📄 স্বামী-স্ত্রীর সংবেদনশীল সম্পর্ক
এসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়াও স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সংবেদনশীল ও দৈহিক বা যৌন সম্পর্কের দিকে কুরআন মজীদে আলোকপাত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও কুরআন মানুষকে সহজ সরল ঝজু পথ প্রদর্শন করেছে। তা অনুসরণ করে মানুষ পংকিল ও জঘন্য ভ্রান্ত পথ পরিহার করে স্বীয় স্বাভাবিক কামনা-বাসনা পূরণ করতে পারে।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, ইয়াহুদী ও অগ্নিপূজকরা স্ত্রীর হায়েয হলে তার থেকে অনেক দূরে চলে যেত এবং এ ব্যাপারে খুবই বাড়াবাড়ি করত। আর খ্রিস্টানরা এ অবস্থায়ও স্ত্রী সঙ্গম করত। হায়েযকে তারা কিছুমাত্র পরোয়া বা ঘৃণা করত না। আর জাহিলিয়াতের লোকেরা স্ত্রীর হায়েয হলে একসঙ্গে পানাহার বা উঠা-বসা ও একই শয্যায় শয়ন- এমনকি একই ঘরে বসবাস পর্যন্ত পরিহার করত। ঠিক ইয়াহুদী ও অগ্নিপূজকদের মতো।
এসব দেখে কোন মুসলিমের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। এরূপ অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে সংমিশ্রণের ক্ষেত্রে কি হালাল আর কি হারাম, তা তাঁরা রাসূলে করীম (স)-এর কাছে জানতে চান। তখন নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়:
وَيَسَأَ لُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ، قُلْ هُوَ أَذًى لا فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ ، فَإِذَا أَتَطَهُرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللهُ ، إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوبِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ .
লোকেরা তোমার কাছে 'হায়েয' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তুমি বল- তা খুবই কদর্য-পংকিল। এ অবস্থায় স্ত্রীদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাক। তাদের সাথে দৈহিক নৈকট্য করো না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হচ্ছে। পরে যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তোমরা তাদের কাছে যাও যেভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে নিয়ম করে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তওবাকারী ও পবিত্রতাবলম্বনকারীদের পছন্দ করেন। (البقرة 222)
এ আয়াতে স্ত্রীদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার আদেশ থেকে আরবের লোকেরা মনে করে নিয়েছিল যে, ওদের সাথে বসবাসও করা যাবে না। তখন নবী করীম (স) আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে বললেন:
إِنَّمَا أَمَرْتُكُمْ أَنْ تَعْتَزِلُو امْجَا مَعَتَهُنَّ إِذا حَضْنَ وَلَمْ أَمُرُكُمْ بِاخْرَاجِهِنَّ مِنَ الْبُيُوتِ كَفِعْلِ الْاعَاجِمِ -
আমি তো তোমাদের আদেশ করেছি হায়েয অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে সঙ্গম পরিহার করতে। অনারবদের ন্যায় তাদের ঘর থেকে বহিষ্কৃত করার আদেশ তো আমি দিইনি।
ইয়াহুদীরা যখন একথা জানতে পারল, তখন তারা বলল: এ লোকটি সব ব্যাপারে আমাদের বিরোধিতা করার সংকল্প নিয়েছে।
অতএব স্ত্রীর হায়েয অবস্থায় তার সাথে সঙ্গম করা ছাড়া– ময়লার স্থান পরিহার করে- অন্যান্য সব ব্যাপারে তার থেকে সুখ লাভ করায় মুসলমানের পক্ষে কোন দোষ নেই। এ থেকে দেখা গেল একদিকে হায়েয অবস্থায় স্ত্রীদের ঘর থেকে বহিষ্কৃত করা এবং অপরদিকে তাদের সাথে যৌন মিলন পর্যন্ত মেলামেশা করা, এ দুই প্রান্তিক নীতির মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ ও সামঞ্জস্যসম্পন্ন নীতিই ইসলাম গ্রহণ করেছে, যেমন অন্যান্য সব ব্যাপারেই ইসলাম অনুরূপ নীতির প্রবর্তন করেছে।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান উদ্ঘাটন করেছে, হায়েয নিষ্ক্রান্ত রক্তে এক ধরনের বিষাক্ত বস্তু থাকে, যা দেহের মধ্যে থেকে গেলে তা খুব ক্ষতিকর হয়ে দেখা দেয়। 'হায়েয' অবস্থায় যৌন সঙ্গম পরিহার করার তত্ত্বও উদ্ঘাটিত হয়েছে। জানা গেছে, হায়েয অবস্থায় রক্ত জমা হওয়ার কারণে স্ত্রীলিঙ্গ সংকুচিত হয়ে থাকে। আভ্যন্তরীণ শিরা-উপশিরাসমূহ বহমান হওয়ার কারণে স্নায়ু নিচয় খুবই অস্থির ও অস্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কাজেই এরূপ অবস্থায় যৌন সঙ্গম হলে তার জন্যে ক্ষতিকর হয়ে দেখা দেয়। অনেক সময় হায়েয বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর তাতে স্নায়ুবিক রোগের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় যৌন অঙ্গে জ্বালানিরও উদ্ভব হয়। (ডাঃ আবদুল আযীয ইসমাঈল কৃত: الاسلام والطب في الحديث)
