📄 বিধবার সমস্যাসংকুল জীবন
বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (Old Testament) অনুযায়ী মহিলাকে উত্তরাধিকারী সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার কারণে ইয়াহূদী সমাজে বিধবারা থাকে অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। স্বামীর আত্মীয় স্বজন তার খরচাদির ব্যবস্থা করলেও তার নিজের হাতে কোনো শক্তি নেই তাদেরকে খরচে বাধ্য করার, বরং তাদের অনুগ্রহের দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। এজন্য ইসরাইলে বিধবাগণ সমাজে সবচেয়ে নিম্ন শ্রেণির হয়ে থাকে। (ইশইয়া: ৫৪/৪)
কিন্তু বিধবাদের সমস্যার এখানেই শেষ নয়; বরং বাইবেলে (জেনেসিস: ৩৮) এসেছে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী সন্তানহীনা হলে স্বামীর ভাইয়ের সাথে বিবাহ বসবে যদিও সে বিবাহিত হয়। উদ্দেশ্য হলো তার ভাইয়ের যেন সন্তান হয় এবং তার নাম মরার পরেও সমাজে বেঁচে থাকে।
ইয়াহুযা আওনানকে বললেন: 'তোমার ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে যাও, তাকে বিবাহ কর এবং তোমার ভাইয়ের বংশকে রক্ষা কর'। (জেনেসিস: ৩৮/৮)
বিধবা নারীকে এ বিবাহে দ্বিমত করার কোনো অধিকার দেওয়া হয় নি। তাকে শুধুমাত্র মৃত স্বামীর উত্তরাধিকারী সম্পদের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়। তার দায়িত্ব শুধু তার মৃত স্বামীর বংশ রক্ষা করা। আজও ইসরাইলে এ প্রথাই চালু রয়েছে।
বিধবা মহিলা তার স্বামীর ভাইয়ের অংশের উত্তরাধিকারী সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। স্বামীর ভাই যদি ছোট হয় তাহলে তার বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী অপেক্ষা করবে। ভাই যদি তাকে প্রত্যাখ্যান করে শুধু তখনই সে স্বাধীন বলে গণ্য হবে এবং যাকে খুশি বিবাহ করতে পারবে। এ জন্যই স্বামীর ভাই কর্তৃক বিধবার স্বাধীনতা খর্ব করার রীতি ব্যাপকতা লাভ করেছে।
ইসলাম পুর্ব যুগে প্রায় এ ধরণেরই প্রথা চালু ছিল। তখন বিধবারা স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হত এবং তার পুরুষ আত্মীয় স্বজন তাতে অংশীদার হত। তখন আরো একটি প্রচলন ছিল, মৃত ব্যক্তির জেষ্ঠপুত্র তার সৎ মাকে বিবাহ করত। আর-কুরআনে এ সকল প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"তোমাদের পিতাগণ যে মহিলাদেরকে বিবাহ করেছেন, তোমরা তাদেরকে বিবাহ করো না। তবে যা বিগত হয়ে গেছে তা আলাদা। নিশ্চয় এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২২]
বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা মহিলাগণ ইয়াহুদী ধর্মে ঘৃণার পাত্র। গীর্জার ধর্মীয় পন্ডিতের জন্য বৈধ নয় কোনো বিধবা, তালাক প্রাপ্তা বা ব্যভিচারী নারীকে বিবাহ করা। ‘ধর্মীয় পণ্ডিত কুমারী নারীকে বিবাহ করবে। বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা বা ব্যভিচারী নারীকে বিবাহ করবে না; বরং নিজের জাতির কুমারীকে বিবাহ করবে। তার বংশকে কালিমালিপ্ত করবে না কেননা আমি পালনকর্তা পবিত্রকারী। (লেভিটিকাস: ২১/১৩-১৫)
বর্তমানে ইসরাঈলে পৌত্তলিক আমলের বড় বড় যাদুকরদের বংশ বর্তমান রয়েছে। তাদেরও অনুমতি নেই কোনো বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা বা ব্যভিচারী নারীকে বিবাহ করার।⁵⁰
ইয়াহুদী ধর্মে কোনো মহিলা তিনবার বিবাহ করার পর আবার বিধবা হলে (তিনজন স্বামীই যদি মারা যায়) তাকে “হত্যাকারীনী” হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। তাকে আবার পুনরায় বিবাহ করার অধিকার দেওয়া হয় না।⁵¹
কিন্তু আর-কুরআনে এগুলোর কিছুই নেই। বরং মুসলিম বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারী যাকে খুশি তাকেই বিবাহ করতে পারে। বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তাকে কোরআনের কোথাও ঘৃণার চোখে দেখা হয় নি।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে:
“আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও (এক বা দুই তালাক), অতঃপর তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়মানুযায়ী তাদেরকে রেখে দাও অথবা সহানুভূতির সাথে মুক্ত করে দাও। তোমরা তাদেরকে জ্বালাতন ও বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না। যারা এমন করবে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না। আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের ওপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে; যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ তা'আলা সর্ব বিষয়েই জ্ঞানময়।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩১]
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"আর তোমাদের মধ্যে যারা মারা যাবে এবং তাদের নিজেদের স্ত্রীদেরকে রেখে যাবে, সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেরা চারমাস দশদিন পর্যন্ত অপেক্ষা (ঈদ্দত পালন) করবে। তারপর যখন ইদ্দত পূর্ণ করে নেবে, তখন নিজের ব্যাপারে নীতিসংগত ব্যবস্থা নিলে কোনো পাপ নেই। আর তোমাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারেই আল্লাহর অবগতি রয়েছে।" [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৪]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন,
“আর যখন তোমাদের মধ্যে কেউ মারা যাবে, তখন তাদের স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাবে। অতঃপর, যদি স্ত্রীরা নিজে থেকেই বের হয়ে যায়, তাহলে সে যদি নিজের ব্যাপারে কোনো উত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আর আল্লাহ তা'আলা হচ্ছেন পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৪০]
**টিকাঃ**
⁵⁰ Hazleton, op. cit., pp. 45-46.
⁵¹ Ibid., p. 47.
