📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 মুসলমানদের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে ইসলামি আদব

📄 মুসলমানদের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে ইসলামি আদব


ইসলামি আদবের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে: বিভিন্ন জাতির অন্তর্ভুক্ত, ভিন্ন ভাষাভাষী এবং বিশ্বের বিভিন্নাঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত ইসলামি আদব লেহাজের ধর্মীয় প্রকৃতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য পাকিস্তান সফরকারী একজন মরোক্কোবাসী সেখানকার জনগণের আচরণ বুঝতে অসুবিধায় পড়েনা, অথবা বিদেশ বিভূই বলেও মনে হয়না। মিশরের মুসলিম মহিলারা ইসলামি পোশাক পরিহিতা তুর্কি মহিলাদের দেখে বিস্মিত হয় না। ইসলামি সমাজের সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন উপলক্ষে তাদের সংহতি প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় যে, তারা যেসব পন্থায় কাজ করে, তা তাদের ঐতিহ্যের অংশ। ইসলামি আদব মুসলমানদের মধ্যে অভিন্ন সমঝোতা গড়ে তোলে; গঠন করে একটি সার্বজনীন সংস্কৃতি। স্থানীয় সংস্কৃতি এক ইসলামি সম্প্রদায় থেকে অপর সম্প্রদায়ে ভিন্ন হতে পারে। নামাজ পড়া ও শুভেচ্ছা জানানো, প্রধান প্রধান উৎসব, পানাহারে বিধি নিষেধ (যেমন মদ্য পান), হালাল ও হারাম মেনে চলা- প্রভৃতি সার্বজনীন ইসলামি ঐক্যের উপকরণ। প্রতিটি অঞ্চলে মুসলিম শালীন পোশাক পরিধান করে এবং বেশির ভাগ মুসলিম দেশে যথাযথ ইসলামি পোশাক পরে। স্থানীয় বৈচিত্র্যধর্মী সংস্কৃতি (যেমন খাবারের ক্ষেত্রে পাক-ভারত উপমহাদেশে জনপ্রিয় বিরিয়ানী অথবা পোশাকের ক্ষেত্রে ভারতে মুসলিম নারীদের মধ্যে চালু শাড়ী) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ: এর ফলে এক অঞ্চলের মুসলমানদের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মুসলমানদের পার্থক্য বুঝা যায়। কুরআনের ভাষায় আমাদের বিভিন্ন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে আমরা একে অপরকে চিনতে পারি। এসব বিষয় বিশেষ কোন এলাকার মুসলমানদের চরিত্র ও পরিচয় মুছে দেয়না। ইসলামি আদবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে: অমুসলমানদের আচার আচরণের অনুকরণে নিষেধাজ্ঞা পালন। এর সাথে অবশ্য হস্তশিল্প, প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞানান্বেষণ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। ইসলাম জ্ঞানান্বেষণকে সবসময় উৎসাহিত করে এসেছে। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার ব্যাপারে আচার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা সুস্পষ্ট যে, মুসলিম জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আচার আচরণ তাদের নিজস্ব ইসলামি চরিত্র দ্বারাই পার্থক্য করা যেতে পারে।
মুসলমানদের জীবনে অমুসলমানদের সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের অর্থ এ নয় যে, ইসলামি সত্তা মুছে গেল। এর কারণ হচ্ছে ইসলামি জীবনব্যবস্থা এত গভীরভাবে প্রোথিত যে, মুসলমানরা সহজেই তা থেকে ছাড়া পেতে পারেনা এবং এটা গভীরভাবে প্রোথিত হওয়ার কারণ হচ্ছে এটা ইতিহাসের এক বিশেষ সময়ের দাবি অনুযায়ী কোন অস্থায়ী উদ্ভাবনা নয়- বরং মানুষে মানুষে, মানুষ ও খোদার মধ্যে মানবিক সম্পর্কের অপরিবর্তনীয় বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, আন্তঃসম্পর্কিত আচরণ ও আদর্শের স্থিতিশীল কাঠামো।
কেউ এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করলে, সোভিয়েত ইউনিয়নে খৃস্টবাদ ও ইসলামের বিভিন্ন পর্যায় পর্যালোচনা করে দেখুন। উভয় ধর্মই রুশ কম্যুনিজমের আদর্শ কর্তৃক সমভাবে ঘৃণিত ও নির্যাতিত। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনৈক্য সত্ত্বেও সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের সাথে পূর্বের সোভিয়েত অঞ্চলের مسلمانوں সাংস্কৃতিক মিল ও ইসলামি ঐক্য একটি প্রমাণিত বাস্তবতা।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 মুসলমানদের আচার ও প্রথার ব্যাপারে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

