📄 পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বিধায়ক দ্বীন
ইসলাম সৌন্দর্যের পূর্বে পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করার ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা পরিচ্ছন্নতা সর্বপ্রকার সৌন্দর্য-শোভা ও চাকচিক্যের জন্যে ভিত্তিস্বরূপ কাজ করে। রাসূলে করীম (স) বলেছেন:
تَنظُفُوا فَإِنَّ الْإِسْلَامَ نَظِيفٌ -
তোমরা সকলে পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন কর। কেননা ইসলাম পরিচ্ছন্ন দ্বীন। (ইব্ন হাব্বান)
النِّظَافَةُ تَدْعُوا إِلَى الْإِيْمَانِ وَالْإِيْمَانُ مَعَ صَاحِبِهِ فِي الْجَنَّةِ .
পরিচ্ছন্নতা ঈমান ডেকে আনে। আর ঈমান তার সঙ্গীকে নিয়ে জান্নাতে চলে যাবে। (তিবরানী)
নবী করীম (স) শরীর, পোশাক, ঘর-বাড়ি ও রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন করার ও রাখার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। বিশেষ করে দাঁত, হাত ও মস্তক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিচ্ছন্নতার এ গুরুত্ব দ্বীন-ইসলামে কিছুমাত্র আশ্চর্যের ব্যাপার নয়। কেননা এ দ্বীনই নামাযের ন্যায় এক প্রাথমিক ইবাদতের জন্যে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে কুঞ্চিকার ন্যায় বলে ঘোষণা করেছে। এ কারণে নামাযীর নামায কবুল হয় না, যদি না তার শরীর, পোশাক ও স্থান পরিচ্ছন্ন থাকে। গোসল ও অযু দ্বারা যে পরিচ্ছন্নতা পবিত্রতা অর্জিত হয়, এ পরিচ্ছন্নতা তা থেকে ভিন্নতর জিনিস।
আরবীয় লোকেরা গ্রাম্য ও মরু পরিবেশে বসবাস করত। তার দরুন অনেক লোকই পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের ব্যাপারে তেমন সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজন মনে করত না। এ কারণে নবী করীম (স) সব সময়ই তাদের মধ্যে পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতার অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করতেন। তিনি প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের এতটা উন্নত করে তুলেছিলেন যে, তারা দুনিয়ার সেরা সভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছিল। সব রকমের হীনতা, নীরবতা তাদের জীবনে অতীত হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাদের অবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্য বিকশিত হয়ে উঠেছিল।
এক ব্যক্তি নবী করীম (স)-এর খেদমতে হাজির হয়েছিল। তার দাড়ি ও মাথার চুল অবিন্যস্ত অবস্থায় ছিল। রাসূল (স) তার প্রতি এমনভাব ইঙ্গিত করলেন যে, মনে হলো, তিনি হয়ত তাকে চুল দাড়ি ঠিকঠাক করার নির্দেশ দিচ্ছেন। সে তাই মনে করে চুল-দাড়ি ঠিকঠাক করে রাসূলের সম্মুখে হাজির হলো। তাকে দেখে নবী করীম (স) বললেনঃ
اليس هذا خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدُكُمْ ثَائِرَ الرَّأْسِ كَأَنَّهُ شَيْطَنُ - (مؤطا مالك)
এটা ভাল, না কারো এমন ভাবে আসা ভাল যে, তার মাথা আউলানো-ঝাউলানো থাকবে, যেন সে একটা শয়তান।
নবী করীম (স) অপর এক ব্যক্তিকে দেখলেন তার মাথার চুল আউলানো-ঝাউলানো। তিনি বললেনঃ
أَمَا وَجَدَ هُذَا مَا يُسْكِنُ بِهِ شَعْرَهُ وَرَأَى أَخَرَ عَلَيْهِ ثِيَابٌ وَسَخَةٌ فَقَالَ أَمَا كَانَ
هذا ايَجِدُ مَا يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ -
ও লোকটি মাথার চুলগুলো ঠিকঠাক করার জন্যে কি কিছুই পায়নি? ময়লা কাপড়-চোপড় পরা অপর একটি লোককে দেখে তিনি বললেনঃ ও লোকটি তার কাপড় পরিষ্কার করে ধৌত করার কি কিছুই পায়নি? (আবূ দাউদ)
রাসূলে করীম (স) অপর একটি লোককে দেখতে পেলেন, যার পরনে খারাপ ধরনের কাপড় ছিল। তাকে তিনি বললেন:- তোমার কি ধন-মাল কিছু আছে? লোকটি বলল: জি হ্যাঁ। জিজ্ঞেস করলেনঃ কি ধরনের ধন-মাল? লোকটি বলল:
مِنْ كُلِّ الْمَالِ قَدْ أَعْطَانِي اللهُ تَعَالَى .
