📄 শাহজালাল মসজিদ
সিলেট শহরে দরগাহ মসজিদ নামে শাহ জালাল মসজিদটি অবস্থিত। এটি শহরের বড় মসজিদ এবং তাতে বহু লোক নামায আদায় করে। দূর দূরান্ত থেকেও অগণিত লোক এ মসজিদে আসে। যদিও বুখারী ও মুসলিম শরীফের বর্ণিত হাদীসে রসূলুল্লাহ (স) মক্কার মসজিদে হারাম, মদীনার মসজিদে নববী এবং জেরুসালেমের মসজিদে আকসা ছাড়া অন্য মসজিদের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। যারা দূর থেকে শুধু মসজিদ যেয়ারতের জন্য আসেন তারা হাদীসের বিরোধিতা করেন। আর যারা কবর যেয়ারতের জন্য আসেন তাদের ব্যাপারেও সমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর।
মসজিদের উত্তর পার্শ্বেই রয়েছে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শাহজালাল (রঃ) এর কবর। তিনি এ মসজিদে বসে দীনের শিক্ষাদান করেন এবং লোকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগ করেন। ঐ অঞ্চলে এ মসজিদ ছাড়া ইসলামী শিক্ষার অন্য কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। মসজিদটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয় তার সঠিক ইতিহাস জানা যায় না। তবে বিষয়টি বুঝার জন্য তাঁর সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে কিছু জানা দরকার।
শাহজালাল (র) ১২৭১ খৃঃ তুরস্কে জন্মগ্রহণ করেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি ১২৪৪ খৃঃ ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশবেই ইসলামী শিক্ষা লাভ করেন এবং যৌবনে পদার্পণ করে দীনের দাওয়াত ও তাবলীগে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তাঁর মামা একজন আল্লাহ প্রেমিক ছিলেন। মামার নির্দেশে তিনি ভারতে ইসলাম প্রচারের কঠিন সংগ্রামে আসেন। তখন গোটা ভারতে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের একচেটিয়া প্রভাব ছিল। তিনি সাথে ৩৬০ জন শিষ্য বা সাথী নিয়ে আগমন করেন। তখন দিল্লীর সুলতান ছিলেন শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ। সুলতান তাদেরকে সম্মানের সাথে স্বাগত জানান। শাহজালাল (র) নিজ শিষ্যদেরকে নিয়ে সিলেটে ইসলাম প্রচারের সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁরা সিলেট পৌঁছেন।
গৌর গোবিন্দ নামক একজন হিন্দু রাজা সিলেট শাসন করত। তিনি তাঁদেরকে সেখানে ইসলাম প্রচারে বাধা দেয়। গৌর গোবিন্দ স্থানীয় مسلمانوں ওপর খুব বেশী নির্যাতন করত। সে বোরহানুদ্দিন নামক জনৈক মুসলমান কর্তৃক গরু জবেহর অপরাধে তার ছোট শিশুকে টুকরা টুকরা করে হত্যা করে। বোরহানুদ্দীন দিল্লীর সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের কাছে উপস্থিত হন এবং অত্যাচারের প্রতিকার কামনা করেন। ফিরোজ শাহ আপন ভাগিনা সিকান্দার খান গাজীকে গৌর গোবিন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পাঠান। সিকান্দার খান দুইবার যুদ্ধে গৌর গোবিন্দের সাথে পরাজিত হন। ঠিক ঐ সময় শাহজালাল (র) বাংলায় আসেন এবং উপরোক্ত নির্যাতনের প্রতিবাদে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন। আল্লাহর মেহেরবানীতে এবার গৌর গোবিন্দ পরাজিত হয় ও সিলেট ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। এভাবে ১৩০৩ খৃঃ সিলেটে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি ১৩৪৬ খৃঃ ইন্তেকাল করেন এবং মসজিদের পার্শ্বে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর শিষ্যরা এতদাঞ্চলে ইসলামের দাওয়াত, তাবলীগ ও জিহাদে অংশ নেন এবং তাদের প্রচেষ্টায় ঐ এলাকার লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে।
১৩৪৬ খৃঃ মরক্কোর প্রখ্যাত বিশ্ব পর্যটক ইবনে বতুতা সিলেট সফরে আসেন এবং শাহজালাল (র) এর সাথে সাক্ষাত করেন।
দুখের বিষয় আজ কি শাহজালাল মসজিদ তার সাবেক ভূমিকা পালন করছে, না সেখানে সে ভূমিকার বিপরীত ও উল্টো কাজ চলছে? সেখানে আজ তাঁর কবরে সেজদাহ চলছে, ওরস অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সামনের ছোট কুয়ায় গজার মাছ পালন করে বিভিন্ন নিয়ত ও মকসুদ পূরণের উদ্দেশ্যে খাবার দেয়া হচ্ছে এবং সেগুলো মানুষকে খেতে দেয়া হয় না। বরং এগুলোর মৃত্যুর পর কাফন দিয়ে দাফন করা হচ্ছে। সাধারণ কবুতরকে জালালী কবুতর নামকরণ করে সেগুলোর খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কবরে নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা চলছে। আরো চলছে কতকিছু!
