📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 বেশ্যাবৃত্তি

📄 বেশ্যাবৃত্তি


বেশ্যাবৃত্তি একটা পেশা হিসেবে পাশ্চত্যের ও পাশ্চাত্যানুসারী অনেকগুলো দেশেই স্বীকৃত ও সমর্থিত। এজন্যে রীতিমত অনুমতি ও সরকারী লাইসেন্স দেয়া হয়, দেয়া হয় অবাধ নির্বিরোধ সুযোগ-সুবিধা। এই বৃত্তিটিকেও দেশ চলতি অন্যান্য পেশার মতো একটা পেশার মর্যাদা দেয়া হয় এবং এ পেশা সংক্রান্ত যাবতীয় অধিকার দান করা হয়।
কিন্তু ইসলাম এ পেশার ওপর কুঠোরাঘাত করেছে এবং স্বাধীনা কিংবা ক্রীতদাস কোন রমণীকেই স্বীয় স্ত্রী-অঙ্গের দ্বারা কোনরূপ উপার্জন করার অনুমতি দেয়নি।
জাহিলিয়াতের যুগে কেউ কেউ তার ক্রীতদাসীর ওপর দৈনিক হারে 'কর' ধার্য করত। এ 'কর' তাদের মালিকদের রীতিমত আদায় করে দিতে তারা বাধ্য ছিল। সেজন্যে তাঁকে যে কোন উপায়েই হোক উপার্জন করতে হতো। এ কারণে অনেক দাসীই ধার্যকৃত 'কর' আদায়ের নিমিত্তে বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য হতো। অনেক দাসী-মালিক আবার সরাসরি দাসীকে এ কাজে নিয়োজিত করত। আর তার বিনিময়ে সে মোটা পরিমাণ উপার্জন করত। উত্তরকালে ইসলাম এসে নারীদের এ চরম দুর্দশা ও জঘন্য কাজকর্মের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দান করে। এ সময়ই আল্লাহ্র ফরমান নাযিল হয়: وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنَا لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الحيوةِ الدُّنْيَا
তোমরা তোমাদের দাসী বা কন্যাদের বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য কর না- ওরা তো পবিত্রতা ও সতীত্ব রক্ষা করে থাকতে চায়- শুধু এজন্যে যে, এর মাধ্যমে তোমরা বৈষয়িক স্বার্থ লাভ করবে। (সূরা আন-নূরঃ ৩৩)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেছেন: মুনাফিক প্রধান আবদুল্লাহ ইবনে উবাই রাসূলে করীম (স)-এর কাছে উপস্থিত হলো। তার সাথে ছিল 'মুয়াযাত" নাম্নী এক অনিন্দ্যসুন্দরী দাসী। সে বলল: ইয়া রাসূল! এই মেয়েটি অমুক ইয়াতীমের মালিকানাধীন দাসী। আপনি কি ওকে বেশ্যাবৃত্তি করার অনুমতি দেবেন? তাহলে সে ইয়াতীমরা অনেক মুনাফা লাভ করতে পারত। নবী করীম (স) জবাবে স্পষ্ট ভাষায় বললেন: 'না'।
নবী করীম (স) এই বীভৎস পেশার পথ চিরতরে বন্ধ করে দিলেন, তার রোজগারে যারই কোন ফায়দা হোক, বড় কোন প্রয়োজনই পূরণ হোক এবং বহু বড় মহৎ উদ্দেশ্যেই হোক-না-কেন, ইসলামী সমাজকে সর্ব প্রকারের পাপ কার্যের পংকিলতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র রাখাই ইসলামের লক্ষ্য।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 নৃত্য ও যৌন শিল্পকর্ম

📄 নৃত্য ও যৌন শিল্পকর্ম


ইসলাম যৌন উত্তেজক নৃত্য পেশা হিসেবে গ্রহণ করা আদৌ সমর্থন করে না। অনুরূপভাবে এমন কাজেও ইসলামে অনুমোদন নেই, যা মন-মেজাজে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে। অশ্লীল গান, নির্লজ্জ অভিনয় এবং এ ধরনের অন্যান্য অর্থহীন কাজকর্ম এ পর্যায়ে পড়ে। বর্তমান কালে একে যদিও Art বা শিল্পকলা— এ লোভনীয় নামে অভিহিত করা হয় এবং তাকে উন্নতি-অগ্রগতি লাভের জন্যে অপরিহার্য মনে করা হয় কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তা চরম গুমরাহী ভিন্ন আর কিছুই নয়।
বস্তুত বৈবাহিক সম্পর্ক ভিন্ন অন্য কোনভাবেই নারী-পুরুষের যৌন সম্পর্ক ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষিত হয়েছে। যেসব কথা ও কাজ এ পথ উন্মুক্ত করে দেয়, ইসলামের দৃষ্টিতে তা সবই সম্পূর্ণ হারাম। কুরআন জ্বেনা-ব্যভিচার হারাম ঘোষণার জন্যে যে মুজিযাপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, তাতেই এই তত্ত্ব নিহিত। কুরআনের ঘোষণা হচ্ছে:
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى أَنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً ، وَسَاءَ سَبِيلًا -
জ্বেনা-ব্যভিচারের নিকটেও ঘেঁষবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জতার কাজ এবং খুবই কদর্য পথ ও উপায়। (সূরা বনী-ইসরাইল: ৩২)
ওপরে আমরা যা যা বলেছি, উপরন্তু যেসব কথাকে লোকেরা যৌন উত্তেজক মনে করে, তা সবই এ ব্যভিচারের নিকটবর্তী করে দেয়ার উপকরণ। বরং তা-ই মানুষকে সেদিকে উদ্বুদ্ধ করে, তার প্রতি আকর্ষণ তীব্র করে তোলে। কাজেই এ পর্যায়ে যত কাজ আছে তা যারা করে তারা খুবই মারাত্মক কাজ করে, তাতে সন্দেহ নেই।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি ও ক্রুশ নির্মাণ শিল্প