📄 গুহ্যদ্বার পরিহার
স্ত্রীদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক পর্যায়ে সূরা আল-বাকারার এ আয়াতটি নাযিল হয়:
نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ ، فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ وَقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ ، وَاتَّقُوا اللهَ وَعْلَمُوا أَنَّكُمْ مُلْقُوهُ ، وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ -
স্ত্রীরা তোমাদের ক্ষেত। তাই তোমরা ক্ষেতে গমনাগমন কর যেমন তোমরা চাও। আর নিজেদের ভবিষ্যতের সামগ্রী বানাও। আল্লাহকে ভয় কর। জেনে রাখ, তোমাদের তাঁর সাথে অবশ্যই সাক্ষাৎ হতে হবে। আর ঈমানদার লোকদের সুসংবাদ শোনাও। (البقرة 223)
এ আয়াতটি নাযিল হওয়ার বিশেষ কারণ ও যৌক্তিকতা রয়েছে। শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ দিহলভী তার উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন:
ইয়াহুদীরা স্ত্রী সঙ্গম পর্যায়ে কোনরূপ আল্লাহ্ প্রদত্ত নির্দেশ ছাড়াই শুধুই সংকীর্ণতার সৃষ্টি করেছিল। আর তাদের কাছাকাছি বসবাসকারী আনসার সমাজের লোকেরা তাদেরই পন্থা অনুসরণ করত। তারা বলত: স্ত্রীর পেছন থেকে সম্মুখে (স্ত্রীর অঙ্গে) সঙ্গম করা হলে সন্তান টেরা হয়। তখন কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয়:
فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ -
তোমরা তোমাদের ক্ষেতে গমনাগমন কর যেভাবে তোমরা চাও।
অর্থাৎ সঙ্গম তো স্ত্রীর যৌন অঙ্গেই হবে- তা সম্মুখ দিক থেকে হোক কিংবা হোক বাইরের দিক অর্থাৎ পেছনের দিক থেকে। যৌন সঙ্গমের কোন বিশেষ পন্থা বা পদ্ধতির কোন সম্পর্ক নেই সামাজিক-তমদ্দুনিক বা জাতীয় ব্যাপারাদির সাথে। তার পরে ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার ব্যাপারে তো প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেই জানে। এ ব্যাপারে ইয়াহুদীদের দৃষ্টি সংকীর্ণতা তাদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মতার ফসল। এ কারণে তা প্রত্যাখ্যান করাই বাঞ্ছনীয়। (حجة الله البالغة ج ٢ ص ١٣٦)
বস্তুত সঙ্গম কার্যের পদ্ধতি ও অবস্থার নির্ধারণ দ্বীন বা ধর্মের কর্ম নয়। মানুষ আল্লাহকে ভয় করবে আর আল্লাহ্র সাথে যে সাক্ষাৎ হবেই, একথা সে ভাল করে জেনে নেবে। এজন্যে সে গুহ্যদ্বার পরিহার করে চলবে। কেননা তা পায়খানার রাস্তা। এ কাজ তো পংকিল লেওয়াতাতের শামিল। শরীয়ত এ কারণেই তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা জরুরী মনে করেছে। নবী করীম (স) বলেছেন:
لاَ تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَدْبَارِهِنَّ -
তোমরা স্ত্রীদের গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করো না। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ, নসায়)
যে লোক তার স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করে, রাসূলে করীম (স) তাকে বলেছে: ছোট লেওয়াতাতকারী। اللوطية الصغرى . (আহমদ, নাসাঈ)
আনসার বংশের একজন মহিলা পিছনের দিক দিয়ে স্ত্রী অঙ্গে সঙ্গম করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে নবী করীম (স) তাকে এ আয়াতটি পাঠ করে শোনালেন:
نِسَاءَكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ -
তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের ক্ষেত। অতএব তোমরা তোমাদের ক্ষেতে আস যেভাবেই ও যে দিক দিয়েই তোমরা চাও।
হযরত উমর (রা) জিজ্ঞেস করলেন:
يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْتُ قَالَ وَمَا أَهْلَكَكَ قَالَ خَولْتُ رِحْلِي الْبَارِحَةَ -
হে রাসূল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোন জিনিস তোমাকে ধ্বংস করল? বললেন: গতরাতে আমার সওয়ারীর দিক বদল হয়ে গিয়েছিল। (অর্থাৎ পিছন থেকে স্ত্রী অঙ্গে করেছি।)
একথা শুনে নবী করীম (স) কোন জবাব দিলেন না। পরে উপরিউক্ত আয়াতটি নাযিল হয়। তার পরে নবী করীম (স) বললেনঃ
أقبل وأدبر وَاتَّقِ الْحَيْضَةَ والدبر .
