📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণের তাৎপর্য

📄 যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণের তাৎপর্য


যবেহ করার সময় আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ করার অপরিহার্যতার মূলে গভীর সূক্ষ্ম কারণ নিহিত। সে বিষয়ে অবহিত হওয়া ও সে দিকে লক্ষ্য দেয়া বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।
মূর্তিপূজারী ও জাহিলিয়াতের লোকেরা যবেহ করার সময় তাদের মা'বুদদের নাম উচ্চারণ করত। ইসলামে তদস্থলে আল্লাহর নাম উচ্চারণের বিধান দেয়া হয়েছে। কেননা মুশরিকরা যখন যবেহ করার সময় তাদের উপাস্যদের নাম লয়, তখন এক আল্লাহ্র প্রতি ঈমানদার লোকেরা অনুরূপ সময়ে তা না করে কি থাকতে পারে?
দ্বিতীয়ত: জন্তুগুলোও তো মানুষেরই মতো এক আল্লাহ্র সৃষ্টি। মানুষ যে ওগুলোর প্রাণ হরণ করবে, তাতে আল্লাহ্র অনুমতি থাকা একান্তই আবশ্যক। যবেহ করার সময় আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ করা হলে এই অনুমতি লাভেরই ঘোষণা হয়ে যায়। এ সময় সে যেন বলছে, আমি এ কাজটি করছি এ জন্যে নয় যে, ওগুলো দুর্বল, অক্ষম ও অসহায়। আমি ওগুলোর ওপর জুলুম করতে চাইনা। বরং যবেহ করার এই যে কাজটি আমি করছি, তা একমাত্র আল্লাহ্ অনুমতিক্রমেই করছি। তার নাম নিয়েই আমি শিকার করছি এবং তাঁরই নাম সহকারে আমি তা খাচ্ছি।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের যবেহ করা জন্তু