📄 বহুবিবাহ
এবার আমরা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করব তা হলো বহুবিবাহ। বহুবিবাহ একটি পুরাতন রীতি যা বহু সম্প্রদায়েই পাওয়া যেত। বাইবেলেও বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ করা হয় নি। বাইবেলের পুরাতন নিয়মে (OldTestament) ও ইয়াহূদী পণ্ডিতদের লেখনীতে সর্বদা বহুবিবাহের বৈধতার কথা লক্ষ করা যায়। বলা হয় যে, নবী সুলায়মান আলাইহিস সালাম এর নিকট ৭০০ স্ত্রী ও ৩০০ দাসী ছিল। (১, কিংস: ১১/৩) আর দাউদ আলাইহিস সালাম এরও বেশ কিছু স্ত্রী ও দাসী ছিল। (২, সামুয়েল: ৫/১৩)
পুরাতন নিয়মে (Old Testament) পিতার উত্তরাধিকারী সম্পদে পুত্র এবং একাধিক স্ত্রীদের অংশ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। (ডিউটারনমী: ২২/৭)
তবে শুধুমাত্র স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে। (লেভিটিকাস: ১৮/১৮) ইয়াহুদী ধর্মগ্রন্থ তালমুদে বলা হয়েছে: “স্ত্রীদের সংখ্যা যেন কোনো ক্রমেই চারের বেশি না হয়”।⁵²
ইউরোপের ইয়াহুদীরা ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত বহুবিবাহের প্রথা চালু রেখেছিল। আর প্রাচ্যের ইয়াহূদীরা ইসরাইলে (যেখানে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ) আসার আগ পর্যন্ত এটা অব্যাহত রেখেছিল। তবে তাদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী বহুবিবাহ এখনও বৈধ।⁵³
বাইবেলের নতুন নিয়মে (New Testament) এ ব্যাপারে কি বলা হয়েছে? আসুন দেখে নেওয়া যাক। 'ইউহান্না হিলমান' তার কিতাবের “বহুবিবাহ নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা” শিরোনামে লিখেছেন-“বহুবিবাহ সম্বন্ধে নতুন নিয়মে (New Testament) কোনো নির্দেশও দেওয়া হয় নি আবার নিষিদ্ধও করা হয় নি”।⁵⁴
তৎকালীন ইয়াহুদী সমাজে বহুবিবাহের ব্যাপক প্রচলন থাকা সত্বেও ঈসা আলাইহিস সালাম বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন নি। “ইউহান্না হিলমান” আসল ব্যাপারটা প্রকাশ করে দিয়ে বলেছেন: রোমের গীর্জা থেকেই বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ইউনানী-রোমানীয় কৃষ্টি-কালচারের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। এ কৃষ্টি-কালচার একজন মাত্র স্ত্রী রাখার বৈধতা দেয় এবং ব্যভিচারকে স্বীকৃতি দেয়। তিনি তার কথার স্বপক্ষে পণ্ডিত এজেস্টাইনের কথা তুলে ধরেন। ‘বর্তমানে আমাদের উচিৎ রোমানীয় সভ্যতাকে অনুসরণ করা সুতরাং দ্বিতীয় বিবাহকে আর বৈধতা দেওয়া হবে না'।⁵⁵
আফ্রিকার গীর্জাগুলোর পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয় যে, ইউরোপীয় খৃষ্টানরা বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছে রোমানীয় সভ্যতার সাথে তাল মেলানোর জন্য ধর্মের কোনো কারণে নয়।
আল-কুরআনেও বহুবিবাহের স্বীকৃতি দেয়, তবে তা শর্ত সাপেক্ষে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"যদি তোমরা এতিমদের সাথে ন্যায় বিচার করতে পারবে না বলে আশংকা কর তাহলে, মেয়েদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা দুই, তিন বা চারটি পর্যন্ত বিবাহ করে নাও। আর যদি আশংকা কর যে, তাদের সাথে ন্যায়সংগত আচরণ করতে পারবে না তবে, একটিই বা তোমাদের অধিকার ভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে।" [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩]
কুরআন বাইবেলের বিপরীত। কুরআন বহুবিবাহের সীমা নির্ধারন করে দিয়েছে চারটি পর্যন্ত ন্যায়বিচারের শর্তে।
কুরআন কোথাও মুসলিমদেরকে বহুবিবাহ করতে উৎসাহ দেয় নি; বরং অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু, কেন? কেন বহুবিবাহের অনুমতি দিয়েছে? উত্তর ছোট্ট। তাহল: কিছু কিছু সময় ও স্থানে এগুলো সামাজিক কারণেই জরুরী হয়ে দাঁড়ায়। আগের আয়াতেও বলা হয়েছে ইয়াতীম ও বিধবাদের কারণে বহুবিবাহকে বৈধ করা হয়েছে। আর ইসলাম সর্বযুগের সর্বকালের সর্বস্থানের জন্য অত্যাধুনিক।
অধিকাংশ সমাজে নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি থাকে। আমেরিকাতে নারীর সংখ্যা রয়েছে পুরুষের চেয়ে কমপক্ষে আশি লক্ষ বেশি। গিনিয়াতে প্রতি ১০০ পুরুষের জন্য রয়েছে ১২২ জন মহিলা। তানজানিয়ায় প্রতি ১০০ জন মহিলার জন্য রয়েছে ৯৫.১০ জন পুরুষ।⁵⁶
এ সমস্যা সমাধানে সমাজের কি করা উচিৎ? এর অনেকগুলো সমাধান আছে। কেউ কেউ বলে: তারা অবিবাহিত থেকে যাবে। অন্যরা বলেন, জীবন্ত কবর দিতে হবে। (বর্তমান সমাজেও কিছু কিছু সমাজে এর প্রচলন লক্ষ করা যায়।) কোনো কোনো সমাজ যিনা-ব্যভিচারকে বৈধতা দেয় ইত্যাদি।
তবে আফ্রিকার অধিকাংশ সমাজে বহুবিবাহের বৈধতা রয়েছে। পশ্চিমারা অনেকেই মনে করেন যে, বহুবিবাহ নারীর জন্য অপমানকর। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোনো সমাজের মেয়েরা বহুবিবাহকে সমর্থন করে থাকেন, এতে পশ্চিমারা রীতিমত আশ্চর্য হয়। আফ্রিকার অধিকাংশ যুবতী নারী তার বিবাহের জন্য বিবাহিত পুরুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। কেননা তারা বুঝতে পারেন যে, উক্ত স্বামী তার দায়িত্ব পালনে সক্ষম। প্রচুর সংখ্যক আফ্রিকান মহিলা নিসঙ্গতা কাটাতে স্বামীদেরকে দ্বিতীয় বিবাহ করতে উৎসাহ প্রদান করে থাকেন।⁵⁷
নাইজেরিয়ায় ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়স্ক ৬০০০ মহিলার মধ্যে প্রায় ৬০% তার স্বামীকে দ্বিতীয় বিবাহ করতে বাধা দেন না। আর ২৩% মহিলা এটাকে প্রত্যাখ্যান করেন। কেনিয়ার ৭৬% মহিলা বহুবিবাহকে প্রত্যাখ্যান করেন না। কেনিয়ার গ্রামাঞ্চলের প্রত্যেক ২৭ জন মহিলার মধ্যকার ২৫ জন মহিলা বহুবিবাহকে প্রাধান্য দেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা মনে করে স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করলে বাড়ীতে তাদের ওপর কাজের চাপ কমে যাবে।⁵⁸
আফ্রিকার অধিকাংশ সমাজেই বহুবিবাহ বৈধ রয়েছে। এমনকি 'প্রটেস্টেন্ট গীর্জা'ও এটাকে বৈধতা দেয়। উচ্চপদস্থ এক ইংরেজ খৃষ্টানযাজক কেনিয়াতে বলেছেন: যদিও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার দ্বারা স্বামী স্ত্রীর মাঝে মহব্বত পয়দা হয় তবে, গীর্জা চিন্তা করে যে, অনেক সমাজে মহিলারা বহুবিবাহকে সাদরে গ্রহণ করছে এবং এ বহুবিবাহ প্রথা খৃষ্টান ধর্মবিরোধী নয়।⁵⁹
