📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ 📄 স্বামী নির্বাচনে স্ত্রীর অধিকার ও দায়িত্ব

📄 স্বামী নির্বাচনে স্ত্রীর অধিকার ও দায়িত্ব


কোন নির্দিষ্ট পুরুষকে বিয়ে করার ব্যাপারে নারীর সম্মতি বা অসম্মতির অধিকার যথোচিতভাবে পালন করা উচিত। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ হতে হবে। ভবিষ্যত স্বামী নির্বাচনে সম্পদ, মান-সম্মান, সুউচ্চ পদমর্যাদা এবং চাকুরি বা অন্য কোন পার্থিব সুবিধা একমাত্র কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যথার্থ নয়।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ 📄 বিবাহ

📄 বিবাহ


১. বিয়ে এবং সন্তান সন্ততি লাভ এমন এক দায়িত্ব যা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করতে হবে।
২. ইদ্দত' পালনকালে কোন মহিলার প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া জায়েজ নয়।
৩. এক ব্যক্তি কোন নারীর প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর আরেকজনের পুনরায় প্রস্তাব দেওয়া অভদ্রতা। একজন প্রস্তাব প্রত্যাহার করলেই আরেকজন বিয়ের প্রস্তাব করতে পারে।
৪. নারীর অভিভাবকের বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার নেই। যে কোন চাপমুক্ত থেকে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার একমাত্র নারীরই রয়েছে।
৫. সুতরাং বিয়ের ব্যাপারে মেয়েদের মতামত নিতে হবে। সে যদি এতিম বা কুমারী হয় এবং লজ্জাবশত কোন কিছু না বলে, তাহলে তার সম্মতি আছে বলে ধরে নিতে হবে। কিন্তু সে যদি তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা হয়, তাহলে নীরবতাকে সম্মতি ধরে নেয়া চলবেনা। যদি মহিলা অসম্মত হয়, তাহলে তার মতের বিরোধী কাজ করা অভিভাবকদের উচিত হবে না।
৬. কোন মহিলার কাছে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া উচিত নয়। প্রস্তাব দিতে হবে অভিভাবকদের মাধ্যমে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ 📄 কাবিননামা

📄 কাবিননামা


১. বিয়ের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত শর্তাবলী হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম।
২. নারীর অভিভাবক ও দু'জন মুসলমান স্বাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ের চুক্তি বা কাবিননামা সাক্ষর করা যাবেনা।
৩. স্থায়ী বিয়ের উদ্দেশ্যেই দম্পত্তি বিয়ে করবে, সাময়িকভাবে নয় যা ইসলামে নিষিদ্ধ।
৪. আদর্শ ও উত্তম বিয়ে হচ্ছে যা বরের ওপর খুব কম চাপ সৃষ্টি করে।
৫. বিয়েতে উপঢৌকন বা উপহার প্রদান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বরকে তার স্ত্রীর জন্য কিছু উপহার দিতে হবে, তার মূল্য যা-ই হোকনা কেন। তবে এ ব্যাপারে তাকে অমিতব্যয়ী হলে চলবেনা এবং সাধ্যের অতিরিক্ত উপঢৌকন দেবেনা।
৬. কোন ব্যক্তি যদি তার কন্যা অথবা বোনকে এই শর্তে বিয়ে দিতে চায় যে, অপর ব্যক্তিও তার কন্যা বা বোনকে বিয়ে দেবে কোন প্রকার উপহার বা উপঢৌকন ছাড়া, তবে তা নিষিদ্ধ। মোটকথা প্রত্যেক বিয়ের চুক্তি হবে অন্য বিয়ের চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।
৭. মেয়ের অভিভাবকে অবশ্যই পুরুষ ও মুসলিম হতে হবে। কোন মহিলার পক্ষে অন্য মহিলাকে বিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া উচিত নয়। তাছাড়া অভিভাবক ছাড়া কোন নারীর বিয়ে করাও উচিত নয়।
৮. যে নারীর কোন অভিভাবক নেই অথবা এমন অভিভাবক রয়েছে, যে মুসলিম নয় অর্থাৎ অনৈসলামিক আইনে তিনি স্বীকৃত হতে পারেন, তার ইসলামি আইনে নয়- এসব ক্ষেত্রে মুসলিম বিচারক অথবা ইমাম হচ্ছে তার অভিভাবক।
৯. নারী ও পুরুষের উভয়ের সম্মতিও ইসলামি মতে বিয়ের জন্য অপরিহার্য।

টিকাঃ
১. বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর এ সময় সে বিয়ে নাও করতে পারে।
২. মালিকি মাজহাব মতে ওয়ালীর সম্মতি ছাড়া কোন কুমারী বিয়ে করতে পারেনা।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ 📄 বিবাহের অনুষ্ঠান

📄 বিবাহের অনুষ্ঠান


১. উৎসবের আয়োজন না করে গোপনে বিয়ে করা ইসলামের ঐতিহ্য নয়। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করাই ইসলামি বিধানসম্মত।
২. বিয়ে উপলক্ষে আমোদ প্রমোদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইসলামে সঙ্গীত স্বাভাবিকভাবে নিষিদ্ধ হলেও বিয়ের সময় গান গাওয়ার অনুমতি রয়েছে। স্ত্রীকে যখন স্বামীর কাছে সমর্পণ করা হয়, তখন কনের সাথে গান গাওয়ার জন্য কাউকে পাঠানো যায়; কিন্তু এ সঙ্গীতের বিষয়বস্তু অশ্লীলতামুক্ত হতে হবে এবং গানের আওয়াজে যাতে প্রতিবেশীদের বিঘ্ন না ঘটে, তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
৩. বিয়ের অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় খরচের জন্য বরকে বলা নবদম্পতির জন্য সমস্যা হতে পারে সেটিকে অনৈসলামিক প্রথা হিসেবে গণ্য করা হয়।
৪. হজ্ব বা ওমরাহ পালনকালে বিয়ে করা বা অন্যের বিয়ের আঞ্জাম দেয়া উচিৎ নয়।

টিকাঃ
৩. ওমরাহ হচ্ছে মক্কায় গমন; তবে তা হজ্বের মত বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সম্পাদন করতে হয়না। তাছাড়া এটা বাধ্যতামূলক নয় এবং এর কার্যক্রমও সীমিত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px