📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 অষ্টম অধ্যায় : কুরআন অধ্যয়ন ও তিলাওয়াত

📄 অষ্টম অধ্যায় : কুরআন অধ্যয়ন ও তিলাওয়াত


১. যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়, সেই শ্রেষ্ঠ মুসলমান। কুরআন তেলাওয়াত এবং তার সম্পর্কে জ্ঞানার্জন দুটি প্রধান গুণ।
২. পবিত্র কুরআন ডান হাতে ধারণ এবং দেয়া-নেয়ার সময় ডান হাতে নিতে হবে, বাম হাতে নয়।
৩. সন্তান প্রসবের পর অথবা মাসিকের সময় মহিলারা এবং যে নারী-পুরুষের ওপর গোসল ফরজ তাদের কুরআন স্পর্শ করা বা পড়া উচিত নয়।
৪. কুরআনের সকল অধ্যায় এবং সকল শব্দ কল্যাণকর ও উপকারী।
৫. দলবদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষা ও তিলাওয়াত করা প্রয়োজন।
৬. কুরআন তিলাওয়াত বা অধ্যয়নের সময় মনোযোগের সঙ্গে শুনা শুধু শিষ্টাচার নয় বরং প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।
৭. যথাযথ ধ্যান ও চিন্তাচেতনার সঙ্গে কুরআন অধ্যয়ন এবং অর্থ অনুধাবনের জন্য মনোযোগ অপরিহার্য।
৮. কুরআন একটি হেদায়াত গ্রন্থ। পবিত্র কুরআনে ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক, ভৌগোলিক এবং অন্যান্য বিষয় থাকলেও তা ইতিহাস, বিজ্ঞান বা ভূগোল গ্রন্থ নয়।
৯. মানবজাতির জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য কুরআন হেদায়াত গ্রন্থ। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং শুধু এ ধরনের অনুষ্ঠানে কুরআন তেলাওয়াত যথেষ্ঠ নয়।
১০. কুরআন ক্রয় বা বিক্রয়কালে কোন নির্ধারিত মূল্য লেখা না থাকলে আনুমানিক মূল্য দিয়ে দেয়া উত্তম, দর কষাকষি করা অনুচিত।
১১. বারবার কুরআন পড়ে জ্ঞানকে তাজা করা উচিত; যারা হাফেজ বা যারা কুরআন বা সূরা মুখস্থ রাখতে চায়, তাদের জন্য এটা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কিছুদিন এই অভ্যাস না থাকলে তা স্মরণে রাখা যায় না।
১২. কুরআন অধ্যয়ন বা তিলাওয়াতকালে তাজবিদের অন্তর্ভুক্ত প্রচলিত উচ্চারণ ও স্মরভেদ নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। মহানবী (সা.) ও সাহাবীদের সময় থেকে এসব বিধি চালু হয়ে আসছে।
১৩. কুরআন তিলাওয়াতের সময় সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত করতে হবে, গান গাওয়ার সুরে নয়; কারণ সুললিত কণ্ঠের আওয়াজ কুরআনের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। তবে তা তাজবিদের বিধির বিরোধী হবেনা। কেউ কেউ কুরআন পাঠকালে সুরেলা কণ্ঠে গানের মত করে পাঠ করেন, যা তাজবিদের বিধির বিরোধী এবং এটা নিষিদ্ধ। এধরনের তিলাওয়াতের সময় শ্রোতাকে প্রথম সুযোগেই তিলাওয়াত শুদ্ধ করে দিতে হবে এবং এই ভুলের ব্যাপারে বিনীতভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
১৪. কুরআনের ১৪টি সিজদার আয়াত সম্বলিত যেকোন আয়াত পড়ার সময় কুরআন শরীফ একপাশে রেখে সিজদাহ করতে হবে।
১৫. অন্যের কুরআন তিলাওয়াতের সময় ভুল ধরার ব্যাপারে কর্কশভাব দেখানো উচিত নয়।
১৬. আল-কুরআন আসমানি কিতাব বিধায় কুরআন সম্পর্কে তর্কবিতর্কে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়।

টিকাঃ
* অধিকাংশ বিদগ্ধ আলেমের মতে অপবিত্র অবস্থায় কুরআন পড়া যায়। ছোঁয়া যায় না- অনুবাদক।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 ঊনবিংশ অধ্যায় : সফর