সম্মুখ দিয়ে কর, পিছন দিয়েও করতে পার। তবে হায়েয অবস্থা ও গুহ্যদ্বার পরিহার করে চল। (আহমদ, তিরমিযী)
📄 স্বামী-স্ত্রীর গোপন তত্ত্ব সংরক্ষণ
কুরআন মজীদে নেককার ও পরহেযগার স্ত্রীলোকদের গুণপনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
قانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ -
বিনয়ী আল্লাহ্ অপ্রকাশিত বিষয়ের সংরক্ষণকারী আল্লাহ্র সংরক্ষণের অধীন ও আনুকূল্যে। (সূরা নিসাঃ ৩৪)
এ আয়াতে যেসব অদৃশ্য-গোপন বিষয়াদির সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বিশেষ সম্পর্ক পর্যায়ের বিষয়-ব্যাপারাদিও তার মধ্যে রয়েছে। এসব গোপন তত্ত্বের উল্লেখ বন্ধু-বান্ধবীদের মজলিসে-বৈঠকে-সভায় প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।
হাদীসে বলা হয়েছে:
إِنَّ مِنْ شَرِ النَّاسِ مَنْزِلَةَ عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلُ يُفْضِي إِلَى الْمَرْأَةِ وَقُفْضِيَ إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا -
কিয়ামতের দিন আল্লাহ্র কাছে অতীব নিকৃষ্টতম মর্যাদার হবে সে ব্যক্তি, যে স্ত্রীর কাছ থেকে স্বীয় প্রয়োজন পূর্ণ করে এবং পরে সে গোপন কথা প্রচার করে দেয়। (মুসলিম, আবূদাউদ)
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, নবী করীম (স) আমাদের নামায পড়ালেন, সালাম ফিরিয়ে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন: বসে থাক সকলে এবং শোন। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে নিজের স্ত্রীর কাছে গিয়ে ঘরের দুয়ার বন্ধ করে দেয় ও পর্দা ফেলে দেয়? পরে যখন বাইরে বের হয়ে আসে তখন লোকদের বলতে থাকে, আমি আমার স্ত্রীর সাথে এই এই করেছি?
রাসূলে করীম (স)-এর এ প্রশ্নের কেউ কোন জবাব দিল না। পরে তিনি মহিলা নামাযীদের লক্ষ্য করে বললেন: তোমাদের মধ্যেও কি এমন কেউ আছে যে এ ধরনের কথাবার্তা বলে? একটি যুবতী নারী নিজ হাটুর ওপর ভর করে নবী করীম (স)-কে দেখতে ও তাঁর কথা শুনতে চেষ্টা করছিল, সে বলল: আল্লাহ্র কসম, পুরুষরাও এ রকম কথাবার্তা বলে। এ কথা শুনে নবী করীম (স) বললেন:
هَلْ تَدْرُونَ مَا مَثَلُ مَنْ فَعَلَ ذَلكَ - أَنْ مَثَلَ مَنْ فَعَدَ ذَلِكَ مَثَلُ شَيْطَنٍ وَشَيْطَانَةٍ لَقَى أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ بِالسِّكَّةِ فَقَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ -
যে লোক এরূপ করে তার দৃষ্টান্ত কি তা কি তোমরা জান? তার দৃষ্টান্ত শয়তান পুরুষ শয়তান নারীর মতো, যে নিজে স্ত্রীর সাথে রাজপথে মিলিত হয় এবং স্বীয় প্রয়োজন পূরণ করে, আর সমস্ত মানুষ চোখ খুলে এ নির্লজ্জ দৃশ্য অবলোকন করে। (আহমদ, আবূদাউদ)
এ ধরনের নির্বুদ্ধিতাজনক কাজের প্রতি চরম ঘৃণা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজন মুসলমানের জন্যে উপস্থাপিত দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। কেননা এ অত্যন্ত জঘন্য কাজ। কোন মুসলমানই শয়তান-পুরুষ শয়তান-নারী হওয়া পছন্দ করতে পারে না
📄 পরিবার পরিকল্পনা
