📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 খাওয়ার সুষ্ঠু রীতি

📄 খাওয়ার সুষ্ঠু রীতি


১. একা খাবার খাওয়ায় কোন আপত্তি নেই। তবে পরিবারের সকলে একসাথে মিলে খাবার গ্রহণ উত্তম। কারণ পরিবারের সবাই মিলে একটি বৃহৎ পাত্র থেকে খাওয়ার স্বাদই আলাদা।
২. ধনী-গরিব, যুবক-কিশোর-বৃদ্ধ সকলের সাথে আহার করতে ঘৃণা বোধ না করা মনের উদারতার পরিচায়ক।
৩. রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা না থাকলে বা ভীতিকর প্রকৃতির রোগ না হলে শারীরিকভাবে পঙ্গু লোকদেরকে সুস্থ সবল লোকদের সাথে খাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
৪. খাবার গ্রহণের আগে ও পরে হাত ধুতে হবে।
৫. উত্তপ্ত থাকা অবস্থায় খাবার গ্রহণের জন্য হুমড়ি খাওয়া উচিত নয়। খাবার ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভাল। খাবার ঠাণ্ডা করার জন্য ফুঁ দেওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
৬. খাওয়ার শুরুতে মুসলমানদের বলতে হবে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" (আল্লাহর নামে যিনি দয়াময়, করুণাময়) এছাড়া আরো দোয়া পড়া যায়ঃ "আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিমা রাজাকতানা ওয়াকিনা আজাবান্নার" (হে খোদা এই খাবারে বরকত দান কর এবং আমাদের দোযখের আগুন থেকে রক্ষা কর)।
৭. খাবার গ্রহণকালে যদি কেউ খোদার নাম নিতে ভুলে যায়, তাহলে সে বলবেঃ "বিসমিল্লাহি ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরুহু" (খাবারের শুরুতে খোদার নামে এবং সমাপ্তিও তার নামে)।
৮. খাবার গ্রহণকালে কেউ কেউ বিসমিল্লাহ বলল, আবার কেউ বললনা, তা নয়। উপস্থিত সকলকেই তা বলতে হবে।
৯. বৃহৎ পাত্রের সকল দিক থেকে খাবার গ্রহণ করা ঠিক নয়, বরং নিকটবর্তী স্থান থেকেই তা নেয়া দরকার। অবশ্য পাত্রে ফলমূল বা খেজুর থাকলে যে কোন দিক থেকে তা নেয়া যায়।
১০. কোন মুসলমানকে খাবার দেওয়া হলে এবং নামাজের সময় উপস্থিত হলে, প্রথমে তাকে খাবার খেতে হবে এবং খাবার শেষ না করা পর্যন্ত নামাজের জন্য তাড়াহুড়া করবেনা; অবশ্য যদি এই আশংকা না থাকে যে, খাবার শেষ হওয়ার আগেই নামাজের সময় শেষ হয়ে যাবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ সালাতে তার মনোনিবেশে সহায়তা করা আর খাবার চিন্তা থাকলে এটা সম্ভব নয়।
১১. ডান হাতে চামচ অথবা চামচ না থাকলে ডান হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে খাবার খেতে হবে।
১২. গোগ্রাসে নয়, ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে।
১৩. যদি খাবার পছন্দের না হয়, তাহলে সেজন্য অসন্তোষ প্রকাশ বা সমালোচনা করা যাবেনা। একান্তই সে বলতে পারে, 'আমি খেতে চাইনা' অথবা 'আমি এ ধরনের খাবার বেশি পছন্দ করি না।'
১৪. একই সাথে গরম ও ঠাণ্ডা খাবার গ্রহণ যথার্থ নয়; কারণ এর ফলে দাঁত ও পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে।
