📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 বিবাহের ওয়ালিম

📄 বিবাহের ওয়ালিম


বিয়ের পরদিন স্বামী তার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ, ধন্যবাদ দান, দোয়া কামনা করার জন্য তাদেরকে বিয়ের ওয়ালিমার দাওয়াত দেবে।
১. হালকা নাস্তা দিয়ে হলেও ওয়ালিমার আয়োজন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি ঐতিহ্য। অনৈসলামিক প্রকৃতির না হলে ওয়ালিমার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করা যাবেনা। আমন্ত্রিতদের দাওয়াত গ্রহণ ও যোগদান করা উচিত।
২. বিয়ের (যৌন মিলনের মাধ্যমে বিয়ের পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্তি) পর ওয়ালিমার অনুষ্ঠান করা উচিত, তার আগে নয়। বিয়ের পর তিন দিনের মধ্যেও তা হতে পারে। এটাই সুন্নাহর নিয়ম।
৩. ধনী-গরিব নির্বিশেষে ধর্মভীরু ও তাকওয়াসম্পন্ন মুসলমানদের ওয়ালিমায় দাওয়াত দিতে হবে। সবচেয়ে খারাপ ওয়ালিমা হলো সেটি, যেখানে শুধু ধনীদের দাওয়াত দেওয়া হয়, গরিবদের দেওয়া হয় না।
৪. ওয়ালিমার ভোজে এক বা একাধিক ভেড়া জবাই করা যেতে পারে। মিষ্টি বা সাধারণ নাশতা পরিবেশনও করা যেতে পারে।
৫. আমন্ত্রিত অতিথি এবং আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল, তারা এই ওয়ালিমার ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ বা খাবার যোগান দিতে পারেন।
৬. অতিথি ও আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করতে অথবা দাওয়াতনামা পাঠাতে হবে।
৭. নববধূ অতিথিদের আপ্যায়ন করাতে পারে।
৮. ওয়ালিমা অনুষ্ঠান যেহেতু খোদার রহমত কামনার অনুষ্ঠান, এজন্য এক্ষেত্রে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ।

টিকাঃ
* বাংলাদেশে বিয়ের ওয়ালিমায় গ্রামাঞ্চলে সাধারণতঃছাগল বা গরু জবাই করা হয়। শহরাঞ্চলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্লাব বা কম্যুনিটি সেন্টারে ভোজের আয়োজন করা হয় এবং সেখানে মুরগীর রোস্ট এবং গরু বা ছাগলের গোশত পরিবেশন করা হয়- অনুবাদক।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 বহুবিবাহ

📄 বহুবিবাহ


১. ইসলামি বিধান মোতাবেক কোন ব্যক্তির স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কোন কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে সে তার সাথে সাত রাত কাটাবে এবং এর পর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে সমভাবে সময় বণ্টন করে দেবে; তবে সে যদি এমন মেয়েকে বিয়ে করে ইতোপূর্বে যার বিয়ে হয়েছিল, তাহলে তার সাথে তিন রাত কাটিয়ে এরপর স্ত্রীদের মধ্যে সময় ভাগ করে দেবে।
২. সকল অবস্থায় সকল স্ত্রীর সাথে সমভাবে আচরণ করতে হবে এবং তাদের কাছে থাকতে হবে।
৩. স্বামী অসুস্থ হলে কোন্ স্ত্রী তার কাছে থাকবে, তা স্ত্রীরাই নির্ধারণ করবে।
৪. সমভাবে সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস জরুরি নয়। স্বামীর সময় স্ত্রীর মধ্যে ভাগ করে দেয়া প্রয়োজন এবং তাদের প্রত্যেকের সাথে রাত্রিযাপন করা প্রয়োজন।
৫. স্বামী সফরে যেতে চাইলে লটারির মাধ্যমে কোন্ স্ত্রীর সাথে যাবে তা নির্ধারণ করতে হবে।
৬. স্বামী 'হজ্ব' বা 'উমরাহ' করতে চাইলেও একই পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
৭. কোনো স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত 'পালা' সে যদি অন্য স্ত্রীর জন্য ছেড়ে দেয়, তাহলে স্বামী ঐ স্ত্রীর সঙ্গদান করতে পারেন।
৮. যদি কোন ব্যক্তি স্ত্রীদের মধ্যে সাম্য ও ন্যায়বিচার কায়েম করতে না পারেন (হৃদয়ের টান ও অনুভূতি ব্যতিরেকে), তাহলে তার একাধিক স্ত্রী বিয়ে করা উচিত নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00