মানব জাতি ও মানব বংশের স্থিতিই বিয়ে ও বিবাহিত জীবনের চরম লক্ষ্য। আর এ স্থিতিই নির্ভরশীল হচ্ছে বংশধারা প্রবাহ অব্যাহতভাবে জারী থাকার ওপর। এ কারণে ইসলাম বংশবৃদ্ধির ওপর খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে এবং খুব বেশি পছন্দনীয় বলে ঘোষণা করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান— ছেলেই হোক কি মেয়েই হোক— অতীব কল্যাণ ও সমৃদ্ধির উপকরণ। কিন্তু সেই সঙ্গে ইসলাম যুক্তি সঙ্গত কারণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের দরুন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছে। রাসূলে করীম (স)-এর যুগে জন্মহার প্রতিরুদ্ধ বা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে আযল- শুক্র নিষ্ক্রমণকালে তা স্ত্রী-অঙ্গের বাইরে নিক্ষেপ করার প্রচলন ছিল। রিসালত যুগে সাহাবিগণ এ পন্থা গ্রহণ করতেন। হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে:
كُنَّا نَعْزِلُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وَسَلَّمَ وَالْقُرْآنُ يَتْرِلُ -
আমরা রাসূলে করীম (স)-এর জীবদ্দশায় ‘আযল’ করতাম, অথচ তখন কুরআন নাযিল হচ্ছিল। অপর হাদীসের ভাষা হচ্ছে:
كُنَّا نَعْزِلُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَنْهَنَا
আমরা রাসূলে করীম (স)-এর জীবদ্দশায় ‘আযল’ করতাম। এ সংবাদ তাঁর কাছে পৌছলে তিনি আমাদের এ কাজ থেকে নিষেধ করেন নি। (মুসলিম)
আর একটি হাদীসে বলা হয়েছে:
وَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَارَسُولَ اللَّهِ - إِنَّ لِي جَارِيَةٌ وَأَنَا أَعْزِلُ عَنْهَا وَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ تَحْمِلَ وَأَنَا أُرِيدُ مَا يُرِيدُ الرِّجَالُ وَإِنَّ الْيَهُودَ تُحَدِّثُ أَنَّ الْعَزَّلَ الْمَؤدَةَ الصُّغْرَى فَقَالَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَذَبَتِ الْيَهُودُ لوارَادَ اللَّهُ أَنْ يَخْلُقَهُ مَا اسْتَطَعَتْ أَنْ تُصْرِفَهُ -
এক ব্যক্তি নবী করীম (স)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললঃ হে রাসূল! আমার একটি দাসী আছে, আমি তার সাথে 'আযল' করি এবং সে গর্ভবতী হোক-তা আমি পছন্দ করি না। আর পুরুষরা যা সাধারণত চায়, আমিও তাই চাই। ওদিকে ইয়াহুদীরা বলে বেড়াচ্ছে যে, 'আযল' হচ্ছে ছোটখাটো গোপন হত্যা। তখন নবী করীম (স) বললেন, ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলছে। আল্লাহ্ বাচ্চা জন্মাতে চাইলে তুমি তা রুখতে পার না। (اصحاب السنن)
রাসূলে করীম (স)-এর এ কথাটির তাৎপর্য হচ্ছে, 'আযল' করা সত্ত্বেও শুক্রকীট গর্ভধারে পৌঁছে যেতে পারে এবং অজ্ঞাতসারেই গর্ভের সঞ্চার হওয়া সম্ভব।
হযরত উমর ফারুক (রা)-এর মজলিসে 'আযল' সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। একজন বললেন, লোকেরা তো তাকে 'ছোট গোপন হত্যা' মনে করে। একথা শুনে হযরত আলী (রা) বললেন: 'মওদাহ' জীবন্ত প্রোথিত করা অর্থাৎ 'সন্তান হত্যা' বলা যেতে পারে তখন, যখন ভ্রূণ সাতটি পর্যায়ে অতিক্রম করে যায় অর্থাৎ মাটির নির্যাস শুক্রকীটে পরিণত হয়, পরে তা জমাটবাঁধা রক্ত রূপ লাভ করে, পরে তা হয় মাংসপিণ্ড, তার পরে অস্থিমজ্জা গড়ে উঠে, আর তার ওপর গোস্ত জমে। এসব পর্যায়ে অতিক্রম করেই মানবীয় আকার-আকৃতি লাভ করে। হযরত উমর (রা) বললেন: আপনি ঠিকই বলেছেন। আল্লহ্ আপনাকে দীর্ঘায়ু করুন。