"আফ্রিকায় বহুবিবাহ" প্রথার ওপর গবেষণা করে খৃষ্টান পাদ্রী "ডেভিড জেতারী" বলেছেন: তিনি তালাক ও পুনর্বিবাহের চেয়ে তালাকপ্রাপ্তা নারী ও শিশুদের দিকে লক্ষ্য করে বহুবিবাহকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।⁶⁰
আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনেক মহিলাকে চিনি যারা দীর্ঘদিন থেকেই পশ্চিমা বিশ্বে অবস্থান করছেন। তারা বহুবিবাহ বিরোধী নন। তাদের মধ্যকার একজন যিনি আমেরিকায় বসবাস করতেন তিনি তার স্বামীকে দ্বিতীয় বিবাহ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে সন্তান পালনে তাকে বেগ পেতে না হয়। পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা খুব বেশি দেখা যায় যুদ্ধের সময়। আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান সপ্রদায়ের লোকেরা এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগত। এ সম্প্রদায়ের মহিলারা অবৈধ সম্পর্কের চেয়ে বহুবিবাহকেই বেশি অগ্রধিকার দিত। অপরদিকে ইউরোপের উপনিবেশবাদীরা অন্য কোনো বিকল্প রাস্তা দেখিয়ে না দিয়েই "অসভ্য" আখ্যায়িত করে বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।⁶¹
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানীতে পুরুষের চেয়ে মহিলা ছিল ৭৩,০০,০০০ বেশি। তন্মধ্যে ৩৩ লক্ষ বিধবা। সেখানে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১০০ জন পুরুষ ছিল সমবয়সী ১৭৬ জন মহিলার বিপরীতে।
সে সময় তাদের মধ্যকার অনেকেই পুরুষের প্রতি শুধু জীবনসঙ্গী হিসেবে নয়; বরং অভাবের তাড়নায় ভরনপোষণকারী হিসেবেও তাদের মুখাপেক্ষী ছিল। বিজয়ী সেনারা এ সমস্ত মহিলাদের থেকে সুবিধা ভোগ করত। প্রচুর সংখ্যক যুবতী ও বিধবা মহিলা দখলদার সেনাদের সাথে অবৈধ দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আমেরিকা ও ব্রিটেনের অধিকাংশ সৈন্য তাদের সাথে অবৈধ দৈহিক মেলামেশা করে বিনিময়ে তাদেরকে সিগারেট, চকোলেট বা রুটি প্রদান করত। ছোট্ট বাচ্চারা এ উপহার গুলো পেয়ে খুশি হত। ১০ বছর বয়সী একজন শিশু সমবয়সী শিশুদের কাছে এ ধরণের উপহার দেখে আকাংখ্যা করত কোনো ইংরেজ যদি তার মাকে এ ধরণের কিছু দিত তাহলে তারা ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেত।⁶²
আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রশ্ন করি- নারীর জন্য কোনোটা কল্যাণকর? স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহ যেটার প্রচলন রয়েছে রেড ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের মাঝে; নাকি সভ্যতার দাবিদার পশ্চিমা সেনাদের মতো ব্যভিচারে? অন্য কথায়, কোনো সিস্টেমটা নারীর জন্য সন্মানের আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত কুরআনের বিধান, নাকি রোমান সাম্রাজ্যের জারিকৃত বিধান?⁶³
১৯৪৮ সালে জার্মানীর মিউনিখে “পুরুষের চেয়ে নারী বেশি হয়ে যাওয়ার সমস্যা” নিয়ে কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। যোগদানকারীদের মাত্র কয়েকজন বহুবিবাহের পক্ষে মত দেওয়া ছাড়া তারা আর কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারেনি। অন্যরা তাদের মতের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। পরে এটার ওপর গবেষণা করে তারা সবাই একমত হলো যে, এটা ছাড়া উদ্ভুত সমস্যার আর কোনো সমাধান নেই; এটাই একমাত্র সমাধান। পরে কনফারেন্স থেকে পরবর্তীতে বহুবিবাহকে সমর্থন করে মতামত প্রদান করা হয়।⁶⁴
বর্তমানে বিশ্ব ব্যাপক ধ্বংসাত্বক অস্ত্রে ভরপুর। আজ হোক কাল হোক অচিরেই ইউরোপীয় খৃষ্টানরা বহুবিবাহকে তাদের সমস্যার একমাত্র সমাধান বলে মেনে নেবে। এ বাস্তবতাকে বুঝতে পেরেছেন পণ্ডিত "হিলমান"। তিনি বলেন, ধ্বংসাত্বক অস্ত্র (পরমানু ও রাসায়নিক পদার্থ প্রভৃতি) ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে পুরুষ ও নারী জাতির মধ্যে অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হবে। ফলে, বহুবিবাহ প্রথা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়বে, অন্যথায় জাতি চরম সংকটে পড়ে যাবে। এ অবস্থায় ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ ও গীর্জা নতুন নতুন সিদ্ধান্ত ও কারণ দেখিয়ে “বিবাহ” সম্বন্ধে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করবে"।⁶⁵
বহুবিবাহ আজকাল সমাজের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে দেখা দিয়েছে। কুরআনে বহুবিবাহের যে শর্ত দেওয়া হয়েছে আজকাল পশ্চিমা সমাজে আফ্রিকার তুলনায় বেশি পরিমাণে প্রচলিত রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। তাদের মধ্যকার গড়ে প্রতি ২০ জনে একজন যুবক তার ২১তম বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যায়।⁶⁶
তাদের অনেকেই হত্যার শিকার হয় আর অন্যরা অকর্মণ্য, কারারুদ্ধ বা মদ্যপ হয়ে থাকে।⁶⁷
এ ছাড়াও প্রতি চারজন মহিলার একজন ৪০ বছর বয়সেও অবিবাহিত থাকে। আর শেতাঙ্গদের মধ্যকার প্রতি দশজনে একজন অবিবাহিত থাকে।⁶⁸
অনেক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা ২০ বছরের আগেই সন্তানের মা হয়ে যায় এবং তারা ভরণপোষণের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়। এর ফলে একজন বিবাহ করে অথচ তার স্ত্রী তা জানে না।⁶⁹
এ সমস্যা মোকাবেলা করতে আফ্রো-আমেরিকানদেরকে বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।⁷⁰ সে সমাজের প্রতিটি সম্প্রদায় "অংশীদারিত্বের বিবাহ" (পুরুষ কাউকে বিবাহ করবে অথচ, স্ত্রী তা জানবে না) বৈধতার পক্ষে একমত হয়েছে যা স্ত্রী ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এ সমস্যা নিয়ে ১৯৯৩ সালের ২৭ শে জানুয়ারী "টেম্পল ফিলাডেলফিয়া” বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কনফারেন্স হয়েছে।⁷¹
