📘 ইসলামে মসজিদের ভূমিকা > 📄 মসজিদে দুনিয়াবী কথা ও কাজ করা

📄 মসজিদে দুনিয়াবী কথা ও কাজ করা


মসজিদে কি দুনিয়াবী কথা-বার্তা ও কাজ-কর্ম জায়েয আছে? যদি জায়েয না থাকে, তাহলে, সেখানে কিভাবে দুনিয়াবী তৎপরতা চালানো যাবে?
এই প্রশ্নের জওয়াব হল, আমরা তো দুনিয়াতেই বাস করি। হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, الدُّنْيَا مَزْرَعَةُ الْآخِرَةِ
আখেরাতের ‘কৃষি খামার।’ এখানে যে যত বেশী উৎপাদন করবে, পরকালে সে ততবেশী ভোগ করবে। মসজিদ দুনিয়ারই অংশ বিশেষ। তাই এ গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরকালের ফসল বৃদ্ধির চেষ্টা চালাতে হবে। যারা ঐ প্রচেষ্টা চালাবে না, উল্টো তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অপরদিকে, যে কাজ মসজিদে জায়েয নেই, সেই কাজ মসজিদের বাইরেও জায়েয নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য জায়েয হওয়া সত্ত্বেও মসজিদে করা যাবে না। হাদীসে এ ব্যাপারে নিষেধ আছে। এ ছাড়া অন্য সব জায়েয কাজ মসজিদে আঞ্জাম দেয়া যাবে। পক্ষান্তরে নিষিদ্ধ কাজ সকল স্থানেই নিষিদ্ধ, চাই মসজিদেই হোক কিংবা বাইরে হোক।
মসজিদে অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ করা যাবে না। এগুলো মসজিদের বাইরেও নিষিদ্ধ। মসজিদের ভেতর প্রয়োজনবোধে খানা-পিনা ও বিশ্রাম-নিদ্রা করা যাবে এবং তাতে জ্ঞান চর্চা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাজ, সন্ধি ও যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনা সবই করা যাবে। বরং করা জরুরী।
যারা বলেন, মসজিদে দুনিয়াবী কথা বা কাজ করা যাবে না তাদের দাবী অযৌক্তিক ও অর্থহীন এবং মসজিদে নববী সহ অন্যান্য সকল মসজিদের ইতিহাস ও শিক্ষা বিরোধী। এটা তাঁদের অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা, রসূলুল্লাহ (স)-এর আদর্শ ও চরিত্রের বিপরীত কোন কথা বলার অধিকার কারুর নেই।
ঔপনিবেশিক শাসনামলে, অমুসলমান শাসকগণ মসজিদকে শুধু নামাযসহ সীমিত ইবাদাতের জন্য নির্ধারণ করায় বহু সাধারণ মুসলমান মনে করেন যে, মসজিদে ইবাদাত ছাড়া আর কিছুই করা যায় না। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, ঔপনিবেশিক শাসকদেরকে নয়, বরং রসূলুল্লাহ (স)-কেই অনুসরণ করতে হবে এবং পাশাপাশি মসজিদে নববীসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক মসজিদের ভূমিকা সামনে রাখতে হবে।
মসজিদে জোরে জোরে ও উঁচু স্বরে কথা বলা যাবে না। আল্লাহর ঘরের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে শান্তভাবে সকল কাজ করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00