এখন প্রশ্ন হল, ইসলাম কি এগুলো অনুমোদন করে? শাহজালাল (র) কি এ সকল বেদআত ও কুসংস্কারের দাওয়াত দিয়েছিলেন? আজ কুরআন ও হাদীসের শিক্ষাকে সামনে রেখে এবং শাহজালাল (রহ)-এর সংগ্রামী ও জিহাদী জিন্দেগীর আলোকে তাঁর মসজিদ ও কবর থেকে ঐ সকল অনাচার বন্ধ করতে হবে। এটা সরকারসহ সকল আলেম ও দেশবাসীর কর্তব্য। নচেত, এ সকল মন্দ ও অনৈসলামী কাজের মাধ্যমে শাহজালালের প্রতিষ্ঠিত হেদায়াতের কেন্দ্রে গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতার এ সয়লাব রোধ করা যাবে না। কতলোক গোমরাহ হচ্ছে ও কত গুনাহ অর্জন করছে, তার কোন সীমা-সংখ্যা নেই।
📄 সোনার গাঁও মসজিদ
আজ থেকে ৬শ বছর আগে সোনার গাঁ ছিল বাংলার রাজধানী। সুলতান গিয়াসুদ্দিন আজম শাহ ছিলেন বাংলার সুলতান। সোনার গাঁ ছিল একটি কৌশলগত স্থান। এর চারদিক নদী পরিবেষ্টিত। তাই শত্রুদের আক্রমণের কবল থেকে তা ছিল নিরাপদ। নদীগুলো হচ্ছে, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, ইছামতি ও শীতলক্ষ্যা। দ্বীপটির দৈর্ঘ ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩২ কিলোমিটার। বর্তমান ঢাকা শহর থেকে পূর্বদিকে গ্রাওটাঙ্ক রোডে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে।
পরবর্তীতে, সুলতান হোসেন শাহ সোনার গাঁয়ে এক সুদৃশ্য মসজিদ তৈরি করেন। মেহরাব কাল পাথর দিয়ে তৈরি এবং তাতে উত্তম কারুকাজ রয়েছে। মসজিদের স্তম্ভগুলো বেলে পাথর দিয়ে গড়া। রাজধানী শহর তৈরির পর স্বভাবতই সেখানে একটি বড় মসজিদ তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মাশায়েখ কেরাম সেখানে ইসলাম প্রচার করেছেন ও লোকদেরকে দীওয়াত দিয়েছেন। সেখানে পঞ্চ সাধকের কবর আজও সে স্মৃতি বয়ে আছে।
📄 অন্যান্য মসজিদ
মুঘল আমলে বাংলায় অনেক মসজিদ তৈরি হয়েছে। শাহ সুজা, দার শায়েস্তা খাঁর আমলে ঢাকা শহরে অনেক মসজিদ তৈরি হ সুজা বড় কাটরা এবং শায়েস্তা খাঁ ঢাকায় ছোট কাটরা, চক বাজার ম জিদ, মোহাম্মদপুর সাত গম্বুজ মসজিদ এবং বিবি পরি ও বিবি বি জিদ তৈরি করেন। কুমিল্লা শহরের শাহ সুজা মসজিদও একই ধর ণী।
তারা মসজিদ
দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিভিন্ন সময় বহু মসজিদ তৈরি হয়েছে গ্রামের আন্দর কিল্লা শাহী মসজিদ, রাজশাহীর শাহ মাখদুম মসজিদ গর তারা মসজিদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও প্রত্যেক দে রে এক একটি বড় মসজিদ আছে। দেশের শহর ও গ্রামে বহু মসা হ। সেগুলোতে নিয়মিত নামায ছাড়াও কুরআন শিক্ষা ও য-নসীহতের ধারা চালু আছে।
📄 বায়তুল মোকাররম মসজিদ
