📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 ছবির উদ্দেশ্য

📄 ছবির উদ্দেশ্য


ছবি কি উদ্দেশ্যে বানান হচ্ছে, ছবির হারাম হওয়া না হওয়া এ প্রশ্নের খুব বেশি গুরুত্ব রয়েছে এবং এরই ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা সম্ভব, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। যেসব ছবির উদ্দেশ্য ইসলামের আকীদা-বিশ্বাস, তার শরীয়ত এবং তার সংস্কৃতি ও রীতি-নীতির পরিপন্থী, তার হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন মুসলমানই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন না। অতএব নারীদেহের নগ্ন বা অর্ধ নগ্ন ছবি এবং নারী বিশেষত্ব সম্পন্ন ও যৌন-উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে যেসব অঙ্গ দর্শনে, সেসবের ছবি, সেসবের রেখাচিত্র বানানও সম্পূর্ণ হারাম। মানুষের মধ্যে যৌন-স্পৃহা ও তার উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হীন মন-মানসিকতাকে দাউ দাউ করা আগুনের মতো উত্তপ্ত করে দেয়ার লক্ষ্যে পত্র-পত্রিকাদিতে যে ধরনের ছবি বা স্কেচ প্রকাশ করা হয়, তা যে হারাম এবং তা যে অত্যন্ত মারাত্মক তাতে কোনই সন্দেহ থাকতে পারে না। এ ধরনের ছবি বা চিত্রের ব্যাপক প্রচার করা, ছাপানো ও সংরক্ষণ করা, ঘর অফিস ও প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে রাখা, তার প্রদর্শনী করা, প্রাচীর গাত্রে তা লাগিয়ে রাখা- ইচ্ছা ও আগ্রহের বশবর্তী হয়ে তা দেখা ও পর্যবেক্ষণ করা সবই এ হারাম পর্যায়ের মধ্যে গণ্য।
কাফির-ফাসিক ও জালিম লোকদের ছবি সম্পর্কেও এ কথা। এ পর্যায়ের লোকদের ছবি প্রতিকৃতি রচনা বা সংরক্ষণ করা কোন মুসলমানের পক্ষেই শোভন নয়, উচিত নয়। যেসব নাস্তিক নেতা আল্লাহর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে, আল্লাহ্ শরীয়তকে অগ্রাহ্য করে কিংবা যেসব মূর্তিপূজারী আল্লাহ্র সাথে শিরক করার কাজে লিপ্ত, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান- যারা হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর নবুয়‍্যাতকে অস্বীকার করে কিংবা যেসব লোক মুসলিম হওয়ার দাবি করা সত্ত্বেও আল্লাহ্র নাযিল করা বিধানকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র শাসন, নীতি নির্ধারণ ও বিচার ফয়সালার কাজ করছে- যারা সমাজের নির্লজ্জতা ও বিপর্যয় ছড়াচ্ছে যেমন অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকা ও নর্তক-নর্তকী ইত্যাদিদের ছবিও সম্পূর্ণ হারাম।
যারা মূর্তিপূজার প্রসার ঘটায়, ইসলামের বিপরীত ধর্মের নিদর্শন-মূর্তি, প্রতিকৃতি ও ক্রুশ ইত্যাদির ছবি কোনক্রমেই জায়েয নয়। রাসূলে করীম (স)-এর যুগে সম্ভবত: বেশির ভাগ বিছানার চাদর ও পর্দা-বালিশের কাপড়ে এ ধরনের ছবি চিত্রিত হতো। এ কারণে হাদীসে বলা হয়েছেঃ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَتْرُكُ فِي بَيْتِهِ شَيْئًا فِيْهِ تَصَالِيْبُ الا نَقَضَه - (বুখারী)
