📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 হাঁচি

📄 হাঁচি


ইসলামের মতে, হাঁচি' হচ্ছে আল্লাহর রহমত বিশেষ। এ সংক্রান্ত পালনীয় হচ্ছে:
১. কোন মুসলমানের হাঁচি প্রতিরোধ বা ঠেকানো উচিত নয়। এটা একটা স্বাস্থ্যগত প্রক্রিয়া। যেভাবেই হোক, হাঁচি স্বেচ্ছায় দেয়া যায়না বা এটা সহজেই দমিয়ে দেওয়া যায়না।
২. হাঁচির সময় প্রত্যেক মুসলামানের উচিত তার মুখ সরিয়ে নেয়া অথবা তার মুখ ও নাক হাত বা রুমাল দিয়ে ঢেকে দেয়া। এর ফলে আওয়াজ কম হবে এবং পার্শ্ববর্তী লোকজনের বিড়ম্বনা এড়ানো যাবে।
৩. হাঁচি যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ, সেজন্য মুসলমানদের একথা বলে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে : আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)
৪. কোন মুসলমান হাঁচি দেওয়ার পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে, নিকটবর্তী যারা এটি শুনবে তাদের বলতে হবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' (আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন)। এর সুষ্ঠু প্রত্যোত্তর হলো : ইয়াহুদিকুমুল্লা ওয়া ইয়ুসলিহ বালাকুম (আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দিন এবং তোমার মঙ্গল করুন)
৫. কোন ব্যক্তি সর্বাধিক তিনবার হাঁচি দিলে এই দোয়া পড়া উত্তম। এর বেশি হলে সম্ভবতঃ এর অর্থ দাঁড়ায় তার সর্দি লেগেছে।
৬. কোন মুসলমান হাঁচি দেওয়ার পর আলহামুদুলিল্লাহ না বললে তার জবাব দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
৭. কেউ হাঁচি দেওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে, তাহলে তার কাছের মুসলমানদের উচিত তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
৮. কোন অমুসলমান হাঁচি দিলে তার মঙ্গল কামনায় বলতে হবে 'ইয়াদিকুমুল্লাহ' (খোদা তোমাকে হেদায়েতের পথে চালিত করুন)।

টিকাঃ
১. বক্ষ ও মুখমণ্ডলের মাংসপেশী দিয়ে নাক দিয়ে অনৈচ্ছিক যে বায়ু নির্গত হয় তাই হাঁচি। কাফেরের ন্যায় হাঁচি হচ্ছে শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম। নাকের ভেতর দিয়ে ফুসফুসের উপযোগী সহনশীল অবস্থা সৃষ্টির জন্য বাতাস বের করে দেওয়া হয়। শরীরের উপযোগী বাতাস উত্তপ্ত হয়ে সম্পৃক্তির কাছাকাছি আর্দ্র হয় এবং ধূলিকণা ও জীবাণুযুক্ত হওয়ার পর তা শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। Encyclopedia Americana vol. 25. p. 107.
২. প্রাগুক্ত।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 হাই তোলা

📄 হাই তোলা


হাই তোলা' খারাপ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত এবং এ জন্যে যতদূর সম্ভব তা দমন করতে হবে। একজন মুসলমানকে অবশ্যই:
১. যতদূর সম্ভব হাই তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. হাই তোলার সময় তার মুখের ওপর হাত দিয়ে ঢাকতে হবে।
৩. হাই তোলার সময় যাতে কোন শব্দ না হয়, তার চেষ্টা করতে হবে।

টিকাঃ
৩. ফুসফুসে অনৈচ্ছিক বায়ুর প্রবেশের ফলে প্রায়ই হাত পায়ের প্রসারণ ঘটে এবং হাই তুলতে হয়। বেশি আলস্য, স্বল্পমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ এবং কতিপয় রোগের ফলে হাই তোলার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়। হাই তোলার সময় অসাবধানবশতঃ মুখ বেশি হা করলে চোয়াল আটকে যেতে পারে এবং ঘাড়ের পিছনে মারাত্মক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। Encyclopedia Americana: vol. 29. p. 6556.

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 বিছানায় গমন (প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি)

📄 বিছানায় গমন (প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি)


১. প্রত্যেক মুসলমানকে অবশ্যই বিছানায় আশ্রয় নেয়ার আগে ইস্তিঞ্জা করতে তথা মল-মূত্র ত্যাগ করতে হবে।
২. অজু করার মাধ্যমে পবিত্র অবস্থায় বিছানায় গমন আবশ্যক।
৩. ভরপেটে শুতে না যাওয়া স্বাস্থ্য বিধিসম্মত।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 কখন ঘুমাতে হবে

📄 কখন ঘুমাতে হবে


১. এশার নামাজ পড়ার আগে শুতে যাওয়া ঠিক নয়, কারণ এর ফলে নামাজ কাজা হতে পারে।
২. দিবসে যখন নামাজের সময় শুরু হয়, সেই সময় ঘুমানো যাবেনা নামাজ পড়া ছাড়া। এসময় ঘুমিয়ে পড়লে নামাজ তরক হতে পারে।
৩. জোহর, আসর নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে অল্পক্ষণ আরাম করা বা ঘুমানো যেতে পারে। এর ফলে চোখ ও শরীর আরাম লাভ করে এবং দিবসের বাকী কাজ সম্পাদনের জন্য তা দেহে সজীবতা এনে দেয়।
৪. প্রয়োজনীয় কাজ করে অথবা কোন অতিথিকে আপ্যায়ন করে এশার নামাজের পর পরই মুসলমানদের ঘুমিয়ে পড়া উচিত। এভাবে তারা সজীবতা লাভ করতে পারে এবং দিনটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00