📄 হাই তোলা
হাই তোলা' খারাপ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত এবং এ জন্যে যতদূর সম্ভব তা দমন করতে হবে। একজন মুসলমানকে অবশ্যই:
১. যতদূর সম্ভব হাই তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. হাই তোলার সময় তার মুখের ওপর হাত দিয়ে ঢাকতে হবে।
৩. হাই তোলার সময় যাতে কোন শব্দ না হয়, তার চেষ্টা করতে হবে।
টিকাঃ
৩. ফুসফুসে অনৈচ্ছিক বায়ুর প্রবেশের ফলে প্রায়ই হাত পায়ের প্রসারণ ঘটে এবং হাই তুলতে হয়। বেশি আলস্য, স্বল্পমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ এবং কতিপয় রোগের ফলে হাই তোলার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়। হাই তোলার সময় অসাবধানবশতঃ মুখ বেশি হা করলে চোয়াল আটকে যেতে পারে এবং ঘাড়ের পিছনে মারাত্মক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। Encyclopedia Americana: vol. 29. p. 6556.
📄 বিছানায় গমন (প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি)
১. প্রত্যেক মুসলমানকে অবশ্যই বিছানায় আশ্রয় নেয়ার আগে ইস্তিঞ্জা করতে তথা মল-মূত্র ত্যাগ করতে হবে।
২. অজু করার মাধ্যমে পবিত্র অবস্থায় বিছানায় গমন আবশ্যক।
৩. ভরপেটে শুতে না যাওয়া স্বাস্থ্য বিধিসম্মত।
📄 কখন ঘুমাতে হবে
১. এশার নামাজ পড়ার আগে শুতে যাওয়া ঠিক নয়, কারণ এর ফলে নামাজ কাজা হতে পারে।
২. দিবসে যখন নামাজের সময় শুরু হয়, সেই সময় ঘুমানো যাবেনা নামাজ পড়া ছাড়া। এসময় ঘুমিয়ে পড়লে নামাজ তরক হতে পারে।
৩. জোহর, আসর নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে অল্পক্ষণ আরাম করা বা ঘুমানো যেতে পারে। এর ফলে চোখ ও শরীর আরাম লাভ করে এবং দিবসের বাকী কাজ সম্পাদনের জন্য তা দেহে সজীবতা এনে দেয়।
৪. প্রয়োজনীয় কাজ করে অথবা কোন অতিথিকে আপ্যায়ন করে এশার নামাজের পর পরই মুসলমানদের ঘুমিয়ে পড়া উচিত। এভাবে তারা সজীবতা লাভ করতে পারে এবং দিনটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে।
📄 বিছানা
১. সাধারণ ডিজাইন ও নির্মাণের মাধ্যমে বিছানা তৈরি করতে হবে। এটা খুব বেশি আরামদায়ক অথবা অস্বস্তিকর হওয়ার প্রয়োজন নেই। আলস্য বা পরিশ্রমবিমুখতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রয়োজনীয় আরামের উপযোগী আরামদায়ক হলেই হয়।
২. বিছানাটি মেঝে থেকে খুব উঁচুতে হওয়া উচিত নয়- বিনয়ের লক্ষ্যে এটা করা উচিত।
৩. বিছানা এমন স্থানে স্থাপন করা উচিত নয়, যাতে শরীরের একাংশ রোদে এবং অপরাংশ ছায়ায় পড়ে।
৪. নিরাপত্তার জন্য যে সব ছাদে প্রতিরক্ষা প্রাচীর নেই, সে সব স্থানে শয়ন চলবেনা। তেমনিভাবে যেসব নির্জন স্থানে হঠাৎ অসুস্থতা, অনুপ্রবেশ-কারীদের হামলা অথবা অগ্নিকাণ্ডের ন্যায় জরুরি অবস্থার সময় সাহায্য পাওয়া যায় না- এসব স্থানে শয়ন করা উচিত নয়।
৫. পল্লী এলাকার মত অনেক স্থানে নিকটবর্তী কোন বাথরুম না থাকলে বিছানার নীচে একটি উপযুক্ত পাত্রে পানি রাখা প্রয়োজন। অসুস্থ, বৃদ্ধ এবং যারা দরজার বাইরে ঘুমান তাদের জন্য এটা বেশ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।