অনেকেই এ সমস্যার সমাধান হিসেবে বহুবিবাহের বৈধতা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তারা বিশেষভাবে যে সমাজে ব্যভিচারের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল সেখানে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ না করার ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জনৈক মহিলা বললেন: আফ্রো-আমেরিকানদের উচিৎ আফ্রিকাকে অনুসরণ করা যারা বহুবিবাহকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
রোমান ক্যাথলিক এনথ্রোপোলজী (নৃতত্ত্ব বিজ্ঞান) বিশেষজ্ঞ "ফিলিপ কালব্রাইট” তার "বর্তমান যুগে বহুবিবাহ” নামক গ্রন্থে (যা খৃষ্টানদের মাঝে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে) লেখেন: আমেরিকান সমাজের বহু সমস্যার সমাধান রয়েছে বহুবিবাহের মধ্যে। এটা তালাক সমস্যার সমাধান করবে যা শিশুদের ওপর অতিমাত্রায় খারাপ প্রভাব ফেলে। আমেরিকান সমাজের অধিকাংশ তালাকের ঘটনা ঘটে থাকে নারী পুরুষের মধ্যকার অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপকতার ফলে। এ সমস্যাগুলোর সমাধানকল্পে বহুবিবাহ প্রথাকে বৈধ করা জরুরী। তালাকের চেয়ে এ পন্থাটা উত্তম। শিশুদেরকে রক্ষা করার জন্য এটা সর্বোত্তম পন্থা। তিনি আরো বলেন, সমাজে পুরুষ কম থাকার কারণে বিবাহের ক্ষেত্রে নারীরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, বহুবিবাহ এ সমস্যার পরিসমাপ্তি ঘটাবে। আফ্রো-আমেরিকানদের মধ্যে প্রচলিত “অংশীদারী বিবাহ” (স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করবে আগের স্ত্রীর অজান্তে) করার কোনো প্রয়োজন হবে না।⁷²
১৯৮৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগাজিনে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছিল নারীর সংখ্যা কম থাকায় "আইন কর্তৃক পুরুষকে বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে" অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী বহুবিবাহের পক্ষে মতামত প্রদান করে। একজন ছাত্রী বলল: তার (তার স্বামী বহুবিবাহ করলে) জন্য উত্তম হবে এবং তার মানসিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।⁷³
আমেরিকাস্থ “মর্মন” নামক ধর্মগোষ্ঠীর একদল মহিলা বহুবিবাহকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। কেননা স্ত্রীরা সন্তান লালন-পালনে সহযোগিতা করে থাকে।⁷⁴
ইসলামে বহুবিবাহ হয় উভয়পক্ষের ঐক্যমতে। কারো অধিকার নেই কোনো মহিলাকে বিবাহিত পুরুষের সাথে জোর করে বিবাহ দেবে। মহিলারও অধিকার আছে সে তার স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহকে প্রত্যাখ্যান করবে।⁷⁵
কিন্তু, বাইবেলে একদিকে বহুবিবাহের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে স্বামীর ভাইয়ের সাথে, (বিবাহিত হলেও) যখন বিধবা মহিলা সন্তানহীনা হয়। (দেখুন: বিধবার সমস্যা সংকুল জীবন অধ্যায়)
মহিলার কোনো অধিকার নেই তার স্বামীর ভাইয়ের সাথে বিবাহ বসায় দ্বিমত করার। (জেনেসিস: ৩৮/৮-১০)
উল্লেখ্য যে, মুসলিম সমাজের দিকে তাকালে বহুবিবাহ তেমন খুব একটা চোখে পড়ে না। কেননা নারী পুরুষের সংখ্যার মধ্যকার পার্থক্যটা উদ্বেগজনক নয়। তাই, আমরা বলতে পারি যে, পশ্চিমাদের অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপকতার তুলনায় মুসলিম বিশ্বে বহুবিবাহের সংখ্যা অতি নগণ্য।
বিখ্যাত প্রটেস্টানী খৃষ্টান 'বেলী গ্রাহাম' বলেন, সমাজকে বাচিয়ে রাখার স্বার্থেই বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ করা খৃষ্টানদের উচিৎ হবে না। ইসলাম সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্যেই বহুবিবাহকে বৈধ করেছে এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে জীবনসঙ্গীকে বেছে নেয়ার অধিকার দিয়েছে। খৃষ্টান সমাজের প্রত্যেক পুরুষ একটি মাত্র বিবাহ করে ঠিকই কিন্তু পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যকার অবৈধ সম্পর্কের সংখ্যা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এভাবেই দয়া ও উদারতার ধর্ম ইসলাম পুরুষকে দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি দিলেও পুরুষ মহিলার মধ্যকার গোপন সম্পর্ক পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ব্যভিচারের মরণ ছোবল থেকে সমাজকে বাচিয়ে রাখতে। এবং সমাজের স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখার গ্যারান্টি দিয়েছে।⁷⁶
কিন্তু, অনেক মুসলিম ও অমুসলিম দেশ আজ বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এমনকি সেখানে প্রথম স্ত্রীর অনুমতিতে হলেও দ্বিতীয় বিবাহ আইনানুগ অবৈধ বিবেচিত হয়। তবে স্ত্রীর অজান্তে বা তার সাথে প্রতারণা করে অপর মহিলাকে বিবাহ করা আইন অনুযায়ী বৈধ। এ ধরণের দ্বিমুখী আইনের স্বার্থকতা কী? আইন কি মানুষের সাথে প্রতারণাকে বৈধতা দেওয়ার জন্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে? বর্তমান সময়ে সভ্যতার দাবিদারদের দ্বিমুখী নীতিসমূহের মধ্যে এটাও একটা আজব নীতি।
**টিকাঃ**
⁵² Ibid., p. 49.
⁵³ Swidler, op. cit., pp. 144-148.
⁵⁴ Hazleton, op. cit., pp 44-45.
⁵⁵ Eugene Hillman, Polygamy Reconsidered: African Plural Marriage and the Christian Churches (New York: Orbis Books, 1975) p. 140.
⁵⁶ Ibid., p. 17.
⁵⁷ Ibid., pp. 88-93.
⁵⁸ Ibid., pp. 92-97.
⁵⁹ Philip L. Kilbride, Plural Marriage For Our Times (Westport, Conn.: Bergin & Garvey, 1994) pp. 108-109.
⁶⁰ The Weekly Review, Aug. 1, 1987.
⁶¹ 59. Kilbride, op. cit., p. 126.
⁶² John D'Emilio and Estelle B. Freedman, Intimate Matters: A history of Sexuality in America (New York: Harper & Row Publishers, 1988) p. 87.
⁶³ Ute Frevert, Women in German History: from Bourgeois Emancipation to Sexual Liberation (New York: Berg Publishers, 1988) pp. 263-264.
⁶⁴ Ibid., pp. 257-258.
⁶⁵ Sabiq, op. cit., p. 191.
⁶⁶ Hillman, op. cit., p. 12.
⁶⁷ Nathan Hare and Julie Hare, ed., Crisis in Black Sexual Politics (San Francisco: Black Think Tank, 1989) p. 25.
⁶⁸ Ibid., p. 26.
⁶⁹ Kilbride, op. cit., p. 94.
⁷⁰ Ibid., p. 95.
⁷¹ Ibid.
⁷² Ibid., pp. 95-99.
⁷³ 71. Ibid., p. 118.
⁷⁴ Lang, op. cit., p. 172.
⁷⁵ Kilbride, op. cit., pp. 72-73.
⁷⁶ Sabiq, op. cit., pp. 187-188.
