📄 অন্যদের প্রতি বিবেচ্য বিষয়
কারো ক্ষতি করা বা তার উদ্দেশ্যে শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক অথবা নৈতিক নির্যাতন পরিত্যাগ করতে হবে। মহানবীর (সা.) ভাষায়, কারো ক্ষতি করা অথবা কারো ওপর প্রতিশোধ নেয়া উচিত নয়।
কারো সাথে ঘৃণাচ্ছলে কথা বলা সত্যিকার মুসলমানদের আচরণ নয়। প্রকৃতপক্ষে ইসলামে সদাচরণ অনেকখানি নির্ভর করে অন্যের প্রতি সুবিবেচনা প্রসূত ব্যবহারের ওপর। এক্ষেত্রে ইসলামি আদবের অবদান অনেক। এ ব্যাপারে কয়েকটি উদারহণ দ্রষ্টব্য:
১. প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারো বিশ্বাসের নিন্দা বা গালাগাল দেওয়া নিষিদ্ধ।
২. রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যবহারের নীতি হবে থুথু না ফেলা, চেঁচাচেঁচি না করা। অপরের ক্ষতি করা, বাধাদান অথবা বিরক্ত করা চলবেনা।
৩. কোন মুসলমানকে কেউ গালিগালাজ করলে এবং তার দোষত্রুটি প্রকাশ করলেও তাকে গালি দেওয়া অথবা তার ভুলত্রুটির কথা বলা ঠিক নয়।
৪. অন্যের সাথে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা, অভদ্র বা তির্যক কথা বলা নিষিদ্ধ। কটাক্ষ করা, চোগলখুরি করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আন্দাজ, অনুমানের মাধ্যমে চরিত্র হনন ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫. খাবার গ্রহণকালে অপ্রীতিকর ভাবভঙ্গি দেখানো উচিত নয়, কারণ এতে অন্যরা বিরক্ত হতে পারে।
৬. তিনজন এক সাথে থাকলে দু'জন একান্তে আলোচনা করা উচিত নয়; কারণ এতে তৃতীয় ব্যক্তি আহত হতে পারে।
৭. মৃতদেরকে গালিগালাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ এতে তাদের জীবিত আত্মীয়রা মনে আঘাত পায়।
৮. অন্যদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে তাদের আরাম, আয়েশ ও কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোন ব্যক্তিকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তার কাপড় ও মুখে দুর্গন্ধ না থাকে। পিঁয়াজ বা রসুন খাওয়ার পর কারো সাথে দেখা সাক্ষাৎ না করাই শ্রেয়।
৯. মসজিদে দু'জনের মধ্যে জোর করে স্থান করে নেওয়া অথবা কোথাও যাবার কালে অন্যের চেয়ে এগিয়ে যাওয়াকে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এর ফলে তারা বিরক্ত হবে।
১০. স্থির পানিতে, গাছের ছায়ায়, রাস্তায় বা কোন সরকারি স্থানে পেশাব, পায়খানা করা নিষেধ, কারণ এর ফলে অন্যেরা এগুলো র সাধারণ ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে অথবা এর ফলে স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।
১১. পায়ের জুতো ও মোজা খুলে এমনস্থানে রাখা উচিত, যাতে তার গন্ধে অন্যকে বিব্রত না হতে হয়।
১২. হাঁচি দেবার সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে হবে। হাই তোলার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে। কথা বলার সময় বড় আওয়াজে কথা বলা উচিত নয়, হয়তো অনেকে এজন্য বিরক্ত হতে পারে। এমনকি বসার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে, যাতে অন্যরা বিরক্ত না হয়। কখনও অন্যের প্রতি শরীরের পিছনের অংশ ঘুরিয়ে বসা হয়, এটাও ঠিক নয়।
