📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 মুসলিম মহিলার পোশাক

📄 মুসলিম মহিলার পোশাক


ইসলাম মহিলাদের জন্যে এমন পোশাক পরিধান হারাম করে দিয়েছে, যার ভেতর দিয়ে দেহের কান্তি (সৌন্দর্য) বাইরে প্রকাশিত হয়ে পড়তে পারে। অনুরূপভাবে যে পোশাকের দরুন দেহের বিশেষ বিশেষ অংশ উলঙ্গ হয়ে থাকে এবং তা দেখে পুরুষেরা যৌন উত্তেজনা বোধ করতে পারে, তেমন পোশাক পরাও মহিলাদের জন্যে সম্পূর্ণ হারাম। বক্ষদ্বয়, কোমর, উরু বা পিঠ ও পেট উলঙ্গ রেখে পোশাক পরা কোন মুসলিম মহিলার জন্যে আদৌ জায়েয নয়।
হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (স) ইরশাদ করেছেনঃ
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا - قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَاذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسِ وَنِسَاء كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَاسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَة لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدُونَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ من مسيرة كذا وكذا
দুই ধরনের লোক জাহান্নামী হবে। এক ধরনের লোক হচ্ছে, সেসব জালিম শাসক-প্রশাসক, যাদের সঙ্গে গরুর লেজের মত চাবুক সবসময় ঝুলতে থাকবে এবং যা দিয়ে তারা লোকদের ওপর আঘাত করতে থাকবে। আর দ্বিতীয় হচ্ছে সেসব মেয়েলোক, যারা কাপড় পরিধান করেও ন্যাংটা থাকে। তারা পুরুষদের নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করবে আর নিজেরাও পুরুষদের প্রতি ঝুঁকে পড়বে। তাদের মাথা উষ্ট্রের ঝুঁকেপড়া চুটের মতো হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তার সুগন্ধিও তারা পাবে না। যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে। (মুসলিম)
কাপড় পরা সত্ত্বেও যেসব নারী উলঙ্গ থাকে এ কারণে যে, তাদের কাপড় দেহের সর্বাঙ্গ আবৃত করে না, তাদের কাপড় এতই পাতলা যে, তার ভেতর দিয়ে দেহের কান্তি (সৌন্দর্য) ফুটে বের হয়ে আসে। আর এজন্যেও যে, তারা কাপড় পরবেই দেহের যৌন উত্তেজক অংশসমূহ উন্মুক্ত রেখে। এ উভয় অবস্থায়ই কাপড় পরার মৌল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। বর্তমানের আধুনিকারা এ ধরনের পোশাক পরতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এই নারীদের মাথাকে উটের চুটের মতো বলা হয়েছে এ কারণে যে, তারা তাদের মাথার চুলের খোপা মাথার ওপর খুব উঁচু করে বাঁধে। মনে হচ্ছে, নবী করীম (স) ভবিষ্যতের অদৃশ্যকে তখনই সুস্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন। কেননা মেয়েদের চুল বাঁধার এই প্রচলন আধুনিক কালের। সেকালে এ অবস্থা ছিল না। একালে চুল সুন্দর করার ও তাতে খোপা বেঁধে 'ফ্যাশন্যাবল' বানানর জন্যে বিশেষ বিশেষ শহরে আধুনিক স্টাইলের 'সেলুন' গড়ে উঠেছে। এসব সেলুনকে আরবী ভাষায় কাওয়াফির 'কাওয়াফির' বলা হয়। প্রায় সর্বত্রই এগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব পুরুষই পালন করছে। তারা তাদের এ শ্রমের বিনিময়ে মোটা মোটা পারিশ্রমিক দাবি ও আদায় করে থাকে। শুধু তা-ই নয়, মেয়েরা আল্লাহ্ দেয়া স্বাভাবিক চুলকে অ-যথেষ্ট মনে করে কৃত্রিম চুল ক্রয় করে নিজেদের মাথার চুলের সাথে একত্রিত করে নেয়।
অবস্থা হচ্ছে, একদিকে এক শ্রেণীর পুরুষ হাস্য, নম্রতা-মসৃণতায়, রূপ ও সৌন্দর্যে- এবং দেখতে শুনতে নারীদেরছাড়িয়ে যেতে চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে। আর অপরদিকে নারীরা আকর্ষণীয়া হয়ে পুরুষদের আকৃষ্ট করতে চেষ্টা চালাচ্ছে সর্বতভাবে।
উপরিউক্ত হাদীসে একটি বিশেষ কথার দিকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক স্বৈরাচার বা রাষ্ট্রীয় স্বৈরতন্ত্র ও নৈতিক বিপর্যয় এ দুয়ের মাঝে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান সময়ের অবস্থা এ কথার বাস্তবতা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে। স্বৈরাচারী রাজনীতিকরা চিরকাল জাতিকে যৌন লালসাপূর্ণ কাজ-কর্মে মগ্ন রেখে এবং লোকদের ব্যক্তিগত ঝামেলা-জটিলতায় জড়িত করে জাতীয় সমস্যাবলী থেকে তাদের দৃষ্টি ভিন্নদিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়, যেন তাদের স্বৈরতন্ত্রের প্রতি কারো নজর না পড়ে।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 নারী ও পুরুষের মাঝে সাদৃশ্য সৃষ্টি