আল্লাহ্ আমাকে সব ধরনের ধন-মাল দিয়েছেন।
তখন নবী করীম (স) বললেনঃ
فَإِذَا أَتَاكَ اللَّهُ مَالًا فَلْيُرَ أَثْرُ نِعْمَةِ الله عَلَيْكَ وَكَرَا مَته -
আল্লাহ্ যখন তোমাকে ধন-মাল দিয়েছেন, তখন আল্লাহ্ নেয়ামত ও তাঁর অনুগ্রহের পরিচয় তোমার ওপর থেকে পাওয়া যাওয়া বাঞ্ছনীয়। (নিসায়ী)
নবী করীম (স) জুম'আ ও দুই ঈদ ধরনের জন-সম্মেলনসমূহের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সুষ্ঠু ব্যবস্থা রক্ষার জন্যে বিশেষ তাগিদ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ
مَا عَلَى أَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدَ سَعَةَ أَنْ يَتَّخِذَ ثَوبَيْنِ لِيَوْمِ الْجُمْعَةِ غَيْرَ ثوبي مهنته -
সম্ভব হলে কাম-কাজের কালে পরা দুখানি কাপড় ছাড়া জুম'আর দিনে ভিন্ন দুখানি কাপড় পরিধান করা কর্তব্য। (আবূ দাউদ)
📄 স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় পুরুষদের জন্যে হারাম
ইসলাম যেখানে সৌন্দর্যকে বৈধ এবং কাম্য ঘোষণা করেছে এবং তাকে হারাম মনে করতে নিষেধ করেছে- যেমন বলা হয়েছে:
قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَتِ مِنَ الرِّزْقِ -
বল, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের জন্যে যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিস্কসমূহের ব্যবস্থা করেছেন, তাকে কে হারাম করেছিল? (সূরা আরাফ: ৩২)
সেখানে পুরুষদের জন্যে দুই ধরনের সৌন্দর্যের জিনিস হারাম করা হয়েছে, যদিও তা মহিলাদের জন্যে সম্পূর্ণ হালাল করা হয়েছে:
প্রথম, স্বর্ণালংকার ব্যবহার।
দ্বিতীয়, খাঁটি রেশমী বস্ত্র পরিধান।
হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:
أَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرِيرًا فَجَعَلَهُ فِي يَمِينِهِ وَأَخَذَ ذَهَبًا فَجَعَلَهُ فِي شِمَالِهِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَايْنِ حَرَمَ عَلَى ذَكُورِ أُمَّتِي -
নবী করীম (স) রেশম ডান হাতে নিয়ে এবং স্বর্ণ বাম হাতে নিয়ে বললেন: এ দুটি জিনিস আমার উম্মতের পুরুষ লোকদের জন্যে হারাম। (আহমদ, আবূ দাউদ, নিসারী)
হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নবী করীম (স)-কে বলতে শুনেছি:
لَا تَلْبِسُوا الحَرِيرَ فَإِنَّ مَنْ لَبِسَهُ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ -
তোমরা রেশমী কাপড় পরিধান করবে না। কেননা যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরিধান করবে, সে পরকালে তা পরতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)
রেশমী পোশাক সম্পর্কে তিনি বলেছেন: (বুখারী, মুসলিম)
انَّمَا هُذِهِ لِبَاسٌ لَا خَلَاقَ لَهُ -
এটা সেই লোকদের পোশাক, পরকালে যাদের কোন কিছুই প্রাপ্য নেই।
নবী করীম (স) এক ব্যক্তির হাতে একটি স্বর্ণের অঙ্গুরীয় দেখতে পেলেন। তখন তিনি সেটিকে টেনে বের করে দূরে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন:
يَعْمُدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِّنْ نَّارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ -
তুমি কি নিজ হস্তে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ধরে রাখতে চাও?
