📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 কর্মক্ষম ব্যক্তির নিষ্কর্মা বসে থাকা হারাম

📄 কর্মক্ষম ব্যক্তির নিষ্কর্মা বসে থাকা হারাম


কোন মুসলমান ইবাদত-বন্দেগীতে নিমগ্ন হওয়ার বা আল্লাহ্ ওপর নির্ভরতার নাম করে রিস্ক উপার্জন থেকে বিরত বা বেপরোয়া হয়ে থাকবে তা কিছুতেই হতে পারে না। কেননা আকাশ থেকে স্বর্ণ রৌপ্যের বর্ষণ হবার নয়।
অনুরূপভাবে লোকদের দান-সাদকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকা এবং জীবিকা উপার্জনের উপায়-উপকরণ হস্তগত হওয়া সত্ত্বেও তা ব্যবহার করে উপার্জনে আত্মনিয়োগ না করা এ পন্থায় নিজের ও নিজ আত্মীয়-স্বজনের প্রয়োজনাবলী পূরণ করতে চেষ্টা না করা কোনক্রমেই জায়েয হতে পারে না। এ পর্যায়ে রাসূলে করীম (স) বলেছেন:
(ترمذی) لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِي وَلَا لِذِي مُرَّةٍ سَوِي -
দান-খয়রাত গ্রহণ করা কোন ধনী লোকদের জন্যে জায়েয নয়, শক্তিমান ও সুস্থ ব্যক্তির জন্যেও নয়।
কোন মুসলিম অপর কারো সম্মুখে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করবে যার ফলে তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিলীন হয়ে যাবে এবং স্বীয় মনুষ্যত্বের মান-মর্যাদা অকারণ ক্ষতিগ্রস্ত করবে, নবী করীম (স) এ ব্যাপারে কঠিন ও কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন:
الَّذِي يَسْأَلُ مِنْ غَيْرِهَا جَةٍ كَمِثْلِ الَّذِي يَلْتَفِطُ الْجَمْرَ -
যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে ভিক্ষা চায়, সে নিজ হস্তে অঙ্গার একত্রিত করার মতো ভয়াবহ কাজ করে। (বায়হাকী, ইবনে খাযিমাহ)
তিনি আরও বলেছেন:
مَنْ سَالَ النَّاسَ لِيَشْرِى بِهِ مَالَهُ كَانَ خَمُوسًا فِي وَجْهِهِ إِلَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ ورضْفًا يَا كُلَّهُ مِنْ جَهَنَّمَ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُقَلِلْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْتُو -
যে লোক ধনী হওয়ার উদ্দেশ্যে লোকদের কাছে ভিক্ষা চাইবে, সে নিজের চেহারাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্যে ক্ষতযুক্ত করে দিল, সে জাহান্নামের গরম পাথর ভক্ষণ করতে বাধ্য হবে। এখানে যার ইচ্ছা নিজের জন্যে এসব জিনিস বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করুক, আর যার ইচ্ছা কম করুক। (তিরমিযী)
তাঁর আরও একটি কথা:
لَا تَزَالُ الْمَسْأَلَةُ بِأَحَدٍ كُمْ حَتَّى يَلْقِيَ اللَّهَ وَلَبِسَتْ فِي وَجْهِم مُضْعَةُ لَحْمٍ -
যে ব্যক্তি নিজেকে ভিক্ষা করার কাজে অভ্যস্ত বানায়, সে আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাত করবে এমন অবস্থায় যে, তার মুখমণ্ডলে এক টুকরা গোশতও থাকবে না। (বুখারী, মুসলিম)
এ ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করার জন্যে নবী করীম (স) মুসলমানদের ইজ্জতের হেফাযত করেছেন এবং তাদের মধ্যে আত্মসম্মান বোধ, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকার গুণাবলী লালনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 ভিক্ষাবৃত্তি জায়েয হয় কখন