📄 ঊনবিংশ অধ্যায় : সফর


সফর বা ভ্রমণ সহজ কাজ নয়; বরং তা কষ্টসহিষ্ণু ও প্রায়শ জটিল। এজন্য সফরকে যতদূর সম্ভব হালকা ও উপভোগ্য করে তোলার জন্য ইসলাম কতিপয় বিধি প্রণয়ন করেছে:
১. সফরের আগে মুসলিমকে দু'রাকাত (ইস্তিখারার) নামাজ পড়া উচিত এবং খোদার কাছে সুষ্ঠু নির্দেশনা চাওয়া আবশ্যক।
২. কোন কোন ব্যক্তি তার কোন আত্মীয় সফরে গেলে এমন সব কুসংস্কার ও বিশ্বাস পালন করে (যেমন ঐ ব্যক্তির গৃহত্যাগের পর পরই তার ক্ষতি হতে পারে ভেবে, বাড়িঘর পরিস্কার না করা) যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ ইসলাম সব রকম কুসংস্কারের বিরোধী।
৩. কোন মুসলমান সফরের আগে তার প্রতিকূল কোন চিহ্ন বা প্রতীক দেখেছে বলে মনে করে সফর থেকে বিরত থাকবে না।
৪. সফরকালে সাথি নেয়া প্রয়োজন এবং একা সফর পরিহার করা দরকার।
৫. দিনের শুরুতে সফর শুরু করা শ্রেয় এবং সম্ভব হলে বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করা।
৬. যে কোন দিন ও সময়ে সফর শুরু করা যেতে পারে। শুক্রবার সফর না করা সংক্রান্ত ধারণা ইসলামের বিধানসম্মত নয়।
৭. চার ব্যক্তির সমন্বয়ে আদর্শ সফরকারী দল হয়ে থাকে।
৮. সফরে বের হলে অথবা যানবাহনে আরোহণের আগে মুসলমানদের এই দোয়া পড়া উত্তমঃ "সুবহানাল্লাজী সাখখারা লানা হাজা ওয়া মা কুন্না লাহু মাকরিনীন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বীনা লা মুনকালিবীন" (তিনিই সকল গৌরবের মালিক, যিনি এই বাহনকে আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন, আমাদের পক্ষে একে বাগে আনা সম্ভব ছিলনা এবং নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রভুর দিকেই প্রত্যাবর্তন করব)।
৯. সফরকারীর সাথে বিদায় বেলায় করমর্দনকালে মুসলমানদের বলা উচিতঃ "আস্তাজাল্লাহ দিনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা" (খোদা তোমার ঈমান, ধর্মীয় দায়িত্ব এবং শেষ পর্যন্ত তোমার কর্তব্য সম্পাদনের সুযোগ দাও)।
১০. কোন গ্রুপে তিনের অধিক ব্যক্তি সফর করলে এই সফর আয়োজনের জন্য একজনকে নেতা নির্বাচন করতে হবে।
১১. সফরে অংশগ্রহণকারী সকলকে নেতার কথা শুনতে ও মানতে হবে। তার প্রতি অবাধ্যতা ও মতানৈক্যের ফলে তর্কবিতর্কসহ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
১২. কোন মুসলমানের একাধিক স্ত্রী থাকলে, সফরে কোন্ স্ত্রী যাবেন, তা নির্ধারণের একমাত্র পথ হলো লটারি করা।
১৩. হজ্ব বা উমরাহ পালনকালেও ১২ নম্বরে বর্ণিত নিয়ম পালন করতে হবে।
১৪. কোন মুসলমান যদি এমন দেশ সফরে বের হয়, যেখানে পবিত্র কুরআনের অসম্মান হতে পারে, সেক্ষেত্রে কুরআন বা তার অংশবিশেষ সঙ্গে নেয়া বাঞ্ছনীয় হবেনা।
১৫. মহরম পুরুষ বা স্বামী ছাড়া দীর্ঘপথ সফরে মহিলাদের বের হওয়া অনুচিত।
১৬. সফরসঙ্গীর প্রতি সদয়, সহায়ক, ভদ্র ও সহযোগিতার মনোভাব রাখতে হবে। অন্যের সেবা করা এবং সকল কাজ ভাগ করে অংশ নেওয়া উচিত।
১৭. সফরসঙ্গীদের কেউ পীড়িত হয়ে পড়লে সঙ্গীদের উচিত তার পরিচর্যা করা।
১৮. যারা বিভিন্ন দেশ সফর করে তারা ফিরে এসে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধদের উপহার দেবেন- এই প্রত্যাশা ভ্রমণকে আরো জটিল ও ব্যয়বহুল করে তোলে।
১৯. সফর দূর পাল্লার হলে সফরকারীর প্রতি পরামর্শ হলো কষ্টকর অতিরিক্ত সফর না করা; বরং যখনই সুযোগ আসবে বিশ্রাম নিতে হবে।
২০. কোন কারণে থেমে গেলে সফরকারীর কর্তব্য হচ্ছে: সড়কে তার যানবাহন পার্ক না করা অথবা সড়কের অংশবিশেষ দখল না করা; কারণ এর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং অন্যদের জীবন ও মাল বিপন্ন হতে পারে।
