📄 সোনার গাঁও মসজিদ
আজ থেকে ৬শ বছর আগে সোনার গাঁ ছিল বাংলার রাজধানী। সুলতান গিয়াসুদ্দিন আজম শাহ ছিলেন বাংলার সুলতান। সোনার গাঁ ছিল একটি কৌশলগত স্থান। এর চারদিক নদী পরিবেষ্টিত। তাই শত্রুদের আক্রমণের কবল থেকে তা ছিল নিরাপদ। নদীগুলো হচ্ছে, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, ইছামতি ও শীতলক্ষ্যা। দ্বীপটির দৈর্ঘ ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩২ কিলোমিটার। বর্তমান ঢাকা শহর থেকে পূর্বদিকে গ্রাওটাঙ্ক রোডে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে।
পরবর্তীতে, সুলতান হোসেন শাহ সোনার গাঁয়ে এক সুদৃশ্য মসজিদ তৈরি করেন। মেহরাব কাল পাথর দিয়ে তৈরি এবং তাতে উত্তম কারুকাজ রয়েছে। মসজিদের স্তম্ভগুলো বেলে পাথর দিয়ে গড়া। রাজধানী শহর তৈরির পর স্বভাবতই সেখানে একটি বড় মসজিদ তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মাশায়েখ কেরাম সেখানে ইসলাম প্রচার করেছেন ও লোকদেরকে দীওয়াত দিয়েছেন। সেখানে পঞ্চ সাধকের কবর আজও সে স্মৃতি বয়ে আছে।
📄 অন্যান্য মসজিদ
মুঘল আমলে বাংলায় অনেক মসজিদ তৈরি হয়েছে। শাহ সুজা, দার শায়েস্তা খাঁর আমলে ঢাকা শহরে অনেক মসজিদ তৈরি হ সুজা বড় কাটরা এবং শায়েস্তা খাঁ ঢাকায় ছোট কাটরা, চক বাজার ম জিদ, মোহাম্মদপুর সাত গম্বুজ মসজিদ এবং বিবি পরি ও বিবি বি জিদ তৈরি করেন। কুমিল্লা শহরের শাহ সুজা মসজিদও একই ধর ণী।
তারা মসজিদ
দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিভিন্ন সময় বহু মসজিদ তৈরি হয়েছে গ্রামের আন্দর কিল্লা শাহী মসজিদ, রাজশাহীর শাহ মাখদুম মসজিদ গর তারা মসজিদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও প্রত্যেক দে রে এক একটি বড় মসজিদ আছে। দেশের শহর ও গ্রামে বহু মসা হ। সেগুলোতে নিয়মিত নামায ছাড়াও কুরআন শিক্ষা ও য-নসীহতের ধারা চালু আছে।
📄 বায়তুল মোকাররম মসজিদ
১৯৬০ খৃষ্টাব্দের কথা। ঢাকা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী। তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আইউব খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর ছিলেন গোলাম ফারুক। ঢাকা শহর বলতে পুরাতন ঢাকাকেই বুঝাত। কিন্তু ক্রমান্বয়ে শহর সম্প্রসারিত হওয়ায় চকবাজার জামে মসজিদ কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে অক্ষম ছিল। তাই ঢাকায় একটি বড় মসজিদ তৈরির প্রয়োজন অনুভূত হয়।
বায়তুল মোকাররম জামে' মসজিদ বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী, মুফতী দীন মোহাম্মদ ও মাওলানা আকরম খাঁ প্রমুখ জাতীয় মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁরা গভর্ণর গোলাম ফারুকের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাঁর কাছে মসজিদের জন্য সরকারী জমি বরাদ্দের দাবী জানান। গভর্ণর রাজী হন। বায়তুল মোকাররমের বর্তমান স্থানটি ছিল সরকারের খাস জমি। গভর্ণর তা মসজিদের জন্য বরাদ্দ করেন। মসজিদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সহ সার্বিক ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পপতি ইয়াহইয়া বাওয়ানী। বাওয়ানীসহ অন্যান্যদের আর্থিক অনুদানের ভিত্তিতে ১৯৬২ সালে সরকারী জায়গায় বেসরকারী কেন্দ্রীয় মসজিদ তৈরি হয়। একটি কমিটি মসজিদ পরিচালনা করত।
১৯৭১ সালে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মসজিদটি সরকারী নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশের একমাত্র সরকারী ও বৃহত্তম মসজিদ। ইসলামী ফাউণ্ডেশন মসজিদের ব্যবস্থাপনা আঞ্জাম দিচ্ছে। মসজিদটি ৭ তলা। নীচের তলা ও দোতলার পশ্চিমাংশে রয়েছে শপিং সেন্টার। মসজিদের গা ঘেঁষেই সরকারী সংস্থা ইসলামী ফাউণ্ডেশনের ভবন রয়েছে।
দোতলা থেকে মসজিদ শুরু। পূর্ব-দক্ষিণ ও পূর্ব-উত্তর কোণে রয়েছে বিরাট অজুখানা। পূর্ব-দক্ষিণ কোণের অজুখানার ওপর মহিলাদের পৃথক নামাযের ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের ওঠা-নামার সিঁড়িও পুরুষদের থেকে আলাদা। মসজিদের ১ম তলার ভেতরের দেয়াল ও স্তম্ভের কিছু অংশে সুন্দর মার্বেল পাথর লাগানো হয়েছে। মসজিদের বাইরের দেয়ালের উপরিভাগে কা'বা শরীফের গেলাফের বেন্ট এর অনুরূপ বেল্ট অংকিত আছে এবং কা'বার আকৃতিতে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। মসজিদে এক সাথে প্রায় ১ লাখ লোক নামায পড়তে পারে। মসজিদে বিভিন্ন ইসলামী দিবস উপলক্ষে ওয়ায-নসীহতের ব্যবস্থা করা হয়।