নবী করীম (স) তাঁর ঘরে এমন কোন জিনিস রাখতেন না, যার ওপর ক্রুশ ইত্যাদির ছবি আছে। এরূপ জিনিস থাকলে তা ছিড়ে ছিন্নভিন্ন করে দিতেন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে: إِنَّ الرَّسُولَ فِي عَامِ الْفَتْحِ لَمَّا رَايَ الصُّورَا الَّتِي فِي الْبَيْتِ الْحَرَامِ لَمْ يَدْخُلْ حَتَّى أَمَرَ فَمُحِيَتْ - (বুখারী)
মক্কা বিজয় বছরে যখন নবী করীম (স) হারামের মধ্যে ছবি দেখতে পেলেন, তখন তিনি প্রবেশ করলেন না। পরে তা মুছে ফেলা হয় এবং তার পরই তিনি তথায় প্রবেশ করেন।
সেখানে যেসব ছবি ছিল, তা থেকে মক্কার মুশরিকদের মূর্তিপূজা ও তাদের প্রাচীন গুমরাহীই প্রকট হয়ে উঠেছিল।
হযরত আলী (রা) বর্ণিত, নবী করীম (স) একদা জানাযায় শরীক হয়েছিলেন। তখন বললেন: أَيُّكُمْ يَنْطَلِقُ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلَا يَدَعْ بِهَا وَتَنَا إِلَّا كَسْرُهُ وَلَا قَبْرًا إِلَّا سَوَّاهُ وَلَا صُورَةً إِلَّا لَطَخَهَا
তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে মদীনায় গিয়ে প্রতিটি কবর সমতল করে দেবে এবং কোন একটি ছবিও রাখবে না, প্রত্যেকটিকেই বিকৃত করে দেবে?
এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, 'ইয়া রাসূল, আমি এ আঞ্জাম দেয়ার জন্যে প্রস্তুত। এ কথা শুনে মদীনাবাসীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল।.....পরে সেই লোকটি ফিরে এসে নিবেদন করলেন: يَا رَسُولَ الله لَمْ آدَعَ بِهَا وَثَنَا إِلَّا كَسَرْتُهُ وَلَا قَبْرًا إِلَّا سَوَّيْتُهُ وَلَا صُورَةً إِلَّا لَطَخْتُهَا
হে রাসূল! আমি কোন একটি মূর্তিও রাখি নি, চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছি। কোন একটি কবরকের বাদ দেই নি, সবগুলোকে সমতল করে দিয়েছি এবং প্রতিটি ছবিকে আমি বিকৃত করে দিয়েছি, কোনটিকেই রেহাই দেই নি।
এ কথা শুনে নবী করীম (স) ঘোষণা করলেন: مَنْ عَادَ إِلَى شَيْءٍ مِّنْ هُذَا فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -
অতঃপর যে লোকই এ কাজগুলোর মধ্য থেকে কোন একটি কাজও করবে সে সেই হেদায়েতের অমান্যকারী হবে, যা মুহাম্মাদ (স)-এর প্রতি নাযিল হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ)
এ হাদীসে নবী করীম (স) যেসব ছবি বিকৃত করতে ও নির্মূল করতে নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো জাহিলিাতের যুগের কুফরী ও শিরকের প্রতীক ও নিদর্শন। ছাড়া আর কিছু নয়। এ কারনেই নবী করীম (স) এসব থেকে মদীনাকে মুক্ত ও পবিত্র করতে চেয়েছিলেন। আর এজন্যেই এসব কাজের মধ্যে কোন একটিও পুনরায় করাকে আল্লাহ্ নাযিল করা বিধানের প্রতি কুফরী ও অমান্য করার শামিল বলে ঘোষণা করেছেন।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 ছবি—প্রতিকৃতি ও তার নির্মাতা সম্পর্কিত বিধানের সার-নির্যাস