📄 ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি ও ক্রুশ নির্মাণ শিল্প


ইসলামে প্রতিকৃতি হারাম। উপরে বিস্তারিতভাবে তার বিশ্লেষণ দেয়া হয়েছে। প্রতিকৃতি নির্মাণ আরো কঠিনভাবে হারাম। বুখারী শরীফে উদ্ধৃত হয়েছে, সায়ীদ ইবনুল হাসান বলেন:
كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ إِنِّي رَجُلٌ أَنَّمَا مَعِيشَتِي مِنْ صَنَعَة يَدِى وَإِنِّي أَصْنَعُ هذه التَّصَاوِيرَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لا أُحَدِّثُكَ الأَمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ منْ صَوَّرَ صُورَةً فَإِنَّ اللَّهَ يَعَنِيَّةً حَتَّى يَنْفَخُ فِيْهَا الرُّوْحُ وَلَيْسَ بِنَافِخَ فِيْهَا أَبَدًا فَرَا بِالرَّجُلِ رَبْوَةٌ شَدِيدَةً فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَيْحَكَ إِنْ أَبَيْتَ إِلَّا أَنْ تَصْنَعَ فَعَلَيْكَ بِهَذَا الشَّجَرِ وَكُلِّ شَيْءٍ لَيْسَ فِيهِ الرُّوحُ -
আমি ইবনে আব্বাস (রা)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এল। বলল: হে ইবনে আব্বাস! হাতের কারিগরিই আমার জীবিকার উপায়। আমি এ ধরনের ছবি তৈরী করি। ইবনে আব্বাস (রা) বললেন: আমি স্বয়ং রাসূলে করীম (স)-কে যা বলতে শুনেছি, তোমাকে আমি ঠিক তাই শোনাব। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ছবি বা প্রতিকৃতি নির্মাণ করবে তাতে রূহ দেয়ার শান্তি আল্লাহ্ তাকে দেবেন, কিন্তু সে তাতে রূহ কখনই দিতে পারবে না। এ কথা শুনে প্রতিক্রিয়ায় লোকটির মুখমণ্ডল বিকৃত ও ম্লান হয়ে গেল। ইবনে আব্বাস তাকে বললেন: তুমি যদি ছবি বা প্রতিকৃতি বানাতেই চাও, তাহলে গাছ ইত্যাদি নিষ্প্রাণ জিনিসের ছবি বানাও। (বুখারী)
মূর্তি, ক্রুশ- এধরনের সব জিনিস সম্পর্কে এ একই বিধান প্রযোজ্য।
তবে ফটোগ্রাফীর ছবি সম্পর্কে তো আমরা পূর্বেই বলেছি যে, শরীয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃষ্টিকোণ হচ্ছে, তা জায়েয। আর খুব বেশি বললে মাকরূহই বলা যায়। তবে শর্ত এই যে, সেই কাজটা মূলতঃ কোন হারাম উদ্দেশ্যে হতে পারবে না। যেমন নারীর যৌন আকর্ষণমূলক অঙ্গসমূহকে উলঙ্গ করে তোলা, নারী-পুরুষের চুম্বনরত অবস্থায় ছবি এবং যেসবের বড়ত্ব বা পবিত্রতা প্রতিষ্ঠা করা হয়, সেসবের ছবি তোলা- যেমন ফেরেশতা, নবী-রাসূল ইত্যাদির ছবি।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 মাদক ও জ্ঞান-বুদ্ধির বিনষ্টকারী দ্রব্যাদি শিল্প

📄 মাদক ও জ্ঞান-বুদ্ধির বিনষ্টকারী দ্রব্যাদি শিল্প


পূর্বেই বলা হয়েছে, মাদক- মদ্য প্রচলনে যে কোন রকমের অংশগ্রহণ বা সাহায্য সহযোগিতাকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। তা বানান- প্রস্তুত করণ, বন্টন বা পান করা- করান, সবই সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যে লোকই এ কাজ করবে, সে-ই রাসূলের ভাষায় অভিশপ্ত।
হাশীশ ও আফিমের ন্যায় বিবেক-বুদ্ধি বিলোপকারী যাবতীয় দ্রব্যাদি মাদক দ্রব্যের মতই হারাম। এসব জিনিসের লেন-দেন, ক্রয়-বিক্রয়, বিলি-বন্টন ও তার উৎপাদন শিল্প- সবই হারাম। মুসলমানের পক্ষে এমন কোন শিল্পকর্ম বা পেশা অবলম্বন করা যা হারাম কাজের ওপর ভিত্তিশীল কিংবা যার দ্বারা কোন হারাম কাজের প্রচলন ঘটে ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অপছন্দনীয়, অবাঞ্ছনীয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00