📄 ইসলামি আদবের ধর্মীয় দিক
ইসলাম খোদার বিশুদ্ধ এককত্ববাদ বা তৌহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আদিম অথবা পরবর্তী পর্যায়ে উদ্ভাবিত সব রকম বহুত্ববাদ ইসলাম প্রত্যাখ্যান করে। শরীয়াহ হচ্ছে এই ধারণাগুলোরই বহিঃপ্রকাশ এবং খুঁটিনাটি সবকিছু শরীয়াহ থেকে উদ্ভূত। ইসলামি আদব তৌহিদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং তার মৌল নীতির প্রতি সুদৃঢ় সমর্থন জানায়।
📄 কয়েকটি উদাহরণ
১. খোদা ব্যতীত অপর কারো দাস বুঝায় যেমন আব্দ আল নবী (নবীর দাস) এমন নামকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২. খোদার কর্তৃত্বাধীন যেমন বায়ু বৃষ্টি, প্রভৃতি প্রাকৃতিক নিদর্শনকে অভিশাপ দেওয়া নিষিদ্ধ। একইভাবে কারো ভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্যের জন্য খোদাকে দোষারোপ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. বক্তব্য বা বিস্ময়সূচক উক্তি যা তৌহিদের বিরোধী যা খোদার শরীকানা স্বীকার করে বলে ধারণা করা হয়, তা নিষিদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, খোদা যা ইচ্ছা করেন অথবা খোদা ও তুমি ছাড়া আমার কোন সাহায্যকারী নেই- এ ধরনের বক্তব্যদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. কুরবাণী শুধু আল্লাহর জন্যই করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম নেয়া না হলে অথবা অন্য কারো নামে জবাই করা হলে ঐ প্রাণীর গোশত হারাম হবে এবং কুরবানী বাতিল হবে।
৫. কারো মৃত্যু হলে ইসলাম বিরোধী বক্তব্যদান যেমন, আমাদের এখন কি হবে অথবা লোকটি অকালে মৃত্যুবরণ করেছে ইত্যাদি বলা নিষেধ।
৬. খোদার নাম বা ছিফাত ছাড়া অন্য কারো নামে বা বস্তুর শপথ করা নিষিদ্ধ।
৭. আল্লাহ ছাড়া অপর কারো নামে মানত বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা পূরণ করা যাবেনা।
৮. আল্লাহ্র ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া অন্য কারো প্রতি ভরসা করা নিষিদ্ধ বরং বলতে হবে ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাহেন ত)।
৯. কোন মানুষকে সেজদা করা যাবেনা। কারণ সেজদা শুধু নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকেই করতে হবে।
১০. কোন কিছুর অশুভ আশঙ্কা করে সফর থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়, কারণ তা তকদীরে বিশ্বাসের পরিপন্থী।
১১. ইসলামের নির্দেশিত করবস্থান জিয়ারতের উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃতদের কথা স্মরণ করে আল্লাহর প্রতি জীবিতদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং অন্যদের প্রতি সদাচারের মাত্রার উন্নতি সাধন করা।
১২. কাবা শরীফ পৃথিবীতে খোদার পয়লা মসজিদ। হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও তৎপুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) মক্কায় উহা নির্মাণ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা নামাজে কিবলামুখী হয়। এটা মুসলিম ঐক্য ও ইসলামي ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু মুসলমানদের নামাজের চেয়ে এর পারিপার্শ্বিক অবস্থানের গুরুত্ব অনেক বেশি। জীবজন্তু জবাই করার সময় পশ্চিমমুখী হয়ে জবাই করা হয়। মুসলমানদের লাশ কবরে শায়িত করা হয় কিবলামুখী করে। এমনকি পায়খানা বা টয়লেটের ডিজাইন কিবলার সাথে সম্পর্কিত। এস্তেঞ্জার সময় মুসলমানদের কিবলামুখী না হওয়া বা কিবলাকে পিছনে ফেলে না বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুসলিম ঐক্য ও সংহতিতে ইসলামি আদব কায়দার অবদান সম্পর্কে এই গ্রন্থে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। মান নির্ধারক ইসলামের আদব লেহাজ নিষ্ঠার সাথে মেনে চললে বহু বিদয়াত দূর করা সম্ভব। মূল ও প্রকৃত ধর্মীয় ইসলামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন কোন আকিদা বা আচরণ যুক্ত করাকে বিদয়াত বলে।