📄 ছবি—প্রতিকৃতি ও তার নির্মাতা সম্পর্কিত বিধানের সার-নির্যাস


ছবি- প্রতিকৃতি ও তার নির্মাতা সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তের যে বিধান বিস্তারিতভাবে আলোচিত হলো, তার সার-নির্যাস এইঃ
ক. আল্লাহ্ ছাড়া অন্যান্য উপাস্য দেবতারূপে গৃহীতদের ছবি-প্রতিকৃতি সর্বাধিক কঠিন হারাম এবং তার গুনাহও সব চাইতে বেশি। খ্রিস্টানদের মাবুদ হযরত মসীহর (তাঁর মা মেরির) ছবি তার বড় দৃষ্টান্ত। এ ধরনের ছবি নির্মাণ সুস্পষ্ট কুফরী। কেউ যদি জেনে শুনে ইচ্ছা করে এ ধরনের ছবি নির্মাণ করে, তাহলে বুঝতে হবে, সে কাফির হয়ে গেছে। এ ধরনের ছবির প্রতিকৃতি নির্মাণ কঠিনতম গুনাহের কাজ ও অত্যন্ত জঘন্য ও ঘৃণ্য। আর যে ব্যক্তিই এ ধরনের ছবির প্রচলন করবে কিংবা কোন না কোনভাবে সে সবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, সে নিজের পরিমাণ অনুপাতে গুনাহে শরীক হলো।
খ. তার চাইতে কম গুনাহ্ হচ্ছে এমন সব ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি নির্মাণ, যার পূজা করা না হলেও তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। যেমন কোন দেশের রাজা-বাদশা, সর্বোচ্চ নেতা, প্রশাসক, ডিকটেটর ইত্যাদি- এদের স্মৃতিস্তম্ভ স্বরূপ প্রতিকৃতি নির্মাণ করে উন্মুক্ত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। প্রতিকৃতি অসম্পূর্ণ বা সম্পূর্ণ হওয়ার দিক দিয়ে গুনাহে কোন তারতম্য হয় না।
ঘ. এর চেয়েও কম গুনাহ হচ্ছে এমন সব ব্যক্তির প্রতিকৃতি নির্মাণ, যাদের তাযীম ও পবিত্রতা প্রদর্শন করা হয় না। তবে তাও হারাম, এ সম্পর্কে কোন দ্বিমত নেই। তবে যাদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য জ্ঞাপন করা হয়, তা এ পর্যায়ে পড়ে না। যেমন বাচ্চাদের খেলনা ও মিঠাই মণ্ডা দিয়ে কোন প্রতিকৃতি বানান- যা খেয়ে ফেলা হয়।
ঙ. এর পরে আসে বিদেহী ছবিগুলোর প্রশ্ন। অর্থাৎ শৈল্পিক ছবি সেসব ব্যক্তিত্বের যাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়, যেমন প্রশাসক, জননেতা, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতা প্রমুখের ছবি। বিশেষ করে যদি তা কোথাও স্থাপন করা বা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। হারামের মাত্রা আরও কঠিন ও তীব্র হয়ে ওঠে যদি জালিম, ফাসিক- ফাসিক-ফাজির-নাস্তিক ইত্যাদি ধরনের লোকদের ছবি হয়। কেননা এসব লোকের প্রতি তাযীম-সম্মান- ভক্তি দেখান ইসলামকে নির্মূল করার সমান অপরাধ।
চ. গুনাহ্ দৃষ্টিতে তার চেয়ে কম মাত্রার হচ্ছে সেসব ছবি তোলা, যা অঙ্গ-সৌষ্ঠব ও দেহসম্পন্ন হয়, সেসব প্রাণীর ছবিও যাদের প্রতি কোন সম্মান প্রদর্শন কর হয় না বটে। তবে তা বিলাসিতার প্রকাশক। এ ধরনের ছবি সম্বলিত কাপড় দ্বারা দরজা বা প্রাচীর আবৃত করা মাকরূহ ছাড়া আর কিছুই নয়।
ছ. অ-প্রাণীদের ছবি- যেমন খেজুর গাছ, নদী, জাহাজ, পাহাড়, চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদি প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক দৃশ্যাবলীর ছবি বানান ও সংরক্ষণ কোনটাতেই গুনাহ নেই যদি তা আল্লাহ্ ইবাদত-বন্দেগী থেকে মানুষকে গাফিল করে না দেয় কিংবা নিছক বিলাসিতার প্রতীক না হয়। অন্যথায় এ ধরনের ছবি মাকরূহ।
জ. এর পরে আসে প্রতিবিম্ব রচিত ছবি- অর্থাৎ ফটোর কথা। তা মূলতঃ মুবাহ- যদি তার মূলে কোন হারাম কাজ লক্ষ্য হয়ে না থাকে। যেমন যে ব্যক্তির ছবি তার ধর্মীয় পবিত্রতা বা বৈষয়িক সম্মান প্রদর্শনমূলক। বিশেষ করে সে ব্যক্তি যদি কাফির ও ফাসিক হয়- যদি সে মূর্তি পূজারী হয় বা কমিউনিস্ট কিংবা পথভ্রষ্ট কোন শিল্পী, তাহলে তা জায়েয নয়।
ঝ. আর সর্বশেষ কথা এই যে, হারাম প্রতিকৃতি ও ছবি বিকৃত করে দেয়া হলে কিংবা অসম্মানিত ও হীন বানিয়ে দেয়া হলে তা হারামের তালিকা থেকে খারিজ হয়ে হালাল পর্যায়ে গণ্য হয়ে যায়। যেমন বিছানার চাদরে বা মেঝেতে অংকিত চিত্র, যা পা বা জুতা দিয়ে দলিত করা হয় ইত্যাদি。

