📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্ন দেখা

📄 স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্ন দেখা


১. এমন স্বপ্ন দেখার ভান করা যা সে দেখেনি, সেটা পাপ। ইসলাম সবরকম মিথ্যা বলতে নিষেধ করেছে।
২. কেউ যদি মঙ্গলকর স্বপ্ন দেখে, তাহলে তা বলা উচিত তার পছন্দনীয় ব্যক্তির কাছে। আর যদি অমঙ্গলের কিছু দেখে, তাহলে তার ক্ষতি থেকে এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে খোদার কাছে পানাহ চাওয়া উচিত।
৩. শুধু বন্ধুর কাছে অথবা প্রজ্ঞাবান লোকের কাছেই স্বপ্নের কথা বলা যেতে পারে।
৪. যে স্বপ্ন দেখে সে স্বপ্ন শুধু তার জন্যই, অন্যের জন্য নয়। যদি কোন মুসলমান মনে করে যে, সে মহানবীকে (সা.) দেখেছে অথবা তার কাছ থেকে একপ্রকার নির্দেশ বা পরামর্শ পেয়েছে, তাহলে তা তার মধ্যেই সীমিত রাখতে হবে এবং অন্যের কাছে তা বলবে না। ইসলাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থা এবং স্বপ্নকে কখনই ইসলামি শিক্ষার উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 মলমূত্র ত্যাগ

📄 মলমূত্র ত্যাগ


মল-মুত্র ত্যাগের জন্য উপযুক্ত স্থান হচ্ছে বিশেষভাবে ডিজাইনকৃত ও নির্মিত অথবা বাড়ির প্রান্তে তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিধান মানতে হবে:
১. পায়খানায় প্রত্যেক মুসলমানকে প্রথম বাম পা ফেলে প্রবেশ করতে হবে, বিসমিল্লাহ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবায়েছ (আল্লাহর নামে প্রবেশ করছি, হে আল্লাহ তোমার কাছে সব রকম কুচিন্তা ও কুকর্ম থেকে পানাহ চাই)।
২. কাউকে সাথে নিয়ে পায়খানায় যাবে না অথবা শরীরের গোপনাঙ্গ অন্যের সামনে উন্মুক্ত করবে না, যেমনটি পেশাবখানায় গিয়ে মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে স্থায়ীভাবে নির্মিত পাত্রে প্রস্রাব করে। এ ধরনের পেশাবখানায়, একজন আরেকজনকে যাতে না দেখতে পায়, এমন মোটা স্ক্রীন বা পর্দা টাঙ্গাতে হবে।
৩. খোলা পায়ে পায়খানায় প্রবেশ উচিত নয়। ধূলা-ময়লা বা মারাত্মক রোগ জীবাণু যাতে শরীরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যে এই সাবধানতা।
৪. পায়খানায় প্রবেশের আগেই পোশাক খুলে ফেলা চলবে না। সর্বাধিক গোপনীয়তা ও শিষ্টাচার পালন করা প্রয়োজন।
৫. এরপর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। পেশাব করার পর গোপনাঙ্গ পানি দিয়ে ধৌত করা এবং পায়খানার ক্ষেত্রে প্রথমে টয়লেট পেপার ব্যবহার ও পরে সাবান ব্যবহার করলেও চলে (পানি বা সাবানের অভাবে ঢিলা বা বালি ব্যবহার করা যেতে পারে- অনুবাদক)।
৬. পেশাব-পায়খানার সময় অথবা হাত ধৌতকালে ডান হাত ব্যবহার করা যাবে না। খাবার গ্রহণ, পানাহার, পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা প্রভৃতি ভাল কাজে ডান হাত ব্যবহার করতে হবে। মলমুত্র ত্যাগের পর পরিচ্ছন্ন হওয়া, নাক ঝাড়া প্রভৃতি কাজে বাম হাতের ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে- যা ইসলামি বিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
৭. শরীর বা পোশাকে কোন প্রকার ময়লা যাতে না লাগে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং পরে পাকসাফ হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করা কাঙ্ক্ষিত নয়।
৮. কোন মুসলমানের পক্ষে তার গোপনাঙ্গের প্রতি তাকানো অরুচিকর।
৯. কেবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করা মুসলমানের জন্য নিষিদ্ধ। কিবলাহ মুখী অথবা কিবলাকে পিছন ফেলে পেশাব পায়খানা নিষিদ্ধ। সুতরাং বাকী দু'দিকে এই কাজ সারতে হবে।
১০. পায়খানার পর উঁচু হয়ে বসে পানি ব্যবহার করা উত্তম। তবে (বৃদ্ধদের বেলায়) বসে থেকে শারীরিক অসুবিধা হলে দাঁড়িয়ে পানি ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়।
১১. জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পেশাব-পায়খানার সময় কোন মুসলমানের পক্ষে হাঁটা চলা উচিত নয়। এ সময় কোন কিছু পড়াও নিষেধ।
১২. পায়খানা ছেড়ে না আসা পর্যন্ত কোন মুসলমান অন্য কারো স্বাগত সম্ভাষণের জবাব দেবে না। ফিরে এসে সে ক্ষমা চেয়ে তার প্রত্যোত্তর দেবে।
১৩. নিজের শরীর পুরোপুরি আবৃত করার পরেই মুসলমানদের পায়খানা ছেড়ে আসতে হবে।
১৪. গোসলকালে কোন মুসলমানের উচিত নয়, একইস্থানে পেশাবের পানি প্রবাহিত করা।
১৫. পায়খানা থেকে বের হয়ে তাকে বলতে হবে গোফরানাকা (হে খোদা, আমার গুণাহ মাফ কর)।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 বহির্ভাগে এস্তেঞ্জা