📄 পর্দা বিধান
সর্বশেষে, আসুন! আমরা পশ্চিমাবিশ্ব নারীদের ওপর কঠোরতার প্রমাণ হিসেবে যে পর্দা বিধান নিয়ে আপত্তি তুলে সেটা সম্বন্ধে আলোচনা করি। খৃষ্টান বা ইয়াহুদী ধর্মে কি পর্দার কোনো বিধান নেই? ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বাইবেল শিক্ষা' বিভাগের প্রফেসর ড. মিনাখিম এম. ব্রায়ার তার গ্রন্থ 'ইয়াহুদীদের আইনে ইয়াহুদী মহিলা' তে লিখেছেন: 'ইয়াহুদী মহিলারা মাথা ঢেকে বাইরে যেতেন। মাঝে মাঝে তা একটি চক্ষু ছাড়া তাদের পুর্ণাংগ চেহারা ঢেকে ফেলত'।⁷⁷
তিনি তার কথার প্রমাণ দিতে গিয়ে পূর্ববর্তী বিখ্যাত ইয়াহুদী পণ্ডিতদের কথা নিয়ে এসেছেন। তন্মধ্যে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের কন্যাগণ মাথা খোলা রেখে রাস্তায় বের হতেন না। ঐ পুরুষের ওপর লা'নত (অভিশাপ) যে তার স্ত্রীকে খোলা মাথায় রাস্তায় ছেড়ে দেয়। কোনো মহিলা সৌন্দর্য প্রদর্শনের জন্যে মাথার চুল ছেড়ে দিলে তা দারিদ্রতার কারণ হয়। ইয়াহূদী পণ্ডিতদের আইন অনুযায়ী বিবাহিত মহিলার উপস্থিতিতে (যে তার চুল অনাবৃত রেখে দিয়েছে) নামাজের ভিতরে বা বাইরে ধর্মগ্রন্থ আবৃত্তি করা নিষিদ্ধ। মাথা অনাবৃত রাখাকে উলঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়।⁷⁸
প্রফেসর ড. মিনাখিম এম. ব্রায়ার আরো বলেন, "টান্নাইটিক যুগে যে সমস্ত ইয়াহুদী মহিলা মাথা অনাবৃত রাখত তাদেরকে বেহায়া হিসেবে গণ্য করে ৪০০ দিরহাম করে জরিমানা করা হত"।
তিনি আরো বলেন, ইয়াহুদীদের এই হিজাব (পর্দা) শুধুমাত্র তাদের ভদ্রতারই পরিচায়ক হত না বরং, এটা বিলাসিতা ও পার্থক্যকারী বিবেচিত হত। হিজাব পরলে বুঝা যেত যে, এ মহিলা ভদ্র, উচ্চ বংশীয় এবং সে স্বামীর অধিকারভুক্ত পণ্য নয়।⁷⁹
হিজাব মহিলার সামাজিক মর্যাদারই পরিচয় বহন করে এবং তার মর্যাদাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মহিলারা হিজাব পরত যেন তাদেরকে উচ্চ বংশীয়দের মতো দেখায়। হিজাব ভদ্রতার পরিচায়ক হওয়ার কারণে পুরাতন ইয়াহুদী সমাজে ব্যাভিচারী মহিলাদের হিজাব পরিধানের অনুমতি ছিল না। তাই, নিজেদেরকে সতী প্রমাণ করতে তারা বিশেষ ধরণের স্কার্ফ ব্যবহার করত।
ইউরোপের ইয়াহূদী মেয়েরা উনবিংশ শতাব্দীতে তাদের জীবন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সাথে মিশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পর্দা মেনে চলত। ইউরোপের সমাজব্যবস্থা অনেককে পর্দা খুলতে বাধ্য করেছে। অনেক ইয়াহুদী নারী তাদের মাথায় পরচুলা লাগিয়ে মাথাকে সুন্দরভাবে প্রদর্শন করার চেয়ে পর্দা বিধান পালন করাকে উত্তম মনে করেন। কিন্তু এখন অধিক ধার্মিকা ইয়াহূদী নারীরা তাদের উপাসনালয় ছাড়া অন্য কোথাও চুল ঢেকে রাখেন না।⁸⁰
তাদের কেউ কেউ এখনও পরচুলা ব্যবহার করে থাকেন।⁸¹
খৃষ্টানদের বিশ্বাস কি আসুন সেটা জেনে নিই। এটা প্রসিদ্ধ যে, ক্যাথলিক খৃষ্টানযাজক মহিলাগণ শত শত বছর ধরে পর্দা বিধান মেনে চলছেন। পর্দা সম্বন্ধে নতুন নিয়মে (new testament) পোল বলেছিলেন: “আমি চাই তোমাদের জেনে রাখা উচিৎ যে, প্রত্যেক পুরুষের মাথাই যীশু। আর প্রত্যেক মহিলার মাথাই পুরুষ এবং যীশুর মাথা যেন স্রষ্টা। কোনো পুরুষ ইবাদত বন্দেগী করা অবস্থায় তার মাথায় কিছু থাকলে তার মাথাকে অপদস্থ করা হবে। পক্ষান্তরে কোনো মহিলা খালি মাথায় ইবাদত বন্দেগী করলে তার মাথাকে অপদস্থ করা হবে। মাথাকে অপদস্থ করা মানে মাথার চুল কামিয়ে দেওয়া। অতএব, কোনো মহিলা মাথা ঢেকে না রাখলে তার মাথার চুল কামিয়ে দিতে হবে। যদি কোনো মহিলার জন্য তার মাথার চুল কামিয়ে ফেলা অপমানজনক মনে হয়, তাহলে সে যেন তার মাথা ঢেকে রাখে। আর পুরুষের মাথা স্রষ্টার প্রতিচ্ছবি হওয়ার কারণে মাথা ঢেকে রাখা উচিৎ নয়। মহিলারা স্বামীর সন্মানের প্রতিচ্ছবি। কারণ, পুরুষ মহিলা থেকে নয়, বরং মহিলা পুরুষ থেকে। পুরুষ মহিলার জন্য সৃজিত হয় নাই বরং মহিলা পুরুষের জন্য সৃজিত হয়েছে। তাই ফিরিশতার খাতিরেই তার মাথার উপরে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। (১, করিন্থিয়ান্স: ১১/৩-১০)
পোলের পর্দা বিধান ঘোষণার মূল কারণ হচ্ছে- স্রষ্টারূপী পুরুষের সম্মান রক্ষা করা। কেননা পুরুষ থেকে এবং পুরুষের জন্যেই তার জন্ম হয়েছে। বিশিষ্ট ধর্মযাজক টারটোলিয়ান তার বিখ্যাত গ্রন্থ "নারীর পর্দা" তে লিখেছেন: নারীদের উচিৎ রাস্তাঘাট, গীর্জা, নিজ ভাতৃবর্গ ও বেগানা পুরুষদের সামনে হিজাব (পর্দা) পরিধান করা। বর্তমানেও ক্যাথলিক খৃষ্টানদের নিয়ম হচ্ছে- মহিলাগন গীর্জার ভিতরে অবশ্যই তাদের মাথা ঢেকে রাখবে।⁸²
আমিশ, মিনোনাইট প্রমুখ খৃষ্টানগণ আজও হিজাব পরিধান করে থাকেন। পর্দা সম্বন্ধে গীর্জার পাদ্রীগণ বলে থাকেন যে, পর্দা হলো নারীর স্বামীর প্রতি আনুগত্য ও স্রষ্টার আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। এ কথাটা নতুন নিয়মে (new testament) পোল নিজেই বলে গেছেন।⁸³
এ সমস্ত প্রমাণাদি দ্বারা স্পষ্টতঃ বুঝা যায় যে, পর্দা ইসলাম কর্তৃক নির্দেশিত নতুন কোনো বিধান নয়। বরং ইসলাম শুধুমাত্র পর্দার বিধান পালনের জন্যে তাগিদ দিয়েছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন মুমিন নারী ও পুরুষদেরকে দৃষ্টি অবনত রাখা ও চরিত্রকে নিষ্কলুষ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। মহিলাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে তাদের বক্ষদেশের উপরে আবরণ ছেড়ে দিতে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন: তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনমিত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতা স্বরুপ। নিশ্চয় তাদের কর্মকান্ড সম্বন্ধে আল্লাহ তা'আলা সম্যক অবগত। আর মুমিনা মহিলাদেরকে বলে দিন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনমিত করে রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন যা আপনা আপনি প্রকাশিত হয় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্যকে প্রদর্শন না করে; তারা যেন তাদের বক্ষদেশের ওপর আবরণ ফেলে দেয়।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০-৩১]
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন জানিয়ে দিয়েছে যে, পর্দা নারীকে রক্ষা করে এবং তা তার সতীত্ব রক্ষায় সহায়ক হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চরিত্রের নিষ্কলুষতার প্রয়োজনীয়তা কি? আল কুরআন নিজেই এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"হে নবী! আপনার স্ত্রী, কন্যা ও ঈমানদার নারীগণকে বলে দিন তারা যেন তাদের চাদরের অংশ বিশেষ তাদের নিজেদের ওপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫]
চরিত্রের নিষ্কলুষতা নারীকে অনাকাংখিত পরিস্থিতির মুখোমুখী হওয়া থেকে রক্ষা করে। ইসলামে পর্দার বিধান প্রনয়ণের হিকমত তথা কারণ হচ্ছে- নারীর সুরক্ষা।
ইসলামে পর্দার বিধান খৃষ্টানদের আকীদা-বিশ্বাসের পুরোপুরি বিপরিত। ইসলামে এটা পুরুষের সম্মান বা তার আনুগত্যের দলীল নয়। এটা ইয়াহুদীদের আকীদা-বিশ্বাসেরও বিপরীত; ইসলামে এটা বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যকার পার্থক্যকারীও নয়। বরং তা প্রত্যেক মুসলিম নারীর সম্মান ও সচ্চরিত্রের গ্যারান্টি স্বরূপ। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নারীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। যে নারীদের সম্মানের হানি ঘটাতে আসবে তাকে অবশ্যই কঠিন শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে।
আল্লাহ বলেন,
“আর যারা সতী স্বাধ্বী মহিলাদেরকে অপবাদ দেয় অতঃপর চারজন স্বাক্ষী হাযির করতে না পারে তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর; কখনও তাদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর ওরাই পাপাচারী।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৪]
এবার তাহলে আসুন! আমরা আল কুরআনের এ শাস্তি ও বাইবেলের শাস্তির মাঝে তুলনামুলক বিশ্লেষণ করি। বাইবেলে এসেছে: "যখন কোনো পুরুষকে কোনো অবিবাহিত মহিলার (যার বিবাহের এখনও প্রস্তাব আসেনি) সাথে অশ্লীলতায় লিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যাবে তখন উক্ত পুরুষ, মহিলার পিতাকে ৫০ টি রৌপ্য মুদ্রা প্রদান করবে এবং তার চরিত্র হননের ফলস্বরুপ তাকে বিবাহ করবে; কখনও তাকে তালাক দিতে পারবে না। (ডিউটারনমী: ২২/২৮-৩০)
এখানে কাকে শাস্তিটা দেওয়া হলো? পুরুষকে যে জরিমানা স্বরূপ নারীর পিতাকে ৫০টি স্বর্ণমুদ্রা দেবে, নাকি উক্ত মহিলাকে যাকে উক্ত পুরুষের সাথে বিবাহ ও আজীবন ঘর-সংসারে বাধ্য করা হবে? কোনো বিধান নারীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় অগ্রগণ্য, কুরআনের কঠিন বিধান না বাইবেলের লঘু শাস্তি?