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 বিনা প্রয়োজনে কুকুর পালা

📄 বিনা প্রয়োজনে কুকুর পালা


নবী করীম (স) বিনা প্রয়োজনে ঘরে কুকুর পালতে নিষেধ করেছেন।
দুনিয়ায় এমন কুরুচিসম্পন্ন লোকের অভাব নেই, যারা কুকুর লালন-পালনে দু'হাতে অর্থব্যয় করে; কিন্তু মানব সন্তানের জন্যে এক ক্রান্তি ব্যয় করতেও কার্পণ্য ও কুণ্ঠা দেখায়। অনেকে আবার কুকুরের মান-অভিমান রক্ষার জন্যে অর্থ ব্যয় করেই ক্ষান্ত হয় না, তার সাথে হৃদয়াবেগকে জড়িত করে। আর তা হয় তখন, যখন নিজের আত্মীয়-স্বজনের প্রতি মনের টান অনুভব করে না এবং নিজের প্রতিবেশী ও ভাইকে ভুলে যেতে বসে (অথচ কুকুরের প্রতি এক বিন্দু উপেক্ষা সহ্য হয় না)।
মুসলমানের ঘরে কুকুর স্থান পেলে আশংকা হয়, তা খাবার, পাত্র ইত্যাদি চেটে নাপাক করে দিতে পারে। নবী করীম (স) বলেছেন:
اذا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي آنَاء أَحَدِكُمْ فَلْيُغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَاتِ إِحْدَ هُنَّ بِالتَّرَابِ -
কুকুর কারো পাত্রে মুখ দিলে সেটাতে সাতবার ধুতে হবে- একবার অবশ্যই মাটি দিয়ে মাজতে হবে।
কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ঘরে কুকুর পালা নিষেধ এজন্যে যে, তা অতিথি-আগন্তুককে দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। ভিখারীকে ভয় পাইয়ে দেয় এবং পথিককে কামড়াতেও কসুর করে না।
নবী করীম (স) বলেছেন:
أَتَانِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ لِي أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ إِلَّا أَنَّهُ كَانَ عَلَى الْبَابِ تَمَا ثِيْلُ وَكَانَ فِي الْبَيْتِ قِرَامُ سَتْرٍ فِيهِ مَا بِيْلُ وَكَانَ فِي الْبَيْتِ كَلبَ فَمُرْبِرَأْسِ التَّمَثَالِ الَّذِي فِي الْبَيْتِ يُقْطَعُ فَيَصِيرُ كَهَيْنَة الشَّجَرَةِ وَبِالسِّتْرِ فَلْيَقْطَعْ فَيُجْعَلُ مِنْهُ وَسَادَتَانِ تُوْطَانِ وَمُرْبًا لَكِتَابِ فَلْيَخْرُجُ - (ابوداؤد، نسائی، ترمذی، ابن حبان)
আমার কাছে হযরত জিবরাঈল (আ) এসে বললেন: আমি গত রাতে আপনার কাছে এসেছিলাম; কিন্তু ঘরে প্রবেশ করিনি এজন্যে যে, দরজায় একটা প্রতিকৃতি ছিল, ঘরে ছবি সম্বলিত পর্দা ছিল, এ ছাড়া ঘরে কুকুরও ছিল। এক্ষণে আপনি ঘরের প্রতিকৃতিটির মাথাটি কেটে ফেলার আদেশ করুন, তাহলে ওটা গাছের আকৃতি ধারণ করবে, আর পর্দার কাপড়টি কেটে দুটো বালিশ বানাবার হুকুম দিন, যা দিনরাত দলিত হতে থাকবে এবং কুকুরটি বহিষ্কার করে দিন।
এখানে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা এই বিনা প্রয়োজনে রক্ষিত কুকুর সম্পর্কে।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 শিকার ও পাহারাদারির জন্যে কুকুর রাখা