📄 ভিক্ষাবৃত্তি জায়েয হয় কখন


কিন্তু তা সত্ত্বেও নবী করীম (স) লোকদের ঠেকা-বাধার প্রতি পুরোপুরি লক্ষ্য রেখেছেন। কোন লোক যদি ভিক্ষা চাইতে ও সরকার বা ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্যই হয়, তাহলে অবশ্য গুনাহ হবে না। নবী করীম (স) ইরশাদ করেছেন:
اِنَّمَا الْمَسَائِلُ كَدُوْحٌ يَكْدَحُ الرُّجُلُ بِهَا وَجْهَهُ فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ إِلَّا أَنْ يُسْأَلَ ذَا سُلْطَانٍ أَوْ فِي أَمْرٍ لَا يَجِدُ مِنْهُ يُدا
ভিক্ষা চাওয়া যখম করার সমার্থক। যে ব্যক্তি ভিক্ষা করে সে স্বীয় মুখমণ্ডলকে ক্ষতবিক্ষত করে। কাজেই যার ইচ্ছা নিজের মুখমণ্ডলকে সে অবস্থায় রেখে দিক, আর যার ইচ্ছা সে তা ত্যাগ করুক। তবে কেউ যদি কোন কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে ভিক্ষা চায় কিংবা এমন কোন ব্যাপারে চাইতে হয় যা একান্তই অপরিহার্য, তাহলে সে কথা স্বতন্ত্র। (আবূ দাউদ, নিসায়ী)
আবূ বাশার কুবাইসা ইবনুল মাখারিক (রা) বলেন:
تَحَمَلْتُ حَمَالَةً فَآتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسَاءَلَهُ فِيهَا فَقَالَ أَقِمْ حَتَّى تَاتِيْنَا الصَّدَقَةَ فَنَأْمُرَلَكَ بِهَا ثُمَّ قَالَ يَقْبَيْصَةُ إِنَّ الْمَسَائِلَ لَا تَحِلُّ الَّا لِأَحَدٍ ثَلَاثَةٍ رَجُلٌ تَحَمَلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسَالَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ وَرَجُلٌ أَصبتْهُ جَائِحَةُ اجْتَاحَتْ مَا لَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْالَةُ حَتَّى يُصِيبَ قَوَامًا مِنْ عَيْشِ وَرَجُلٌ أَصَبَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلَاثَةٌ مِّنْ ذَوِى الدجا مِنْ قَوْمِهِ لَقَدْ أَصَابَتْ فُلانًا فَاقَةً فَخَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قَوَامًا مِنْ عَيْشٍ فَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَة يَا قُبَيْصَةُ سَحْتُ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْنًا - (মুসলিম, আবুদাউদ, নিসায়ী)
আমি এক ব্যাপারে জামানতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। এ কারণে আমি রাসূলে করীম (স)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ভিক্ষা চাইলাম। তিনি বললেন: অপেক্ষা কর, সাদকার মাল এসে যাবে, তা থেকে তোমাকে দিইয়ে দেব। পরে বললেন, হে কুবাইসা, ভিক্ষা চওয়া জায়েয নয় তিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে। একজন, যে কারো জন্যে জামানতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তার জন্যে ভিক্ষা চাওয়া জায়েয যতক্ষণ না প্রার্থিত পরিমাণ মাল সে পাবে। তারপর তার বিরত হয়ে যাওয়া উচিত। দ্বিতীয় ব্যক্তি যার ধন-মাল কোন বিপদে পড়ার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। সে ব্যক্তি ভিক্ষা করতে পারে, যতদিনে তার জীবনযাত্রা চালানর ব্যবস্থা না হয়। আর তৃতীয় ব্যক্তি হচ্ছে সে, যে অনশনের সম্মুখীন হয়ে যায়, যতক্ষণ তার পাড়ার তিনজন সমঝদার লোক বলে দেবে যে, লোকটি অনশনগ্রস্ত। এরূপ অবস্থায় তার পক্ষে ভিক্ষা চাওয়া জায়েয, যতক্ষণ না জীবনযাত্রা চালানর ব্যবস্থা হয়ে যায়।