২১. বাইরে থেমে গেলে অথবা ঘুমাতে গেলে, সফরকারীকে বিশেষ করে রাতের বেলায় যেখানে ক্ষতিকর প্রাণী থাকে, এমন স্থান এড়িয়ে যেতে হবে।
২২. সফরকারীরা কোন কারণে থামলে বা বিশ্রাম নিতে চাইলে তাদের উচিত বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত না হওয়া অথবা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া বরং এক গ্রুপে চলাফেরা করা।
২৩. সফরকালে এমন লোকদের সাক্ষাৎ পেলে, যাদেরকে সাহায্য করা উচিত, এবং সেক্ষেত্রে মুসলিম পর্যটকের কর্তব্য হচ্ছে: জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাহায্যকামী যেই হোক না কেন, তাদেরকে পানি বা জ্বালানী দান করে, যানবাহন মেরামত করে, বা লিফট দিয়ে অথবা সম্ভাব্য অন্য যেকোন প্রকারে সহায়তা করা।
২৪. রমজান মাসে সফরে গেলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। কোন মুসলমান সফরকালে রোজা রাখতে সক্ষম হলে রোজা রাখতে পারে- না হলে সে রোজা ছাড়তেও পারে।
২৫. পর্যটকের সুবিধার জন্য জোহর ও আছর নামাজ একত্রে এবং মাগরিব এবং এশার নামাজ একত্রে পড়তে পারে।
২৬. সফরকালে যেদিকেই সফর করা হোকনা কেন, মুসলমান তার যানবাহন বা জন্তুর উপরে থেকেও নামাজ পড়তে পারে।
২৭. সফরকালে চার রাকাত নামাজের দু'রাকাত (কসরের নামাজ) পড়তে হয়।
২৮. সফরকারীর উচিত সফরের জন্য রাতের বেলার সদ্ব্যব্যহার করা।
২৯. সফরের উদ্দেশ্য সম্পাদিত হওয়ার পর বিশেষতঃ হজ্বের পর, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব مسلمانوں গৃহে ফিরে আসা উচিত।
৩০. ভ্রমণ শেষে রাতে বাড়ি ফেরা পরিহার করা উচিত।
৩১. নিজ শহরে ফেরার পর মুসলমানের কাজ হলো স্থানীয় মসজিদে গিয়ে দু'রাকাত নামাজ পড়া।
৩২. সফরকারী ফিরে আসার পর তাকে কোলাকুলি করে স্বাগত জানানো উচিত। পুরুষ পুরুষকে এবং মহিলা মহিলার সাথে কোলাকুলি করবে।
৩৩. গ্রাম, শহর বা আবাসিক এলাকায় প্রত্যাবর্তনের মুখে পর্যটককে এই বলে দোয়া করতে হবেঃ “আউজোবি কালিমতিআল্লাতি তাম্মাতি মিন শাররী মা খালাক” (আল্লাহর সৃষ্ট ক্ষতিকর জিনিস হতে আমি পানাহ চাই)।
৩৪. সফরকালে দোয়া পড়া যায়। কার্যতঃ সফরকারীর দোয়া খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে এবাদত অর্থে কেবল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা বলা হচ্ছে না বরং খোদাকে স্বতঃস্ফূর্ত স্মরণ, তার কাছে পরিপূর্ণতা, নির্দেশনা ও সাহায্যের জন্য মোনাজাত করা।
৩৫. যানবাহনে আরোহণকালে আল্লাহু আকবর (আল্লাহ মহান) এবং অবতরণকালে সুবহানাল্লাহু বলা উচিত।
৩৬. সফরকারীর অন্যতম সদাচরণ হচ্ছে: তার সঙ্গীর ভুলত্রুটি উপেক্ষা করা ও ভুলে যাওয়া, খোশালাপ করা, তাদের সাথে পানাহার করা এবং বিতর্ক এড়িয়ে চলা।
৩৭. কোন জন্তুর পিঠে চড়ে ভ্রমণকালে যদি এমন কোন এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়া হয় যেখানে ঘাস ও পানি রয়েছে, সফরকারীকে তখন ধীরে অগ্রসর হতে হবে, অনুর্বর বা মরুভূমির মধ্য দিয়ে দ্রুত অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।
৩৮. মুসলমানদের মুসলিম বিদ্বেষী দেশে যাওয়া এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করা যথার্থ নয়। কোন মুসলমান যদি কোন অমুসলিম দেশে সফর করতে চায়, তাহলে তার উপযুক্ত কারণ বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 বিংশ অধ্যায় : ক্রীড়া