📄 নারী ও পুরুষের মাঝে সাদৃশ্য সৃষ্টি


নবী করীম (স) ঘোষণা করেছেন, নারীর জন্যে পুরুষালী পোশাক পরিধান করা এবং পুরুষদের জন্যে নারীসুলভ পোশাক পরা সম্পূর্ণ হারাম। (আহমদ, আবূ দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজা, ইবনে হাবান)
উপরন্তু তিনি পুরুষের সাথে নারীর এবং নারীর সাথে পুরুষের সাদৃশ্যকারীদের ওপর অভিশাপ করেছেন। (বুখারী)
সাদৃশ্যকরণ পর্যায়ে কথাবার্তা, গতিবিধি, চলাফেরা, ওঠাবসা ও পোশাক পরা ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই গণ্য।
স্বীয় প্রকৃতিকে অস্বীকার করা ও স্বভাবের দাবিসমূহের প্রতিপূরণ করতে প্রস্তুত না হওয়া-তার বিপরীত আচার-আচরণ অবলম্বন করাই হচ্ছে মানব জীবনে ও সমাজ ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার মৌল কারণ। পুরুষ এক বিশেষ স্বভাব-প্রকৃতির অধিকারী। নারীদের স্বভাব ও প্রকৃতি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের। একজনের স্বভাব প্রকৃতির সাথে অপর জনের স্বভাব-প্রকৃতির আদৌ কোন মিল বা সাদৃশ্য নেই। কিন্তু পুরুষ যখন 'নারী' হবার চেষ্টা চালায় এবং নারীরা পুরুষালী চালচলন ও স্বভাব-প্রকৃতি ধারণ করতে চায়, তখন চরম নৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ই হয় অনিবার্য পরিণতি।
যে পুরুষকে আল্লাহ্ তা'আলা পুরুষ বানিয়েছেন, কিন্তু সে নিজেকে নারী বানাতে ও নারীর সাথে সাদৃশ্য করতে চায় এবং যে নারীকে আল্লাহ তা'আলা নারী বানিয়েছেন, কিন্তু সে নিজেকে পুরুষালী বিশেষত্বে ভূষিত করতে চায়, এ উভয়ের ওপর রাসূলে করীম (স) অভিসম্পাত করেছেন, দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই তারা অভিশপ্ত। আল্লাহ্ ফেরেশতাগণও এ অভিসম্পাতে একাত্ম।
এ কারণেই নবী করীম (স) পুরুষদের জন্যে হলুদ বর্ণের কাপড় নিষেধ করেছেন। হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:
نَهَانِي رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ التَّخَتُمِ بِالذَّهَبِ وَعَنْ لِبَاسِ وَعَنْ لِبَاسِ الْمُعَصْفَرِ القسى
রাসূলে করীম (স) আমাকে স্বর্ণের অঙ্গুরীয়, রেশমী পোশাক ও হলুদ বর্ণের কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)
হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন : রাসূলে করীম (স) আমার পরনে দুখানি হলুদ কাপড় দেখতে পেয়ে বললেন :
إِنَّ هَذِهِ مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ فَلَا تَلْبِسْهَا .
এ হচ্ছে কাফিরদের কাপড়। কাজেই তুমি তা পরবে না।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 খ্যাতি ও অহংকারের পোশাক