📄 মুসলমানদের আচার ও প্রথার ব্যাপারে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি


মুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসরত অমুসলিমদের প্রতি মুসলমানদের প্রদর্শিত সহিষ্ণুতা তুলনাহীন। ইসলামি রাষ্ট্রের আওতায় প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ হতে হবে স্বাধীন ইচ্ছা ও আস্থার মাধ্যমে।
ইসলামে প্রত্যেক অমুসলমানের জীবন, সম্পত্তি ও সম্মান পুরোপুরি সংরক্ষিত। তদুপরি ইসলাম তার অমুসলিম নাগরিকদের জন্য পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সীমিত বিচার সংক্রান্ত কর্তৃত্ব দিয়েছে। অমুসলিমদের রয়েছে নিম্নোক্ত অধিকারসমূহ:
১. বিশ্বাস ও ধর্মীয় উপাসনার পূর্ণ স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার স্বাধীনতা।
২. ইসলাম বিরোধী হলেও বিবাহ ও তালাকের বিধিসহ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের ব্যাপারে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন।
৩. অর্থনৈতিক লেনদেন এবং বেসামরিক ক্ষেত্রে মুসলিম নাগরিকদের ন্যায় তাদের সাথে অভিন্ন আচরণ করা হবে। তবে মদ্যপানের ন্যায় কয়েকটি বিশেষ বিষয় এর বাইরে থাকবে। প্রকাশ্যে মদ্যপান না করা হলে তাদের শাস্তি দেওয়া হবেনা।
৪. সামাজিক প্রথার ব্যাপারে অমুসলিমগণ তাদের স্বতন্ত্র চরিত্র সংরক্ষণে পূর্ণ স্বাধীন থাকবে। এক্ষেত্রে পোশাকের ধরন (যদি তা ইসলামি আইনের বিরোধী না হয়), খাবার পদ্ধতি ও খাদ্য প্রকরণের বিষয়টি উল্লেখ করা যায়।
অমুসলিমদের ওপর নিজস্ব 'আদব' চাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ইসলামের অসম্মতি, ধর্মীয় বিরোধ ও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ এড়াতে সহায়তা করেছে। অথচ ইউরোপীয় শাসনে রাজনৈতিক অথবা সামরিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যকে কাজে লাগানো হয়েছে।
অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কের ব্যাপারে মুসলমানদের ওপর কতিপয় বিধি নিষেধ রয়েছে। এসব বিধি নিষেধের নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে- অমুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব মুসলিম ধর্মবিশ্বাসের কোন অংশ নয়, যদিও ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে: তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা না দেওয়া। এজন্য এ ধরনের অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণ করা উচিত নয়।
ধর্মান্ধতা ও অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন তো দূরের কথা, এসব বিধি নিষেধ সহিষ্ণুতা ও শ্রদ্ধার মাধ্যমে ভারসাম্য প্রকাশ করে এবং মুসলমানদের ঈমান, কর্মকাণ্ড ও আদবের স্বাতন্ত্র্য ও স্থিতিশীলতা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
অমুসলিম দেশসমূহে অথবা অমুসলিম কর্তৃপক্ষের অধীনে মুসলমানদের প্রতি যে অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন করা হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামের সহিষ্ণুতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, ষোড়শ শতাব্দীতে স্পেনে মুসলিম শাসনের পতনের পর খৃস্টানদের ধর্ম বিচার সভা (Courts of the Inquisition) যে সব মুসলমান ধর্ম পরিত্যাগ করতে এবং খৃস্টান হতে অসম্মতি জানিয়েছিল, তাদের সকলকে পুড়িয়ে হত্যা করে। মুসলমানদেরকে বাধ্য করা হয় তাদের নাম, পোশাক, রীতিনীতি পরিবর্তন করতে এবং খৃস্টানদের ন্যায় আচরণ করতে।