১৯৬০ খৃষ্টাব্দের কথা। ঢাকা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী। তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আইউব খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর ছিলেন গোলাম ফারুক। ঢাকা শহর বলতে পুরাতন ঢাকাকেই বুঝাত। কিন্তু ক্রমান্বয়ে শহর সম্প্রসারিত হওয়ায় চকবাজার জামে মসজিদ কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে অক্ষম ছিল। তাই ঢাকায় একটি বড় মসজিদ তৈরির প্রয়োজন অনুভূত হয়।
বায়তুল মোকাররম জামে' মসজিদ বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী, মুফতী দীন মোহাম্মদ ও মাওলানা আকরম খাঁ প্রমুখ জাতীয় মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁরা গভর্ণর গোলাম ফারুকের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাঁর কাছে মসজিদের জন্য সরকারী জমি বরাদ্দের দাবী জানান। গভর্ণর রাজী হন। বায়তুল মোকাররমের বর্তমান স্থানটি ছিল সরকারের খাস জমি। গভর্ণর তা মসজিদের জন্য বরাদ্দ করেন। মসজিদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সহ সার্বিক ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পপতি ইয়াহইয়া বাওয়ানী। বাওয়ানীসহ অন্যান্যদের আর্থিক অনুদানের ভিত্তিতে ১৯৬২ সালে সরকারী জায়গায় বেসরকারী কেন্দ্রীয় মসজিদ তৈরি হয়। একটি কমিটি মসজিদ পরিচালনা করত।
১৯৭১ সালে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মসজিদটি সরকারী নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশের একমাত্র সরকারী ও বৃহত্তম মসজিদ। ইসলামী ফাউণ্ডেশন মসজিদের ব্যবস্থাপনা আঞ্জাম দিচ্ছে। মসজিদটি ৭ তলা। নীচের তলা ও দোতলার পশ্চিমাংশে রয়েছে শপিং সেন্টার। মসজিদের গা ঘেঁষেই সরকারী সংস্থা ইসলামী ফাউণ্ডেশনের ভবন রয়েছে।
দোতলা থেকে মসজিদ শুরু। পূর্ব-দক্ষিণ ও পূর্ব-উত্তর কোণে রয়েছে বিরাট অজুখানা। পূর্ব-দক্ষিণ কোণের অজুখানার ওপর মহিলাদের পৃথক নামাযের ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের ওঠা-নামার সিঁড়িও পুরুষদের থেকে আলাদা। মসজিদের ১ম তলার ভেতরের দেয়াল ও স্তম্ভের কিছু অংশে সুন্দর মার্বেল পাথর লাগানো হয়েছে। মসজিদের বাইরের দেয়ালের উপরিভাগে কা'বা শরীফের গেলাফের বেন্ট এর অনুরূপ বেল্ট অংকিত আছে এবং কা'বার আকৃতিতে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। মসজিদে এক সাথে প্রায় ১ লাখ লোক নামায পড়তে পারে। মসজিদে বিভিন্ন ইসলামী দিবস উপলক্ষে ওয়ায-নসীহতের ব্যবস্থা করা হয়।