পশ্চিমাদের কেউ কেউ "নারীদের রক্ষায় তার চারিত্রিক নিষ্কলুষতার অবদান” নিয়ে রীতিমত ঠাট্টা বিদ্রুপ করে থাকে। তাদের দাবি হলো "নারীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বাধিক ভূমিকা রাখে শিক্ষা, শিষ্টাচার ও সভ্যতা”।
ভালো কথা কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। যদি সভ্যতাই নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় যথেষ্ট হত, তাহলে কেন উত্তর আমেরিকায় নারীরা একাকী রাস্তায় বা নির্জন এলাকায় চলতে পারে না? আর যদি শুধুমাত্র শিক্ষাই তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারে তাহলে, কুইন ইউনিভার্সিটির মতো প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন নারীদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় গন্তব্যে পৌছানোর ব্যবস্থা করা হয়? শুধুমাত্র শিষ্টাচারই যদি তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারত, তাহলে আমরা প্রতিনিয়ত নারীদের ধর্ষণ ও উত্যক্ত করার মত যে সমস্ত ঘটনার সংবাদ পাচ্ছি তার অধিকাংশই কর্মস্থলে ঘটছে কেন?
বিগত কয়েক বছরের ধর্ষণ ও নারীদের সম্মানহানির যেসব ঘটনা ঘটেছে তাতে জড়িতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ হচ্ছে: নৌবাহিনী, অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিনেট সদস্য, উচ্চ আদালতের বিচারক, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রভৃতি। কুইন ইউনিভার্সিটির মহিলা বিভাগের ডীন কর্তৃক প্রকাশিত রিপোর্ট পড়ে আমি তো তা নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। প্রকাশিত রিপোর্ট নিম্নরূপ:
প্রত্যেক ৬ মিনিটে কানাডায় একজন মহিলার ওপর আক্রমণ হয়।
কানাডার প্রত্যেক ৩ জন মহিলার মধ্যকার ১ জন এ আক্রমণের শিকার হয়েছে।
প্রত্যেক ১-৮ জন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণের শিকার হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় লেবেলের ৬০% ছাত্র অচিরেই এ ধরণের কাজ করবে। যদি নিশ্চিত থাকে যে, তাকে এ কাজের জন্য অচিরেই কোনো শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না।
আজ আমাদের সমাজে ভুলপ্রথা ব্যাপকভাবে চালু হয়ে গেছে যার শিকড়সহ সংস্কার প্রয়োজন। পুরুষ ও নারী উভয়ের মান-সম্মান ও চরিত্রের নিষ্কলুষতার দাবী পোশাক, কথাবার্তা ও আচার-আচরণ প্রভৃতি সব কিছুতেই। অন্যথায় অবস্থা আরও বেগতিক হবে এবং মহিলাদেরকে আরও বেশি খেসারত দিতে হবে। এবং আমাদেরকে আরো বেশি দুঃখ পেতে হবে। খলীল জিবরানের একটা বাণী প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, “যে কোনো প্রকার সমস্যায় পতিত হয়েছে সে আর যে সমস্যার জরীপ করেছে তারা উভয়ে সমান নয়”।⁸⁴
আজ ফ্রান্স হিজাব পরিহিতা মহিলাদেরকে যেভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়ণ করছে তা তাদের নিজেদের দেশের জন্যেই বিপদ ডেকে আনবে।
বর্তমান যুগে যখন কোনো ক্যাথলিক খৃষ্টান মহিলা হিজাব পরে তখন তা সে স্বামীর সম্মানের জন্য পরিধান করেছে বলে পবিত্র গণ্য হয়; পক্ষান্তরে একই হিজাব যখন কোনো মুসলিম মহিলা তার নিজের নিরাপত্তা বিধানের জন্য পরে থাকে, তখন তা "নারীর ওপর অত্যাচার” বলে ধর্তব্য হয়।
**টিকাঃ**
⁷⁷ Abdul Rahman Doi, Woman in Shari'ah (London: Ta-Ha Publishers, 1994) p. 76.
⁷⁸ Menachem M. Brayer, The Jewish Woman in Rabbinic Literature: A Psychosocial Perspective (Hoboken, N.J: Ktav Publishing House, 1986) p. 239.
⁷⁹ Ibid., pp. 316-317. Also see Swidler, op. cit., pp. 121-123.
⁸⁰ Susan W. Schneider, Jewish and Female (New York : Simon & Schuster, 1984) p. 237.
⁸¹ Ibid., pp. 238-239.
⁸² Alexandra Wright, "Judaism", in Holm and Bowker, ed., op. cit., pp. 128-129
⁸³ Clara M. Henning, "Cannon Law and the Battle of the Sexes" in Rosemary R. Ruether, ed., Religion and Sexism : Images of Woman in the Jewish and Christian Traditions (New York: Simon and Schuster, 1974) p. 272.
⁸⁴ Donald B. Kraybill, The riddle of the Amish Culture (Baltimore: Johns Hopkins University Press, 1989) p. 56.
