📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 ইসলামি আদব এবং নারীর মর্যাদা

📄 ইসলামি আদব এবং নারীর মর্যাদা


ইউরোপ যখন তমসাচ্ছন্ন যুগে নিমজ্জিত ছিল, তখন নারীর আত্মার প্রকৃতি নিয়ে বিতর্ক হোত তাদের আত্মা মানবিক কি-না। ইসলাম তার পূর্বেই নারী ও পুরুষকে একই উৎস থেকে আসার কথা জানিয়েছে এবং খোদা ও সমাজের কাছে তারা উভয়ে সমানাধিকারসম্পন্ন এবং ভাল ও মন্দ কাজের জন্য পুরষ্কার ও শাস্তির ঘোষণা শুনেছে। ইসলামি আইন নারী ও পুরুষের জন্য সমান। ইসলামে নারীর অধিকার রয়েছে সম্পত্তি সংরক্ষণের এবং তা আবাদ করার। তার নিজ স্বার্থে তার সম্পত্তির ইজারা দান, হেবা করে দেওয়া অথবা আবাদ করার অধিকার রয়েছে। যদিও নারীর প্রকৃত ক্ষেত্র হচ্ছে মাতৃত্ব, মানব বংশের লালন-পালন এবং নিজ বাড়ির হেফাজত, তথাপি ক্রয়-বিক্রয়, ধার দেওয়া ও নেওয়া, বিনিয়োগ করা- ইত্যাদি আর্থিক লেনদেন করা থেকে তাকে বিরত রাখা হয়নি। ইসলামের বিভিন্ন মাজহাবে নারীদেরকে এ ধরনের কর্ম সম্পাদনে পুরোপুরি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং আইনানুগভাবে উপযুক্ত বলে গণ্য করা হয়েছে।
মদ্যপান, ব্যভিচারি, খোদাদ্রোহীতা অথবা হত্যার মত যে কোনো অপরাধের জন্য ইসলামি আইনে শাস্তির ব্যাপারে নারী ও পুরুষের কোন পার্থক্য করা হয়নি।
ইসলামে মহিলাদের তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার অধিকার দিয়েছে। ইসলামি বিশ্বের কোন কোন অঞ্চলে মুসলিম নারীদের সমকালীন অবস্থা থেকে ইসলামে নারীর ধারণা ও অবস্থানকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা অথবা যুক্তিতর্ক পেশ করা সঠিক হবেনা। এ ব্যাপারে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ভুল ধারণা দূর করবে :
১. পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণের সুসংবাদের মতই কন্যা সন্তানের জন্মকে স্বাগত জানাতে হবে। পুত্র সন্তানের জন্ম হলে শুভেচ্ছা জানানো এবং কন্যা সন্তানের জন্ম হলে মুখ গোমরা করে থাকা ইসলামি শিক্ষার বিরোধী। ইসলাম কন্যা সন্তানদের বিশেষ যত্ন নেয়ার তাগিদ দিয়েছে।
২. নবী করিম (সা.) নারীদের সহিত ভদ্রতা ও শ্রদ্ধার সাথে ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদেরকে নিকৃষ্ট না ভেবে সমানরূপে গণ্য করতে হবে।
৩. মহিলাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
ইসলামের বিবাহ প্রথায় একজন অভিভাবক থাকার অর্থ এ নয় যে, বিবাহের ব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার আছে। নারীর এককভাবে অধিকার রয়েছে কোন প্রকার চাপমুক্ত থেকে বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার। যদি কোন মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বাগদান করা হয়, তাহলে এই বাগদান সে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখে।
৪. মা হিসেবে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত সম্মানজনক। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, মহানবীর (সা.) উক্তি, 'বেহেস্ত মাতাদের পদতলে।' কোনো মুসলমান সর্বাধিক শ্রদ্ধা করবে তার মাকে। পিতার চাইতে মাতার মর্যাদা সন্তানের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি।
৫. একজন বিবাহিত মহিলা তার পারিবারিক নাম বহাল রাখতে পারে এবং তার স্বামীর পক্ষে তা পরিত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। এটাও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের শামিল।
৬. যৌনতার নিদর্শনগুলো আড়াল করার জন্য ইসলাম কতিপয় আদব লেহাজ প্রবর্তন করেছে: পুরুষ কর্তৃক মহিলাদের পোশাক ও চলাফেরার ঢং নকল করা নিষিদ্ধ।
৭. মহিলাদের কর্মকাণ্ড ইসলামি শিক্ষার বিরোধী না হওয়া পর্যন্ত ইসলামে মহিলাদের ব্যক্তিত্ব সংরক্ষণ এবং বিকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। স্বামীকে অনুমতি দেওয়া হয়নি স্ত্রীর ব্যক্তিত্ব বিনাশ করে তার সাথে মিশিয়ে ফেলার।
৮. মহিলাদের মাসিকের সময় সহৃদয় ও নম্র আচরণ করতে হবে। স্বামী যদি স্ত্রীকে কোনক্রমে ভালবাসতে না পারে, তাহলে ঐ স্ত্রী তাকে তালাক দিতে পারে।
৯. উত্তম স্ত্রীকে বিশ্বে সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে ইসলাম গণ্য করেছে। বিবাহিত জীবনে স্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসার পরিচালনা এবং টাকা কড়ির নিয়ন্ত্রণ করা তার দায়িত্ব।
১০. ইসলাম চায় মুসলিম মহিলারা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় মেনে চলুক এবং পোশাক পরিচ্ছদ, জুতা পরিধান, ইত্যাদি ক্ষেত্রে অমুসলিম মহিলাদের অনুকরণ না করুক। এ ধরনের অনুকরণ দুর্বলতার প্রতীক।
১১. ইসলামি সমাজে মহিলাদের পোশাকের কতিপয় উদ্দেশ্য রয়েছে। এর মধ্যে তার সম্মান ও মর্যাদার সংরক্ষণ অন্যতম। নারী ও পুরুষের পোশাকের পার্থক্যের কারণ হচ্ছে পুরুষ ও নারীর আকৃতির ভিন্নতা। একই কারণে কোন মহিলার উচিত নয় তার স্বামী বা কোন মহরম (যার সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ) পুরুষ ছাড়া ভ্রমণ করা।