১৫. হালকা আলোচনা হতে পারে, তবে তা বিতর্কিত বিষয় অথবা উসকানিমূলক হবেনা এবং যে কোন মূল্যে অশোভন বর্ণনা এড়িয়ে যেতে হবে; কেননা, এর ফলে অন্যান্যরা বেজার হতে পারে।
১৬. খাবার ভর্তি মুখে কথা বলা অশোভন।
১৭. খাবারকালে মুখ থেকে কিছু খাদ্য পড়ে গেলে, তা সরিয়ে নিতে অথবা সম্ভব হলে খেয়ে ফেলতে হবে। অপচয় করা যাবে না। হাড়ের সাথে অনেক গোশত রেখে দেওয়ার ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য।
১৮. খাবার গ্রহণরত লোকদের সম্ভাষণ জানানো যেতে পারে, তবে তাদের সঙ্গে মোসাফা করা যাবে না।
১৯. মুসলমানদের বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। উদর পূর্তির আগেই খাওয়া বন্ধ করা উচিত। গোগ্রাসে খাওয়াটা অনৈসলামি আচরণ।
২০. খাবার পর পরেই ঘুমাতে যাওয়া অস্বাস্থ্যকর।
২১. খাবার প্লেটে খাদ্য অবশিষ্ট রাখা অনুচিত।
২২. মুসলমানদের খানা শেষ করে বলতে হবে, "আলহামদুলিল্লাহ হিল্লাজী আত'আমানা, ওয়াসাকানা ওয়াজায়ালনা মিনাল মুসলিমীন।" (সেই খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমার আহার যুগিয়েছেন এবং মুসলমান বানিয়েছেন)। এছাড়া খোদার আরো প্রশংসা করা যেতে পারে একথা বলেঃ "আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহে ওয়া আতিমনা খায়রানা মিনহু” (হে খোদা আমাদের বরকত দাও, আমাদের আহার যোগাও এবং উত্তম আহার প্রদান কর)।
২৩. খাবার গ্রহণের পর হাত মুখ ধুতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের পর হাত মুখ ধোয়া জরুরি। খাবার পর দাঁতের সুরক্ষার জন্য খিলাল ব্যবহার করতে হবে।
২৪. শিষ্টাচারের নিয়ম হচ্ছেঃ পিতামাতার আগে ছেলে মেয়েরা খাবার শুরু করবে না এবং অতিথিদের আগে পরিবারের সদস্যরা খাবার খাবে না। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা ইসলামের অন্যতম নীতি।
২৫. খাবার অথবা পানিতে কোন মাছি পড়লে, সেটা না ডুবে যাওয়া পর্যন্ত ঠেসে ধরতে হবে এবং পরে তা বের করে ফেলে দিতে হবে। একটি সহিহ হাদিসে এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মাছি তার এক পাখায় রোগ এবং অন্য পাখায় প্রতিষেধক বহন করে।
২৬. প্রত্যেক মুসলমানকে নিশ্চিত হতে হবে যে, সে তার বাড়ির বাইরে যা খাচ্ছে তা হালাল।
২৭. খাবার গ্রহণকালে সংবাদপত্র বা চিঠিপত্র পড়া অনুচিত, এতে খাবার সময় দীর্ঘায়িত হতে পারে।

১. একা খাবার খাওয়ায় কোন আপত্তি নেই। তবে পরিবারের সকলে একসাথে মিলে খাবার গ্রহণ উত্তম। কারণ পরিবারের সবাই মিলে একটি বৃহৎ পাত্র থেকে খাওয়ার স্বাদই আলাদা।
২. ধনী-গরিব, যুবক-কিশোর-বৃদ্ধ সকলের সাথে আহার করতে ঘৃণা বোধ না করা মনের উদারতার পরিচায়ক।
৩. রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা না থাকলে বা ভীতিকর প্রকৃতির রোগ না হলে শারীরিকভাবে পঙ্গু লোকদেরকে সুস্থ সবল লোকদের সাথে খাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