📄 শেষ কথা
অমুসলিমদের মধ্যকার যারা এ গবেষণার পূর্বেকার সংস্করণ পড়েছেন তাদের পক্ষ থেকে একটা প্রশ্ন করা হয়। সেটা হলো, ইসলামী সমাজে মুসলিম নারীদের সাথে কি এখন এ রকম ব্যবহার করা হয়? উত্তরটা খুবই দুঃখজনক 'না'। এ প্রশ্নের উত্তরে আমি কিছুটা আলোকপাত করব যাতে ইসলামে নারীদের অধিকারটা পূর্ণাংগভাবে পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।
মুসলিম বিশ্বে মহিলাদের সাথে কৃত ব্যবহারের পন্থায় একটা সমাজ থেকে অন্য সমাজ এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য থাকে। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধান সকল সমাজই পালন করে থাকে। অধিকাংশ মুসলিম সমাজই মহিলাদের সাথে ব্যবহারের বিষয়ে ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে। ফলে, দুটি দলের আবির্ভাব ঘটেছে।
এক. কট্টরপন্থি ও অন্ধ অনুকরণকারী।
দুই. স্বাধীন ও পশ্চিমাদের অনুকরণকারী।
প্রথম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত লোকেরা পূর্বকালের প্রাপ্ত রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে থাকে। এ ধরণের রীতিনীতির কারণে নারীরা ইসলাম স্বীকৃত অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে কোনো বিষয়ে পুরুষের থেকে মহিলাদের ওপর ভিন্ন ভিন্ন আইন কানুন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক রীতিনীতি চালু হয়ে গেছে। যেমন, পুত্র সন্তান জন্মের মত কন্যা সন্তান জন্মের সময় তাকে সাদরে গ্রহণ করা হয় না। কখনও কখনও তাদেরকে শিক্ষা-দীক্ষা বা উত্তরাধীকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়। পুত্র সন্তান থেকে যে সমস্ত অযাচিত কাজকে মেনে নেওয়া হয় কন্যা সন্তান থেকে তা মেনে নেওয়া হয় না, তাদেরকে কড়া নজরদারীতে রাখা হয়। কখনও বা এ সমস্ত কাজকর্মের কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়। পক্ষান্তরে, একই কাজ করে পুত্র সন্তানেরা গর্ব করে থাকে। পরিবার বা সমাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার মতামত গ্রহণ করা হয় না। হয়তবা অনেক ক্ষেত্রে তার নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পদে বা বিবাহের উপহার ব্যবহারে তাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয় না।
স্ত্রীরা পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়াকে প্রাধান্য দেয় যাতে সমাজে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
অপরদিকে কিছু মুসলিম সমাজ বা গোত্রে পশ্চিমা স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। এ সমাজগুলো সব কাজে পশ্চিমাদের রীতিনীতি ও কৃষ্টি কালচারগুলোর অন্ধ অনুকরণ করছে। এমনকি তাদের অসভ্য কালচারকেও বাদ দিচ্ছে না। এ মডার্ণ সমাজের বিশেষ করে মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তার সৌন্দর্যকে প্রকাশ করা। সর্বদা তারা ব্যস্ত থাকে এবং গুরুত্ব দেয় তাদের নিজেদের সৌন্দর্য বর্ধন ও প্রদর্শনের কাজে। বিবেক-বুদ্ধির দিকে তাদের খেয়াল নেই। সমাজের জন্য কাজকর্ম বা কাজে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে অপরকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতাকেই বেশি বড় করে দেখা হয়। তার ব্যাগে আর-কুরআন পাওয়া না গেলেও সর্বদা তাতে মেকআপ বা প্রসাধন সামগ্রী শোভা পায়। সে তার রূহানী সৌন্দর্যকে গোপন করে এবং বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তার জীবন কেটে যায় নিজের নারীত্বের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মনুষত্বের দিকে নয়।
কেন মুসলিম সমাজ ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুবই কঠিন। বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের ব্যাপারে কুরআনের শিক্ষা থেকে যুগ-যুগান্তরে মুসলিমদের দূরে থাকার ব্যাখ্যা দিতে গেলে আরেকটি গবেষণার প্রয়োজন হবে। মুসলিমদের যার ওপর থাকার দরকার তার ওপর মুসলিমরা নেই এটা একটা প্রচন্ড সমস্যা। এ সমস্যা একদিনে আসেনি বরং তা যুগ পরম্পরায় দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বে এ সর্বনাশী সমস্যার কুপ্রভাব জীবনের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আইনের ক্ষেত্রে বৈষম্য, অনৈক্য, অর্থনৈতিক ধ্বস, সামাজিক যুলুম, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পশ্চাদপসরতা ও চিন্তাভাবনার মন মানসিকতা না থাকা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ সমস্ত সমস্যার কারণে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ইসলামের সাথে নারীদের যেন কোনোই সম্পৃক্ততা নেই। আগেকার নারীরা যেমন, ছিলেন বর্তমান যুগের নারীদেরকেও সেই স্থানে পৌছে দেওয়া এবং সমাজ সংস্কার করা অত্যন্ত আবশ্যক। আর এই সংস্কারের জন্যেও ইসলামের শিক্ষা মেনে চলা জরুরি।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আজ মুসলিম বিশ্বে নারীদের এ লাজুক অবস্থানে থাকার কারণ হলো ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ভুল বুঝাবুঝি। মুসলিমরা সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা থেকে দূরে থাকার কারণে।
আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, এই গবেষণামূলক লেখাটির উদ্দেশ্য কিন্তু ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের আকীদা-বিশ্বাসকে খাট করার জন্যে নয়। ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের আকীদা-বিশ্বাস অনুযায়ী নারীদেরকে যে পজিশনে রাখা হয়েছে তা যুগের বিবর্তনে নিছক সামাজিকতা ও ইয়াহুদী-খৃষ্টান পুরোহিতদের নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠার কারণে। এরা সমাজে নারীদের ন্যায্য অধিকার গুলোকে পরিবর্তন করে দিয়েছে।
বাইবেল যুগের আবর্তনে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন লোক দ্বারা লিখিত হয়েছে। তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার ভিন্নতা ও মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে তাদের মতামত বিভিন্ন রকম হয়ে তাদের হাতে বাইবেল পরিবর্তিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পুরাতন নিয়মে বর্ণিত ব্যভিচারের শাস্তি নিয়ে মহিলাদের ওপর নির্ধারিত শাস্তি এমনভাবে চিত্রিত হয়েছে যে, তা সুস্থ বিবেক মেনে নিতে পারে না। তবে প্রাচীন ইয়াহূদী সমাজের লোকেরা নিজেদের বংশ দ্বারা গৌরব করত। এ জন্য তাদের চিন্তা ছিল কোনো নারী যেন অন্য কোনো শক্তিশালী গোত্রের লোকদের সাথে কোনো ধরণের সম্পর্ক রাখতে না পারে। এ সমস্ত বিধানের সামনে আমরা সহানুভুতি দেখাতে পারি না। বরং আমাদের কাছে মনে হয় যে, এটা নারীদের বিরুদ্ধে পুরুষদের একগেয়েমী ছাড়া আর কিছুই নয়। এছাড়াও এটা ছিল নারীদের বিরুদ্ধে পুরোহিতদের নগ্ন হামলা। নারীদের প্রতি গ্রীক ও রোমান সভ্যতার বিতৃষ্ণ মনোভাবকে উল্লেখ করা ব্যতিত বিষয়টিকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। সুতরাং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা ছাড়া আমরা ইয়াহুদী খৃষ্টান ধর্মের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না।