📄 বিংশ অধ্যায় : ক্রীড়া


১. খেলাধুলা দেখার ব্যাপারে আসক্ত হয়ে পড়া সময়ের অপচয় মাত্র এবং কোন মুসলমানের জন্য এতে খুব কমই সুবিধা থাকতে পারে। ইসলামে বলবান, স্বাস্থ্যবান ও শরীর গঠনের মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। খেলাধুলা অবশ্যই একটি মাধ্যম এবং তা চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। খেলাধুলা যখন চূড়ান্ত লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা নিষিদ্ধ। শরীরচর্চা শিক্ষার প্রশিক্ষক বা প্রশিক্ষণদাতার ক্ষেত্রে অবশ্য এটা প্রযোজ্য নয়।
২. উপরে উল্লিখিত আলোচনার আলোকে ইসলামি পোশাক বিধির আওতায় খেলাধুলার পোশাকের ডিজাইনও তৈরি করতে হবে।
৩. উট, ঘোড়া বা হাতির দৌড় প্রতিযোগিতা ছাড়া অন্য কোন দৌড় বা ইভেন্টের ফলাফলের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। যারা প্রতিযোগী নন তাদের ক্ষেত্রে যেকোন প্রকার বাজি বা জুয়া ধরা নিষিদ্ধ।
৪. আধুনিক কুস্তি বা মুষ্টিযুদ্ধের ন্যায় জীবন বিপন্নকারী সবরকম খেলাধুলা ইসলাম অনুমোদন করে না।
৫. ষাঁড়ের যুদ্ধ বা মোরগ লড়াইয়ের ন্যায় যেসকল ক্রীড়ায় জীবজন্তুর ক্ষতি হয়, সেগুলো নিষিদ্ধ; কেননা এগুলো ইসলামের মানবিক দাবির বিরোধী।
৬. ইসলামে যেসব খেলাধুলার প্রতি বেশি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো শুটিং বা থ্রোইং এর ন্যায় প্রক্ষেপণ জাতীয় খেলা।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 একবিংশ অধ্যায় : জীবজন্তুর প্রতি আচরণ