ইতিহাস থেকে এ প্রসঙ্গে ইহুদিদের উদাহরণ উল্লেখ করা যায়। খৃস্টান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইহুদিদের পোশাক, নামধাম ও প্রথা পরিবর্তন করে খৃস্টানদের অনুসারী হতে বাধ্য করা হয়। অথচ মুসলিম বিশ্বে তাদের সাথে আচরণ করা হয় অনন্য সহিষ্ণুতার সঙ্গে। ইহুদিদের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুসারে তাদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রথা মেনে চলার অনুমতি দেওয়া হয়। স্পেনে মুসলিম শাসনকালে ইহুদি সাহিত্যের স্বর্ণযুগ সৃষ্টি হয়। মুসলমানরা স্পেন ছেড়ে গেলে ইহুদিদেরও খৃস্টানদের অনুসারী হতে বাধ্য করা হয়।
আচরণে এই পার্থক্যের প্রমাণ আজো দেখতে পাওয়া যায়। মুসলিম বিশ্বে যেসব ইহুদি বাস করতো তারা এখন সেখানে থাকুক বা ইসরাইলে হিজরত করুক, তাদের ইহুদি নাম রয়ে গেছে। অথচ যারা পাশ্চাত্য বিশ্বে বাস করেছে অথবা এখনও বাস করছে তাদের রুশ, ইংরেজি, জার্মান বা ফরাসি নাম রয়েছে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 ইসলামি আচরণের প্রধান প্রধান বিধির পর্যালোচনা

📄 ইসলামি আচরণের প্রধান প্রধান বিধির পর্যালোচনা


ইসলামি দিবসের এমন একটি প্রকৃতি রয়েছে, যা অমুসলিম দেশসমূহের দিবসে যেভাবে দেখা হয় ও পালন করা হয়, তা থেকে আশ্চর্যজনকরূপে পৃথক। দিবসের সূচনা হয় খুব ভোরে (ফজরের নামাজের পর) এবং শেষ হয় রাতের এশার নামাজের পর। ইসলামি পঞ্জিকাবর্ষ চান্দ্র মাস নির্ধারিত চাঁদ অনুসারে হওয়ার ফলে, মাসগুলো বছরের পর বছর চক্রাকারে ঘোরে। مسلمانوں কাছে সময় অত্যন্ত মূল্যবান এবং তাদেরকে দূরদর্শিতার সঙ্গে প্রতিদিন ছক কেটে চলতে হয়। দৈনন্দিন সমস্যা ও অসুবিধা এক পাশে রেখে পাঁচবার নির্ধারিত সময়ে নামায পড়তে হয়। নামায পড়ার মাধ্যমে এসব সমস্যার জটিলতা হ্রাস পায় ও তা যথাযথ পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাপিত হয়। তবে যেহেতু এর প্রেক্ষিত হচ্ছেঃ ইসলাম, সেজন্য দিবস জুড়ে তার বাস্তবায়ন হয়। ঘুম থেকে জাগার পর থেকেই ইসলাম মুসলমানদের আচরণে প্রভাব বিস্তার করে এবং তা অব্যাহত থাকে রাতে অবসর নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত। অবশ্য এই প্রভাব বলয়ের মাত্রার কমবেশি হয়ে থাকে। এই বিভিন্নতাকে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:
১. কোন্ কোন্ বিষয়ের অনুমতি রয়েছে- অধিকাংশ কাজ এই শ্রেণীতে পড়ে।
২. কোন্ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
৩. কোন্ বিষয়ে অনুমোদন নেই বা বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
৪. কোন্টি বাধ্যতামূলক।
৫. কোন্টি নিষিদ্ধ।
মজার কথা এই যে, মানুষের কর্মকাণ্ডের অত্যন্ত ক্ষুদ্রাংশ বাধ্যতামূলক ও নিষিদ্ধের শ্রেণীতে পড়ে। এই পাঁচ শ্রেণীর বিভক্তি রেখা নমনীয়। এক ধরনের শর্তে যা নিষিদ্ধ, তা অন্য ব্যতিক্রমী শর্তাধীনে অনুমোদিত, এমনকি বাধ্যতামূলক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মুসলমানদের শূকর খাওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু যদি কোন মুসলিম অনাহারের সম্মুখীন হয় এবং শূকরের মাংস ছাড়া জীবন বাঁচানোর কোন পথ না থাকে, তাহলে তার জন্য এই মাংস খাওয়া বৈধ।
মুসলমানদের আচরণ যেসব সাধারণ বিধি দিয়ে পরিচালিত, সেগুলো নিছক স্বেচ্ছাচারী নির্দেশে তাড়িত নয়। সেগুলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত। এগুলো মানুষের প্রতি আল্লাহর রহমতস্বরূপ এসেছে। কোন মুসলিম তার নিজস্ব অবস্থান অথবা বাইরের চাপে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে, অনিবার্য ও বাধ্য হয়ে, যদি ইসলামি বিধান লংঘন করে, তাহলে তাকে পাকড়াও করা হবেনা।
বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি বিধি বিধান পালন সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক নয়। তার পরেও ইসলামি পরিবেশে শিশুদের গড়ে ওঠার এবং পরে যাতে ইসলামি বিধান পালন করতে পারে, তার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ইসলামি আচার আচরণ যেসব বিধি ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পরিচালিত তার সংক্ষিপ্তসার নিম্নরূপ:
১. প্রত্যেক ব্যাপারে বিচার বিবেচনা করা (তাড়াহুড়া না করা) প্রয়োজন।