এতদ্ব্যতীত যে ব্যক্তিই ভিক্ষা করে, তার জন্যে এ মাল হারামের, যা সে ভক্ষণ করে।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 শ্রম সম্মানজনক

📄 শ্রম সম্মানজনক


লোকেরা কোন কাজকে হীন জ্ঞান করে। কিন্তু নবী করীম (স) তা সমর্থন করে নি। তিনি তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, যে কোন কাজই হোক-না-কেন, তাতেই সম্মান ও পরিপূর্ণ ইযযত নিহিত রয়েছে এবং লোকদের সাহায্য গ্রহণে ও তাঁর ওপর নির্ভরতায়ই রয়েছে সর্বপ্রকারের যিল্লাতি ও অপমান। তিনি বলেছেন:
لأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ عَلَى ظَهْرِهِ فَيَأْتِي بِحَزْمَةٍ مِّنَ الْحَطَبِ فَيُبِيْعُهَا فَيَكُفَّ اللَّهُ بِهَا وَجْهَهُ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يُسْأَلَ النَّاسَ أَعْطُوهُ أَوْ مَنْعُوهُ (বুখারী, মুসলিম)
কোন ব্যক্তির রশি নিয়ে জঙ্গলে যাওয়া ও নিজের মাথায় কাষ্ঠের বোঝা বহন করে নিয়ে আসা ও তা বিক্রয় করে উপার্জন করা- যার ফলে আল্লাহ্ তাঁর ইযযতের সংরক্ষণ করে দেবেন- লোকদের কাছে ভিক্ষা চাওয়ার তুলনায় অনেক ভাল ও কল্যাণময়- লোকেরা তাকে দেবে কিনা দেবে তারও কোন নিশ্চয়তা যখন নেই।
অতএব মুসলমান ব্যক্তির উচিত কৃষি, ব্যবসা, শিল্প ও এ ধরনের যে কোন কাজ বা চাকরি করে উপার্জন করা-যতক্ষণ না তা হারাম কাজে জড়িত হয়ে, পড়ার মতো কোন কাজ হবে।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 কৃষিকার্য দ্বারা উপার্জন

📄 কৃষিকার্য দ্বারা উপার্জন


কুরআন মজীদে আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের প্রতি স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের উল্লেখ প্রসঙ্গে কৃষিকার্য সংক্রান্ত বহু নীতিগতভাবে জরুরী হেদায়েত দিয়েছেন।
পৃথিবীর মাটি ও জমিকে আল্লাহ তা'আলা উৎপাদন ও ফসল ফলানর কাজ করার যোগ্য বানিয়ে দিয়েছেন। তাকে বানিয়েছেন শয্যা, মেঝে, তা সৃষ্টির জন্যে আল্লাহ্ বড় একটা নিয়ামত। এ নিয়ামতের কথা স্মরণ রাখা ও তাঁর মূল্য বোঝা একান্তই কর্তব্য। ইরশাদ হয়েছে:
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضِ بِسَاطًا لِّتَسْلُكُوا مِنْهَا سُبُلًا فَجَاجًا
আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের জন্যে জমিকে শয্যা ও মেঝে বানিয়েছেন, যেন তোমরা তার ওপর অবস্থিত উন্মুক্ত পথঘাটে চলাচল করতে পার। (সূরা নূহ্ : ১৯-২০)
وَالْأَرْضَ وَضَعَهَا لِلْأَنَامِ - فِيهَا فَاكِهَةٌ وَالنَّخْلُ ذَاتُ الْأَكْمَامِ - وَالْحَبُّ ذُو (الرحمن : ১০-১৩) الْعَصْفِ وَالرِّيْحَانُ - فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَن .
জমিকে তিনি সৃষ্টিকুলের জন্যে বানিয়েছেন। তাতে ফল, খেজুর গাছ, আবরণধারী, শস্য-ভূষিসহ ও ফুল রয়েছে সুগন্ধিযুক্ত। তাহলে তোমরা তোমাদের আল্লাহর কুদরতের কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
বৃষ্টিরূপে তিনি পানি বর্ষণ করেছেন এবং তা খাল-ঝর্ণায় প্রবাহিত করেছেন আর তার সাহায্যে তিনি মৃত জমিকে জীবিত করেন।
وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِراً نُخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُتَرَاكِبًا (الانعام ৯৯)
তিনি ঊর্ধ্বলোক থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। পরে তার সাহায্যে সর্বপ্রকারের উদ্ভিদ, গাছপালা ইত্যাদি উৎপাদন করেছি, পরে তাতে সবুজ-শ্যামল-তাজা শাখা-প্রশাখা বের করেছি- তা থেকেই আমরা স্তরসম্পন্ন দানা বের করি।
فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلى طَعَامِهِ - أَنَّا صَبَيْنَا الْمَاءَ صَبًّا ثُم تَقَقْنَا الْأَرْضِ شَقًّا (عبس ২৪-২৮) - فَأَنْبَتْنَا فِيهَا حَبًّا - و عِنَبًا وَقَضْبًا
মানুষের কর্তব্য তার খাদ্যের প্রতি দৃষ্টি দেয়া- চিন্তা করা। আমরাই প্রয়োজনমত পানি বর্ষণ করেছি। পরে জমি বিস্ময়করভাবে দীর্ণ করেছি আর তাতে শস্য, আঙ্গুর ও তরিতরকারী উৎপাদন করেছি।
বাতাসকে আল্লাহ্ সুসংবাদদাতা করে পাঠিয়ে থাকেন। তার সাহায্যে মেঘমালা চলাচল করে এবং উদ্ভিদসমূহ ফলধারী হয়।
وَلْأَرْضَ مَدَدْنُهَا وَالْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِي وَأَنْبَتْنَا فِيْهَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مُوْزُون - وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَا بِشَ وَمَنْ لَسْتُمْ لَهُ بِرَازِقِينَ - وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَارٍ مُعْلَم وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ فَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَسْقَيْنَا كُمُوهُ ، وَمَا أَنْتُمْ لَهُ بِخَازِنِينَ -
আর জমিকে বিস্তীর্ণ বানিয়েছি, তাতে সংস্থাপিত করেছি উঁচু শক্ত পর্বতমালা এবং তাতে প্রতিটি জিনিস সুপরিকল্পিত ও পরিমিতভাবে উৎপাদিত করেছি। আর আমরা তোমাদের জীবিকা তাতেই বানিয়েছি তাদের জন্যেও, যাদের তোমরা রিযিকদাতা নও। আর প্রতিটি জিনিসেরই সম্ভার-স্তুপ আমাদের কাছে সংরক্ষিত, একটা জ্ঞাত পরিমাণেই আমরা তা থেকে প্রদান করে থাকি। বাতাসকে আমরা ফল ভারাক্রান্ত করেই পাঠিয়ে থাকি। পরে ঊর্ধ্বলোক থেকে পানি বর্ষণ করি আর তোমাদেরে সিক্ত করি তা দিয়ে। নতুবা তোমরা তো আর সমাহার সঞ্চয় করে রাখতে পারতে না। (সূরা হিজর: ১৯-২২)
এ সব কটি আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা কৃষিকাজে নিয়ামত ও তার সহজ সাধ্যতার উপায়-উপকরণের দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। রাসূলে করীম (স) বলেছেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعْرِسُ غَرَسًا أَوْ يُزْرِعُ زَرْعًا فَيَاكُلُ مِنْهُ طَيْرُ وَلَا انْسَانُ إِلَّا كَانَ لَهُ بِهِ صَدَقَةٌ -
