📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 বিবাহের অনুষ্ঠান

📄 বিবাহের অনুষ্ঠান


১. উৎসবের আয়োজন না করে গোপনে বিয়ে করা ইসলামের ঐতিহ্য নয়। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করাই ইসলামি বিধানসম্মত।
২. বিয়ে উপলক্ষে আমোদ প্রমোদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইসলামে সঙ্গীত স্বাভাবিকভাবে নিষিদ্ধ হলেও বিয়ের সময় গান গাওয়ার অনুমতি রয়েছে। স্ত্রীকে যখন স্বামীর কাছে সমর্পণ করা হয়, তখন কনের সাথে গান গাওয়ার জন্য কাউকে পাঠানো যায়; কিন্তু এ সঙ্গীতের বিষয়বস্তু অশ্লীলতামুক্ত হতে হবে এবং গানের আওয়াজে যাতে প্রতিবেশীদের বিঘ্ন না ঘটে, তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
৩. বিয়ের অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় খরচের জন্য বরকে বলা নবদম্পতির জন্য সমস্যা হতে পারে সেটিকে অনৈসলামিক প্রথা হিসেবে গণ্য করা হয়।
৪. হজ্ব বা ওমরাহ পালনকালে বিয়ে করা বা অন্যের বিয়ের আঞ্জাম দেয়া উচিৎ নয়।

টিকাঃ
৩. ওমরাহ হচ্ছে মক্কায় গমন; তবে তা হজ্বের মত বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সম্পাদন করতে হয়না। তাছাড়া এটা বাধ্যতামূলক নয় এবং এর কার্যক্রমও সীমিত।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 দাম্পত্য জীবন

📄 দাম্পত্য জীবন


১. ইসলামে মধুচন্দ্রিমার কোন অস্তিত্ব নেই। সুতরাং এটি একটি বহিরাগত ঐতিহ্য।
২. বিয়ের প্রথম পর্যায়ে দম্পতির গৃহে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের অহরহ যাতায়াত না করাই শ্রেয়।
৩. সহবাস প্রক্রিয়ায় ভদ্রতা, সূক্ষ্মতা এবং সহৃদয়তা অপরিহার্য।
৪. স্বামী-স্ত্রীর জন্য সহবাসের সময় পরিচ্ছন্ন শরীর এবং সুগন্ধময় পরিবেশ থাকা প্রয়োজন।
৫. স্বামী স্ত্রীর কাছে ভদ্রভাবে অগ্রসর হবে এবং দু'জনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়- এমন কিছু করবেনা।
৬. স্বামী তার স্ত্রীর কপালে হাত রেখে খোদার রহমত কামনা করে দোয়া করবে : "হে খোদা, আমি তার ও তার মেজাজ মর্জির কল্যাণ চাই এবং তার ও তার স্বভাবের অকল্যাণকর দিক হতে পানাহ চাই।"
৭. সহবাসের আগে স্বামী-স্ত্রীর দু'রাকাত নামাজ পড়া উত্তম।
৮. যে কোন উপায়ে সহবাস করা যায়, তবে তা সুনির্দিষ্ট যৌন পথে করতে হবে।
৯. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একবার সহবাস হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় সহবাস করতে চাইলে স্বামীর পুনরায় অজু করা উচিত।
১০. সহবাসের পর গোসল ছাড়া ঘুমানো যায়, তবে অজু বা গোসল করে নেয়া উত্তম।
১১. রক্তস্রাবকালে স্ত্রী সহবাস করা নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও সহবাস করা হলে স্বর্ণের অর্ধ-দিনার সাদকাহ্ করতে হবে। স্বামী তার রক্তস্রাবরতা স্ত্রীর সাথে সহবাস ছাড়া সবকিছুই (যথা আলিঙ্গন, চুম্বন) করতে পারে।
১২. স্ত্রীর মাসিক শেষ হলে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বা গোসল করার পর সহবাস করা যেতে পারে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 পুরুষদের প্রতি পরামর্শ

📄 পুরুষদের প্রতি পরামর্শ


১. সাময়িক বিরতিতে স্বামীর সাথে সহবাসের অধিকার রয়েছে স্ত্রীর। সুতরাং স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এই কর্তব্যে অবহেলা করা উচিত নয়।
২. দিবসে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়াঝাটি এবং দুর্ব্যবহার করা হলে অপরাহ্নে বা রাতে সহবাসের পরিবেশ থাকেনা। এজন্য এ সময় স্ত্রীর সাথে সহবাস না করাই শ্রেয়।
৩. স্বামীর এমন ঔষধপত্র না খাওয়া বা প্রস্তুতি না নেয়া উচিত, যাতে তার যৌন আকাঙ্ক্ষা দুর্বল বা কৃত্রিমভাবে উত্তেজিত হয়ে উঠে।
৪. অতিরিক্ত সহবাস কখনও কখনও ক্ষতির কারণ হতে পারে। এজন্য মধ্যমপন্থা অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।
৫. পুরুষের উচিত তার দেহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সুবাসিত রাখা।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 মহিলাদের প্রতি পরামর্শ

📄 মহিলাদের প্রতি পরামর্শ


১. রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায়, রক্তস্রাবকালে, সন্তান প্রসবের পর অথবা শারীরিকভাবে সামর্থ্য না হওয়া ছাড়া সহবাসের ব্যাপারে স্বামীর অনুরোধ স্ত্রী কখনও উপেক্ষা করবে না, স্বামীর ইচ্ছা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ যেভাবেই প্রকাশ করা হোক।
২. স্ত্রী স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে রোজা রাখতে চাইলে, রোজা রাখার জন্য তার স্বামীর অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। স্বামী অনুমতি না দিলে রোজা রাখা যাবেনা। এর কারণ তার স্বামী হয়তো স্ত্রীর সাথে সহবাসে আগ্রহী হতে পারে।
৩. স্বামীর সাথে খেলাধুলা বা হাস্যরসের ব্যাপারে উদ্যোগী না হওয়া এবং সহবাসের ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার পরিণতিতে স্বামী ক্ষুব্ধ হতে পারে এবং তাদের বিবাহ-বন্ধনে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
৪. বাড়িতে স্ত্রী অবশ্যই তার স্বামীর সামনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, সৌন্দর্যময়ী ও সুবাসিত থাকার চেষ্টা করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00