২. অন্যের সাথে আচার ব্যবহারে প্রত্যেক মুসলমানকে ভদ্র ও সহৃদয় হতে হবে।
৩. মুসলিম জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হবেঃ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা; শরীর, স্থান ও পোশাকের পবিত্রতা।
৪. সৌন্দর্যশীলতা, রুচিশীলতা এবং শৃংখলা মুসলিম জীবনের জন্য মূল্যবান এবং যতদূর সম্ভব এসব গুণ অর্জন করতে হবে।
৫. ইসলামের মতে, সৌজন্যের সাথে কোন সৎ কাজ করলে সেটা আরো সৌন্দর্যময় হয়। অপরদিকে ধৃষ্টতা কোন কাজের ভাল দিক ধ্বংস করে।
৬. প্রত্যেক মুসলমানের কাজে বিনয়ের দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে, ঔদ্ধত্যের নয়।
৭. কোন মুসলমানের এমন কাজ করা উচিত নয়, যার ফলে তার নিজের অথবা অন্যের শারীরিক, মানসিক বা নৈতিক ক্ষতি হয়।
৮. মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে অহেতুক কথা বলার চেয়ে নীরবতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
৯. অপরের কাছ থেকে যেরূপ আচরণ প্রত্যাশা করা হয়, অন্যদের সাথে সেরূপ ব্যবহার করতে হবে। নিজের জন্য যা পছন্দ করা হয়, পরের জন্য তাই করতে হবে। অন্যের সঙ্গে বিচার বিবেচনা ছাড়া সদাচরণ সম্ভব নয়।
১০. কোন মুসলমান নিজে যা করতে পছন্দ করে না, তা করতে অন্যকে আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারেনা।
১১. কোনকিছু গ্রহণ, দান, করমর্দন, খাবার, পানি পান ও হাঁটা প্রভৃতি কাজে ডান হাত এবং পায়খানায় গিয়ে বাম হাত ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
১২. খাবার গ্রহণ, পানি পান এবং পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে অহংকার বা ঔদ্ধত্য না থাকলে তা অনুমোদিত। বাহুল্য ব্যয়কে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
১৩. অমিতব্যয়িতাকে ঘৃণা করা হলেও এর অর্থ এ নয় যে, কোন মুসলমান জীবন উপভোগ করতে পারবে না অথবা তার অর্থ বা সম্পত্তি থাকবে না। তার ওপর আল্লাহর রহমতের নিশানা থাকা প্রয়োজন।
১৪. উদার হওয়া এবং কৃপণ না হওয়া একটি গুণ।
১৫. মুসলমানদের জীবন খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ, তার কোনরূপ কষ্ট থাকুক বা না থাকুক। ধৈর্য ও স্থৈর্যের সাথে কৃতজ্ঞ হতে হবে।
১৬. প্রত্যেক মুসলমানকে সব সময় আস্তিক হতে হবে।
১৭. জীবনের সকল ক্ষেত্রে মুসলমানকে হতে হবে সংযমী ও স্বাভাবিক। ইসলামে অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির কোন স্থান নেই।
১৮. মুসলমানকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে এবং শুধু জরুরি প্রয়োজনের সময়েই অন্য মুসলমানের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।
১৯. ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির অনুকরণ বা নকল করা নিষিদ্ধ।
২০. আনুগত্য এবং অপরের আদেশ বা ইচ্ছার বাস্তবায়ন ইসলামি শিক্ষার বিরোধী নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
২১. পোশাক-পরিচ্ছদ, হাঁটা-চলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী কর্তৃক পুরুষ অথবা পুরুষ কর্তৃক নারীর বেশ ধরা নিষিদ্ধ। লিঙ্গগত চিহ্ন বজায় রাখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
২২. ইসলামি আচরণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে : শৃঙ্খলার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের ভারসাম্য ও সমন্বয় করা।
২৩. ইসলামি আদবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে : নমনীয়তা ও সহিষ্ণুতা। ব্যাপক অর্থে বলতে গেলে, কোন বিশেষ ধরনের আচরণ সহনীয় বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি তা মার্জিত (অন্যের প্রতি বিবেচনা প্রসূত) এবং শ্রদ্ধাপূর্ণ (ব্যক্তি ও সমাজের প্রতি নির্বিরোধ) হয়। এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছেঃ এই আচরণ হারাম বা নিষিদ্ধ শ্রেণীতে পড়বে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00