তার বলা উচিত "একমাত্র খোদা যদি ইচ্ছা করেন অথবা খোদা যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে অমুকের মাধ্যমে এটা পারে।" সে কখনো বলবেনা: "খোদা ও তুমি ছাড়া আমার কোন ভরসা নেই" বরং বলবে : "খোদা ছাড়া আমার কোন ভরসা নেই; তারপর আল্লাহ চাইলে, তোমরা রয়েছো।" সে কখনো বলবেনা: "আমি অমুকের শপথ করে বলছি।"
১১. বায়ু, বৃষ্টি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনার প্রতি দোষারোপ করা নিষেধ; কারণ এগুলো খোদার নির্দেশে সম্পাদিত হয়। বৃষ্টি বা বায়ুকে গালিগালাজের পরিবর্তে বলা যায় : "হে খোদা এগুলোকে রহমত হিসেবে দাও, শান্তি হিসেবে নয়"। তাছাড়া পোষা মোরগকে গালি দেয়া উচিত নয়, কারণ এরা লোকজনকে ফজরের নামাজের জন্য জাগিয়ে দেয়।
১২. কোন মহিলার উচিত নয় অন্য মহিলার সঙ্গে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে অন্তরঙ্গ হওয়া এবং তারপর তার নিজ স্বামীর কাছে অথবা কারো কাছে প্রকাশ করা।
১৩. কোন মুসলমান কোন আলোচ্য বিষয়ে তার জ্ঞানের প্রাধান্য প্রদর্শনের চেষ্টা করবে না, সে বরং বারংবার 'আমি' শব্দ উচ্চারণ পরিহার করবে।
১৪. কোন কাজের জন্য কাউকে দোষারোপ করার ব্যাপারে নমনীয় হতে হবে এবং অন্য লোকের সামনে তা না করাই ভাল।
১৫. কোন মুসলমান, যত ভাল হোকনা কেন, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে অন্যের ঈমান আকিদা বা চরিত্রের প্রতি কালিমা লেপন বা গালিগালাজ করবে না।
১৬. কোন মুসলমানের এমন কিছু বলা উচিত নয়, যাতে কারো মনোকষ্ট বা কারো ব্যাপারে ভুল রায় হতে পারে অথবা ভুল উদ্ধৃতি দেয়া হয়ে যেতে পারে। এমন বিষয় যাতে অন্যেরা বিব্রত হয়, তা না করা ও না বলাই ভাল।
১৭. কোন মুসলমান যেমন তার বক্তৃতায় অন্যের প্রতি দোষারোপ বা গালিগারাজ করবে না, তেমনি সে নিজের প্রতিও দোষারোপ বা গালিগালাজ করবে না।
১৮. কোন মুসলমান অন্য কোন ব্যক্তিকে তার উপস্থিতিতে কখনো প্রশংসা করবে না। যদি সে এটা না পারে, তাহলে তার প্রকাশভঙ্গিতে মধ্যম পন্থার অনুসারী হবে। কারণ শুধু খোদাই কাউকে নিষ্কলুষ আখ্যায়িত করতে পারে।
১৯. مسلمانوں কাজ হচ্ছে: যারা অহরহ অন্যের সমালোচনা করে তাদের থামিয়ে দেওয়া।
২০. অন্যদের সাথে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত নয়। এটা একজনের মধ্যে সীমিত রাখাই শ্রেয়।
২১. কোন মুসলমান তৃতীয় কোন ব্যক্তির খারাপ দিক বলতে চাইলে তার অনুমতি দেবেনা। তার চাইতে বরং সদিচ্ছা নিয়ে অন্যদের সাথে মেলামেশা ও সাক্ষাৎ করা উচিত। যদি সে অন্য লোকদের সম্পর্কে উল্টাপাল্টা বক্তব্য শুনতে পায়, তাহলে তার দায়িত্ব হচ্ছে: কথিত ব্যক্তির স্বপক্ষে বক্তব্য রাখা।
২২. কোন কাজ করার পর মুসলমানের এটা প্রকাশ করা উচিত নয় যে, সেই এটা সম্পাদন করেছে অথবা অন্যভাবে বলার চেষ্টা করা যে, সে এটা সম্পাদন করেছে।
২৩. অনেকক্ষণ ধরে বক্তৃতা করা বদঅভ্যাস। বক্তৃতাকালে মধ্যমপন্থা অনুসরণ করা শ্রেয়।
২৪. কোন মুসলমান যে জিনিসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, সে ব্যাপারে কথা না বলাই ভাল।
২৫. অন্যদের একান্ত আলোচনার সময় আড়িপাতা নিষেধ।
২৬. সহযোগী مسلمانوں মধ্যেই 'ভাই' শব্দের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে।
২৭. কোন মুসলমানকে কাফের বলা বা তার ঈমান নাই বলা- সম্পূর্ণ নিষেধ।
২৮. কোন ব্যক্তি থেকে যদি কেউ কিছু জানতে চায়, তাহলে প্রথমে তাকে সালাম সম্ভাষণ জানাবে, ঐ সময় কি ধরনের কাজে ব্যস্ত- তা বিবেচনা করবে, তারপর প্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলবে।
২৯. কোন মুসলমান যখন নবী করিম (সা.) সম্পর্কে কথা বলবে অথবা তার সাক্ষাতে নবী (সা.) এর কথা বলা হয়, তখনই সে বলবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)- এটা বলা সুন্নত।
৩০. কোন মুসলমান খোদার ইচ্ছার উল্লেখ ছাড়া ভবিষ্যতের ঘটনা সম্পর্কে নির্দেশাত্মক পরিভাষা ব্যবহার করবেনা, বলবেঃ ইনশাআল্লাহ (খোদা যদি ইচ্ছা করেন)।
৩১. কোন মুসলমান অন্য কোন ব্যক্তির সমালোচনা বা গালিগালাজ বা তার দোষ ত্রুটি বলবেনা, যদিও ঐ ব্যক্তি তাকে সমালোচনা বা গালিগালাজ করে এবং তার দোষত্রুটি ধরিয়ে দেয়।