📄 একবিংশ অধ্যায় : জীবজন্তুর প্রতি আচরণ


১. জীবজন্তুর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে দয়া ও সহৃদয়তা প্রদর্শন করতে হবে।
২. জীবজন্তুর শক্তি ও সামর্থ্য অনুসারে তাদের উপর বোঝা চাপানো ন্যায়সঙ্গত।
৩. জবাই করার জন্য নির্ধারিত জীবজন্তুকে সতর্কতার সাথে নিয়ে যেতে হবে, যাতে করে তাদের প্রতি কোন প্রকার নির্যাতন করা না হয়।
৪. সফর বিধির অধ্যায়ে আগেই বলা হয়েছে, জীবজন্তুর উপর আরোহণ করে ঘাস ও পানির এলাকা দিয়ে অতিক্রমকালে সফরকারীকে ধীর গতিতে যেতে হবে। আবার অনুর্বর বা মরুভূমি এলাকা দিয়ে যাবার কালে দ্রুত চলে যেতে হবে।
৫. অপ্রয়োজনীয় অথচ অক্ষতিকর প্রাণী বা পতঙ্গ যেমন কীট বা ছোট পাখী হত্যা না করাই ভাল।
৬. দুধ বা ডিম উৎপাদনকারী প্রাণী জবাই যতদূর সম্ভব পরিহার করতে হবে।
৭. জীবজন্তুর খাসি করা বা প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
৮. মৌমাছি, পিঁপড়া, ব্যাঙ প্রভৃতি ক্ষতিকর না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের প্রাণী হত্যা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।
৯. নিম্নোক্ত চার শ্রেণীর প্রাণী হত্যার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত হওয়া চলবেনা- বৃশ্চিক, ইঁদুর, সাপ ও টোৎঠেং।
১০. কুসংস্কারবশতঃ সাপ হত্যা থেকে বিরত থাকা দুর্বল ঈমানের লক্ষণ।
১১. খচ্চর উৎপাদনের জন্য ঘোড়া ও গাধার মিলন ঘটানো পরিহার করতে হবে।
১২. জন্তুর জীন বা লাগামে অথবা কুকুরের গলায় সোনা-রূপার ব্যবহার অথবা রেশম দিয়ে প্রাণী সাজানো নিষিদ্ধ; কারণ এগুলো অর্থের অপচয় মাত্র এবং এতে গর্ব ও অহংকার প্রদর্শিত হয়।
১৩. কোন জন্তুর মুখে উত্তপ্ত লোহার দাগ দেওয়া নিষিদ্ধ। জন্তুর দেহের অন্যান্য অংশে দাগ দেওয়া যেতে পারে, তবে তার কোন ক্ষতি করা চলবেনা এবং দাগ দেওয়া প্রয়োজনীয় স্থানেই সীমিত রাখতে হবে।
১৪. জন্তুকে প্রহারকালে মুখে আঘাত করা ঠিক নয়।
১৫. শুধু তামাসা বা অন্য কোন কারণে মোরগ, ষাঁড় বা ভেড়ার ন্যায় প্রাণীদের একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটা নিষ্ঠুর কাজ হিসেবে বিবেচিত।
১৬. এমন জন্তু বেচাকেনা করা যাবেনা, যার এখনও তার মায়ের সহায়তা প্রয়োজন। এ ধরনের লেনদেন ইতোমধ্যেই হয়ে থাকলে, তা বাতিল করতে হবে।
১৭. পাখি ও প্রাণী শিকার কালে মায়ের উপর নির্ভরশীল তরুণ জীবজন্তু শিকার না করাই উচিত। অনুরূপভাবে যে জন্তুর বাচ্চা বা শাবক রয়েছে, সেগুলোর শিকার এড়িয়ে যাওয়া উত্তম; কেননা তার বাচ্চাটি তখন মারা যাবে।
১৮. হজ্ব বা উমরাহ করা কালে জীবজন্তু শিকার নিষিদ্ধ। হজ্ব বা উমরাহকালে কোন মুসলিম যদি জীবজন্তু বা প্রাণী শিকার বা হত্যা করে, তাহলে তার কাফফারা আদায় করতে হবে।
১৯. ময়লা আবর্জনা খেয়ে যেসব জীবজন্তু বেঁচে থাকে, সেগুলোর গোশত না খাওয়া উচিত এবং সেগুলোর উপর আরোহণ করা উচিত নয়। এসব জীবজন্তুকে খাঁচায় আবদ্ধ করে বেশ কিছুদিন পরিচ্ছন্ন খাবার না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দুধ ব্যবহার করা যাবে না।
২০. কোন মুসলমানের গবাদিপশু, পাখি বা প্রাণী থাকলে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে তাদের খাবার দেওয়া ও পরিচর্যা করতে হবে।
২১. বন্দুক বা তীরের সাহায্যে শুটিং এ দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রাণীর ব্যবহার নিষিদ্ধ।
২২. গাধার ডাক শুনে সমূহ অকল্যাণ থেকে খোদার কাছে আশ্রয় চাওয়া প্রয়োজন।
২৩. পোষা মোরগের ডাক শুনে مسلمانوں উচিত খোদার রহমত কামনা করা।
২৪. দুগ্ধ দোহন, আহরণ প্রভৃতি কতিপয় বিশেষ লক্ষ্যে যে সব জীবজন্তুর সৃষ্টি, সেইগুলোকে সেভাবেই ব্যবহার করতে হবে।
২৫. মৃত জন্তুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা নিষিদ্ধ।
২৬. জন্তুকে অভিশাপ দেওয়া উচিত নয়।
২৭. জন্তু দুই প্রকার: পরিষ্কার ও অপরিষ্কার। কুকুর ও শূকর হচ্ছে অপরিষ্কার জন্তু। এজন্য কুকুর কোন পাত্রের পানি পান করলে সেটা মাটি দিয়ে বার বার ঘষতে হবে।
২৮. দু'টি কারণ ছাড়া مسلمانوں কুকুর পালন করা উচিত নয়: ক) প্রহরী কুকুর। খ) শিকারী কুকুর। এ ধরনের কুকুর বাড়ির ভেতরে নয়, বাইরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00