📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 স্থলভাগের হারাম জীব-জন্তু

📄 স্থলভাগের হারাম জীব-জন্তু


স্থলভাগের জীব-জন্তু ও প্রাণীকূলের মধ্যে কেবলমাত্র শূকর মাংস, মৃত, রক্ত এবং অ-আল্লাহ্ নামে উৎসর্গীকৃত বা যবেহকৃত ছাড়া আর কোনটিকেই হারাম ঘোষণা করা হয়নি। এ পর্যায়ের কথা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে।
কিন্তু কুরআন মজীদেই হালাল-হারাম ঘোষণার কিছু দায়িত্ব আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর ওপর অর্পন করেছেন। তাঁর দায়িত্ব বর্ণনা পর্যায়ে বলা হয়েছে:
يُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ
তিনি লোকদের জন্যে পবিত্র উৎকৃষ্ট দ্রব্যাদি হালাল করেন এবং খারাপ পচা-নিকৃষ্ট জিনিসসমূহ হারাম করেছেন। (সূরা আল-আরাফ : ১৫৭) 'খবীস' বলেতে বোঝায় তা, যা সাধারণভাবে মানব সমষ্টির সুস্থ রুচিতে জঘন্য মনে হয়- কিছু সংখ্যক লোক যদি তা পছন্দ করেও। এ পর্যায়েরই একটি হদীস হচ্ছে:
نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّة يَوْمَ خَيْبَرَ -
নবী করীম (স) খায়বর যুদ্ধের দিনে গার্হস্থ্য গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী)
বুখারী ও মুসলিমে উদ্ধৃত হয়েছেঃ
نهى عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبَاعِ وَكُلِّ ذِي مَخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ -
নবী করীম (স) নখরধারী সব হিংস্র জীব এবং সব ছিড়ে খাওয়া পাখির গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
বাঘ, শৃগাল, চিতা ইত্যাদি প্রথম পর্যায়ের জন্তু। আর চিল, শকুন, বাজ প্রভৃতি নখরধারী পাখিগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা)-এর মত হচ্ছে, কুরআন মজীদের যে চারটি জীব হারাম বলে উল্লিখিত হয়েছে, তাছাড়া আর কোনটিই হারাম নয়। মনে হচ্ছে, হাদীসে যেসব জন্তুর গোস্ত খেতে নিষেধ করা হয়েছে তাঁর মতে তা খাওয়া হারাম নয়, মাকরূহ মাত্র। অথবা এও হতে পারে যে, তিনি হয়ত এ হাদীস কয়টি জানতেই পারেন নি।
তিনি বলেছেন: كَانَ أَهْلُ الْجَا هليَّة يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ وَيَتْرُ كُونَ أَشْيَاءَ تَقَدُّرًا فَبَعَثَ اللَّهُ نَبِيِّهُ وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ فَأَحَلُّ حَلَا لَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ فَمَا أَحَلٌ فَهُوَ حَلَالٌ وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْو وَتَلَا قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا على طاعم الآية - (আবু দাউদ)
ইসলাম-পূর্ব যুগে লোকেরা অনেক কিছু খেত, আর অনেক কিছু খারাপ মনে করে খেত না। পরে আল্লাহ্ তাঁর নবীকে পাঠালেন এবং তাঁর কিতাব নাযিল করলেন। তাতে তাঁর হালাল ও হারাম সংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশ করলেন। কাজেই তাতে যা হালাল, তা হালালই আর তাতে যা হারাম তা হারামই। আর যে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, তা সবই নির্দোষ ও মাফ।
অতঃপর তিনি সূরা আল-আনয়াম-এর পূর্বোদ্ধৃত ১৪৫ নং আয়াতটি পাঠ করেন। এ আয়াতের আলোকেই হযরত ইবনে আব্বাস (রা) মনে করেন যে, গৃহপালিত গাধার গোস্ত খাওয়া হালাল। ইমাম মালিক (র)-ও এ মতই গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, হিংস্র ও ছিন্ন-ভিন্ন করে আহারকারী জন্তুগুলোর গোস্ত খাওয়া হারাম নয়, বড়জোর মাকরূহ।
তবে একথা চূড়ান্ত যে, হারাম জন্তুগুলো যবেহ করলেই তা হালাল হয়ে বাবে, এমন কোন কথা নেই। যবেহ করা হলে চামড়া ট্রেনিং না করেই পবিত্র বিবেচিত হতে পারে মাত্র।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 গৃহপালিত জন্তু হালাল হওয়ার জন্যে যবেহ করা শর্ত