পরে নবী করীম (স) উঠে চলে যাওয়ার পর লোকটিকে বলা হয়; তোমার অঙ্গুরীয় তুলে নাও এবং সেটা কাজে লাগাও। তখন সে বলল:
لَا وَاللَّهُ لَا أَخَذَهُ وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
না, আল্লাহ্র কসম। রাসূলে করীম (স) যা দূরে নিক্ষেপ করেছেন আমি তা তুলে নেব না। (মুসলিম)
এই স্বর্ণের অঙ্গুরীয়ের ন্যায় আধুনিককালে বিলাসী ধনশালী লোকদের দেখা যায় স্বর্ণের কলম, স্বর্ণে সিগারেট লাইটার, স্বর্ণের সিগারেট কেস ও স্বর্ণের সিগারেট হোল্ডার প্রভৃতি ব্যবহার করতে। এ সবই হারাম।
তবে রৌপ্য নির্মিত অঙ্গুরীয় ব্যবহার করা পুরুষের জন্যেও হালাল এবং মুবাহ করেছেন নবী করীম (স)। বুখারী শরীফে হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন:
اتَّخَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا مِنْ وَرَقٍ وَكَانَ فِي يَدِهِ ثُمَّ كَانَ يَعْدُ فِي يَدَا أَبِي بَكْرٍ ثُمَّ كَانَ بَعْدُ فِي يَدِ عُمَرَ ثُمَّ كَانَ بَعْدُ فِي يَدِ عَثْمَانَ حَتَّى وَقَعَ بَعْدُ فِي بِثْرِ أَرِيس .
নবী করীম (স) একটি রৌপ্যের অঙ্গুরীয় বানিয়েছিলেন এবং সেটি তার হাতেই শোভা পাচ্ছিল। পরে তা হযরত আবু বকরের হাতে শোভা পেতে থাকে। তাঁর পরে হযরত উমরের হাতে এবং তার পর হযরত উসমানের হাতে। শেষ পর্যন্ত তা আরীস নামক কূপে পড়ে যায়। (বুখারী)
এ ছাড়া লোহা ও অন্যান্য ধাতু তৈরী অঙ্গুরীয় ব্যবহার করা হারাম নয়। কোন অকাট্য দলিল দ্বারাই তার হারাম হওয়ার কথা জানা যায় না এবং বুখারী শরীফে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম (স) এক ব্যক্তিকে মোহরানা সম্পর্কে বলেছেন:
التَمِسُ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ -
কোন কিছু তালাশ করে নিয়ে আস, একটি লোহার অঙ্গুরীয়ই হোক না কেন।
ইমাম বুখারী এ হাদীসের ভিত্তিতে লৌহ নির্মিত অঙ্গুরীয় ব্যবহার জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন।
তবে প্রকৃত কোন কারণ থাকলে রেশমী কাপড় ব্যবহার করা জায়েয হতে পারে। নবী করীম (স) হযরত আবদুর রহমান ইবন আউফ (রা) ও হযরত জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ)- কে তাঁদের খোস-পাঁচড়া ও চুলকানি ধরনের রোগের কারণে রেশমী কাপড় ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
📄 রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার পুরুষদের জন্যে হারাম করার কারণ
রেশম ও স্বর্ণালংকার ব্যবহার পুরুষদের জন্যে হারাম করার মৌল উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের অতি উত্তম নৈতিক প্রশিক্ষণ দান। কেননা দ্বীন-ইসলাম জিহাদ ও শক্তি প্রদর্শনের দ্বীন। তাই তা সর্বপ্রকার নৈতিক দুর্বলতা, উচ্ছৃঙ্খলতা ও পতন থেকে পৌরুষকে রক্ষা করা ইসলামের লক্ষ্য। আল্লাহ্ তা'আলা পুরুষকে এক বিশেষ ধরনের অঙ্গ সৌষ্ঠব ও সংগঠন কাঠামো দান করেছেন এবং তা নারী থেকে ভিন্নতর। কাজেই পুরুষদের উচিত নয় সুন্দরী নারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়ে মূল্যবান অলংকারাদি ও খুব চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক-পরিচ্ছদ পরতে শুরু করা। এতদ্ব্যতীত সামষ্টিক ও সামগ্রিক কল্যাণও এর মূলে নিহিত রয়েছে।
ইসলাম বিলাসিতা, আরাম-আয়েশ ও জাঁকজমকের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। পুরুষদের জন্যে স্বর্ণালংকার ও রেশমী পোশাক হারাম করা এ সংগ্রামেরই একটি অংশ বিশেষ। কেননা বিলাসিতা ও আরাম-আয়েশ কুরআনের দৃষ্টিতে জাতীয় ধ্বংস ও বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। তা সামষ্টিক জুলুম ও শোষণের ফসলও। কেননা মুষ্টিমেয় সংখ্যক লোক বিপুল সংখ্যক লোককে এবং দরিদ্রদের শোষণ করেই এ বিলাসিতার পাহাড় জমা করে ও সীমাহীন আরাম-আয়েশ উপভোগ করে। আর এ শ্রেণীর লোকেরাই চিরকাল যে কোন সামাজিক সংশোধন ও সামষ্টিক কল্যাণ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে শক্তি প্রতিরোধক হয়ে দাড়িয়েছে। এ পর্যায়ে কুরআনের ঘোষণা হচ্ছে:
وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ تُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيْهَا فَفَسَقُوا فِيْهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْ نَاهَا تَدْمِيرًا
আমরা যখন কোন দেশ ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত করি, তখন সেখানে সচ্ছল অবস্থার বিলাসী ও আরাম-আয়েশে নিমজ্জিত ব্যক্তিদের নিয়োজিত করি, তারা সেখানে আল্লাহ্ নাফরমানী করতে শুরু করে। তখন আযাবের ফয়সালা সেখানকার লোকদের ওপর কার্যকর করে দিই, সেটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিই। (সূরা বনী ইসরাঈল: ১৬)
وَمَا أَرْسَلْنَا فِي قَرْيَةٍ مِّنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوْهَا لَا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كفَرُونَ .