যে মুসলমানই কোন গাছ লাগায় বা ক্ষেত করে আর তা থেকে পাখি বা মানুষ যা খায়, তা তার জন্যে দান হয়ে যায়। (বুখারী, মুসলিম)
অর্থাৎ তার এই কাজের সওয়াব অব্যাহতভাবে হতে থাকে, যতদিন সেই গাছ বা ক্ষেত থেকে খাওয়ার কাজ চলতে থাকে। যদিও জমির মালিক বা বৃক্ষ রোপনকারী মরেই গিয়ে থাক না কেন কিংবা তার মালিকানা হস্তান্তরিতই হোক না কেন।
বিশেষজ্ঞগণের মতে আল্লাহর দয়া ও দানশীলতার পক্ষে এটা অসম্ভব নয় যে, তিনি এরূপ ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পরও সওয়াব দান করতে থাকবেন যেমন করে তার জীবদ্দশায় তাকে দিচ্ছিলেন। সাদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম, যার দ্বারা লোকেরা উপকৃত হয় কিংবা নেক-বখত সন্তান, যে তার জন্যে দো'আ করতে থাকে অথবা কোন রোপিত বৃক্ষ, কৃষি এবং সীমান্ত প্রহরা- এই ছয়টি কাজ সম্পর্কেই উপরিউক্ত কথা প্রযোজ্য।
হাদীসে উদ্ধৃত হয়েছে, এক ব্যক্তি হযরত আবুদ্দারদা (রা)-এর কাছে উপস্থিত হলো। তখন তিনি আখরোটের চারা লাগাচ্ছিলেন। লোকটি বলল: আপনি এ বার্ধ্যক্যে আখরোটের চারা রোপন করছেন, ওটাতে ফল ধরতে তো অনেক বছর লেগে যাবে?..... জবাবে আবুদ্দারদা (রা) বললেন: তাতে ক্ষতি কি ? অন্যরা খাবে আর আমি তার সওয়াব কামাই করব?
নবী করীম (স)-এর অপর এক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন : আমি আমার কান দিয়ে রাসূলে করীম (স)-কে বলতে শুনেছি: مَنْ نَصِبَ شَجَرَةً فَصبر على حفظها وَالْقِيَامُ عَلَيْهَا حَتَّى تَثْمُرَ فَإِنَّ لَهُ فِي (مسند احمد) كُلِّ شَيْءٍ يُصَابُ مِنْ ثَمَرِهَا صَدَقَةٌ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ -
যে ব্যক্তি কোন গাছ লাগায়, তার পরে তার হেফাযত ও দেখাশোনা করতে থাকে, যতদিন না সে গাছে ফল ধরে, এই সময়ে সে ফলের যা কিছু ক্ষতি সাধিত হবে, তার সওয়াব সে আল্লাহ্র কাছ থেকে পাবে।
এ সমস্ত এবং এ ধরনের আরও বহু হাদীসকে ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন যে, কৃষিকাজ উপার্জনের অপরাপর উপায়ের তুলনায় অনেক উত্তম। কিন্তু অপর কিছু বিশেষজ্ঞের মতে শিল্প ও হাতের কাজ অনেক ভাল। আবার কাহারও কাহারও মতে ব্যবসাই উত্তম উপায়।
অপর কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন কাজ উত্তম বিবেচিত হতে পারে, যেমন খাদ্যের তীব্র অভাব হলে কৃষিকার্য উত্তম। কেননা তার কল্যাণ সাধরণভাবে সকলেরই প্রাপ্য। আর যখন ডাকাত পড়ার কারণে হাটে-বাজারে কম মালের আমদানী হয়, তখন ব্যবসা ভাল কাজ আর শিল্পজাত দ্রব্যাদির প্রয়োজন পূরণে শিল্পকর্ম উত্তম বিবেচিত হবে। (القسطلانی شرح بخاری)
এই শেষে উল্লিখিত বিবরণ আধুনিক অর্থনৈতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পুরোপুরিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00