📄 গৃহপালিত জন্তু হালাল হওয়ার জন্যে যবেহ করা শর্ত


যে সব স্থলভাগের জন্তু-জানোয়ার খাওয়া জায়েয, তা দুভাগে বিভক্ত।
কতগুলো জন্তু এমন, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন। উট, গরু, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদি ধরনের গৃহপালিত জন্ত এবং হাঁস-মোরগ ইত্যাদি যেসব পাখি গার্হস্থ্য পর্যায়ে লালন-পালন করা হয়, তা এক প্রকার। আর অপর প্রকারের জীব হচ্ছে সেসব, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণে আসে না বা যেসবের ওপর নিয়ন্ত্রণ চালান মানুষের সাধ্যাতীত।
প্রথম প্রকারের জন্তু ও পাখিগুলোর গোস্ত খাওয়া হালাল। তবে তার জন্যে শর্ত হচ্ছে, তাকে শরীয়তের প্রথা অনুযায়ী যবেহ করতে হবে।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 শরীয়ত অনুযায়ী যবেহ করার শর্ত

📄 শরীয়ত অনুযায়ী যবেহ করার শর্ত


শরীয়ত অনুযায়ী যবেহ করার জরুরী শর্ত হচ্ছে:
১. জন্তু যবেহ বা নহর করতে হবে ধারাল অস্ত্র দ্বারা। যেন রক্ত প্রবাহিত হতে পারে ও রগগুলো যেন ভালভাবে কেটে যায়। সে অস্ত্র পাথরেরও হতে পারে, লৌহ বা কাষ্ট নির্মিতও হতে পারে কিংবা হযরত আদী ইবনে হাতেম তায়ী বলেন:
قُلْتُ يَا رَسُولَ الله اننا نَصِيدُ الصَّيْدَ فَلَا نَجِدُ سَكَيْنًا إِلَّا الظَّرَارَ وَشِقَّةَ الْعَصَا - فَقَالَ أَمِرَ الدَّمَ بِمَا شِئْتَ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ -
আমি বললাম, হে রাসূল! আমরা জন্তু শিকার করি, কিন্তু তখন আমাদের কাছে ছুরি-চাকু থাকে না, থাকে শানিত পাথর বা বাঁশের খণ্ড। তখন আমরা কি করব? রাসূল (স) বললেন: রক্ত প্রবাহিত কর যে জিনিস দ্বারাই সম্ভব হোক এবং তার ওপর আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ কর। (মুসনাদে আহমাদ, আবূ দাউদ, নিসায়ী, ইবনে মাজাহ)
২. গলদেশে ছুরি চালাতে হবে অথবা গলার নিচের অংশে ছুরি বসিয়ে দিতে হবে, (প্রচলিত ভাষায় এটাই নহর) যার ফলে জন্তুটির মৃত্যু সঙ্ঘটিত হবে।
যবেহ'র পূর্ণত্বের পন্থা হচ্ছে, খাদ্যনালী ও গলার মধ্যের বড় দুটি রগ কেটে দিতে হবে। কিন্তু যখন নির্দিষ্ট স্থানে ছুরি চালান অসম্ভব হয়ে পড়বে, যেমন একটা গুরু কুয়ার মধ্যে পড়ে গেছে, তার মাথা ভিতরে, পায়ের দিকটা বাইরে রয়েছে যা স্বাভাবিক নিয়মে যথাস্থানে যবেহ করা যাবে না। তখন তার অবস্থা হবে শিকার করা জন্তুর মতো। তখন ধারাল অস্ত্র সাধ্যমত যে-কোন স্থানে চালিয়ে রক্ত প্রবাহিত করতে হবে। তা করা হলে হালাল হয়ে যাবে।
বুখারী-মুসলিমে হযরত রাফে ইবনে খদীজা (রা) থেকে হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি বলেন:
كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرِهِ فَنَدَّ بَعِيْرٌ مِنْ ابْلِ الْقَوْمِ وَلَمْ يَكُنْ مَعَهُمُ الخَيْلُ فَرَمَاهُ رَجُلٌ بِسَهُم فَحَبَسَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ هَذِهِ الْبَهَائِمَ أَوَائِدٌ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَمَا فَعَلَ مِنْهَا هُذَا فَافْعَلُوا بِهِ هَكَذَا
এক পরিভ্রমণে আমরা নবী করীম (স)-এর সঙ্গে ছিলাম। সহসা একটি উট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। তখন লোকদের সঙ্গে ঘোড়া ছিল না বলে দ্রুত গতিতে গিয়ে সেটাকে ধরা গেল না। এক ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ করে উটকে বেঁধে ফেলল। তা দেখে নবী করীম (স) বললেন: এসব চতুষ্পদ জন্তু এভাবে আয়াত্তের বাইরে চলে গেলে তখন তোমরাও তার অনুরূপ আচরণই করবে।