নবী করিম (সা.) বিদয়াত প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, "যে কেউ আমাদের ধর্মের মধ্যে নতুন কোন কিছু সংযোজন করলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।" এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন থেকে সাবধান থেকো; কারণ প্রতিটি বিদয়াত হচ্ছে পাপ এবং প্রত্যেক পাপ দোযখের দিকে টানবে।"
ইসলামের সঙ্গে কোন কিছুর সংযোজন করাকেই বিদয়াত বলে এবং তা বাতিল। ইসলামي জিন্দেগির বিভিন্ন পর্যায়ে বিদয়াতের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নেতিবাচক। এর পরিণামে ইসলামের সহজ সরল বিধান জটিল প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়, যদ্দরুণ মুসলিম জিন্দেগির দু'একটি বিশেষ দিক ছেড়ে দিতে হয় বা বাতিল করতে হয়। বিদয়াতকে ইজতিহাদের সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে মিল করা ঠিক নয়। কারণ ইজতিহাদ হচ্ছে ইসলামের বিধি বিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির ব্যবহার। যোগ্যতাসম্পন্ন ওলামায়ে কেরাম-ই এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
আগেই বলা হয়েছে, মুসলমানদের আচার ব্যবহারে বহু অনৈসলামিক বিষয় যুক্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করা হলো:
১. ইসলামে কতিপয় ধর্মীয় উৎসব চালু করা হয়েছে; যেমন মহানবীর (সা.) জন্মদিন (মিলাদ), তাঁর ঊর্ধ্বাকাশে আরোহন (মিরাজ) এবং তাঁর দেশত্যাগ (হিজরত)।
২. কবরস্থানের দিকে লাশ নিয়ে যাবার সময় উচ্চঃস্বরে যিকির করা এবং জোরে কুরআন তেলওয়াত করা।
৩. প্রত্যেক জামাতে নামাজ আদায়ের পর মোসাফাহা করা।
৪. কারো মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার তৈরি করে তা অন্যকে খাওয়ানো। অথচ প্রকৃত ইসলামি আকিদা হলো, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে খাবার তৈরি করে শোকাহত পরিবারকে খাওয়ানো; কারণ এ সময় তারা শোকে মুহ্যমান থাকে।
৫. খবর বাঁধানো ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করণ।
টিকাঃ
৯. Al-Nawaw's Forty Hadith. p-40
📄 ইসলামি আদবের মনস্তাত্ত্বিক দিক
ইসলামي আদবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনস্তাত্ত্বিক দিকের প্রতি পুরোপুরি লক্ষ্য রাখা বিধেয়। এক্ষেত্রে কয়েকটি দৃষ্টান্ত:
১. মহিলাদের মাসিকের সময় তালাক দান করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, কারণ এ সময় মহিলারা মনস্তাত্ত্বিক চাপে দিন কাটায়।
২. স্বাস্থ্যগত সুবিধা ছাড়াও ইসলামে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতার ফলে শরীর ও মন সতেজ থাকে। নামাজের আগে অজু করা, যৌনসঙ্গমের পর গোসল করা, সন্তান প্রসব ও মাসিকের পর গোসল করার ক্ষেত্রেও একথা সত্য। যারা লাশের গোসল করান তাদেরকেও গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পরামর্শের তাৎপর্য হচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে গোসল করার ফলে জনগণ মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকে।
📄 ইসলামি আদবের মেডিক্যাল ও স্বাস্থ্যগত দিক
ইসলাম মুসলমানদের সর্বদা পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকার শিক্ষা দিয়ে থাকে। বিশ্বস্ত মেডিক্যাল সূত্রে প্রমাণিত হয় যে, শরীর, স্থান ও পোশাক পরিচ্ছদের প্রাত্যহিক পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা শরীরের সুস্থতা রক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখে। পরিচ্ছন্ন থাকার ফলে রোগ- জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
মুসলমানদের নামাজের পূর্বে প্রয়োজনীয় শর্ত হিসেবে প্রত্যহ কয়েকবার অজু করতে হয়। শরীরের যে অংশ ধূলাবালির উন্মুক্ত থাকে জন্য তা-ই প্রধানত ধৌত করতে হয়।