৪. খাবার গ্রহণের আগে ও পরে হাত ধুতে হবে।
৫. উত্তপ্ত থাকা অবস্থায় খাবার গ্রহণের জন্য হুমড়ি খাওয়া উচিত নয়। খাবার ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভাল। খাবার ঠাণ্ডা করার জন্য ফুঁ দেওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
৬. খাওয়ার শুরুতে মুসলমানদের বলতে হবে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" (আল্লাহর নামে যিনি দয়াময়, করুণাময়) এছাড়া আরো দোয়া পড়া যায়ঃ "আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিমা রাজাকতানা ওয়াকিনা আজাবান্নার" (হে খোদা এই খাবারে বরকত দান কর এবং আমাদের দোযখের আগুন থেকে রক্ষা কর)।
৭. খাবার গ্রহণকালে যদি কেউ খোদার নাম নিতে ভুলে যায়, তাহলে সে বলবেঃ "বিসমিল্লাহি ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরুহু" (খাবারের শুরুতে খোদার নামে এবং সমাপ্তিও তার নামে)।
৮. খাবার গ্রহণকালে কেউ কেউ বিসমিল্লাহ বলল, আবার কেউ বললনা, তা নয়। উপস্থিত সকলকেই তা বলতে হবে।
৯. বৃহৎ পাত্রের সকল দিক থেকে খাবার গ্রহণ করা ঠিক নয়, বরং নিকটবর্তী স্থান থেকেই তা নেয়া দরকার। অবশ্য পাত্রে ফলমূল বা খেজুর থাকলে যে কোন দিক থেকে তা নেয়া যায়।
১০. কোন মুসলমানকে খাবার দেওয়া হলে এবং নামাজের সময় উপস্থিত হলে, প্রথমে তাকে খাবার খেতে হবে এবং খাবার শেষ না করা পর্যন্ত নামাজের জন্য তাড়াহুড়া করবেনা; অবশ্য যদি এই আশংকা না থাকে যে, খাবার শেষ হওয়ার আগেই নামাজের সময় শেষ হয়ে যাবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ সালাতে তার মনোনিবেশে সহায়তা করা আর খাবার চিন্তা থাকলে এটা সম্ভব নয়।
১১. ডান হাতে চামচ অথবা চামচ না থাকলে ডান হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে খাবার খেতে হবে।
১২. গোগ্রাসে নয়, ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে।
১৩. যদি খাবার পছন্দের না হয়, তাহলে সেজন্য অসন্তোষ প্রকাশ বা সমালোচনা করা যাবেনা। একান্তই সে বলতে পারে, 'আমি খেতে চাইনা' অথবা 'আমি এ ধরনের খাবার বেশি পছন্দ করি না।'
১৪. একই সাথে গরম ও ঠাণ্ডা খাবার গ্রহণ যথার্থ নয়; কারণ এর ফলে দাঁত ও পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে।
১৫. হালকা আলোচনা হতে পারে, তবে তা বিতর্কিত বিষয় অথবা উসকানিমূলক হবেনা এবং যে কোন মূল্যে অশোভন বর্ণনা এড়িয়ে যেতে হবে; কেননা, এর ফলে অন্যান্যরা বেজার হতে পারে।
১৬. খাবার ভর্তি মুখে কথা বলা অশোভন।
১৭. খাবারকালে মুখ থেকে কিছু খাদ্য পড়ে গেলে, তা সরিয়ে নিতে অথবা সম্ভব হলে খেয়ে ফেলতে হবে। অপচয় করা যাবে না। হাড়ের সাথে অনেক গোশত রেখে দেওয়ার ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য।
১৮. খাবার গ্রহণরত লোকদের সম্ভাষণ জানানো যেতে পারে, তবে তাদের সঙ্গে মোসাফা করা যাবে না।