টিকাঃ
৮. Al-Nawawi's Forty Hadith Translated by Ezzeddin Ibrahim, Damascus, Al-Duram Publishing House. 1979 P. 106.
📄 সামাজিক সম্পর্ক রক্ষায় ইসলামি আদবের ভূমিকা
ইসলামি আদবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে : সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বজায় রাখা। আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় গুণাবলী হচ্ছে সততা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, ওয়াদা রক্ষা করা, ক্রোধ সংবরণ করা, ধৈর্য, ভদ্রতা, মমত্ববোধ ইত্যাদি। এসব গুণ মানুষের মধ্যে অনাস্থার ভাব দূর করে আস্থা সৃষ্টি করে- যা সুষ্ঠু সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ভিত্তি যুগিয়ে থাকে।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা উচিত অথবা নিজের জন্য যতখানি ভাবা হয় অন্যের জন্যেও তা ভাবা আবশ্যক। মুসলমানদেরকে পারস্পরিক দায়িত্বশীল হতে হবে এবং একজনকে অপরের বাস্তব সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।
ইসলামি আদব লেহাজে আনুষ্ঠানিকতার স্থান সামান্যই। এর ফলে অবাধ সামাজিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, সমাজ প্রশাসন আরো গতিশীল হয়, বৈঠকাদি ও যাতায়াতের পথ সুগম হয়। কারণ ইসলামে বিচ্ছিন্নতা নেই। মুসলমানদের পারস্পরিক দেখা সাক্ষাতের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে এজন্যে যে, এর ফলে সামাজিক সম্পর্ক জোরদার হয় এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মনস্তাত্ত্বিক কুফল থেকে ব্যক্তি রক্ষা পায়। তদুপরি মুসলমানদেরকে অবাধে দেখা সাক্ষাতের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। মেহমানদারির ব্যাপারে কর্তব্য হচ্ছে মেহমানের প্রতি অতিথিপরায়ণ ও উদার হওয়া। খাবারের দাওয়াত গ্রহণ করাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং বিয়ের ওয়ালিমায় যাওয়াকে অবশ্য কর্তব্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোগীদের দেখতে যাওয়া, জানাযায় শরীক হওয়া, শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া, আশ্বস্ত করা, তাদের খাদ্য সরবরাহ করা, সমাজের অন্যান্য লোকদের সাথে উপহার বিনিময় করা, সাক্ষাতে বা বিদায় নেবার সময় মোসাফাহা করা, বিয়ে বা জন্মের ন্যায় খুশির দিনে শরীক হওয়া- এগুলো সামাজিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে এ ধরনের বিনিময়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুসলমানদের বলা হয়েছে, সময়ে সময়ে ভোজের আয়োজন করতে এবং এ উপলক্ষে লোকদের দাওয়াত দিতে। বিয়ে, জন্ম এবং কুরবানীর দিনের ন্যায় দিনগুলোতে ভোজনের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মর্যাদার পার্থক্য সত্ত্বেও একত্রে ভোজনের ফলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ে। এজন্য যেসব ভোজের মজলিশে শুধু ধনীদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং গরিবদের বাদ রাখা হয়- এ ধরনের ভোজকে ইসলাম নিকৃষ্টতম ভোজ হিসেবে গণ্য করে। ব্যক্তিগত স্বার্থমুক্ত সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। এ হবে মূলতঃ খোদার সন্তুষ্টির জন্য। অনুরূপভাবে, প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কারো দেওয়া উপহার মুসলমানদের গ্রহণ করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত স্বার্থে অর্থাৎ ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অথবা কোন কিছুর প্রত্যাশার বিনিময়ে দাওয়াত দেওয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে ব্যাপক মেলামেশার জন্য সামাজিক জীবন যাপনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমাজের বহু মানুষ এবং নানা বর্ণের মানুষ দিনে একাধিকবার মেলামেশার সুযোগ পায়। শুক্রবার জু'মার নামাজ আদায় করার জন্য মুসলমানরা মসজিদে সমবেত হয় এবং দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া মুসলমানদের ওপর এটা ফরজ। এছাড়া বছরে দু'টি আরো উৎসব রয়েছেঃ একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর এবং অপরটি ঈদুল আযহা। তাছাড়া বিশ্বের সকল স্থান থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মুসলমান মক্কা শরীফে পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য সমবেত হয়।
মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মুসলমানরা মসজিদে সমাজ ও দেশের সাথে সম্পর্কিত ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। মসজিদ জনগণের মিলন কেন্দ্র হিসেবে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং এরকম রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। মসজিদের পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার উপর সেখানকার সামাজিক বৈঠকের সাফল্য নির্ভর করে।
অপরের সঙ্গে আলোচনা করার সময় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুসলমানদের প্রত্যহ গোসল করতে হয়। তাছাড়া যখনি সম্ভব, প্রকাশ্য সমাবেশে (যে কোন শুক্রবার জুমার জামায়াত, দু'টি ঈদ উৎসব) যোগ দেওয়ার আগে পরিচ্ছন্ন কাপড়, আতর ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যেগুলোর ব্যবহার সর্বাধিক যেমন হাত ও মুখমণ্ডল সর্বোপরি মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখতে হয়। কারণ মত বিনিময় ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা এ সময়ে নজরে পড়ে।
📄 ইসলামি আদবের ধর্মীয় দিক
ইসলাম খোদার বিশুদ্ধ এককত্ববাদ বা তৌহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আদিম অথবা পরবর্তী পর্যায়ে উদ্ভাবিত সব রকম বহুত্ববাদ ইসলাম প্রত্যাখ্যান করে। শরীয়াহ হচ্ছে এই ধারণাগুলোরই বহিঃপ্রকাশ এবং খুঁটিনাটি সবকিছু শরীয়াহ থেকে উদ্ভূত। ইসলামি আদব তৌহিদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং তার মৌল নীতির প্রতি সুদৃঢ় সমর্থন জানায়।
📄 কয়েকটি উদাহরণ
১. খোদা ব্যতীত অপর কারো দাস বুঝায় যেমন আব্দ আল নবী (নবীর দাস) এমন নামকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২. খোদার কর্তৃত্বাধীন যেমন বায়ু বৃষ্টি, প্রভৃতি প্রাকৃতিক নিদর্শনকে অভিশাপ দেওয়া নিষিদ্ধ। একইভাবে কারো ভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্যের জন্য খোদাকে দোষারোপ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. বক্তব্য বা বিস্ময়সূচক উক্তি যা তৌহিদের বিরোধী যা খোদার শরীকানা স্বীকার করে বলে ধারণা করা হয়, তা নিষিদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, খোদা যা ইচ্ছা করেন অথবা খোদা ও তুমি ছাড়া আমার কোন সাহায্যকারী নেই- এ ধরনের বক্তব্যদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. কুরবাণী শুধু আল্লাহর জন্যই করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম নেয়া না হলে অথবা অন্য কারো নামে জবাই করা হলে ঐ প্রাণীর গোশত হারাম হবে এবং কুরবানী বাতিল হবে।
৫. কারো মৃত্যু হলে ইসলাম বিরোধী বক্তব্যদান যেমন, আমাদের এখন কি হবে অথবা লোকটি অকালে মৃত্যুবরণ করেছে ইত্যাদি বলা নিষেধ।
৬. খোদার নাম বা ছিফাত ছাড়া অন্য কারো নামে বা বস্তুর শপথ করা নিষিদ্ধ।
৭. আল্লাহ ছাড়া অপর কারো নামে মানত বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা পূরণ করা যাবেনা।
৮. আল্লাহ্র ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া অন্য কারো প্রতি ভরসা করা নিষিদ্ধ বরং বলতে হবে ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাহেন ত)।
৯. কোন মানুষকে সেজদা করা যাবেনা। কারণ সেজদা শুধু নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকেই করতে হবে।