ইসলাম নখ কাটার বিধান এজন্য করেছে যে, হাতের যে অংশের সাহায্যে প্রতিনিয়ত খাবার খাওয়া হয় ও পানি পান করা হয়- এবং করমর্দন করতে হয়- সেগুলোকে ময়লা ও অশুচি থেকে রক্ষা করার জন্যে। বগলের চুল ও গোপনাঙ্গের চুল কাটার বিধান করেছে ইসলাম। এটি সোয়েট গ্লাণ্ডস (Sweat Glands) কে কাজ করতে সহায়তা করে এবং সুইট গ্লাণ্ডসের ক্ষতি করতে পারে, এমন সব জীবাণুর বংশবৃদ্ধিতে তা বাধা দেয়। মুসলমানকে তার কাপড় চোপড় ও নিজেকে মল ও পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। পেশাবে ইউরিয়া এবং অন্যান্য নাইট্রোজেনের যৌগ বিদ্যমান। এগুলো জীবাণুর তৎপরতায় এ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত হয় এবং দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। মলমূত্র থেকে সংক্রমণের মাধ্যমে Pinworm (oxy uriasis), Viral hepatitis, Scabies এবং Taniasisi - প্রভৃতি রোগ বিস্তার লাভ করে।
মুসলমানদের অতিরিক্ত আহার করা উচিত নয় বরং উদরপূর্তির আগেই আহার বন্ধ করা উচিত- এ ধারণা চিকিৎসাগত, সামাজিক ও নৈতিক কল্যাণ থেকে উৎসারিত। পাকস্থলীতে রয়েছে সম্প্রসারণশীল receptors, এটি স্ফীত হলে ব্যথা ও অস্বস্তি ও অন্যান্য রোগের সৃষ্টি হতে পারে। পানি পানকালে মুসলমানদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পাত্রে (বা গ্লাসে) নিঃশ্বাস না ফেলতে; কারণ আভ্যন্তরীণ বাতাসের চাইতে পানিতে বিদ্যমান বাতাসে কার্বন-ডাই- অক্সাইডের পরিমাণ অনেক কম এবং দেহের সঞ্চালন তন্ত্রগুলোতে অধিকহারে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি শরীরে নেতিকবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
মুসলমানরা দুধ পানের ফলে যে কল্যাণকর সুবিধা পেয়ে থাকে, তার জন্যে খোদার শুকরিয়া প্রকাশ করে থাকে। দুধ আদর্শ পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে পরিচিত। এতে প্রধানতঃ ভিটামিন-ডি, ক্যালসিয়াম, ফসফেটসহ অনেক ভিটামিন ও খনিজ ছাড়াও পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিন বিদ্যমান। এগুলোর অভাবে শিশুদের শরীর গঠনে অসুবিধা ও বড়দের রক্তশূন্যতা (Oesteomalacis) দেখা যায়।
ইসলামের বিধান অনুসারে পশু জবাই করার ফলে রক্তমুক্ত গোশত পাওয়া যায়। রক্তে বহু সূক্ষ্ম জীবাণু বাস করে, যা বহু রোগের উৎস হতে পারে। স্বাস্থ্যগত দিক ছাড়াও বহু লোক রক্ত মিশ্রিত গোশত দেখে অথবা গোশতের মধ্যে রক্ত নিঃসৃত হতে দেখে বিরক্ত বা পীড়িত হয়ে পড়ে।
ইসলামে শূকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। শূকর আবর্জনা ও উচ্ছিষ্টসহ যে কোনো খাদ্য খেয়ে থাকে। এ ব্যাপারে স্যাকর (Sakr) বলেন, শূকরের দেহে বহু সংখ্যক জীবাণু, পরজীবী ও ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং এই মাংস খাওয়ার পর এসব রোগ মানবদেহে সংক্রমিত হয়। এসব জীবাণুর মধ্যে রয়েছেঃ ফিতা ক্রিমি, বক্র ক্রিমি, Hookworm, Faciolopsis, Paragonimus, Clonorchis Senesis ও Erysipelothrix Rhusphathiae." তিনি আরো বলেন, সর্বাধিক জীবাণুবাহক শূকর হচ্ছে বহু মারাত্মক ও জটিল রোগের উৎস। এর মধ্যে রয়েছে আমাশয়, Trichinosos, ফিতা ক্রিমি, বক্র ক্রিমি, হুকওয়ার্ম, জন্ডিস, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, আন্ত্রিক প্রতিবন্ধক (Intestinal Obstruction), মারাত্মক প্যানক্রিয়াটিটিস (Acute Pancreatitis), যকৃতের প্রসারণ (Enlargement), ডায়রিয়া, শারীরিক দুর্বলতা, মারাত্মক জ্বর- যদ্দরুণ শিশুদের বিকাশ ব্যাহত হয়, টাইফয়েড, অঙ্গহানি, হৃদরোগ, গর্ভপাত, বন্ধ্যাত্ব এবং আকস্মিক মৃত্যু ইত্যাদি।
ইসলামে মদ্যপান নিষিদ্ধ। এর কিছুটা উপকারী দিক থাকলেও এর ফলে যে মাদকাসক্তির সৃষ্টি হয়, তাতে নৈতিক ও শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। তদুপরি অধিক মদ্যপানের ফলে পাকস্থলীতে জ্বালা এবং পেপটিক আলসার হয়। এর ফলে যকৃতের প্রদাহ, লিভার সিরোসিস এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে যকৃত বিকল হয়ে যায়।