১৯. মুসলমানদের বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। উদর পূর্তির আগেই খাওয়া বন্ধ করা উচিত। গোগ্রাসে খাওয়াটা অনৈসলামি আচরণ।
২০. খাবার পর পরেই ঘুমাতে যাওয়া অস্বাস্থ্যকর।
২১. খাবার প্লেটে খাদ্য অবশিষ্ট রাখা অনুচিত।
২২. মুসলমানদের খানা শেষ করে বলতে হবে, "আলহামদুলিল্লাহ হিল্লাজী আত'আমানা, ওয়াসাকানা ওয়াজায়ালনা মিনাল মুসলিমীন।" (সেই খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমার আহার যুগিয়েছেন এবং মুসলমান বানিয়েছেন)। এছাড়া খোদার আরো প্রশংসা করা যেতে পারে একথা বলেঃ "আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহে ওয়া আতিমনা খায়রানা মিনহু” (হে খোদা আমাদের বরকত দাও, আমাদের আহার যোগাও এবং উত্তম আহার প্রদান কর)।
২৩. খাবার গ্রহণের পর হাত মুখ ধুতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের পর হাত মুখ ধোয়া জরুরি। খাবার পর দাঁতের সুরক্ষার জন্য খিলাল ব্যবহার করতে হবে।
২৪. শিষ্টাচারের নিয়ম হচ্ছেঃ পিতামাতার আগে ছেলে মেয়েরা খাবার শুরু করবে না এবং অতিথিদের আগে পরিবারের সদস্যরা খাবার খাবে না। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা ইসলামের অন্যতম নীতি।
২৫. খাবার অথবা পানিতে কোন মাছি পড়লে, সেটা না ডুবে যাওয়া পর্যন্ত ঠেসে ধরতে হবে এবং পরে তা বের করে ফেলে দিতে হবে। একটি সহিহ হাদিসে এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মাছি তার এক পাখায় রোগ এবং অন্য পাখায় প্রতিষেধক বহন করে।
২৬. প্রত্যেক মুসলমানকে নিশ্চিত হতে হবে যে, সে তার বাড়ির বাইরে যা খাচ্ছে তা হালাল।
২৭. খাবার গ্রহণকালে সংবাদপত্র বা চিঠিপত্র পড়া অনুচিত, এতে খাবার সময় দীর্ঘায়িত হতে পারে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 পানীয়

📄 পানীয়


১. সব রকম উত্তেজক পানীয় নিষিদ্ধ।
২. স্বর্ণ বা রৌপ্যের পাত্রে পানি পান নিষিদ্ধ। অন্য যে কোন প্রকার পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. পানীয় দ্রব্য বিশেষ করে পানি পরিষ্কার রাখতে হবে এবং বিশেষ করে রাতে পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে।
৪. পানি পানের আগে দেখতে হবে পানিভরা পাত্রটিতে কোন কিছু পড়ে আছে কি-না।
৫. পানি পানকালে ডান হাত ব্যবহার করতে হবে। নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া বাম হাত ব্যবহার করবেনা।
৬. 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বলে পানি পান করতে হবে।
৭. কোন বোতল, জগ বা চামড়ার পাত্রের মুখ থেকে সরাসরি পানি পান করা উচিত নয়।
৮. ভাঙ্গা কিনারা বিশিষ্ট কোন পাত্র পানি পান করার জন্য ব্যবহার করা উপযুক্ত নয়।
৯. পানি পানকালে পাত্রে নিশ্বাস ফেলা উচিত নয়। এক চুমুকে তৃষ্ণা মেটানো যায় না। মুখ থেকে কাপ সরিয়ে নিয়ে নিশ্বাস ফেলার পর পুনরায় পানি খাওয়া উচিত।