টিকাঃ
১৯. Qutb. Islam The Misunderstood Religion. Damascus : The Holy Quran Publishing House. 1977. P-97.

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 ইসলামি আদব ও শৃঙ্খলা

📄 ইসলামি আদব ও শৃঙ্খলা


ব্যক্তির আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তির প্রতি সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে ইসলামি আদব কায়দা মানুষকে সুসভ্য ও শিক্ষিত করে তোলে। এর ফলে ধৈর্যধারণ, আত্মসন্তুষ্টি ও স্বনির্ভর হওয়া বাঞ্ছনীয়; অপরিহার্য না হলে অন্যের সহযোগিতা না চাওয়ার ব্যাপারে ইসলাম শিক্ষা দিয়ে থাকে।
ইসলামের অন্যতম প্রশংসিত গুণ হচ্ছে মানুষের ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ এবং তীব্রতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করা। মহানবীর (সা.) ভাষায়, সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি সেই, যে ক্রোধ সংবরণ করতে পারে। উত্তম মুসলমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নিয়মানুবর্তিতা ও আত্ম-শৃঙ্খলা। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষা দেয় এবং রমযান মাস আত্মসংযম শিক্ষা দেয়।
শৃংখলার সুফল হচ্ছেঃ (ক) মিতাচার ও (খ) সময়ের সদ্ব্যবহার। মিতাচার বা সংযম ইসলামি আদবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর ফলে একটি সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের সৃষ্টি হয়। মানুষের সেবার জন্য এটা প্রয়োজন (কারণ যে ব্যক্তি অতিরঞ্জন দোষে দুষ্ট অথবা মেকি আচরণে অভ্যস্ত সে কেমন করে এর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে অন্যের সেবা করবে?) এবং আল্লাহর আদেশ মেনে চলতেও এটা প্রয়োজন। সময় হচ্ছে জীবনের মূল্য মূল্যায়নের একটি মানবিক মাপকাঠি। কেয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি করা হবে তা হচ্ছে : সময়কে সে কিভাবে কাজে লাগিয়েছে। সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হচ্ছেঃ প্রতিটি মুহূর্তের সদ্ব্যবহার করা এবং প্রতিটি শস্যকণার হিসাব রাখা। এটা করতে হবে তার নিজের স্বার্থে এবং সমগ্র জাতির স্বার্থে।
উল্লিখিত নীতির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রেখে ইসলামি আদব প্রণীত হয়েছে। নিচে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো :
১. মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবন শুরু হয় সূর্যোদয়ের আগে সুবহে সাদেক থেকে এবং শেষ হয় এশার নামাজের পরপরই অর্থাৎ সূর্যাস্তের প্রায় দেড় ঘন্টা পর।
২. নিছক সময় ক্ষেপণের জন্য মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; অবশ্য মুসলমানদেরকে একে অন্যের সঙ্গে অহরহ দেখা সাক্ষাৎ করার তাগিদ দেওয়া হলেও তাদেরকে প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলাপ করার মাধ্যমেই দেখা সাক্ষাৎকে ফলপ্রসূ করতে হবে।
৩. খাওয়ার সময় অহেতুক দীর্ঘ সময় ব্যয় করা অনুচিত।
৪. কথাবার্তার সংযম প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলা অথবা বলার খাতিরেই কথা বলার বদ অভ্যাস সময়ের অপচয় মাত্র। চুপ থাকাই বাঞ্ছনীয়।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন

📄 মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন


উল্লেখ করা যেতে পারে, ইসলাম ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। নীচে কতিপয় পরিচিত আদবের বিবরণ দেয়া হলো। এই লক্ষ্য অর্জনে যে কোন আচরণের সহায়ক অথচ ইসলামি নীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়, এমন বিষয় ইসলামি আদবের অংশ। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সুপারিশ করা হচ্ছে:
১. ঘুমাবার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, দরজা-জানালা বন্ধ করা হয়েছে, খাবার বস্তু ও পানির পাত্র ঢাকা এবং আগুনের সব উৎস বন্ধ করা হয়েছে।
২. যে বাড়ির ছাদে প্রতিরক্ষা প্রাচীর নেই, অথবা এমন নির্জন স্থান আছে যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতেও কাউকে পাওয়া যায়না, এমন স্থানে ঘুমানো উচিত নয়। তাছাড়া বালিশ, লেপ-তোশক পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে, সেখানে কোন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ লুক্কায়িত আছে কি-না।
৩. পাত্র থেকে পানি পান করার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, ঐ পাত্রে ক্ষতিকর কোন কিছু পড়েনি।
৪. একা একা নয়, বরং যতদূর সম্ভব দলবদ্ধভাবে সফর করা উচিত। যানবাহন এমনভাবে পার্ক করা যাবে না, যাতে অন্যের অসুবিধা বা বিপদের কারণ হয়।
৫. জুতো পরার আগে পরীক্ষা করা দরকার, রাতে অথবা অব্যবহার কালে কোন ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ সেখানে লুক্কায়িত রয়েছে কি-না।
৬. কতিপয় প্রাণী যেমন সাপ, বিচ্ছু, ইঁদুর- ক্ষতিকর বিধায় মেরে ফেলতে হবে।

📘 ইসলামে নৈতিকতা ও আচরণ > 📄 মুসলমানদের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে ইসলামি আদব

