📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 পুরুষের পোশাক

📄 পুরুষের পোশাক


১. পোশাকের ব্যাপারে উল্লিখিত সাধারণ নীতিমালার প্রতি অবশ্যই দৃষ্টি রাখতে হবে।
২. পুরুষদের জন্য রেশমি, বুটিদার রেশমি, কারুকার্যখচিত রেশমি অথবা চার আঙ্গুলের বেশি রেশমি পাড়ের কাপড় পরা নিষিদ্ধ। তবে পুরুষদের বেলায় স্বাস্থ্যগত বা চিকিৎসাগত কারণে রেশমের কাপড় পরার অনুমতি রয়েছে।
৩. পুরুষদের জাফরান বা হলুদ রং বিশিষ্ট পোশাক পরতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য মহিলাদের এসব পোশাক পরার ব্যাপারে অসুবিধা নেই।
৪. যে ধরনের পোশাক পরা অন্য জাতির অনুকরণের নামান্তর, তা অনৈসলামিক এবং নিষিদ্ধ।
৫. পুরুষদের পোশাক : (ক) শার্টের নীচে পরতে হয় গেঞ্জিজাতীয় কাপড় যা প্রধানতঃ সূতা দিয়ে তৈরি।
(খ) শরীরের নিম্নাঙ্গ ঢেকে রাখার জন্য আণ্ডারওয়ার।
(গ) দু'খণ্ড কাপড়ের স্যুট দেহের নিম্নাংশ আবৃত করার জন্য এক খণ্ড পোশাক এবং শরীরের ঊর্ধ্বাংশ ঢেকে রাখার জন্য আরেক খণ্ড। নিম্নাংশের কোন কাপড় পায়ের গিরার নীচে যাবেনা। গেঞ্জি অথবা উপরের পোশাকের আস্তিন প্রশস্ত হবেনা অথবা কজি ছাড়িয়ে যাবেনা। কারণ এ ধরনের জামা পরা হয় অহংকার প্রদর্শনের জন্য।
(ঘ) পাগড়ী অথবা টুপির আকারে মস্তকাবরণী।
৬. ক্রীড়া ও সাঁতারের পোশাক: পুরুষদের খেলাধুলার পোশাক হবে নগ্নতা ঢেকে রাখার জন্য, সাধারণ নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ- নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত আবৃত রাখা, শরীরের এ অংশ যাতে অন্যের দৃষ্টি গোচর না হয়। সুতরাং খেলাধুলার পোশাক এমন হওয়া উচিত যাতে অতিরঞ্জনের বহিঃপ্রকাশ না ঘটে অথবা পুরুষের অবয়ব ধরা না পড়ে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 মহিলাদের পোশাক

📄 মহিলাদের পোশাক


মহিলাদের পোশাকের সাধারণ রূপরেখা নিম্নে বর্ণিত হলো:
১. মহিলাদের পোশাক একই সঙ্গে বেশ ক'টি শর্তপূরণ করতে হবে, যেমনঃ
(ক) মুখমণ্ডল ও হাত ব্যতীত সমগ্র শরীর কাপড়ে ঢেকে রাখতে হবে।
(খ) পোশাক এত পাতলা বা স্বচ্ছ হওয়া চলবেনা, যাতে তার শরীর প্রকাশিত হয়ে পড়ে।
(গ) মূল পোশাকাটি হবে ঝুলন্ত বা প্রলম্বিত। এর অর্থ হচ্ছে নারীদেরকে অবশ্যই 'টাইট' পোশাক পরিহার করতে হবে যাতে তার বক্ষ, পা বা হাত এবং শরীরের আকৃতি বুঝা না যায়।
(ঘ) নিজস্ব সাংস্কৃতিক সত্তা সংরক্ষণের তাগিদে অমুসলিম নারীদের পোশাক অনুকরণ করতে মানা করা হয়েছে।
(ঙ) নারীসত্তা বজায় রাখতে পুরুষদের পোশাকের অনুকরণ করতে মানা করা হয়েছে।
(চ) যে পোশাক অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা পরিহার করতে বলা হয়েছে।
(ছ) ঘরের বাইরে অথবা অভ্যন্তরে বহিরাগতদের সাথে সাক্ষাৎকালে পোশাকে সুগন্ধি ব্যবহার করতে মানা করা হয়েছে।
২. মুসলিম নারীর পোশাক তিনখণ্ডে বিভক্তঃ কামিজ, নেকাব এবং আলখেল্লা।
(ক) কামিজঃ এটা মাথা, মুখমণ্ডল ও হাত ব্যতীত সারা দেহ ঢেকে রাখার জন্য একটি পোশাক। এটা অবশ্যই লম্বা হতে হবে, যাতে করে মহিলাদের পা পর্যন্ত ঢেকে যায়। এরূপ পোশাক যা সারা শরীর ঢেকে ফেলে। সুতরাং হাঁটু পর্যন্ত তা সীমিত রাখা এবং লম্বা মোজার সাহায্যে পা ঢাকা উচিত নয়। কামিজের আস্তিন প্রশস্ত হবেনা।
(খ) নেকাবঃ এটা একটি মুখাবরণ যা মহিলাদের মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়; এটা সূক্ষ্ম জালের মত হবেনা; তবে যে কোন সামগ্রী দিয়ে তৈরি হতে পারে। তবে এটা স্বচ্ছ সামগ্রী হওয়া উচিত নয়।
(গ) আলখেল্লাঃ এমন একটি পোশাক যা সারাদেহ ঢেকে রাখে এবং মাথা থেকে কাঁধ পর্যন্ত নেমে আসে। এর ফলে মহিলাদের মাথা ও কাঁধের আকার গোপন থাকে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 জুতো

📄 জুতো


১. পুরুষের জন্য তৈরি বা ডিজাইনের জুতো মেয়েদের ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে মেয়েদের জুতোও পুরুষদের ব্যবহার করা উচিত নয়।
২. ক্রেতা আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল হলে প্রয়োজনানুসারে নতুন জুতো কেনা যেতে পারে। তবে এর জন্য অমিতব্যয়ী হওয়া অথবা এদ্দরুণ অহংকার প্রকাশ করা যাবেনা।
৩. জুতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, অবশ্য এজন্য বাড়াবাড়ি ঠিক নয়।
৪. ডান পায়ে আগে জুতো পরতে হবে এবং খোলার সময় বাম জুতো আগে খুলতে হবে। উভয় ক্ষেত্রে 'বিসমিল্লাহ' বলতে হবে।
৫. জুতো পরার সময় পরখ করে দেখতে হবে, রাতে অথবা যেসময় এটা ব্যবহার করা হয়নি, সে সময় এর মধ্যে কোন ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ লুকিয়ে আছে কিনা।
৬. মোজা-জুতো খুলে রাখার সময় তা এমন স্থানে রাখতে হবে যাতে করে উৎকট গন্ধে অন্যরা বিরক্ত না হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00