৩. যবেহ করার সময় আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো নাম উচ্চারণ করা যাবে না। এ এক সর্ববাদী সম্মত কথা। তার কারণ হচ্ছে, জাহিলিয়াত যুগে লোকেরা তাদের উপাস্যদের দেবী দেবতা-মূর্তির নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে জন্তু যবেহ করত। যবেহ করার সময় তারা সে সব দেব-দেবীর নাম উচ্চারণ করত অথবা নির্দিষ্ট স্থানে বলিদান করত। কুরআন মজিদে এসব হারাম করা হয়েছে। পূর্বেই এতদসংক্রান্ত আয়াতের উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. যে জন্তুটি যবেহ করা হচ্ছে, তার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে হবে। কুরআনের আয়াতে তা সুস্পষ্ট ভাষায় বলে দেয়া হয়েছে এ ভাষায়:
فَكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ بِأَيْتِهِ مُؤْمِنِينَ -
তোমরা যদি আল্লাহ্র আয়াতসমূহের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাক, তাহলে যেসব জন্তু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে তোমরা সেগুলো খাও। (সূরা আন'আম: ১১৮)
ইরশাদ হয়েছে:
وَلَانَا كُلُوا مِمَّا لَمْ يُذكَرِ اسْمُ الله عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لفسق - (الانعام ۱۲۱)
যেসব জন্তু যবেহকালে আল্লাহ্ও নাম উচ্চারণ করা হয়নি, তোমরা তা খেও না। কেননা তা খাওয়া ফাসিকী (ইসলামের সীমালংঘনমূলক) কাজ।
রাসূলে করীম (স) বলেছেন:
مَا أَنْهِرَ الدَّمُ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهُ عَلَيْهِ فَكُلُوا
যে জন্তুর রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে এবং তখন তার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, তোমরা তা খাও। (বুখারী)
যেসব হাদীসে শিকার করার উদ্দেশ্যে তীর নিক্ষেপ করার এবং শিক্ষা দেয়া কুকুরকে শিকারের উদ্দেশ্যে পাঠাবার সময় আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ করার কথা বলা হয়েছে, তা উপরিউক্ত মতেরই সমর্থক। কোন কোন আলেমের মতে আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ তো জরুরী; কিন্তু ঠিক যবেহ করার মুহূর্তেই এ নাম নিতে হবে, এমনটা প্রয়োজন নয়। খাওয়ার সময় নাম উচ্চারণও যথেষ্ট। কেননা যে লোক খাওয়ার সময় আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ করে সে তো নিশ্চয়ই এমন জিনিস খায় না, যার ওপর আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ করা হয়নি। হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেছেন:
أَنَّ قَوْمًا حَدِيثِى عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ قَالُوا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ قُوْمًا يَأْتُونَنَا بِاللَّحْمَانِ لَا نَدْرِي اذْكَرَ اسْمَ اللَّهُ عَلَيْهَا أَمْ لَمْ يَذْكُرُوا - أَتَأْكُلُ مِنْهَا أَمْ لَا فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذْكُرُ وَاسْمَ اللَّهُ وَكُلُوا
নতুন ইসলাম গ্রহণকারী কিছু লোক নবী করীম (স)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা আমাদের নিকট গোস্ত নিয়ে আসে, তারা তার ওপর আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ করেছিল কিনা, তা আমাদেও জানা নেই। এক্ষণে আমরা তা খাব, না খাব না? নবী কারীম (স) জবাবে বললেন: তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর এবং খাও। (বুখারী)

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 যবেহ করার এ নিয়মের তাৎপর্য