📄 শিকার ও পাহারাদারির জন্যে কুকুর রাখা


যে কুকুর কোন প্রয়োজনে পালা হবে- যেমন শিকারী কুকুর এবং ক্ষেত-খামার বা গৃহপালিত পশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারাদারীর জন্যে পালিত কুকুর- তা এই নিষেধ-নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসূলে করীম (স) বলেছেন:
مَنِ اتَّخَذَ كَلَبًا الأَكَلَبُ صَيْدٍ أَوْزَرْعٍ أَوْ مَاشِيَةٍ إِنْتَقَصَ مِنْ أَجْرِهِ كُلَّ يَوْمٍ قيراط - (বুখারী, মুসলিম)
শিকার বা ক্ষেত-খামার, বাড়ি বা পশু পাহারাদারির উদ্দেশ্য ছাড়া যে লোক কুকুর লালন করবে ও রাখবে, প্রতিদিন তার নেক আমল থেকে এক 'কীরাত' পরিমাণ লাঘব হতে থাকবে।
কোন কোন ফিকাহবিদ এই হাদীস থেকে কুকুর রাখা নিষেধ বলে যে মত প্রকাশ করেছেন, তা মাকরূহ মাত্র, হারাম নয়। কেননা কুকুর পালা দি হারাম হত তাহলে সর্বাবস্থায়ই তা হারাম হতো এবং সব সময়ই তা বর্জন করে চলতে হতো- আমল লাঘব হোক আর না হোক।
ঘর-বাড়িতে কুকুর পালতে যে নিষেধ করা হয়েছে, তার অর্থ এই নয় যে, তার প্রতি নির্মমতা অবলম্বিত হবে কিংবা তাদের নির্মূল করা বা নিধন করার জন্যে এই আদেশ নয়। কেননা নবী করীম (স) বলেছেন:
(আবূদাঊদ, তিরমিযী) لَوْلَا أَنَّ الْكِلَابَ أُمَّةً مِّنَ الْأُمَمِ لَا مَرْتُ بِقَتْلِهَا -
কুকুর যদি আল্লাহ্র সৃষ্ট একটি প্রজাতি না হতো যেমন আরও অনক প্রজাতি রয়েছে, তাহলে আমি তা হত্যা করার নির্দেশ দিতাম।
রাসূলে করীম (স) এ কথাটি দ্বারা উপরিউক্ত গুরুত্বপূর্ণ মতেরই সমর্থন দিয়েছেন। আর প্রকৃত ও বড় সত্য হল, খোদ কুরআন মজীদই এ দিকে ইঙ্গিত করে বলেছে:
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرِ يُطِيرُ بِجَنَا حَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَا لَكُمْ -
পৃথিবীতে বিচরণশীল যত জন্তু আছে এবং যত পাখি, তার দুই ডানায় ভর করে উড়ে বেড়ায়, ওরা সবাই তোমাদের মতো ভিন্ন ভিন্নভাবে সৃষ্ট এক-একটা প্রজাতি। (সূরা আন'আম: ৩৮)
নবী করীম (স) তাঁর সাহাবীদের সম্মুখে এক ব্যক্তির কাহিনী বর্ণনা করেছেন। লোকটি মরূভূমির মধ্যে একটি কুকুর দেখতে পেল। কুকুরটি হাঁপাচ্ছিল ও পিপাসার তাড়নায় মাটি চাটছিল। লোকটি তা দেখে কূপের নিকট গিয়ে বালতি ভরে পানি তুলল ও কুকুরটিকে পানি খাইয়ে পরিতৃপ্ত করে দিল। আল্লাহ্ তা'আলা তার এই কাজকে কবুল করলেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00