📄 গোসলের নিয়ম
প্রত্যেক মুসলমানকে নিম্নোক্ত বিধি মানতে হবে :
১. গোসলের আগে তাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, সে অন্যদের থেকে নিজেকে আড়াল করেছে।
২. পরিষ্কার স্থানে কাপড় চোপড় ও তোয়ালে রাখতে হবে।
৩. প্রথম পর্যায়ে গোসলের আগে অপবিত্রতা, ময়লা ধুয়ে ফেলতে হবে।
৪. তিনবার হাত ধুতে হবে।
৫. কুলি করতে হবে এবং নাক পরিষ্কার করতে হবে।
৬. মুখমণ্ডল ও হাত ধুতে হবে।
৭. ডানদিক থেকে শরীরের ওপর পানি ঢালতে হবে।
৮. শরীর ও চুলের সকল অংশে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে এবং হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলোর মধ্যে পানি প্রবেশ করাতে হবে।
৯. সাবান ব্যবহারকালে পরিষ্কার পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলতে হবে, যাতে সাবানের কোন চিহ্ন শরীরে না থাকে। ফরজ গোসলের সময় এটা জরুরি।
১০. বাথ' টাবে গোসল করা যেতে পারে; তবে শর্ত হলো শাওয়ারের সাহায্যে দেহের সব অপবিত্রতা ধুয়ে মুছে ফেলতে হবে।
📄 শরীরের কোন কোন অংশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ
শরীরের যেসব স্থানে প্রধানতঃ ময়লা জমে, সেসব স্থান পরিষ্কার করা জরুরি। যেমন:
১. প্রয়োজন বোধে চুল ছেঁটে ফেলা।
২. বগল ও নিম্নাঙ্গের চুল সপ্তাহান্তে (অনুর্ধ্ব ৪০ দিনে) তুলে ফেলা; এটা সম্ভব না হলে সেভ করতে হবে।
৩. নখ কাটা। নখ কাটা জরুরি হয়ে পড়লে মুসলমানদেরকে প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত এবং এরপর ডান পা এবং তারপর বাম পায়ের নখ কাটতে হবে।
শরীরের অন্যান্য অংশ বিশেষ করে মুখমণ্ডল, মাথা, হাত ও পা পরিচ্ছন্ন রাখা বিশেষ জরুরি। এরূপ করলে শরীর ও মন বিশেষভাবে সতেজ থাকবে; তদুপরি শরীরের এসব অংশ অন্যান্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশি কাজে লাগে। অন্যদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ ব্যবহার করা হয় বলে মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সবিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
মুখ পরিষ্কার রাখা এবং স্মিত হাসির জন্য দুটো পরিপূরক পন্থা রয়েছে।
১. খাবার পর খিলাল ব্যবহার করা।
২. মুখের ডান দিক থেকে মিসওয়াক বা টুথব্রাশ ব্যবহার করা।
এই পদ্ধতির কোনটাই একে অপরের বিকল্প নয়, একে অপরের পরিপূরক; যত্রতত্র টুথব্রাশ নিয়ে যাওয়া অবান্তর ও কঠিন; তবে মিসওয়াক যেকোন স্থানে সহজেই নিয়ে যাওয়া যায়। তদুপরি কারো সাথে সাক্ষাতের আগে মুখের দুর্গন্ধ পরিশোধন অথবা কর্মস্থল থেকে ফিরে আসার পর মিসওয়াক সহজেই ব্যবহার করা যায়।
টিকাঃ
১. দেখা গেছে পেছন দিকের (পাছা) চাইতে মুখ গহ্বরে অনেক বেশি সূক্ষ্ম জীবাণু থাকে। এজন্য দন্তবিদরা মুখ পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করে থাকেন। বিশেষ করে আহার গ্রহণের পর যাতে দাঁতে কোন কিছু লেগে না থাকে, সেজন্য দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
📄 মানুষের প্রসাধনী ও সাজসজ্জা
নারী ও পুরুষের জন্য এ ব্যাপারে বিশেষ বিধিমালা এবং উভয়ের জন্য সাধারণ বিধিমালা রয়েছে।
📄 চুল
১. মাথার চুলের একাংশ ছেঁটে ফেলা এবং আরেকাংশ না ছাঁটা কেশবিন্যাসের ইসলামি নীতি নয়। হয় সব চুল ফেলে দিতে হবে অথবা সব রেখে দিতে হবে।
২. চুলের পরিচর্যা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, চুল আঁচড়ানো, তেল ব্যবহার করা, চিরুনী পরিষ্কার রাখা হচ্ছে ইসলামি আচরণ। তবে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।
৩. কেশবিন্যাসের বিশেষ কোন ইসলামি স্টাইল নেই। তবে মহানবী (সা.) তিন ধরনের কেশবিন্যাস করতেন: ওয়াফরা (কানের নীচ ছাড়িয়ে চুল), লিমমা (কানের লতির নীচ পর্যন্ত চুল) এবং জুম্মা (কাধ পর্যন্ত বিস্তৃত চুল)।