📄 খ্যাতি ও অহংকারের পোশাক


পানীয়, খাদ্য ও পরিধেয় সব পবিত্র জিনিষই মুসলমানের জন্যে হালাল। তবে তাতে শর্ত হচ্ছে তা গ্রহণে যেন সীমালংঘন করা না হয় এবং কোনরূপ অহংকার ও গৌরব প্রকাশ না পায়।
আরবী পরিভাষায় ‘ইসরাফ’ বলতে বোঝায় হালাল জিনিসের মাত্রাতিরিক্ত ও সীমালংঘনমূলক ব্যবহার। আর অহংকারী গৌরবী মনোভাবও মানসিক ব্যাপার। বাইরে তার প্রকাশ খুব কমই ঘটে। নিজেকে বড় কিছু মনে করে অহমিকায় পড়ে যাওয়াই হচ্ছে অহংকার। অন্যদের তুলনায় নিজেকে বড় বলে জাহির করাই হচ্ছে গৌরব। আল্লাহ্ তা'আলা কুরআন মজীদে ঘোষণা করেছেন :
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلِّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ -
আত্মগৌরবে মগ্ন ও অহংকারী কোন ব্যক্তিই আল্লাহ্ পছন্দ করেন না, ভালবাসেন না। (সূরা আল-হাদীদ : ২৩)
নবী করীম (স) বলেছেন :
مَنْ جَرَّ ثَوْبُهُ خُيَلاءً لَمْ يَنْظُرِ اللهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
যে লোক তার কাপড় অহংকার সহকারে টানবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার প্রতি নজরও দেবেন না। (বুখারী, মুসলিম)
অহংকার ও গৌরবের ভাবধারা থেকে মুসলমানকে দূরে রাখার জন্যেই নবী করীম (স) খ্যাতি ও প্রসিদ্ধির পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। যে ধরনের পোশাক পরলে জনসাধারণ থেকে স্বতন্ত্র কেউ- এটা প্রকাশ পায় ও পোশাকের দরুন তার বড়ত্ব জাহির হয়, তা-ই হচ্ছে খ্যাতি ও প্রসিদ্ধির পোশাক। রাসূলে করীম (স) বলেছেন:
مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ الْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مُذلَّةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ -
যে লোক খ্যাতি ও সমৃদ্ধির পোশাক পরিধান করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে লাঞ্ছণা ও অবমাননার পোশাক পরিয়ে দেবেন। (আহমদ, আবূ দাউদ, নিসায়ী, ইবনে মাযাহ)
এক ব্যক্তি হযরত ইবনে উমর (রা)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল: আমি কোন ধরনের পোশাক পরব? তখন তিনি বললেন:
مَالَا يَزْدَرِيكَ فِيهِ السُّفَهَاءُ وَلَا يُعِيبُكَ بِهِ الْحُكَمَاءُ -
তুমি সেই পোশাক পরবে, যার দরুন নিজ্ঞান-নির্বোধ লোকেরা তোমাকে হালকা ও অগম্ভীর মনে করবে না (অর্থাৎ হীন ও নীচ ধরনের পোশাক) এবং বুদ্ধিমান লোকেরা তাতে কোন দোষ বের করতে না পারে (অর্থাৎ ভারস্যামা নষ্ট হয়, এমন পোশাক পরবে না)। (তিবরানী)

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 মাত্রাতিরিক্ত সৌন্দর্যের জন্যে আল্লাহ্র সৃষ্টি বিকৃতকরণ

📄 মাত্রাতিরিক্ত সৌন্দর্যের জন্যে আল্লাহ্র সৃষ্টি বিকৃতকরণ


সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টায় এমন সব কাজ করা, যার ফলে আল্লাহ্র সৃষ্টিই বিকৃত হয়ে যায়, ইসলাম আদৌ তা সমর্থন করে না। কুরআন এ কাজকে শয়তানের 'অহী' বা পরামর্শ বলে অভিহিত করেছে। কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী শয়তান তার কু-প্ররোচনা সম্পর্কে নিজেই বলেছে:
وَلَامُرَ نَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّه
আমি আমার অনুসরণকারীদের আদেশ করব। ফলে তারা আল্লাহ্র সৃষ্টিকেই বিকৃত করে দেবে। (সূরা আন-নিসা: ১১৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00