১০. কোন কিছুর অশুভ আশঙ্কা করে সফর থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়, কারণ তা তকদীরে বিশ্বাসের পরিপন্থী।
১১. ইসলামের নির্দেশিত করবস্থান জিয়ারতের উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃতদের কথা স্মরণ করে আল্লাহর প্রতি জীবিতদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং অন্যদের প্রতি সদাচারের মাত্রার উন্নতি সাধন করা।
১২. কাবা শরীফ পৃথিবীতে খোদার পয়লা মসজিদ। হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও তৎপুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) মক্কায় উহা নির্মাণ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা নামাজে কিবলামুখী হয়। এটা মুসলিম ঐক্য ও ইসলামي ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু মুসলমানদের নামাজের চেয়ে এর পারিপার্শ্বিক অবস্থানের গুরুত্ব অনেক বেশি। জীবজন্তু জবাই করার সময় পশ্চিমমুখী হয়ে জবাই করা হয়। মুসলমানদের লাশ কবরে শায়িত করা হয় কিবলামুখী করে। এমনকি পায়খানা বা টয়লেটের ডিজাইন কিবলার সাথে সম্পর্কিত। এস্তেঞ্জার সময় মুসলমানদের কিবলামুখী না হওয়া বা কিবলাকে পিছনে ফেলে না বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুসলিম ঐক্য ও সংহতিতে ইসলামি আদব কায়দার অবদান সম্পর্কে এই গ্রন্থে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। মান নির্ধারক ইসলামের আদব লেহাজ নিষ্ঠার সাথে মেনে চললে বহু বিদয়াত দূর করা সম্ভব। মূল ও প্রকৃত ধর্মীয় ইসলামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন কোন আকিদা বা আচরণ যুক্ত করাকে বিদয়াত বলে।
নবী করিম (সা.) বিদয়াত প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, "যে কেউ আমাদের ধর্মের মধ্যে নতুন কোন কিছু সংযোজন করলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।" এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন থেকে সাবধান থেকো; কারণ প্রতিটি বিদয়াত হচ্ছে পাপ এবং প্রত্যেক পাপ দোযখের দিকে টানবে।"
ইসলামের সঙ্গে কোন কিছুর সংযোজন করাকেই বিদয়াত বলে এবং তা বাতিল। ইসলামي জিন্দেগির বিভিন্ন পর্যায়ে বিদয়াতের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নেতিবাচক। এর পরিণামে ইসলামের সহজ সরল বিধান জটিল প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়, যদ্দরুণ মুসলিম জিন্দেগির দু'একটি বিশেষ দিক ছেড়ে দিতে হয় বা বাতিল করতে হয়। বিদয়াতকে ইজতিহাদের সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে মিল করা ঠিক নয়। কারণ ইজতিহাদ হচ্ছে ইসলামের বিধি বিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির ব্যবহার। যোগ্যতাসম্পন্ন ওলামায়ে কেরাম-ই এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
আগেই বলা হয়েছে, মুসলমানদের আচার ব্যবহারে বহু অনৈসলামিক বিষয় যুক্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করা হলো:
১. ইসলামে কতিপয় ধর্মীয় উৎসব চালু করা হয়েছে; যেমন মহানবীর (সা.) জন্মদিন (মিলাদ), তাঁর ঊর্ধ্বাকাশে আরোহন (মিরাজ) এবং তাঁর দেশত্যাগ (হিজরত)।
২. কবরস্থানের দিকে লাশ নিয়ে যাবার সময় উচ্চঃস্বরে যিকির করা এবং জোরে কুরআন তেলওয়াত করা।
৩. প্রত্যেক জামাতে নামাজ আদায়ের পর মোসাফাহা করা।
৪. কারো মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার তৈরি করে তা অন্যকে খাওয়ানো। অথচ প্রকৃত ইসলামি আকিদা হলো, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে খাবার তৈরি করে শোকাহত পরিবারকে খাওয়ানো; কারণ এ সময় তারা শোকে মুহ্যমান থাকে।
৫. খবর বাঁধানো ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করণ।
টিকাঃ
৯. Al-Nawaw's Forty Hadith. p-40