📄 ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের যবেহ করা জন্তু


জন্তু যবেহ করার ব্যাপারে ইসলাম কত কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা আমরা এর পূর্বে দেখেছি। বস্তুত ইসলামে এ ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। আরব মুশরিক ও জাহিলিয়াতের লোকেরা জন্তু যবেহ করার ব্যাপারটিকে তাদের আকীদা অনুযায়ী ধর্মের অঙ্গ ও পূজা-উপাসনার অপরিহার্য অনুষ্টানের মধ্যে গণ্য করে নিয়েছিল। তারা জন্তু যবেহ করে আসলে তাদের দেবদেবী-উপাস্যদের সন্তুষ্টি ও নৈকট্যই অর্জন করতে চেয়েছে। এই কারণে দেবদেবীর উদ্দেশ্যে বলিদানের জন্যে নির্দিষ্ট স্থানেই তারা জন্তু যবেহ করত। আর তখন তাদের দেবদেবীর নাম উচ্চারণ করত।
ইসলাম এসব বন্ধ করে দিয়ে যবেহ করার সময় একমাত্র আল্লাহর নাম উচ্চারণ করার ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে স্থাপিত ও কার্যকর করল। আল্লাহ্ ছাড়া অপর কারো নাম লওয়াকে সম্পূর্ণ নিষেধ করে দিল। ওসব নির্দিষ্ট 'স্থান' সমূহে জন্তু যবেহ করা এবং এক আল্লাহ্ ছাড়া অন্যদের নামে উৎসর্গীকৃত জন্ত হারাম করে দিয়েছে।
আহলি কিতাব- ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা মূলত তওহীদে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু পরে তাদের ঈমানী আকীদায় শির্ক অনুপ্রবেশ করে। কেননা তাদের কাছে সে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছেছিল এমন সব লোকের মাধ্যমে, যারা শিরকী-আকীদার দোষ ও মালিন্য থেকে নিজেদের বিশ্বাস ও মনমানসকে মুক্ত করে নিতে পারেনি। এ কারণে মুসলিমদের মনে এ ভাবটা জেগে ওঠার খুব বেশি সম্ভাবনা ছিল যে, ওদেরকে মূর্তিপূজারী মুশরিক মনে করে তদনুরূপ আচরণই ওদের সাথে অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা ওদের ব্যাপারে মূর্তিপূজারীদের থেকে ভিন্নতর রীতি অবলম্বন করার নির্দেশ দিলেন। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে ওদের সাথে একত্রিত হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে, যেমন অনুমতি দেয়া হয়েছে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের। আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াতে ইরশাদ করেছেন:
الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبْتُ ، وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الكَتَبَ حِلٌّ مِن لَّكُمْ وَطَعَا مُكُمْ حِلٌّ لَهُمْ -
আজকের দিনে তোমাদের জন্যে সব পবিত্র উৎকৃষ্ট খাদ্য হালাল করে দেয়া হলো, আর তাদের খাদ্যও, যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে— তোমাদের জন্যে হালাল এবং তোমাদের খাদ্যও হালাল তাদের জন্যে। (সূরা মায়িদা: ৫)
এক কথায় এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে সকল প্রকার পবিত্র উৎকৃষ্ট খাদ্য সম্পূর্ণ হালাল। অতএব 'বহীরা' 'সায়েয়া' অসীলা বা 'হাম' বলতে আর কিছু নেই। আর ইয়াহুদী খ্রিস্টান আহলি কিতাব জাতিগুলোর খাদ্য মৌলিকভাবে তোমাদের জন্যে হালাল। আল্লাহ্ তা কখনই হারাম করেন নি। তোমাদের খাদ্যও তাদের জন্যে হালাল। তাহলে তাদের যবেহ করা বা শিকার করা জন্তুর গোস্ত খাওয়াও তোমাদের জন্যে জায়েয। অনুরূপভাবে তোমরা যা যবেহ কর বা শিকার কর তা তাদের খাওয়াতেও কোন নিষেধ নেই।
তবে আরবের মুশরিকদের ব্যাপারে ইসলাম খুব বেশি কঠোরতা অবলম্বন করেছে। কিন্তু আহলি কিতাবের সাথে নম্র আচরণ গ্রহণ করেছে। তার কারণ হচ্ছে, আহলি কিতাব লোকেরা ওহী, নবুওয়্যাত এবং মোটামুটি দ্বীনের মৌলিক নিয়ম নীতিগুলো মানে। এ কারণে তারা ঈমানদারদের খুবই নিকটে অবস্থিত। খাওয়া-দাওয়ায় তাদের সাথে শরীক হওয়া, তাদের কন্যা বিয়ে করা এবং তাদের সাথে মিলমিশ করা শরীয়তসম্মত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে তাদের জন্যে সুযোগ দেয়া হয়েছে যে, তারা ইসলামকে লোকদের ঘরে, কথা ও কাজ, নৈতিকতা ও লেনদেনের ক্ষেত্রে তা আসল রূপে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবে। এ উপায়েই তারা জানতে পারবে যে, মূলত ইসলাম এমন এক দ্বীন, যা উচ্চতর তত্ত্ব ও সত্য, পূর্ণাঙ্গ নিয়মাদি, অতীব উত্তম বিশ্বাস ব্যবস্থা সমূহের ওপর ভিত্তিশীল। এতে শির্ক ও অর্থহীন কথাবার্তার কোন স্থান নেই।
কুরআনের ঘোষণা: طَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ - কিতাবপ্রাপ্ত লোকদের খাদ্য।
কথাটি খুবই সাধারণ ও ব্যাপক অর্থ জ্ঞাপক। সর্বপ্রকারের খাদ্যই এর অন্তর্ভুক্ত। ওদের যবেহ করা জন্তুর গোস্ত এবং অন্যান্য খাদ্য সবই হালাল। কাজেই এ সবকিছুই আমাদের স্থায়ীভাবেই হালাল। তবে যদি কিছু হারাম করে দেয়া হয়ে থাকে যেমন মৃত জন্তু, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোস্ত- এগুলো খাওয়া জায়েয নয়। এটা সর্ববাধিসম্মত মত। তা যে কোন কিতাবী লোকের কাছেই হোক কিংবা হোক কোন মুসলিমের কাছে- তাতে কোন পার্থক্য নেই।
তবে এখানে কতগুলো বিষয় বিশেষভাবে মুসলমানদের জন্যে বিবেচনা প্রয়োজন।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 গির্জা ও মেলাতে হারের জন্যে যবেহ করা জন্তু

