📘 ইসলামে মসজিদের ভূমিকা > 📄 মসজিদে আকসার ভূমিকা

📄 মসজিদে আকসার ভূমিকা


মসজিদে আকসা ইসলামের সুমহান নেতৃস্থানীয় মসজিদসমূহের অন্যতম। অতীতে এ মসজিদ বহুমুখী ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষা, রাজনীতি ও সামাজিক ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে মসজিদটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের দাবীদার। হযরত ইবরাহীম (আ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠা লাভ ও সোলাইমান (আ) কর্তৃক পুনর্নির্মাণের পর হাজার হাজার বছর ধরে এটি ছিল বহু সংখ্যক আম্বিয়ায়ে কেরামের দীনী, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কেন্দ্র। তদানীন্তন যুগের জন্য এটি ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ কেন্দ্র যাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। বিভিন্ন নবী ও বাদশাহরা এখান থেকেই জেরুসালেম ভিত্তিক রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন।
মসজিদে আকসা মূলত সভ্যতা ও তমদ্দুনের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক। এটি ইসলামী কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের ধারক।
মসজিদে আকসায় ইসলামী শিক্ষাদান করা হত এবং তা আজ পর্যন্তও অব্যাহত রয়েছে। বরং এর চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও লাইব্রেরী। অর্থাৎ সেখানে রয়েছে দারুল কুরআন, দারুল হাদীস ও বোর্ডিং। সেগুলোতে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট পর্যায়ে শিক্ষাদান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়াও তাতে আরবী ভাষা, ইসলামী আইন, ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়।
মোট কথা, মসজিদে আকসায় দীনী শিক্ষার সাথে সাথে ইতিহাস, অংক, তর্কশাস্ত্র ও দর্শনসহ অন্যান্য দুনিয়াবী বিদ্যা শিক্ষা দেয়া হত।
ওলামায়ে কেরাম, বিচারকমণ্ডলী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মসজিদে আকসায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করতেন।
এ মসজিদ থেকেই তদানীন্তন শাসকরা জনগণের উদ্দেশ্যে সরকারী পয়গাম ও বক্তৃতা-বিবৃতি প্রকাশ করতেন সেগুলো সেখানে পাঠ করার পর তা জনগণের জন্য বাধ্যতামূলক করা হত।
মসজিদে আকসার ভেতর অবস্থিত বিভিন্ন মাদ্রাসায় বহু প্রখ্যাত আলেম ও পন্ডিত ব্যক্তি শিক্ষাদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মাদ্রাসা নাসারিয়ায় শেখ আবুল ফাতহ নাসার বিন ইবরাহীম আল-মাকদেসী অন্যতম। ইমাম গাযালী এবং আবু বকর বিন আল-আরবী তাঁর সাথে সেখানে সাক্ষাত করেন। পরবর্তীতে ইমাম গাযালী মসজিদে আকসায় বসে একটি বই লেখেন। বইটির নাম হচ্ছে, 'আর-রেসালাতুল কোসিয়াহ ফি কাওয়ায়েদিল আকায়েদ'। এ বিষয়টি তিনি 'এহইয়াউ উলুমিদ্দীন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আজ মসজিদে আকসা ইসরাইলের ইহুদীদের জবরদখলে থাকার কারণে মসজিদের পূর্বের ভূমিকা এখন আর নেই। মসজিদ ইহুদীদের জবরদখল থেকে মুক্তি লাভ করার পর আবার তার আকাঙ্খিত ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00