মুসলমানদের হাঁচি আটকে রাখা ঠিক নয়, বরং এ জন্য খোদার শোকর করা উচিত। উপরের শ্বাস-প্রশ্বাসের অঞ্চল থেকে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির জ্বালা হতে এর উৎপত্তি এবং এর ফলে জ্বালাতনকারী পদার্থ বের হয়ে যায়। হাঁচি ঠেকিয়ে রাখলে জ্বালাতনকারী পদার্থ রয়ে যায় এবং প্রদাহের সৃষ্টি করে। হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে কোন ব্যক্তির উপরের শ্বাস প্রশ্বাস অঞ্চলে বিদ্যমান জীবাণুর সঞ্চালন রোধ করা যায়।
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য খতনা করা ফরজ এবং পাশ্চাত্য বিশ্বের কোন কোন দেশে মেডিক্যাল গ্রাউণ্ডেই বর্ধিত হারে খতনা করা হচ্ছে। লিঙ্গের অগ্রত্বক কেটে না ফেলা হলে ময়লা ও জীবাণু জমতে পারে, ফলে ব্যাক্টিরিয়ার বিকাশ হতে পারে। একারণে নারীদের যৌনাঙ্গে ক্যান্সার সদৃশ পরিবর্তন হতে পারে।
মহিলাদের মাসিকের সময় যৌনসঙ্গম ইসলামে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুটো কারণে :
১. মাসিকের সময় গর্ভাশয়ের সংকীর্ণ অংশ উন্মুক্ত হয়ে যায়; ফলে সঙ্গমের দরুণ জরায়ু ও ডিম্বনালীতে ব্যাক্টেরিয়া প্রবেশের পথ সুগম হয়। পরিণামে প্রদাহ ও আঠালো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। ফলে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি হতে পারে।
২. পুরুষ তার যৌনাঙ্গে রক্ত দেখার পর তারও শরীরে নেতিবাচক দৈহিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর ফলে তার স্ত্রীর সঙ্গে যথানিয়মে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে তার মনে বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হতে পারে।
পায়ুপথে সঙ্গমের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার কারণ হচ্ছে : এটা এক যন্ত্রণাদায়ক প্রক্রিয়া এবং এর ফলে মলত্যাগে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া পুরুষের যৌনাঙ্গ মলসিক্ত হতে পারে, আর এই মলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু থাকতে পারে, যার ফলে পুরুষের যৌনাঙ্গ সংক্রমিত হতে পারে।
মাসিকের সময় মহিলাদের যৌন হরমোনসমূহ বিঘ্নিত হয়- পরিণামে মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় দেখা যায় এবং তা প্রতিভাত হয় স্নায়ুবিক উত্তেজনা ও দৌর্বল্যে। মাসিকের সময় মহিলাদের আচরণে যে পরিবর্তন দেখা যায়, তার কারণ এখানেই নিহিত। এজন্য এসময় মেয়েদের নামাজ ও রোজা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে আংশিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃতদেহকে শিগগিরই কবর দিতে হয়। এর ফলে যে পচনের ক্ষতির ব্যাপারে মুসলমানরা সজাগ, তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ায় এই বিপদের আশঙ্কা আরো বেশি। কারণ সেখানে লাশ শীতল রাখার সুযোগ সুবিধা নেই।
প্রহরী ও শিকারী কুকুর ছাড়া কুকুর প্রতিপালনের অধিকার মুসলমানদের দেওয়া হয়নি। তবে এসব কুকুরকেও বাড়ির বাইরে রাখতে হবে। কুকুরের মুখের লালায় জলাতঙ্ক রোগের জীবাণু রয়েছে, যা কুকুরের কামড় অথবা চামড়ায় কোন ঘায়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। কুকুরের অন্ত্রে এক প্রকার কৃমি (Echinococcus) থাকে, যা কুকুরের মল দ্বারা দূষিত খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। এর ফলে যকৃত এবং ফুসফুসে প্রাথমিকভাবে মলকোষ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।
টিকাঃ
১০. মিশকাত ২য় খণ্ড, পৃঃ ৪৬৫।
১১. A. H. Sakr Possible Reasons for its Prohibition, Published by the Author, 1975, P-15.
১২. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-১৮।