📄 গির্জা ও মেলাতে হারের জন্যে যবেহ করা জন্তু


কোন কিতাবী লোক সম্পর্কে যতক্ষণ না জানা যাবে যে, সে যবেহ করার সময় ঈসা-মসীহ বা উজাইর প্রভৃতি অ-আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করেছে ততক্ষণ পর্যন্ত তার যবেহ করা জন্তুর গোস্ত খাওয়া হালাল। কিন্তু যখন জানা যাবে যে, সে যবেহ করার সময় অ-আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেছে, তখন সেই বিশেষ জন্তুটি হারাম হয়ে যাবে বলে ফিকাহবিদগণ মত প্রকাশ করেছেন।
তবে কেউ কেউ বলেছেন: আল্লাহ্ তো ওদের খাদ্য আমাদের জন্যে হালাল করেই দিয়েছেন। এখন তারা যবেহ করাকালে কি বলে, কার নাম উচ্চারণ করে তা আল্লাহই ভাল জানেন। (সে দিকে লক্ষ্য দেয়ার প্রয়োজন নেই)
আহলি কিতাবের ঈদ উৎসব ও গীর্জা ইত্যাদি অনুষ্ঠান উপলক্ষে যবেহ করা জন্তু সম্পর্কে ইমাম মালিকের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন:
আমি তা খাওয়া মাকরূহ মনে করি না।১
أَكْرَهُهُ وَلَا أَحَرِّمُهُ -
তাঁর এই মাকরূহ মনে করাটা তাঁর নিজস্ব অতিরিক্ত তাকওয়ার ব্যাপার। তাঁর সন্দেহ হয়েছে অ-আল্লাহ্ নামে যবেহ হওয়ার। তাই তিনি তা খাওয়া মাকরূহ মনে করেছেন। কিন্তু তিনি তা হারাম মনে করেন নি। কেননা তাঁর মতে আহলি কিতাবের ক্ষেত্রে অ-আল্লাহর নামে যবেহ করার অর্থ হচ্ছে তারা তাদের উপাস্যদের উপাসনা ও তাদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যে জন্তু যবেহ করে সে জন্তু তারা নিজেরা খায় না। তবে যেসব জন্তু তারা নিজেরা খাওয়ার উদ্দেশ্যে যবেহ করে তা তো তাদের খাদ্যের মধ্যে গণ্য আর তা আমাদের জন্যে হালাল বলে আল্লাহ্ নিজেই ঘোষণা করেছেন।²

টিকাঃ
১. ইমাম মালিকের মাযহাবে এটাই ফতোয়া। তিনি এ কলের কোন কোন আলেমের ন্যায় হারাম ঘোষণায় খুব তাড়াহুড়া করতেন না। শুধু মাকরূহ বলেই ক্ষান্ত থাকতেন।
২. 'মুগনী' কিতাবে আছে যে, যদি কোন আহলি কিতাব যবেহ করার সময় জ্ঞাতসারে আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করে তবে তার যবেহ করা পশু খাওয়া হালাল নয়। হযরত আলী (রা) থেকে এটাই বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম শাফেয়ী, নাঈ, হাম্মাদ, ইসহাক এবং হানাফী মতাবলম্বিগণের মতও এটাই। আহলি কিতাবের খাদ্য হালাল হওয়া সম্পর্কিত কুরআনের আয়াতের মর্ম এই যে, তাদের যবেহ করা ঐসব পশু খাওয়া হালাল যাতে যবেহের নির্ধারিত শর্তগুলো পূর্ণ করা হয়েছে- যেমনিভাবে মুসলমানদেরকেও তা পূর্ণ করতে হয়। হাঁ যদি একথা সঠিকভাবে জানা যায় যে, যবেহকারী আল্লাহর নাম নিয়েছে বা নেয়নি কিংবা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নাম নিয়েছে অথবা নেয়নি তবে তার যবেহ করা পশু খাওয়া হালাল। কেননা আমাদের জন্যে আল্লাহ তা'আলা মুসলমান এবং আহলি কিতাবের যবেহ করা পশু হালাল করেছেন। বস্তুত আল্লাহ তা'আলা জানেন যে, আমরা প্রত্যেক যবেহকারী ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারি না। (আল-মুগনী: ৮ম খণ্ড, পৃ. ৫৭১)

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 বিদ্যুৎ স্পর্শে যবেহ করা বা টিনবদ্ধ গোশত খাওয়া