১০. ঝর্ণা, নদী বা জলাশয় থেকে পানি পান করতে হলে পেটের ওপর ভর করে থাকা অবস্থায় মুখ লাগিয়ে পানি পান করা উচিত নয়। বরং হাত ধুয়ে হাতের সাহায্যে পানি পান করা উচিত।
১১. কাপ অথবা গ্লাস থেকে এক ঢোকে না খেয়ে, ধীরে ধীরে পানি পান করা উচিত। পানি পানকালে মুখ থেকে পাত্র সরিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হবে। পানি পানের সময় তিনভাগে বিভক্ত করে তিনবার এর পুনরাবৃত্তি করতে হবে। এটা অধিকতর তৃষ্ণা নিবারক, স্বাস্থ্যপ্রদ ও উত্তম কাজ।
১২. দাঁড়িয়ে, হেলান দিয়ে অথবা শুয়ে থাকা অবস্থায় পান করা উচিত নয়। বসে থাকা অবস্থায় পান করা উচিত; অবশ্য ঝর্ণা থেকে পানি পান করার সময় বসার প্রশ্ন আসে না।
১৩. পানি পান করার পর মুসলমানদেরকে খোদার প্রশংসা ও শুকরিয়া প্রকাশ করতে হবে। দুধপানের পর দুধের বিশেষ উপকারিতার জন্য আল্লাহর বিশেষ শুকরিয়া প্রকাশ করে বলতে হবে এই বলেঃ "আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফিহে ওয়াজিদনা মিনহু" (হে খোদা, আমাদেরকে দুধ পানের তওফিক দাও এবং তা থেকে সমৃদ্ধি দাও।)।
১৪. একদল লোক যখন পান করে, তখন ডানে অবস্থিত ছেলে-বুড়ো যেই থাকুক, সেই প্রথম পান করবে। প্রথমে পানির পাত্রের চালান ডান দিক থেকে শুরু করতে হবে। ডানে বসা লোকটিকে অনুরোধ করতে হবে যাতে পানীয়টি ডান দিকের আরেক ব্যক্তিকে চালান দেয়।
১৫. যখন কোন ব্যক্তি একদল লোকের মধ্যে কিছু পানীয় বিতরণ করতে চায়, সে তখন যেন তার ডানে যে কেউ থাকুকনা কেন, তাকেই দেয়। অতঃপর সে ডানদিকেই অগ্রসর হবে যদিও তার বামে কোন বৃদ্ধ লোকও থাকে। ডান দিকে যারা থাকবে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ডান হাতে পানীয় চালান দিতে হবে।
১৬. যদি কোন মুসলমানকে কেউ পানীয় পান করতে দেয়, তাহলে তাকে ধন্যবাদ দিতে ভুল করা উচিত নয় এবং তার বরকতের জন্য খোদার কাছে দোয়া করতে হবে।
১৭. যদি কেউ এমন কিছু খায় যাতে চর্বি বা Sugar Acid আছে, যেমন দুধ; তাহলে মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পরে কুলি করতে হবে।
১৮. যদি কুকুর কোন পাত্র থেকে পানি পান করে, তাহলে মাটি অথবা সাবান দিয়ে ৭ বার পাত্রটি ধুতে হবে। কুকুরের মুখের লালার জন্যই এরূপ করতে হবে। (অন্য প্রাণীর জন্য এটা প্রযোজ্য নয়)।

টিকাঃ
* এ ব্যাপারে তৃতীয় পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।

১. সব রকম উত্তেজক পানীয় নিষিদ্ধ।
২. স্বর্ণ বা রৌপ্যের পাত্রে পানি পান নিষিদ্ধ। অন্য যে কোন প্রকার পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. পানীয় দ্রব্য বিশেষ করে পানি পরিষ্কার রাখতে হবে এবং বিশেষ করে রাতে পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে।
৪. পানি পানের আগে দেখতে হবে পানিভরা পাত্রটিতে কোন কিছু পড়ে আছে কি-না।
৫. পানি পানকালে ডান হাত ব্যবহার করতে হবে। নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া বাম হাত ব্যবহার করবেনা।