📄 মুসলমানদের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে ইসলামি আদব


ইসলামি আদবের অন্যতম সাফল্য হচ্ছে: বিভিন্ন জাতির অন্তর্ভুক্ত, ভিন্ন ভাষাভাষী এবং বিশ্বের বিভিন্নাঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত ইসলামি আদব লেহাজের ধর্মীয় প্রকৃতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য পাকিস্তান সফরকারী একজন মরোক্কোবাসী সেখানকার জনগণের আচরণ বুঝতে অসুবিধায় পড়েনা, অথবা বিদেশ বিভূই বলেও মনে হয়না। মিশরের মুসলিম মহিলারা ইসলামি পোশাক পরিহিতা তুর্কি মহিলাদের দেখে বিস্মিত হয় না। ইসলামি সমাজের সদস্যরা প্রতিদিন বিভিন্ন উপলক্ষে তাদের সংহতি প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় যে, তারা যেসব পন্থায় কাজ করে, তা তাদের ঐতিহ্যের অংশ। ইসলামি আদব মুসলমানদের মধ্যে অভিন্ন সমঝোতা গড়ে তোলে; গঠন করে একটি সার্বজনীন সংস্কৃতি। স্থানীয় সংস্কৃতি এক ইসলামি সম্প্রদায় থেকে অপর সম্প্রদায়ে ভিন্ন হতে পারে। নামাজ পড়া ও শুভেচ্ছা জানানো, প্রধান প্রধান উৎসব, পানাহারে বিধি নিষেধ (যেমন মদ্য পান), হালাল ও হারাম মেনে চলা- প্রভৃতি সার্বজনীন ইসলামি ঐক্যের উপকরণ। প্রতিটি অঞ্চলে মুসলিম শালীন পোশাক পরিধান করে এবং বেশির ভাগ মুসলিম দেশে যথাযথ ইসলামি পোশাক পরে। স্থানীয় বৈচিত্র্যধর্মী সংস্কৃতি (যেমন খাবারের ক্ষেত্রে পাক-ভারত উপমহাদেশে জনপ্রিয় বিরিয়ানী অথবা পোশাকের ক্ষেত্রে ভারতে মুসলিম নারীদের মধ্যে চালু শাড়ী) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ: এর ফলে এক অঞ্চলের মুসলমানদের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মুসলমানদের পার্থক্য বুঝা যায়। কুরআনের ভাষায় আমাদের বিভিন্ন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে আমরা একে অপরকে চিনতে পারি। এসব বিষয় বিশেষ কোন এলাকার মুসলমানদের চরিত্র ও পরিচয় মুছে দেয়না। ইসলামি আদবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হচ্ছে: অমুসলমানদের আচার আচরণের অনুকরণে নিষেধাজ্ঞা পালন। এর সাথে অবশ্য হস্তশিল্প, প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞানান্বেষণ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। ইসলাম জ্ঞানান্বেষণকে সবসময় উৎসাহিত করে এসেছে। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার ব্যাপারে আচার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা সুস্পষ্ট যে, মুসলিম জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আচার আচরণ তাদের নিজস্ব ইসলামি চরিত্র দ্বারাই পার্থক্য করা যেতে পারে।
মুসলমানদের জীবনে অমুসলমানদের সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের অর্থ এ নয় যে, ইসলামি সত্তা মুছে গেল। এর কারণ হচ্ছে ইসলামি জীবনব্যবস্থা এত গভীরভাবে প্রোথিত যে, মুসলমানরা সহজেই তা থেকে ছাড়া পেতে পারেনা এবং এটা গভীরভাবে প্রোথিত হওয়ার কারণ হচ্ছে এটা ইতিহাসের এক বিশেষ সময়ের দাবি অনুযায়ী কোন অস্থায়ী উদ্ভাবনা নয়- বরং মানুষে মানুষে, মানুষ ও খোদার মধ্যে মানবিক সম্পর্কের অপরিবর্তনীয় বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, আন্তঃসম্পর্কিত আচরণ ও আদর্শের স্থিতিশীল কাঠামো।
কেউ এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করলে, সোভিয়েত ইউনিয়নে খৃস্টবাদ ও ইসলামের বিভিন্ন পর্যায় পর্যালোচনা করে দেখুন। উভয় ধর্মই রুশ কম্যুনিজমের আদর্শ কর্তৃক সমভাবে ঘৃণিত ও নির্যাতিত। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনৈক্য সত্ত্বেও সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের সাথে পূর্বের সোভিয়েত অঞ্চলের مسلمانوں সাংস্কৃতিক মিল ও ইসলামি ঐক্য একটি প্রমাণিত বাস্তবতা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00