📄 বহির্ভাগে এস্তেঞ্জা


বন-জঙ্গল, মরুভূমি ও শিবিরের দিনগুলোতে এস্তেঞ্জার জন্য মুসলমানদের কতিপয় বিধি পালন করতে হয়:
১. স্থির পানি, গাছের ছায়া, জনসাধারণ যেখানে চলাচল করে এমন স্থান বা সড়ক, কোন পশু-পাখি বা সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর বাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত গহ্বর বা গর্ত এবং বাঁকিয়ে গেছে এমন স্থানে এস্তেঞ্জা করা নিষিদ্ধ। কারো কোনো প্রকার ক্ষতি করা অথবা ক্ষতির পরিবেশ সৃষ্টি করা চলবে না।
২. যেখানে কাউকে নগ্ন অবস্থায় দৃষ্টিগোচর হয় না এমন স্থানে এবং গোপন অবস্থায় এস্তেঞ্জা করতে হবে।
৩. এমন স্থানে বসা উচিত, যাতে নিজের গায়ে অথবা কাপড়-চোপড়ে ময়লা না লাগে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 মাসিক রক্তস্রাব এবং প্রসূতিকাল

📄 মাসিক রক্তস্রাব এবং প্রসূতিকাল


মাসিক রক্তস্রাব ও প্রসূতি অবস্থা নারীর স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে গণ্য। তার স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। এই দু'টি পর্যায়ে মহিলাদের প্রতি নিম্নোক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকে:
১. এ অবস্থায় নামাজ পড়া, রোজা রাখা, কুরআনে পাঠ এবং মসজিদে অবস্থান নিষিদ্ধ।
২. কাবা প্রদক্ষিণও নিষিদ্ধ। এমনকি হজ্ব করতে গিয়ে যে নারীর মাসিক হয়েছে, তার জন্যও। কাবা পরিক্রমা ছাড়া তারা হজ্বের অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারেন। পুরুষের বীর্য বের হওয়ার পর অপবিত্র অবস্থায় থাকলেও এসব বিধিনিষেধ প্রযোজ্য।
৩. এ সময় যৌন সঙ্গম নিষিদ্ধ। এ সময় স্বামী ইচ্ছা করলে তার স্ত্রীকে আলিঙ্গন, চুম্বন এবং কটিদেশের ওপর পর্যন্ত স্পর্শও করতে পারেন।
৪. মাসিক শেষ হওয়ার পর নারীরা রোজা রাখতে পারে, তবে গোসল না করা পর্যন্ত নামাজ পড়তে পারবে না। গোসলের পর রমযানের কাজা রোজাগুলো পূরণ করতে হবে, তবে কাজা হওয়ার নামাজ পড়তে হবে না।
৫. প্রত্যেক মুসলিম মহিলার কর্তব্য হচ্ছে রক্তস্রাব বা প্রসূতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গোসল করা এবং সারা শরীর ও চুল ধৌত করা। এসময় তার গোপনাঙ্গে একটি কাপড়ের সঙ্গে মৃগনাভি (মৃগনাভি না পাওয়া গেলে অন্য কোন প্রসাধনী) ব্যবহার করতে হবে। গোসলের পর মাসিক বা প্রসূতি অবস্থায় আরোপিত সকল বিধিনিষেধ শেষ হয়ে যায়।
৬. মাসিক চলা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক আচরণ করা উচিত।
৭. যে নারীর মাসিক হয়েছে, তাকে শোকরানা অনুষ্ঠানে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে অংশগ্রহণের জন্য নয়; অবশ্য শর্ত হচ্ছে এই অনুষ্ঠান মসজিদে হবে না।

টিকাঃ
৪. রক্তস্রাব হচ্ছে জরায়ু থেকে সাময়িক রক্ত ও রক্তের ন্যায় তরল পদাথের নিঃসরণ। এটা মহিলাদের ডিম্ব-উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি পর্যায়। এটা জরায়ুর চর্ম কুঞ্চনের ফলে পরিভ্রষ্টতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অনেক মেয়ের ১১ বছর বয়সে বা তার আগেই রক্তস্রাব শুরু হয়। আবার অনেকের ১৬ বছর বা তারও পরে হয়, তবে মূল সময়টি ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এই রক্তস্রাবের মেয়াদকাল নিয়ে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ৩ থেকে ৫ দিন স্থায়ী থাকে: Encyclopedia Americana: vol. 18. p. 636.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00