৬. 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বলে পানি পান করতে হবে।
৭. কোন বোতল, জগ বা চামড়ার পাত্রের মুখ থেকে সরাসরি পানি পান করা উচিত নয়।
৮. ভাঙ্গা কিনারা বিশিষ্ট কোন পাত্র পানি পান করার জন্য ব্যবহার করা উপযুক্ত নয়।
৯. পানি পানকালে পাত্রে নিশ্বাস ফেলা উচিত নয়। এক চুমুকে তৃষ্ণা মেটানো যায় না। মুখ থেকে কাপ সরিয়ে নিয়ে নিশ্বাস ফেলার পর পুনরায় পানি খাওয়া উচিত।
১০. ঝর্ণা, নদী বা জলাশয় থেকে পানি পান করতে হলে পেটের ওপর ভর করে থাকা অবস্থায় মুখ লাগিয়ে পানি পান করা উচিত নয়। বরং হাত ধুয়ে হাতের সাহায্যে পানি পান করা উচিত।
১১. কাপ অথবা গ্লাস থেকে এক ঢোকে না খেয়ে, ধীরে ধীরে পানি পান করা উচিত। পানি পানকালে মুখ থেকে পাত্র সরিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হবে। পানি পানের সময় তিনভাগে বিভক্ত করে তিনবার এর পুনরাবৃত্তি করতে হবে। এটা অধিকতর তৃষ্ণা নিবারক, স্বাস্থ্যপ্রদ ও উত্তম কাজ।
১২. দাঁড়িয়ে, হেলান দিয়ে অথবা শুয়ে থাকা অবস্থায় পান করা উচিত নয়। বসে থাকা অবস্থায় পান করা উচিত; অবশ্য ঝর্ণা থেকে পানি পান করার সময় বসার প্রশ্ন আসে না।
১৩. পানি পান করার পর মুসলমানদেরকে খোদার প্রশংসা ও শুকরিয়া প্রকাশ করতে হবে। দুধপানের পর দুধের বিশেষ উপকারিতার জন্য আল্লাহর বিশেষ শুকরিয়া প্রকাশ করে বলতে হবে এই বলেঃ "আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফিহে ওয়াজিদনা মিনহু" (হে খোদা, আমাদেরকে দুধ পানের তওফিক দাও এবং তা থেকে সমৃদ্ধি দাও।)।
১৪. একদল লোক যখন পান করে, তখন ডানে অবস্থিত ছেলে-বুড়ো যেই থাকুক, সেই প্রথম পান করবে। প্রথমে পানির পাত্রের চালান ডান দিক থেকে শুরু করতে হবে। ডানে বসা লোকটিকে অনুরোধ করতে হবে যাতে পানীয়টি ডান দিকের আরেক ব্যক্তিকে চালান দেয়।
১৫. যখন কোন ব্যক্তি একদল লোকের মধ্যে কিছু পানীয় বিতরণ করতে চায়, সে তখন যেন তার ডানে যে কেউ থাকুকনা কেন, তাকেই দেয়। অতঃপর সে ডানদিকেই অগ্রসর হবে যদিও তার বামে কোন বৃদ্ধ লোকও থাকে। ডান দিকে যারা থাকবে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ডান হাতে পানীয় চালান দিতে হবে।
১৬. যদি কোন মুসলমানকে কেউ পানীয় পান করতে দেয়, তাহলে তাকে ধন্যবাদ দিতে ভুল করা উচিত নয় এবং তার বরকতের জন্য খোদার কাছে দোয়া করতে হবে।
১৭. যদি কেউ এমন কিছু খায় যাতে চর্বি বা Sugar Acid আছে, যেমন দুধ; তাহলে মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পরে কুলি করতে হবে।
১৮. যদি কুকুর কোন পাত্র থেকে পানি পান করে, তাহলে মাটি অথবা সাবান দিয়ে ৭ বার পাত্রটি ধুতে হবে। কুকুরের মুখের লালার জন্যই এরূপ করতে হবে। (অন্য প্রাণীর জন্য এটা প্রযোজ্য নয়)।

টিকাঃ
* এ ব্যাপারে তৃতীয় পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00