📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 অগ্নিপূজক প্রভৃতির যবেহ করা জন্তু

📄 অগ্নিপূজক প্রভৃতির যবেহ করা জন্তু


অগ্নিপূজক বা প্রাচীন পারসিক ধর্মাবলম্বীদের যবেহ করা জন্তুর গোস্ত খাওয়া সম্পর্কে ইলমওয়ালারা বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তা খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা ওরা আসলে মুশরিক। অপরাপর মনীষীরা বলেছেন, তা খাওয়া হালাল। কেননা নবী করীম (স) বলেছেন:
سَنُّوا بِهِمْ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتٰبِ -
ওদের সাথে আহলি-কিতাব সুলভ আচরণ করো। (মালিক, শাফী) এ কারনেই 'হিজর' নামক স্থানের অগ্নিপূজারীদের কাছ থেকে জিযিয়া নেয়া হয়েছিল। (বুখারী)।
ইবনে হাজম তাঁর আল-মুহলা' গ্রন্থে লিখেছেন:
إِنَّهُمْ أَهْلُ كِتَابٍ فَحُكْمُهُمْ كَحُكْمِ أَهْلِ الْكِتٰبِ فِي كُلِّ ذَلِكَ .
ওরাও আহলি কিতাব। অতএব সর্ব ব্যাপারে ওদের সাথে আহলি কিতাবের ন্যায় আচরণ গ্রহণ করতে হবে।১
ইমাম আবূ হানীফার মতে ছাবী ধর্মাবলম্বীরা আহলি কিতাব। (অনেকে ব্রাহ্মণদেরও আহলি কিতাব মনে করে। বলা হয়, ওদের প্রতি কিতাব নাযিল হয়েছিল, যদিও তারা হারিয়ে ফেলেছে।)

টিকাঃ
১. জমহুর আলিমদের মতে মজুসী- অগ্নিপূজক বা পারসিকদের যবেহ করা জন্তু খাওয়া জায়েয নয়। হযরত ইবনে মাসউদ, হযরত ইবনে আব্বাস, হযরত আলী, হযরত জাবির, ইমাম মালিক, ইমাম জুহরী, ইমাম শাফিয়ী, হানাফী ফিকাহবিদগণ এবং ইমাম আহমদ প্রমুখ এ মত প্রকাশ করেছেন। ইবনে কুদামাহর মতে নবী করীম (স)-এর উপরিউক্ত উক্তি 'ওদের সাথে আহলি কিতাবের ন্যায় আচরণ গ্রহণ কর' কথাটি কেবলমাত্র জিযিয়া ধার্য করা পর্যায়ে প্রযোজ্য। ওদের যবেহ করা জন্তু খাওয়া ও ওদের মেয়ে বিয়ে করার ব্যাপারে এ নির্দেশ নয়। (আল মুগনী জ ৮ পৃ ৫৭)।
আল্লামা জাসসাস বলেন, মজুসীদের সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ ফিকাহবিদের মতে ওরা আহলি কিতাব নয়। খুব কম লোকই ওদের আহলি কিতাব মনে করে। কুরআনে মাত্র দুটি সম্প্রদায়কে আহলি কিতাব বলা হয়েছে। মজুসীদেরও আহলি কিতাব গণ্য করে দুটির পরিবর্তে তিনটি সম্প্রদায়ের কথা বলা হতো। নবী করীম (স)-ও 'ওরা আহলি কিতাব' একথা বলেন নি। আহলি কিতাবের ন্যায় আচরণ করতে বলেছেন মাত্র। আর তাও ওদের কাছ থেকে জিযিয়া আদায় করার ব্যাপারে। (আহকামুল কুরআন জ ২ পৃ ৪০) - অনুবাদক।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 দৃষ্টির অন্তরালবর্তী জিনিসের খোঁজ করা অনাবশ্যক

📄 দৃষ্টির অন্তরালবর্তী জিনিসের খোঁজ করা অনাবশ্যক


যা চোখের অন্তরালে অবস্থিত, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা ও খোঁজ খবর লওয়ার জন্যে চেষ্টা করা- কিভাবে যবেহ করা হয়েছে, যবেহর সব কয়টি শর্ত পূর্ণ হয়েছে কিনা, যবেহ কালে আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ করা হয়েছে কিনা- এ ধরনের অজানা বিষয়সমূহ জানতে চেষ্টা করা মুসলিম ব্যক্তির দায়িত্বভুক্ত নয়। কেননা মুসলিম ব্যক্তি যবেহ করে থাকলে অপরাপর অজানা বিষয়াদি- সে অজ্ঞ-মূর্খ, ফাসিক বা কিতাবী- যাই হোক না কেন, তা খাওয়া সম্পূর্ণ হালাল।
পূর্বেই বলা হয়েছে, সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূল, লোকেরা আমাদের কাছে গোস্ত নিয়ে আসে, তারা যবেহ কালে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেছে, কি করেনি তা আমরা জানি না, এ অবস্থায় কি করব? রাসূল বললেন: তোমরা বিসমিল্লাহ বলে আহার কর।
এ হাদীস সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন:
এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, কাজ কর্ম ও হস্তক্ষেপ ইত্যাদি সব কিছুই যথার্থ ও ঠিকঠাক আছে মনে করতে হবে, যতক্ষণ তার খারাপ বা বাতিল হওয়ার অকাট্ট দলিল পাওয়া যাবে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00