ইতিহাস ও মানুষের সভ্যতার ওপর ইসলামের অবদান বুঝতে হলে আমাদেরকে ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মের ইতিহাস জানা থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন সভ্যতা ও সমাজ ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্ম-বিশ্বাসের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এটা হিজরতের পূর্বে সপ্তম শতাব্দীতে তাদেরকে আল্লাহর নবীমুসা ও ঈসা আলাইহিস সালাম এর ওপর আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত বিধান পরিবর্তন করার পর্যায়ে পৌছে দিয়েছে। ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মে নারীদের ন্যায্য অধিকারের মধ্যে একগেয়েমি করার এ বিধান সপ্তম শতাব্দীর সে পরিবর্তনেরই উদাহরণ। তখনই মানুষকে অসৎ পথ থেকে সৎপথে ফিরিয়ে আনার খোদায়ী বার্তা প্রেরণ করা জরুরী হয়ে পড়ে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ইয়াহূদী ও নাসারাদেরকে তাদের ওপর আগত দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করার জন্য রাসুল পাঠানো হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
“আর যারা অশিক্ষিত এই রাসুলকে অনুসরণ করেছে যাকে তারা তাদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিখিত পেয়েছে। তিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য উত্তম জিনিসকে বৈধ ও অপবিত্র জিনিসকে হারাম করেন, তাদের ওপর থেকে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্ধিত্ব অপসারণ করেন, যা তাদের ওপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যারা তার ওপর ঈমান এনেছে, তার সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাকে সাহায্য করেছে এবং তার সাথে নাযিলকৃত নূরের অনুসরণ করেছে, শুধুমাত্র তারাই সফলকাম।” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ১৫৭]
অতএব, ইসলাম ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মের প্রতিদ্বন্দী হয়ে আসে নি, বরং আল্লাহ তাআলার পূর্ববর্তী বিধানসমূহকে পরিপূর্ণ করার জন্যেই এসেছে।
এ গবেষণার শেষভাগে আমি মুসলিম সমাজকে আবেদন করতে চাই যে, ইসলাম নারীদেরকে যে সমস্ত অধিকার দিয়েছে তার অনেকাংশ থেকেই তারা আজ বঞ্চিত। যা পুরাতন হয়ে গেছে তার সংস্কার করা জরুরী। এটা প্রত্যেক মুসলমানেরই দায়িত্ব। মুসলিম বিশ্বের এটাও একটা দায়িত্ব যে, তারা কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে নারীদের জন্য ঐক্যবদ্ধ একটা বিধান প্রণয়ন করবে।
তাতে নারীদের ইসলামসম্মত যাবতীয় অধিকার নিশ্চিত করে যে কোনো মুল্যে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার বটে। তবে কোনো কিছু না করার চেয়ে দেরীতে হলেও কিছু করাই উত্তম। মুসলিমরা তাদের মা, বোন, কন্যা ও স্ত্রীদেরকে যদি তাদের ন্যায্য অধিকার প্রদান না করে তাহলে, তাদেরকে সে অধিকার এনে দেবে কে? এছাড়াও আমাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে যে সমস্ত রীতিনীতি ও ভুল প্রচলন আমাদের মাঝে প্রচলিদ রয়েছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক তাকে বর্জন করা।
কুরআন কি আরবের কাফিরদেরকে তাদের পূর্বপুরুষদের কৃষ্টি-কালচারের অন্ধ অনুকরণ করার কারণে তিরস্কার করে নি? পশ্চিমা বা অন্য কোনো সভ্যতা থেকে আগত কোনো অশ্লীল প্রথা আমাদের মাঝে আসলে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করব। তবে তাদের থেকে যেগুলো ভালো সেগুলো গ্রহণ করতে দোষ নেই। তাদের সাথে সম্পর্ক রাখায় অসুবিধা নেই। এটাই মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের শিক্ষা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"হে মানব সকল! নিশ্চয় আমরা তোমাদেরকে একটি মাত্র পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছি; আর তোমাদেরকে বিভিন্ন শ্রেণি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যকার সর্বাধিক মুত্তাকী লোকই আল্লাহ তা'আলার নিকট বেশি সম্মানিত। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ ও সবকিছুর খবর রাখেন।” [সূরা আল হুজুরাত, আয়াত: ১৩]
আমাদের কর্তব্য হবে আমরা অন্য কোনো জাতি বা গোষ্ঠির অন্ধ অনুসরণ করব না। কেননা এটা নিজেদের সম্মান ও মর্যাদার পরিপন্থী কাজ।
আর ইয়াহুদী-খৃষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ভাইদের কাছে আমার কয়েকটি কথা রয়েছে। সেগুলো হলো: যে ধর্ম নারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করছে এবং তাদেরকে সম্মানের আসনে আসীন করছে, তাকে আজ নারীর ওপর যুলুমকারী বলে সাব্যস্ত করা হচ্ছে এটা আসলেই ক্ষুব্ধ করার মতো কথা, যে বিশ্বাস আজ সারা বিশ্বে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে অনেক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও গ্রন্থ রচিত হয়েছে এবং মিডিয়া ও হলিউড সিনেমায় যা নিয়ে রীতিমত হৈ চৈ করা হয়। ইসলাম নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি ও কোনো কিছুর সাথে ইসলামের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভীতিই এ ভুল বিশ্বাস স্থাপিত হবার অন্যতম কারণ। মিডিয়া ইসলামকে বিকৃতি করা থেকে ক্ষান্ত হলে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করতে পারব যেখানে থাকবে না কোনো ভুল বুঝাবুঝি, পক্ষপাতদুষ্টতা ও সাম্প্রদায়িকতা।
অমুসলিমদের জানা দরকার যে, ইসলাম স্বীকৃত বিষয় ও বর্তমান মুসলিমদের কাজকর্মের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। এগুলো ইসলাম বলে স্বীকৃত হতে পারে না। সুতরাং আজকের মুসলিম সমাজে নারীদের মর্যাদা ও ইসলামে নারীদের মর্যাদার ভিতরে আকাশ পাতাল তফাত আছে ঠিক তেমনি, যেমন, তফাত আছে ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মে নারীদের মর্যাদা ও পশ্চিমা সমাজ কর্তৃক প্রদত্ত নারীদের মর্যাদার ভিতরে। তাই মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের উচিৎ বিষয়গুলোকে পর্যালোচনা করে ভবিষ্যত শান্তির লক্ষ্যে ভুল বুঝাবুঝি, ভীতি ও সন্দেহ ইত্যাদি দূর করার চেষ্টা করা।
আর এটা স্পষ্ট করা দরকার যে, ইসলাম নারীদেরকে সম্মান দিয়েছে এবং তাকে এমন সব অধিকার দিয়েছে, যা দেড় হাজার বছর পরে এখন সবেমাত্র বিশ্ব বুঝতে পেরেছে। ইসলাম নারীকে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সম্মান-মর্যাদা ও সর্বপ্রকার বিপদ থেকে বেঁচে থাকার গ্যারান্টি দেয়। ইসলাম তাকে আত্মিক, বাহ্যিক, চিন্তা ও ইচ্ছাসহ সমস্ত প্রয়োজনকে মিটিয়ে দেয়। আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে, বর্তমানে বৃটেনে যারা ইসলাম গ্রহণ করছে, তাদের অধিকাংশই মহিলা। অপরদিকে আমেরিকায় ইসলাম গ্রহণকারী মহিলার সংখ্যা পুরুষের চেয়ে চারগুন বেশি।⁸⁵
তাই বর্তমান বিশ্ব সঠিক পথের দিশা পেতে ইসলামের অত্যন্ত মুখাপেক্ষী। ১৯৮৫ সালের ২৪ শে জুন আমেরিকান কংগ্রেসের বৈদেশিক বিভাগের এক বৈঠকে "রাষ্ট্রদূত হিরমান এইলটস” বলেছিলেন: বর্তমান বিশ্বে মুসলিমের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়। কিন্তু আমি আশ্চর্য হই যে, ইসলাম একত্ববাদে বিশ্বাসী অত্যন্ত দ্রুত বর্ধমান একটি ধর্ম; এটা যদি কোনো কিছুর দিকে ইঙ্গিত দেয় তাহলে তা হবে - ইসলাম হলো সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ধর্ম। এটা প্রচুর সংখ্যক নেককার লোকদেরকে তার দিকে আকৃষ্ট করছে।"
হ্যাঁ, ইসলাম সত্যের ওপরই প্রতিষ্ঠিত এবং তা প্রমাণিত হওয়ার সময়ও এখনই। আশা করি আমার এই গবেষণা এ পথে একধাপ এগিয়ে দেবে ইনশাল্লাহ।
**টিকাঃ**
⁸⁵ Khalil Gibran, Thoughts and Meditations (New York: Bantam Books, 1960) p. 28.