📄 বিদ্যুৎ স্পর্শে যবেহ করা বা টিনবদ্ধ গোশত খাওয়া


দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, আহলি কিতাব- ইয়াহূদ-খ্রিষ্টানদের যবেহ করার নিয়ম কি আমাদের নিয়মের অনুরূপ হতে হবে? আমরা যেমন তীক্ষ্ণ অস্ত্র দ্বারা গলা কেটে দিই, ওদের যবেহেও কি এ রকমেরই হতে হবে?
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই এ ব্যাপারে এ শর্তটি আরোপ করেছেন। তবে মালিকী মাযহাবের আলেম জামায়াত ফতোয়া দিয়েছেন যে, তা জরুরী শর্ত নয়।
কাযী ইবনুল আরাবী সূরা আল-মায়িদা'র আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: এ কথা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, আহলি কিতাবের শিকার ও খাবার আল্লাহ্ জায়েয বলে ঘোষিত জিনিসগুলোর মধ্যে গণ্য। তা নিঃশর্তে হালাল। এ কথাটি বিশেষভাব বলা হয়েছে, যেন এ ব্যাপারে সব শোবাহ সন্দেহ দূরীভূত হয়ে যায়, ভুল ধারণার লেশমাত্র অবিশিষ্ট না থাকে। আমার নিকট জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, খ্রিস্টানরা মুরগীর গলা মুচড়িয়ে দিয়ে মারে। পরে তারা তা রান্না করে। এরূপ অবস্থায় কি আমরা তাদের সাথে খাবারে শরীক হতে পারি? ওদের খাবার কি খাওয়া যেতে পারে? আমি বললাম, খাওয়া যেতে পারে। কেননা তা খ্রিস্টান এবং তাদের পাদ্রী-পণ্ডিতদের খাবার। যদিও আমাদের মতে যবেহ করার এ নিয়ম ঠিক নয়। কিন্তু আল্লাহ্ তো ওদের খাবার আমাদের জন্যে সাধারণভাবে হালাল করে দিয়েছেন। আর ওরা ওদের দ্বীনে যেখানেই জায়েয মনে করে, তা আমাদের জন্যেও হালাল! তবে যে সব আহার্যে আল্লাহ্ তা'আলা ওদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছেন, সেগুলো খাওয়া যাবে না। আমাদের বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, এ আহলি কিতাবরা ওদের কন্যাদের আমাদের কাছে বিয়ে দেয়। তাদের সাথে সঙ্গম জায়েয। এমতাবস্থায় ওদের যবেহ করা জন্তু আমরা খাব না কেন? হালাল-হারামের দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হলে যৌন সঙ্গমের তুলনায় খাদ্য খাওয়ার ব্যাপারটি অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
এ তাফসীরকারই অপর এক স্থানে লিখেছেন:
ওরা যবেহ করে না, গলায় ফাঁস দিয়ে বা মাথা নিষ্পেষিত করে মারে। তারপর ওরা তা খায়। এ কারণে তা আমাদের জন্য মুর্দার ও হারাম। কিন্তু এ (নাজায়েয হওয়া ও উপরে বর্ণিত জায়েয হওয়ার) ব্যাপারদ্বয়ের মাঝে কোন বৈপরীত্য নেই। কেননা আহলি কিতাব যেটিকে সঠিক যবেহ মনে করে তা খাওয়া আমাদের জন্যে অবশ্যই হালাল হবে। যদিও আমাদের দৃষ্টিতে ওদের যবেহ করার এ নিয়ম ঠিক নয়। কিন্তু যে সম্পর্কে ওরা নিজেরাই মনে করে, এ যবেহটা ঠিক নয়, তা আমাদের জন্যেও হালাল নয়। 'যবহে' অর্থ, 'জন্তুটির প্রাণ বের করা হবে ওটি খাওয়া হালাল-করণের ইচ্ছায়।'
মালিকী মাযহাবের অনুসারী একটি জামায়াতের এই মত।
এ আলোচনার আলোকে আমরা আহলি কিতাব লোকদের টিনবন্দী ও সংরক্ষিত মোরগ বা গরুর গোস্ত সম্পর্কিত শরীয়তের নির্দেশ বুঝতে পারি। ওদের দেশে মোরগগুলো বিদ্যুৎ স্পর্শে যবেহ করার কাজ করা হয়। এ গুলোকে ওরা নিজেরা যতক্ষণ হালল খাদ্য মনে করতে থাকবে, আয়াতটির সাধারণ ঘোষণা অনুসারে তা আমাদের জন্যে হালাল বিবেচিত হতে থাকবে।১
তবে কমিউনিস্ট দেশসমূহে তৈরী টিনবন্দী গোশত খাওয়া আমাদের জন্যে আদৌ জায়েয হতে পারে না। কেননা ওরা 'ধর্ম' নামের সব কিছুকেই অবিশ্বাস ও অস্বীকার করেছে। কাজেই ওরা আহলি কিতাব-এর মধ্যে গণ্য নয়。

টিকাঃ
১. কিন্তু এ কথাটি সর্ববাদীসম্মত নয়। সাধারণভাবে জানা আছে যে, টিনবন্দী গোস্ত শরীয়ত মুতাবিক যবেহ করা জন্তু বা প্রাণীর নয়। এক কোপে কাটা বা যবেহ করার সময় সচেতনভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি, তা কেবলমাত্র আহলি কিতাব লোকদের মনে করলেই আমাদের জন্যেও হালাল হতে পারে না। সাধারণত যে রকমটা হয়ে থাকে, সে দৃষ্টিতে ফতোয়া দেয়া আবশ্যক। তাই যে জন্তু শরীয়তসম্মত নিয়মে যবেহ করা হয়নি, তা খাওয়া জায়েয নয়। তার যবেহকারী মুসলিম হলেও নয়। - অনুবাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00