📄 যবেহ করার এ নিয়মের তাৎপর্য


জন্তু যবেহ করার এরূপ নিয়ম বিধিবদ্ধ করার মৌল কারণ হচ্ছে, জন্তুটির প্রাণ যেন এমনভাবে সংহার করা হয়, যাতে করে সেটির কম-সে-কম কষ্ট ভোগ হয়। যবেহ'র অস্ত্রটি খুব ধারাল হওয়ার ও গলদেশে যবেহ করার শর্ত এ জন্যেই করা হয়েছে। কেননা এসব জিনিস দ্বারা যবেহ করা হলে জন্তুটির কন্ঠদেশ রুদ্ধ করার মতো অবস্থা হয়। নবী করীম (স) ছুরিটিকে অতিশয় ধারাল বানানো এবং জন্তুটিকে শান্তি দানের নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন: إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ لَإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقَتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَةَ وَلَيُحِدُّ أَحَدُكُمْ سَفْرَتَهُ وَلَيُرِيحَ ذَبِيْحَتَهُ
আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিটি ব্যাপারে ও ক্ষেত্রে দয়াশীলতা অবলম্বন ফরয করে দিয়েছেন। কাজেই তোমরা যখন হত্যা করবে, তখন অবশ্যই দয়াশীলতা সহকারে হত্যা করবে। আর যখন যবেহ করবে, তখনও সুন্দর ও উত্তমভাবে যবেহ করবে। তোমাদের প্রত্যেকেরই কর্তব্য যবেহ করার সময় যার যার ছুরিকে খুব ধারাল বানিয়ে নেয়া এবং যবেহ করার পর সেটাকে ধীরে ধীরে প্রশান্তি লাভ করার সুযোগ দেয়া। (মুসলিম)
এ সহানুভূতি ও দয়াশীলতা পর্যায়ে হযরত ইবনে উমর বর্ণিত একটি হাদীসে উল্লেখ। তিনি বলেন: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ أَنْ تُحِدَّ الشَّقَارِ وَإِنْ تُوَارِي عَنِ الْبَهَائِمِ وَقَالَ إِذَا ذَبَحَ أَحَدُكُمْ فَلْيُجْهِزْ -
নবী করীম (স) আদেশ করেছেন ছুরি শানিত করতে এবং অপরাপর জন্তু থেকে গোপন রাখতে। তাই বরেছেন: তোমাদের কেউ যখন যবেহ করার কাজ করবে, তখন তা যেন সম্পূর্ণতায় পৌঁছায়। (ইবনে মাযাহ)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন, এক ব্যক্তি একটি বকরী শোয়ায়ে তার ছুরিতে ধার দিতেছিল। তা দেখে নবী করীম (স) বললেনঃ اتُرِيدُ أَنْ تُمِيتَهَا مَوْتَاتٍ - هَلَا أَحْدَدْتَ شُفْرَتَكَ قَبْلَ أَنْ تُضْجِعَهَا
তুমি কি বকরীটিকে কয়েকবার মারতে চাও? ওটিকে শোয়াবার আগে কেন তুমি তোমার ছুরিকে শানিত করে নাও নি। (হাকেম)
হযরত উমর (রা) দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তি তার পা দিয়ে চেপে ধরে তার বকরীটিকে হেঁচড়িয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে যবেহ করার উদ্দেশ্যে। তখন তিনি লোকটিকে বললেন:
(আব্দুর রায্‌যাক) وَيْلَكَ قُدْهَا إِلَى الْمَوْتِ قَوْدًا جَمِيلًا - তোমার জন্যে দুঃখ! তুমি বকরীটিকে খুব ভালভাবে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাও।
এ পর্যায়ে ইসলামী চিন্তাধারা সাধারণভাবে এরূপেই আমরা পাচ্ছি। আর তা হচ্ছে, বোবা জন্তুর প্রতি দয়াশীলতা এবং ওটিকে সব রকমের কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি দেয়া- যতটা সম্ভব।
জাহিলিয়াতের যুগে লোকেরা উষ্ট্রের ঝুঁটি (Hump) জীবন্ত অবস্থায় কেটে নিয়ে খেতে খুব ভালবাসত। আর তারা জীবন্ত অবস্থায় দুম্বার পিছনে ঝুলে থাকা চাকতি কেটে নিয়ে যেত। তাতে করে ওদের কষ্টের সীমা থাকত না। এ কারণে নবী করীম (স) জীবন্ত জন্তুর দেহাংশ কেটে নেয়াকে হারাম করে দিয়েছেন। বলেছেন : مَا قُطِعَ مِنَ البَهِيمَةِ وَهِي حَيَّةٌ فَهُوَ مَيْتَةٌ - জন্তুর জীবন্ত অবস্থায় তার দেহাংশ কেটে নেয়া হলে সেটাকে মৃত মনে করতে হবে (এবং তা হারাম)। (আহমদ আবু দাউদ, তিরমিযী)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00