আমরা যখন কোন ভয় প্রদর্শনকারীকে কোন লোকালয়ের প্রতি প্রেরণ করি এবং সে তা করতে শুরু করে, তখন সেখানকার সুখী বিলাসী বড় লোকেরা বলতে শুরু করে, তোমাদের যে দায়িত্ব সহকারে পাঠান হয়েছে, তা অস্বীকার করছি। (সূরা আস-সাবা: ৩৪)
কুরআনের এ ভাবধারা ও দৃষ্টিকোণের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করেই নবী করীম (স) বিলাসিতা ও আরাম-আয়েশের দ্রব্য-সামগ্রীকে মুসলিম জীবনে হারাম করে দিয়েছেন। তাই দেখতে পাই, একদিকে পুরুষদের জন্যে যেমন স্বর্ণালংকার ও রেশমী কাপড় হারাম করে দিয়েছেন, অপরদিকে ঠিক তেমনি পুরুষ-নারী- উভয়ের প্রতিই হারাম করে দিয়েছেন যাবতীয় স্বর্ণ ও রৌপ্যের তৈজস পাত্রদি।
এ ছাড়া এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কারণও নিহিত রয়েছে। কেননা স্বর্ণ নগদ সম্পদ হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষিত মূলধন রূপে গণ্য। কাজেই তা পুরুষদের পক্ষে অলংকার বা পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া কোনক্রমেই বাঞ্ছনীয় হতে পারে না।
📄 মহিলাদের জন্যে তা হালাল কেন
মহিলাদের জন্যে স্বর্ণালংকার ও রেশমী পোশাক ব্যবহার হারাম না করে মহিলাদের বিশেষ দিকগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নারী প্রকৃতি স্বভাবতঃই সৌন্দর্যপ্রবণ। রূপ চর্চা, প্রসাধন ও অলংকারাদি ব্যবহারের একটা স্বাভাবিক দাবি রয়েছে নারী চরিত্রে। তবে এসবের সাহায্যে ভিন্ পুরুষদের আকৃষ্ট করা ও তাদের মধ্যে অবৈধ যৌন প্রবৃত্তি জাগিয়ে তোলার কোন অনুমতি বা সুযোগ ইসলামে নেই। হাদীসে বলা হয়েছে:
أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ عَلَى قَوْمٍ لِيَجِدُوا رِيحَهَا فَهِيَ زَانِيَةً وَكُلُّ عَيْنٍ زَانِيَةٌ -
যে নারীই সুগন্ধি লাগিয়ে ভিন্ পুরুষদের সান্নিধ্যে যায়, তার সুঘ্রাণ তারা পেয়ে যায়, সে ব্যভিচারীণী এবং তার প্রতি দৃষ্টিই ব্যভিচারী দৃষ্টি হয়ে দাঁড়ায়। (নিসায়ী, ইবনে খারা, ইবনে হারয়াশ)
নারী সমাজকে সতর্ককরণ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেছেন:
وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يَخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ -
মহিলারা যেন তাদের পা এমন জোরে না ফেলে, যাতে করে তাদের লুকিয়ে রাখা সৌন্দর্য প্রকাশিত ও গোচরীভূত হয়ে যেতে পারে। (সূরা নূর: ৩১)